1. Hi Guest
    Pls Attention! Kazirhut Accepts Only Benglali (বাংলা) & English Language On this board. If u write something with other language, you will be direct banned!

    আপনার জন্য kazirhut.com এর বিশেষ উপহার :

    যেকোন সফটওয়্যারের ফুল ভার্সনের জন্য Software Request Center এ রিকোয়েস্ট করুন।

    Discover Your Ebook From Our Online Library E-Books | বাংলা ইবুক (Bengali Ebook)

সিলেটে চিরস্মরণীয় ঘটনা

kazirhut's Blog entry posted by passionboy, Aug 21, 2013.

সালাম বন্ধুরা,
কেমন আছেন ??
আশা করি ভাল।

আপনারা সকলে জীবনে আমরা কোথাও না কোথাও ভ্রমণ করেছি। যা আমাদের মনের স্মৃতিকোঠায় চিরঞ্জীব থাকে।
আজ আমি আমার জীবনের একটি ভ্রমণ কাহিনী আপনাদের সাথে শেয়ার করব।

আমার ছেলেবেলার বন্ধুদের একটা সার্কেল আছে। এই বন্ধুরা বর্তমানে পড়ালেখার তাগিদে দেশের বিভিন্ন স্থানে আছে। তাদের সঙ্গে আমার প্রায় প্রতিদিন যোগাযোগ হয়। আর আমাদের প্রত্যেক বছর কোথাও না কোথাও ভ্রমণে যাই।
দিনটি ছিল ২০১১ সালের জানুয়ারী ১৫, তার আগে আমরা সবাই সিদ্ধান্ত নিলাম সিলেট যাব।

তারপর সিদ্ধান্ত হল আমরা প্রথমে ঢাকা যাব তারপর সেখান থেকে ট্রেনে সিলেট যাব। কারণ আমার তিনজন বন্ধু ঢাকায় থাকে। আর একজন থাকে সিলেট তাই সে আমাদের সাথে সিলেট মিট করবে।

যাক ভ্রমণ শুরুর দিন মানে ১৪ জানুয়ারী আমরা ৬ জন বন্ধু চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। আমাদের সাথে তিনটা গিটার ছিল। পথে যেতে যেতে গান গাইলাম অনেকক্ষণ। তারপর আমরা সেদিন বিকালে ঢাকায় পৌছলাম আর ঢাকায় দুই দিন থাকলাম।

যাওয়ার দিন দেখলাম রিয়াজ, রনি, লিংকন নামের আমার বন্ধু তারাও গিটার নিল সঙ্গে, তারসাথে দেখলাম রিয়াজ কোথা হতে একটা ছোট ঢোল জাতীয় বাদ্যযন্ত্রও এনেছে।
তাই সবাই আল্লাহর নাম করে ১৫ তারিখ সবাই হইহুল্লোড় করে রওনা দিলাম। আমরা ট্রেনে তিনটা কেবিন ভাড়া করেছিলাম। কিন্তু আমরা সারা দিন তেমন কেবিনে ছিলাম না। যেই না ট্রেন ঢাকা অতিক্রম করল আমরা সবাই তখনই গান গাওয়া শুরু করে দিলাম। আমাদের মোট গিটার ছিল পাচটি আর ঢোল ছিল একটা আর বাকিদের হাতে তো মিনারেল ওয়াটারের বোতল ছিলই। তারপর আমরা শুরু করলাম কোরাস গাওয়া। আমাদের গানে অন্য যাত্রীদের পর্যন্ত নাচানী তুলে দিল। আর কত দুষ্টুমী হল, যা লেখতে গেলে উপন্যাস হয়ে যাবে। যাক এভাবেই আমরা সিলেটের কাছাকাছি পৌছালাম তখন প্রায় বিকাল।

ঐ সময় আমাদের সিলেটবাসী এক বন্ধু রাজু যে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে তার সাথে ফোনে কথা হল। সে বলল আমাদের ট্রেন কুলাউড়া নামক স্টেশনে দাঁড়াবে। আমরা যাতে ওখানে নেমে যাই। আর ও ওখানে আমাদের জন্য অপেক্ষা করবে। কারণ সে বলল যদি আমরা প্রথমে সিলেট শহরে যাই, তাহলে মাধবকুন্ড আমাদের উলটা ১২০কিঃমিঃ মত আসতে হবে। আর কুলাউড়া থেকে মাধবকুন্ড প্রায় ৩০ মিনিটের পথ। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম কুলাউড়া নেমে যাব।

