1. Hi Guest
    Pls Attention! Kazirhut Accepts Only Benglali (বাংলা) & English Language On this board. If u write something with other language, you will be direct banned!

    আপনার জন্য kazirhut.com এর বিশেষ উপহার :

    যেকোন সফটওয়্যারের ফুল ভার্সনের জন্য Software Request Center এ রিকোয়েস্ট করুন।

    Discover Your Ebook From Our Online Library E-Books | বাংলা ইবুক (Bengali Ebook)

আমার ভৌতিক অভিজ্ঞতা

kazirhut's Blog entry posted by passionboy, Aug 21, 2013.

বন্ধুরা আমি আজকে একটি হন্টেড হাউজে আমাদের বন্ধু কর্তৃক একটি অভিযান আপনাদের সাথে শেয়ার করব।

যারা চট্টগ্রাম গেছেন তারা হয়ত পোর্ট কানেকটিং রোডের নাম শুনেছেন। এই পোর্ট কানেকটিং রোডের একটি যায়গার নাম নয়াবাজার বিশ্বরোড, যা হালিশহর ও রামপুর থানার মাঝামাঝি।(কাজীরহাটের মড পিয়াস মামা জানতে পারেন) এখানে একটা বাজার আছে, যার নাম নয়াবাজার- যা বিশ্বরোড থেকে একটু ভেতরে। এই বাজারের কিছু দূরে একটি আবাসিক এলাকা যার নাম “মৌসুমী আবাসিক এলাকা”।

এই আবাসিক এলাকার দুই নাম্বার রোডের একটি বাড়ীতে আমার স্কুলের ক্লাসমেট জয়নালের পরিবার ভাড়া নিয়েছিল। কারণ তাদের জায়গায় বিল্ডিং তোলা হচ্ছিল, তাই আপাতত এই মৌসুমী আবাসিকের এই ঘরটা তারা ভাড়া নিয়েছিল। ঘরটি ছিল দু'তলা একটি বিল্ডিং। যার দ্বিতীয় তলা ওরা ভাড়া নিয়েছিল। (বিশেষ কারণে আমি ঐ বাসার নাম ও নাম্বার দিচ্ছি না)
এই বাসায় উঠার সময় বাসার জিনিসপত্র সরানোর কাজে আমি আর শাহীন ওকে সাহায্য করি। যখন আমরা তিনজন প্রথম ঐ খালি বাসায় যাই তখন দেখি ঐ বিল্ডিং একেবারে খালী। দুই তলায় মোট তিনটা ফ্ল্যাট যার একটিতেও কোন পরিবার নেই। মানে পুরা বিল্ডিংটাই একেবারে খালি। কিন্তু বিল্ডিংটা নতুন নয়। বিল্ডিংটার বয়স কম হলেও ২৫/৩০ বছর হবে। এরকম বিল্ডিং এ তাও আবার মেইন রাস্তার পাশে খালি থাকায় আমার আর শাহীনের সন্দেহ হল। আমরা আমাদের সন্দেহের কথা জয়নালকে জানাই। কিন্তু সে তেমন পাত্তা দেয় না আমাদের কথা। ও বলে তোরা আস্ত একেকটা ভূত, তাই তোরা খালি ভূত দেখস। আর এখন বাসাও খুজে পাইতাছি না, তাই এ বাসাই উঠতে হবে।

এখন ওদের পরিবারের কিছু কথা বলি, জয়নালের পরিবারে মোট সদস্য ৫ জন। ওরা মোট তিন ভাই, দুই বোন। একটা বোনের বিয়ে হয়ে গেছে আর বাবা মারা গেছেন। তাই ওদের এখন সদস্য হল পাঁচ মানে তারা তিন ভাই, এক বোন ও মা।

যাক ওরা ২০১২ সালের এপ্রিলের ১ তারিখে ঐ বাসায় শিফট হয়। প্রথম ১০/১৫ দিন তেমন কিছু হয় নি।

