1. Hi Guest Pls Attention! Kazirhut Accepts Only Benglali (বাংলা) & English Language On this board. If u write something with other language, you will be direct banned!

    আপনার জন্য kazirhut.com এর বিশেষ উপহার :

    যেকোন সফটওয়্যারের ফুল ভার্সনের জন্য Software Request Center এ রিকোয়েস্ট করুন।

    Discover Your Ebook From Our Huge Collection E-Books | বাংলা ইবুক (Bengali Ebook)

কোন একদিন আমায় তুমি খুজবে

kazirhut's Blog entry posted by Zahir, Oct 10, 2013.

১ম পর্বঃ
আশির দশকের শুরুতে কাজী নুরুল ইসলাম, আমার মরহুম পিতা বেশ কয়েকটি গান রচনা করেন। গান রচনার পর সুরারোপের জন্য তুলে দেওয়া হয় মরমী কন্ঠ শিল্পী মরহুম আবুবকর সিদ্দিক সাহেবের হাতে।
আমি তখন বেশ ছোট, প্রাইমারী মাত্র পার হয়েছি। আমাদের বৈঠকখানায় আব্বার উপস্থিতিতে দিনে রাতে মরহুম আবু বকর সিদ্দিক সাহেবে খুব যত্ন সহকারে গানগুলোর সুরারোপ করেন।
পড়ার অবসরে আমি মাঝে মাঝে পাশে বসে সঙ্গ দিতাম। ঐ বয়সে আমার তবলায় টুং টাং হাত ছিল। দেখা যেত মরহুম আবু বকর সিদ্দিক কাকা আমাকে ওনার গানের সদ্য তোলা সুরের সাথে তবলা ধরতে বলতেন। তবলায় আমার আগ্রহ দেখে আব্বা তবলচি রাখলেন আমাকে তালিম দেওয়ার জন্য। বেশ কিছু দিন তালিম নিয়ে তবলায় কয়েকটি তাল তুলে ফেললাম। ঘরোয়া গানের অনুষ্ঠানে তবলায় ভালই সঙ্গ দিতে পারছিলাম। হঠাত মনে কি এলো- তবলা ছেড়ে দিলাম। শুনেছি কাল হাসরে মানুষের অঙ্গ তার নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে। ভয় লাগল এই আঙ্গুল আল্লাহর সামনে তাবলা বাজানোর কথা জানাবে। ছেড়েই দিলাম। আব্বাও জোর করেন নাই। সেই যে ছাড়লাম আর জীবনে কখনো তবলা ধরি না।

আব্বার রচিত গানগুলো মরহুম আবুবকর সিদ্দিক সাহেবের কন্ঠে বাংলাদেশ বেতারে পরিবেশিত হয়। তখন তো আর বর্তমান সময়ের মত আধুনিক রেকর্ডিং ব্যবস্থাপনা ছিল না তাই গানগুলো সেভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হয় নাই। মুলত আব্বা ১৯৮২ তে ইন্তেকাল করেন, বাবার বড় ছেলে আমিও তখন মাত্র অষ্টম শ্রেনীতে।
মাঝে মাঝে চলাফেরার সময় দোকানের অডিও থেকে আব্বার দু একটা পরিচিত গান কানে ভেসে আসত। এক সময় গান বাজনা থেকে পুরোপুরি বৈমুখ হয়ে পরি। সুযোগ থাকা সত্বেও গানগুলো সংরক্ষণ করি নি।
আজ রাত ১০টার পর নেট দেখছি। কাজীরহাটে আড্ডা থ্রেডে কিছু চটুল রিপ্লাইয়ের রিপ্লাই দিচ্ছি এমন সময় পিতৃসম আলহাজ মোঃ শমসের আলী চাচা ফোন দিলেন। কথা প্রসঙ্গে জানালেন আমার আব্বার একটি জনপ্রিয় গান শুনছেন। তিনি ফোনে কয়েক মিনিট আমাকে আব্বার "কোন একদিন আমায় তুমি খুজবে" গানটি শুনালেন। আমি তন্ময় হয়ে গানটি শুনতে শুনতে এক পর্যায়ে কেদে ফেললাম। ঘরের সবাই আমার অবস্থা দেখে বার বার আমাকে দেখতে লাগল। সবাই চুপ। ফোনে চাচাকে বললাম- আমি আপনার কাছ আসছি। জামা গায়ে চেপে বেড়িয়ে পরলাম বাসার পাশেই চাচার "শমসের ভবন" মার্কেটের উদ্দেশে। আব্বার গানটা আমাকে এতোটা ভাবাবেগ করল যে, আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলাম যেন। কতটা দ্রুত পৌছব... কঠিন তাড়না!