তারপর কুলাউড়া স্টেশনে দেখলাম ও আমাদের জন্য অপেক্ষা করতেছিল। তারপর আমরা যথারীতি মাধবকুন্ড, লাউয়াছড়া পার্ক আরো কিছু দেখে রাতের ৯টার দিকে সিলেট শহরে পৌছলাম।

এখন আপনাদের এই ভ্রমণের সবচেয়ে মজার ঘটনা বলব,
তারপর দিন মানে ১৬ তারিখ আমরা মোটামুটি সিলেট শহর ঘুরলাম। বিকাল ৫.৩০ দিকে শহরের অদূরে আমরা “লাক্ষাতুরা টি স্ট্যাট” নামে একটা চা বাগান ভ্রমণ করতে গেলাম।

চা বাগান গিয়ে দেখি গেট বন্ধ হয়ে গেছে, আর গেটে ৮/১০ গার্ড বসে বসে আড্ডা মারছে। আমরা ওদের গিয়ে বললাম চাবাগান দেখব, তারা বলল, এখন চাবাগান বন্ধ, অনুমতি লাগবে, আরো বহুত অজুহাত দিল। আমরাতো নাছোরবান্দা! শেষমেষ ওদের কিছু টাকা ঘুষ দিতে হলে। তারা বলল আমরা ঘন্টাখানেক চা বাগান ঘুরে দেখতে পারব। তার বেশি দূরে যেতে মানা করল। আর আমাদের সাথে দুইজন গার্ড দিল। গার্ড দুইজন একটা জায়গায় যেয়ে বলল আমরা আর যেতে পারব না। আর আমাদের আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল আপনারা ঐটুকুর ভিতরে ঘুরেফেরা করবেন। কারণ চা বাগানটা নাকি ভাল জায়গা না। ওখানে সন্ধ্যার পর থেকে অনেক ভুতুরে কান্ড ঘটে।
আমরা ছিলাম ১৩ জন। সন্ধ্যা ৭টা। আমরা একটা উচু টিলার উপরে উঠে, ছবি তুলছিলাম। ছবি তুলার পর আমাদের মনে হল টিলাটা অনেক উচু। আমরা নামার রাস্তা খুজে পাচ্ছিলাম না। চিন্তা করতে লাগলাম আমরা তো সহকজেই টিলায় উটেছিলাম, এখন নামতে গেলে মনে হচ্ছে পড়ে ব্যথা পাব। বিশ্বাস করবেন না, আমরা ১৩টা ছেলেরই একই অবস্থা। তারপর আবার মোবাইল নেটওয়ার্ক ডিস্টার্ব দেওয়া শুরু করছে। আর যাদের মোবাইলে টর্চ আছে তাদের সকলের মোবাইলে সমস্যা দেখা দিছে। আমার খান্দানী নকিয়া ১২০০ তে চার্জ শেষ, আরেজনে মোবাইল অন হচ্ছে না। এক বিশ্রী অবস্থায় পড়লাম।
তারপর আমরা অনেক কষ্টে টিলাটা থেকে নামলাম। তারপর এখন গেটে যাওয়ার রাস্তা হারিয়ে ফেলেছি। আমরা ১৩ জনই রাস্তা ভুলে গেলাম। একরকম অসম্ভব বলে মনে হচ্ছিল। তারপর প্রায় ৩ ঘন্টা কোজার পর আমরা রাস্তা খুজে পেলাম যা কিনা টিলাটা থেকে সর্বোচ্চ ১০ মিনিটের হাটার পথ। বাগান থেকে বের হতে হতে বাজল রাত নয়টা। তারপর বের হয়ে দেখি অবাক কান্ড আমার খান্দানী মোবাইল অন হয়েছে। আর সবার মোবাইল নেটওয়ার্ক সিগনাল ফুল দেখাচ্ছে।

যা হোক আমরা শহরে ফিরে এলাম।
আপনারা তো অনেক জানেন, সিলেটে অনেক বিলাশবহুল বাড়ি আসবাবপত্র সহ সম্পূর্ণ খালি অবস্থায় আছে। যেখানে শুধু বাইরে কুঠরীতে কেয়ারটেকার থাকে। আর কেয়ারটেকার মালিক না জানে মত ওসব বাড়ি টুরিস্টদের কাছে ভাড়া দেয়।