তারপর প্রায় মার্চের ২০ তারিখের দিকে একটা ঘটনা ঘটে। তখন জয়নাল বাসায় ছিল না। রাত এগারোটার দিকে ওদের দরজায় নক পড়ে। ওর বোন মনে করে জয়নাল এসেছে তাই সে কোন কথা না বলে দরজা খুলে দিল। খুলেই মাত্র সে একেবারে স্টিল হয়ে দরজার দিকে তাকিয়ে থাকল। সে দেখল একটা মহিলা যথা সম্ভব হিন্দু তার লম্বা চুলগুলো সামনের দিকে দিয়ে দাড়িয়ে আছে। চুলের জন্য ঐ মহিলার চেহারা দেখা যাচ্ছে না। এটা দেখে জয়নাল'র বোন এক চিতকার দিয়ে ঘরের ভেতর দৌড় দিল আর সোজা তার মেজ ভাইয়ের রুমে গিয়ে তাকে ডেকে তুলল। ঐ বিল্ডিং আর কোন পরিবার ছিল না আর নিচে মেইন গেট ও কলাপসিবল গেটও তালা মারা ছিল। আবার উপরের ছাদ সবসময় তালা মারা থাকত। কারণ ছাদে যাওয়া নিষেধ।
তারপর তার সাথে পরিবারের বাকি সদস্যগুলা এসে দেখল দরজায় কেউ নেই। তখন তারা মনে করল মেয়েটা একলা থাকাতে ভয় পেয়েছে। তাই এটা তারা তেমন গুরুত্ব দিল না।

যাক, এই ঘটনার পর আরো কয়েকদিন কেটে গেল।
একদিন তার মা দুপুরে ঘরে একলা ছিল কারণ সবাই স্কুল কলেজে আর কাজে। তাই তিনি ঘরের কলাপসিবল গেট বন্ধ করে যোহরেরে নামাজ পড়তে বসলেন। নামাজ তখন শেষ হয় নি আরো কয়েক রাকাত বাকি ছিল। আর নামজের মাঝখানে উনি বিভিন্ন দোয়া পরতেন। ঠিক সে দিনও তিনি দোয়া পড়তেছিলেন জায়নামাজে বসে। এমন সময় তিনি দেখলেন তার সামনে ছোট্ট একটি বাচ্চা হামাগুড়ি দিয়ে খেলতাছে। বাচ্চাটা হামাগুড়ি দিয়ে রান্নাঘরের দিকে চলে গেল। উনি তখনি উঠে রান্নাঘরে গিয়ে দেখলেন কেউ নেই।
তারপর জয়নাল এলে তার মা তাকে ঘটনাটা বলে সে আগেরমত এটা বিশ্বাস করে না।
তার ঠিক পরেরদিন তার ছোট ভাই সিড়ি থেকে পড়ে পা ভাঙল। তার নাম কাওসার। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলে “সে নাকি মোবাইল টিপতে টিপতে আস্তে আস্তে সিড়ি দিয়ে নীচে নামছিল। এমন সময় কে যে তাকে পেছন থেকে ঠেলা মারে আর তাই সে সিড়ি গড়িয়ে নিচে পড়ে যায়।
এ ঘটনার পর জয়নাল আমাকে আর শাহীনকে ডাকে। বলে ঐ বাসা ছেড়ে দিবে। নতুন বাসা দেখার জন্য বলে। শাহীন আবার একই এলাকার পানির কল নামক স্থানের বাসিন্দা। সে বিভিন্ন জন থেকে শুনে, ঐ জায়গাটা মানে ব্রিটিশ আমলে একটা শ্মশানঘাট ছিল আর মুক্তিযুদ্ধের সময় ঐ জায়গায় অনেক মানুষকে মেরে ফেলা হয়।

শেষ পর্যন্ত ওরা ঘরটা ছেড়ে দেয়।

এখন আসি আসল ঘটনায়,
মাস শেষ হওয়ার কিছুদিন আগে ওরা ঘর ছেড়ে দেয়। ঘরের সব জিনিস নতুন ঘরে পাঠানো হলেও বেডগুলা তখনো নতুন ঘরে নিয়ে যাওয়া হয় নি। আমরা বন্ধুরা সবাই চিন্তা করলাম আমরা সবাই মিলে এক রাত ঐ ঘরে থাকব। দেখি কি হয়।
যে কথা সেই কাজ, আমরা মোট চারজন ঐ ঘরে থাকতে যাই; আমি, শাহীন, যুবায়ের আর জয়নাল। জয়নাল থাকার আগ্রহ দেখায় কারণ সে ঐ ঘরে থাকা অবস্থায় তার পরিবারের অন্যান্য সবাই কিছু না কিছু দেখলেও সে কিছুই দেখে নি।

