1. Hi Guest
    Pls Attention! Kazirhut Accepts Only Benglali (বাংলা) & English Language On this board. If u write something with other language, you will be direct banned!

    আপনার জন্য kazirhut.com এর বিশেষ উপহার :

    যেকোন সফটওয়্যারের ফুল ভার্সনের জন্য Software Request Center এ রিকোয়েস্ট করুন।

    Discover Your Ebook From Our Online Library E-Books | বাংলা ইবুক (Bengali Ebook)

আমার জীবনে একটি সুখের স্মৃতি

kazirhut's Blog entry posted by passionboy, Sep 3, 2013.

প্রিয় বন্ধুরা,
কেমন আছেন সবাই ??
অনেক দিন কোন ব্লগ লিখি না। চিন্তা করলাম কিছুদিন পূর্বে আমার জীবনে ঘটে যাওয়া একটা সুখের ঘটনা আপনাদের সাথে শেয়ার করি।

দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার ২৯ আগষ্ট, ২০১৩ইং। আমি সেদিন কলেজে গিয়েছিলাম একটা রেজিষ্ট্রেশন সংক্রান্ত কাজে। যথারীতি কলেজের সকল কাজ শেষ করলাম।

কলেজ থেকে বের হয়ে আমরা কলেজের কয়েকজন বন্ধু কতক্ষণ আমাদের কলেজের বাউন্ডারীর পাশে একটা হোটেলে আড্ডা মারলাম ও চা-নাস্তা খেলাম। কলেজে গেলেই ঐ হোটেলে আমরা আড্ডা মারি, নাস্তা করি। ঐ হোটেলকে আমরা 'শাহজাহানের হোটেল' বলে ডাকি।

যাক আসল কথায় আসি, সেদিন আমরা সবাই হোটেল থেকে চা-নাস্তা করে বের হলাম। বের বের হতে দুপুর ১২টা বেজে গেল। আমি সবার কাছে থেকে বিদায় নিয়ে জামাল খান রাস্তার মোড়ে আসলাম, গাড়িতে উঠার জন্য। গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছি এমন সময় একটা ৫/৬ বছরের ছেলে এসে আমার সামনে হাত পেতে দাড়াল।
ছেলেটি- ভাইয়্যা দুইডা টেকা দ্যান। সকাল থেকে কিছু খাই নাই।
আমি- টাকা দিয়ে কি করবি ?
ছেলেটি- নাস্তা করমু ?
প্রায়ই আমি এইরকম ছেলেদের এড়িয়ে চলি। দেখা যায় তারা খাওয়ার জন্য টাকা চেয়ে তা অন্য আজে বাজে কাজে খরচ করে। এসে বলে কিছুই খাই নাই, টাকা দেন, কিন্তু কিছুক্ষণ আগে তাকে খেতে দেখেছি।

কিন্তু ঐ ছেলেটির প্রতি আমার অনেক মায়া লেগে উঠল। কারণ সে বলতে পারত সে রাত থেকে কিছু খায় নাই। যাতে সবাই তাকে টাকা দেয়। কিন্তু আমার মনে হল সে সত্যি কথাই বলছে।
আমি জিজ্ঞাস করলাম- তোর নাম কি ?
ছেলেটি- সুমন।
কোন ক্লাশে পড়ে জিজ্ঞাসা করলে কোন উত্তর দেয় না। বুঝলাম তার পড়ালেখা নাই।
জিজ্ঞাসা করলাম- তোর বাসায় কে থাকে ?
ছেলেটি বলল- মা, আমি আর এক বড় বোন।
বাপের কথা জিজ্ঞাসা করলে ছেলেটি বলে- তার বাবা ট্যাক্সি ড্রাইভার ছিল। বছর ছয়েক আগে একটা সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যায়।

ছেলেটির এসব কথা শুনে আমার অনেক মায়া লাগল। তার কথা ভাবতে ভাবতে কোথায় যেন হারিয়ে গেলাম।
ছেলেটি আবার বলে উঠল- ভাইয়্যা দুইটা টেকা দেন, নাস্তা খামু।
তারপর আমি আবার সম্বিত ফিরে পেলাম।