আমরাও ঐরকম একটা বাড়ি ৪ দিনের জন্য ভাড়া নিলাম। আর কেয়ারটেকার বলল সব জিনিস ব্যবহার করতে পারব, কিন্তু যাতে নষ্ট না হয়।
আমরা ১৩ জন আর সিলেটের বন্ধু ঐ বাড়িতে আমাদের সাথে ছিল। নিচলতলায় ড্রয়িং রুম ছিল নিচে আর উপরে একটা করিডরের দুইপাশে ৬ টার মত লিভিং রুম ছিল। আমরা সবাই ড্রইং রুম থেকে আড্ডা দিয়ে রাত ১২টার দিকে সবাই ৫টা রুমে ঘুমাতে গেলাম। আমি আর আমার সাথে তিনজন বন্ধু রাতে আমার সাথে ছিল। রাত ১টার দিকে আমাদের রুমের দরজায় নক পড়ল। আমি দরজা খুলে দেখাল্ম কেউ নেই। আমি মনে করলাম অন্য রুমের বন্ধুরা দুষ্টুমী করছে। তাই ওদের রুমে গিয়ে চিল্লাফাল্লা শুরু করে দিলাম। আবার আমার রুমে ফিরে আসার কিছুক্ষণ পর লিংকন যে কিনা অন্যরুমে এসে আমার সাথে চিল্লাফাল্লা শুরু করল। আমি নাকি ওর দরজায় নক করতাছি।
যাক প্রায় ঘন্টাখানেক পর রাত ২টার দিকে সবার রুমে একসাথে নক পরল। সাথে সাথে আমরা সবাই একসাথে রুম থেকে বের হলাম। তারপর ভাবলাম ব্যপার কি।
তারপর আমরা সবাই এক রুমে একসাথে ছিলাম। তখনও দেখি আমাদের রুমের দরজায় নক পরছে। কিন্তু আমরা সবাই এক রুমে। পুরা বাড়ি খালই। সদর সরজাও বন্ধ। তাহকে নক করল কে ??
দরজা খুলে দেখলাম কেউ নেই। সেই নক প্রায় ফজরের আযান পর্যন্ত ছিল।

তারপর দিন আমরা কেয়াটেকারকে ঘটনাটা বললাম। তিনি বললেন গত প্রায় ২ বছর ধরে কেউ এ বাড়িতে কেউ ছিল না।

তারপর আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, আমরা ও বাড়িতে থাকব না।
শেষমেশ আমরা হোটেল উঠলাম। তারপর, বাকি তিন দিন আমরা সিলেটের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাঘুরি করে। ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।
তারপর ঢাকায় আরো দুই দিন থাকলাম। আর ২২ তারিখে আমরা সবাই চট্টগ্রামে পৌছলাম।

এখানে এসে দেখি আমাদের তোলা সব ছবি ঠিক আছে কিন্তু লাক্ষাতুরা চা বাগানে তোলা ছবিগুলা সব ঝাপসা ও নষ্ট হয়ে গেছে। কিছু ছবি ওপেন হচ্ছে না।
তারপর অন্য বন্ধুদের বললে তারাও বলল, তাদের ক্যামেরায় তোলা লাক্ষাতুরার সব ছবি নষ্ট হয়ে গেছে।

এ সব ঘটনার কারণ আমরা এখনো খুজে পাই নি।

কেমন লাগল আপনাদের জানতে ভুলবেন না।
কোন ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
ধন্যবাদ
passionboy

About the Author

passionboy's blog
  1. মনিপুরি
    ১৫ টা জোয়ান পোলার কাছে ভূত আসতে ক্যামনে সাহস পায় ?
    passionboy likes this.
  2. imranhimi
    mamu go mone hoy" kana ola"paisilo!!!
  3. JIKO RAJ
    মামা যেখানেই যান, ভুতে পিছা নেয় যে।
    passionboy likes this.
  4. MAHBOOB
    ইয়া আল্লাহ্‌! খাইছে আমারে... লাক্কারতুলা চা বাগান আমার বাড়ি থেকে ১৫ মিনিটের (বাইকের) পথ... আমি প্রায় বন্ধের দিনই বউ বাচ্চা নিয়ে ওই বাগানে ঘুরতে যাই... আমি অবশ্য এই ধরনের কিছু কখনো ফেস করিনি
    passionboy likes this.