তারিখটা ছিল ২০১২ সালের জুনের ১১ তারিখ। যথারীতি পরিকল্পনা মোতাবেক আমরা সবাই বিকালে নয়াবাজারে একত্রিত হই। এরপর কিছু খাবারের জিনিস আর মোমবাতি কিনে ঐ ঘরে ঢুকতে ঢুকতে রাতের আটটা বেজে যায়। জয়নালের কাছে তখনো ঘরের চাবি ছিল, কারণ ঘর তখনো মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হয় নি। যথারীতি আমরা রাত আটটা থেকে চারজনে মিলে ড্রয়িং রুমে আড্ডা দিলাম। রাত দশটার দিকে আমরা সবাই নিচে নেমে রাতের খাবার খেলাম।
রাতের খাবার খাওয়ার পর আবার ড্রয়িং রুমে আড্ডা মারলাম রাতের প্রায় সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। এরপর শুরু হল আমাদের আসল অভিযান।

ঘরটিতে তিনটা বেডরুম ছিল। আমরা তিনজন তিনটা বেডরুমে আলাদাভাবে শুতে গেলাম আর জয়নাল শুল ড্রয়িং রুমে। যেহেতু খাট ছিল না কিন্তু বেড ছিল, তাই আমরা মেঝেতে বেড বিছিয়ে শুয়ে পড়লাম। ঘরে মশার স্প্রেও করে দিলাম। না হলে মশার কামড় খেতে খেতে অক্কা পেতে হবে।

যাক আমি আমার রুমে ঢুকার পর দরজার ইয়েল লক লাগিয়ে কম্বল মুড়ী দিয়ে শুয়ে পড়ি। রাতে যথাসম্ভব তিনটার দিকে মনে হল কে যেন আমার রুমে খালি পায়ে হাটছে। কম্বলের ফাক দিয়ে দেখি কে যেন হাটছে। আমি নিচে শোয়াতে তাকে অনেক লম্বা লাগছিল। তাই ঠিক সে কতটুকু লম্বা তা আমি ঠিক বলতে পারি না। আমি তো ভয়ে কি অবস্থা ভাষায় বুঝাতে পারব না। আমি দোয়া দরূদ পড়া শুরু করে দিলাম। মাঝে মাঝে শাহীনকে মনে মনে গালীও দিচ্ছিলাম। কারণ তার পাল্লাই পড়ে আমার জীবন নিয়ে টানাটানি শুরু হয়ে গেছে। যাক ঠিক কতক্ষণ বলতে পারি না মনে হয় ১৫/২০ মিনিট পর আমি আবার কম্বলের ফাক দিয়ে দেখালাম ঘরে কেউ নেই। আমি ভয়ে বিছানা থেকেও উঠতে পারছিলাম না।
কেমন করে সকাল পর্যন্ত ছিলাম আমি আপনাদের বলে বুঝাতে পারব না। মনে হচ্ছিল আবার এসে ঐ বস্তুটি ঘরে হাটা শুরু করবে। আর এবার হাটলে আর পেছনে দেখতে হবে না। ভয়ে আমি মরে কাঠ হয়ে যাব।

যাক ফজরের আযান দেওয়ার সাথে সাথে আমি লাফ মেরে উঠে গেলাম। তারপর চিলাচিল্লি করে সবাইকে ডেকে বললাম “এই ঘরে আর এক মিনিটও থাকব না। সবাই বের হ”। তারপর শাহীন বের হল রুম থেকে। জয়নাল ঘুম থেকে উঠল। কিন্তু সমস্যা হয়ে গেলে যুবায়েরকে নিয়ে। সে দরজা খুলছে না। অনেক ডাকাডাকির পর জয়নাল ইয়েল লকের চাবি দিয়ে দরজা খুলে দেখে যুবায়ের বেডে নেই। সে রুমের অন্য প্রান্তে অজ্ঞান অবস্থায় পরে আছে।

তারপর তার মাথায় এক বালতি পানি ঢালা হল। আমরা কোন কথা না বলে ঐ বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম। তখনো রাস্তায় মানুষ তেমন আসে নি। ছোট একটা হোটেল খোলা ছিল। সেখানে গিয়ে নাস্তা করতে করতে সবার রাতের কাহিনী একেকজনকে বললাম।

জয়নালঃ সে বলল সে বলতে গেলে তেমন কিছুই দেখে নি। খালী খচখচ আওয়াজ শুনেছে। কিসের আওয়াজ সে জানে না।