তাকে ছেলেটি না বলে সুমন নামেই সম্বোধন করি।
আমি বললাম চল তোকে আজকে নাস্তা করাব। সুমন মনে করল তার সাথে আমি দুষ্টামী করছি। তাই তার হাত ধরে টেনে একটা বেকারীতে নিয়ে বসালাম।
জিজ্ঞাসা করলাম- কি খাবি ??
সে আমাকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, যেটা খাবে। সে খাবারটা ছিল বনরুটি। সোকেসে কিন্তু আরো লোভনীয় খাবার সাজানো ছিল, কিন্তু সুমন সেসব খাবার না দেখিয়ে সবচেয়ে সস্তা খাবার খেতে চাইল। তারপর আমি তাকে জোর করে ভাল খাবার দিলাম। তাকে দুইটা আইটেম দিয়েছিলাম। কি ছিল তা মনে নেই।

সুমনকে বললাম- আগে এগুলো খা তারপর আরো দিব। কিন্তু সে একটা আইটেম খেল।
জিজ্ঞাসা করলাম- কিরে আরেকটা ঐটা খাস না কেন ??
সুমন বলল- ভাইয়্যা বাসায় নিয়্যা যামু, মা আর বোন খাবে।
এই কথাটা শুনে তার প্রতি আরো মায়া বেড়ে গেল।
বললাম- তুই সবগুলো খা। বাসার জন্য আলাদাভাবে দিব।
তারপর সে খেল।
যাওয়ার সময় কিছু খাবার প্যাকেট করে তার বাসার জন্য দিয়ে দিলাম। অন্য কেউ হলে বলত ভাইয়্যা খানা দিয়েন না, টেকা দেন। কিন্তু সে বাসার জন্য খাবারগুলো পেয়ে খুব খুশি হল।
তারপর আমি বললাম- যা বাসায় যা।
ছেলেটি খাবারের প্যাকেটটি নিয়ে বাসায় চলে গেল।

এখন আপনারা বলতে পারেন, এ আর এমন ঘটনা কি। একটা রাস্তার ছেলেকে ধরে নাস্তা খাওয়ানো।
আমি এই উদ্দেশ্যে লেখাটা লিখি নি।
সেদিন মনে হয়েছিল, আসলে নিজে খেলে যা আনন্দ পাওয়া যায়, তারচেয়ে অন্য কোন ক্ষুধার্ত মানুষকে খাওয়ালে সহস্রগুন বেশি আনন্দ পাওয়া যায়। সেদিন নিজেকে এত সুখি মানুষ মনে হচ্ছিল...

আমি কোন লেখক নই। সাজিয়ে লিখতেও পারি না।
তাই, সাদামাটাভাবে শুধু নিজের মনে কথাটা আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।
কেমন লাগল জানাবেন।
ধন্যবাদ।[fbpop][/fbpop]
passionboy

About the Author

passionboy's blog
  1. abdullah
    পেশন মামার ভিতরের মানুষটার খোঁজ পেলাম। আমাদের সহমরমী হতে উদ্দীপ্ত করার জন্য ধন্যবাদ।
    passionboy likes this.
  2. captcha
    পড়ে খুব সুখ পেলাম। মহান আত্মার মানুষের সংখ্যা দিনকে দিন কমে যাচ্ছে। ইট পাথরের মত জরা হয়ে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত। মনুষত্য লোপ পাচ্ছে।
    passionboy likes this.
  3. Piyash Mahmood
    এই শহরগুলোতে অভুক্ত মানুষের চেয়ে খেতে পারা মানুষের সংখ্যা ই বেশী আমরা যদি মাঝে মাঝে ও ওদের দিকে তাকাই তাহলে হয়তো ওদের কষ্ট অনেকাংশে কমে যেত। প্যাশন মামা কে আন্তরিক ধন্যবাদ, আপনার এই বোধ ছড়িয়ে পড়ুক আমাদের সমাজের প্রত্যেকে মনে....
    captcha, Zahir and passionboy like this.
  4. Zahir
    কামিনী রায়ের অই বিখ্যাত পংতিটি মনে পরছে...
    আপনারে লয়ে ...
    আসেনি কেহ অবনী পরে...
    ... পরের তরে!
    মানুষের জন্য কিছু করতে পারার মত মন সকলের থাকা চাই।
    শহুরে ইট পাথরের মত মন নিয়ে ঘুরাঘুরি করে নির্জীব হয়ে পরেছি।
    দুখী মানুষের আহাকার আমাদের দৃষ্টিকে আকর্ষণ করে না।
    captcha, AurorA 13 and passionboy like this.