শাহিনঃ শাহীনের ভাষ্যমতে সে একজন নয় দুই জনকে দেখেছে। যার একজন হিন্দু মহিলা হাতে শাঁখা ছিল। আরেকটা ছোট্ট বাচ্চা।

যুবায়েরঃ যুবায়ের সবচেয়ে বেশি ভয় পাইছে। কারণ ছোট থাকা অবস্থাতেও তার সাথে প্যারানরমাল জিনিস বেশি ঘটত। তাকে কয়েকবার হুজুরের কাছেও নিতে হয়েছিল। আবার তার রাশি তুলা।
যাক সে নাকি ঘুমানোর পর একটা বাচ্চার হাসির আওয়াজে তার ঘুম ভেঙে যায়। সে হাসিটা কোন জায়গা থেকে আসছে প্রথমে বুঝে উঠতে পারে না। হঠাৎ সে দেখল তার পায়ে নিচের দিকে (মেঝেতে শোয়া অবস্থায়) একটা ছোট্ট বাচ্চা খেলতেছে। এমন সময় একটা মহিলা (সম্ভবত আমি যে মহিলাকে দেখেছিলাম) এসে ঐ বাচ্চা কোলে নিয়ে যুবায়েরের দিকে তাকিয়ে হাসতে লাগল। তারপর নাকি তার আর কিছু মনে নাই। সকালে মাথায় পানি দেওয়ার পর ওর হুশ ফিরে।

আর আমারটাতো আগে বলেছি।

তারপর থেকে আমরা সবাই তওবা করলাম আমরা আর কোনদিন এরকম দুষ্টুমী করব না। গত সপ্তাহে ঐখানে গেলাম আর দেখি এখনো ঐ বিল্ডিং এ কেউ থাকে না।
এতটুকুই। আপনাদের কেমন লাগল জানবেন।
ধন্যবাদ।

(এই ঘটনা অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। আমি শুধু ঘটনাটা আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। বিশ্বাস অবিশ্বাস করাটা সম্পূর্ণ আপনাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। আর কেউ যদি আগ্রহ প্রকাশ করে আমি তাকে ঘরটি কোন জায়গায় দেখিয়ে আনতে পারব।)
মনিপুরি and mukul like this.
passionboy

About the Author

passionboy's blog
  1. মনিপুরি
    এরকম অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ইচ্ছা আছে চেষ্টাও করেছি । কখনও পাইনি ।
    ইচ্ছা আছে সুযোগ পেলে আপনার সহায়তায় ওখানে ঘুরে আসব ।
    সাথী হবেন তো ?
    passionboy likes this.
  2. MAHBOOB
    দারুন লিখেছেন মামা...
    passionboy likes this.
  3. Yuvrajj
    একেবারে ঝরঝরে লেখা, দারুন বর্ণনা। গাইড করতে বললে লজ্জায় পড়ে যাবো। তবে আমি নিজে ভয় পাই না এসব অশরীরিতে। তাই বলে এই সব ফাও চ্যালেঞ্জও করতে যাই না। লাস্ট চ্যালেঞ্জ করেছিলাম গ্রামের বাড়ির ছেলেদের, মধ্য রাতে শ্মশানে গিয়েছিলাম - ১৯৮৬ সালে। তবে কিছু দেখি নি, ভয়ও পাই নি।

    তবে এক সাথে ৪ জন ভয় পেলে সেটাকে 'একেবারে কিছু না' বলে উড়িয়ে দেওয়ার মত বুদ্ধিমানও আমি না
    passionboy, MAHBOOB and mukul like this.
  4. Zahir
    সাহিত্য রচনার মনন ও হাত আছে বলা যায়। তবে বেশী বেশী লিখলে লিখার মান উন্নত হবে। আরো ভাল হয় যদি যুবরাজ, কবি, হাসান মামাদের মত কাউকে গাইড হিসেবে ভাগ্যে মিলে।
    ভুতের অনেক ঘটনা আমার শুনা আছে। মজাও লাগে। আপনার ঘটনা ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।
    ভুতের সামনা সামনি হয়ে বেড়িয়ে আসাটা কপালের ব্যাপার। সবাই পারে না। ওদের ক্ষমতা যদিও মানুষের চেয়ে বেশী নয়, মানুষ তো তার ক্ষমতা সম্পর্কে অয়াকিফহাল নয়। সমস্যা হয় ওখানে।
    passionboy, MAHBOOB and mukul like this.