দূর থেকে দেখলাম চাচা নিজ মার্কেটের সামনে কয়েকটি চেয়ার সাজিয়ে বসে আছেন। লোকজন এলে বসে গল্প গুজব করেন। চেয়ারগুলো খালি পেলাম। আমি একটা টেনে চাচাকে সালাম দিয়ে পাশে বসলাম।
চাচার কথা একটূ না বললেই নয়। এই শমসের চাচা আমার মরহুম বাবার সার্বখনিক সঙ্গী ছিলেন, বলতে পারেন ছায়া। আমার বাবা ছায়া। সম্পর্কে ছিলেন আমার বাবার নাতি আবার আরেক সম্পর্কে শালা-দুলাভাই। তবে শমসের চাচা আমার বাবাকে নানাভাই বলে ডাকতেন। ষাটের কাছাকাছি শমসের চাচার গায়ে আমার বাবার গায়ের গন্ধ পাই। ওনাকে দেখলে আমার বাবাকে দেখি। যদিও উনি আমাকে জহির চাচা বলে ডাকেন, কিন্তু পুত্রবত স্নেহ করেন। গত রোজার ঈদে আমাকে একসেট দামী জামা উপহার দিয়েছেন। বাবার পর যার ছায়া আমাকে দুঃসময়ের অনেক পেরেশানী থেকে মুক্তি দিয়েছে, আমার পরিবারকে করেছে নির্ভার- সেই ব্যক্তি শমসের চাচা। উনার কাছে আমি আমার পরিবারের অনেক ঋণ!

আজ এই পর্যন্তই... বাকি অংশ আগামি পর্বে

২য় পর্বঃ
শমসের চাচা বরাবরই যুবক। কথায়, চলনে বলনে, পোশাক আসাকে কখনো মনে হয় না ষাট পেরিয়েছেন। কাজে নামলে যে কোন বয়সের লোক হার মানবে। চাচার পাশে বসে বাবার আমেজ পাচ্ছিলাম। চাচা আমার জন্য ৬টা খিলি পান আনালেন। উনি পানের সেবক। সিগারেট ফুকেন না। দুজন বসে আয়েস করে পান চিবুচ্ছি। এই কথা সেই কথা। গানের প্রসঙ্গে ফিরলাম। জিজ্ঞাসা করলাম চাচা- ফোনে যে গানটা শুনালেন সেটা কই পেলেন? চাচা মার্কেটের একটা অডিও দোকানের দিকে ইঙ্গিত করে জানালেন ঐ দোকানে গানটা হঠাত বেজে উঠলো। চাচা দোকানিকে পুনরায় গানটি বাজাতে বললেন।
বেজে উঠল "কোন একদিন আমায় তুমি খুজবে"... তন্ময় হয়ে চাচা ভাতিজা দুজনে শুনছি আর পান চিবুচ্ছি। গান শেষ হলে উঠে গিয়ে আমার মোবাইলে মেমোরিতে নিয়ে নিলাম।
গানের প্রসঙ্গে চাচা অনেক পুরনো দিনের স্মৃতি চারন করলেন। আমাদের বাসায় কখন কোন গান কিভাবে রেকর্ডিং করেছেন কে কোন গান গেয়ে নাম করেছে টাকা কামিয়েছে ইত্যাদি। কথার ফাঁকে চাচা যেন কাকে ফোন দিয়ে মার্কেটে আসতে বললেন। আমাদের আলাপের ভিতর ঐলোক এলেন , জাত শিল্পী নাম আশরাফ। চাচা আশরাফ ভাইকে আমার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। আমার বাবার পরিচয় পেয়ে আশরাফ ভাই চমকে দাড়িয়ে পরলেন। প্রচন্ড আবেগ নিয়ে আমার সাথে হাতে হাত মিলালেন। আমাকে দেখে কিছু বুঝার চেষ্টা করলেন যেন। শমসের চাচা আমার পরিচয় না দিলে হয়ত উনি বিশ্বাস করতে চাইতেন না আমি মরহুম কাজী নুরুল ইসলাম সাহেবের ছেলে। গানটি ১৯৮০ সনের লেখা। এতোদিন শুধু লেখকের নাম জেনেছেন, লেখককে চোখে দেখেন নি। এমন কি লেখকের কোন অলি আওলাদকেও দেখেন নি। এতদিন পর আশরাফ ভাইয়ের প্রিয় গানের লেখকের ছেলেকে ভিন্নরকম বেশে দেখে চমকেছেন বোধ করি। উনি আমার পোশাক এমন হবে আশা করেন নাই মনে হয়েছে। যারা আমাকে স্বচখে দেখেছেন তারা আন্দাজ করতে পারছেন আমি বেশের কথা কেন বলছি।
আশরাফ ভাই জানালেন উনি আমার বাবার "কোন একদিন আমায় তুমি খুজবে" গানটি বিভিন্ন ষ্টেজে গেয়ে কয়েক লক্ষ টাকা উপহার পেয়েছেন। উনার চোখে মুখে কৃতজ্ঞতার ছাপ স্পষ্ট!
বাসায় ফিরে এলাম তখন রাত ১১।৪৫ হবে। ভাত খেয়ে ল্যাপটপ নিয়ে খুজতে বসলাম। দেখি যদি কেউ কোনভাবে নেটে শেয়ার করে থাকেন!
শুরুতেই ইউটিউব সার্চ দিলাম "কোন একদিন আমায় তুমি খুজবে" আছে নাকি? মুহুর্তেই কয়েকটি লিঙ্ক পেলাম। একটা একটা সবগুলো লিঙ্ক শুনলাম, দেখলাম।
আপনাদেরকেও দেখাবো। আমি আশ্চর্য হলাম ভেবে- গানটির লেখক জীবিত নেই আমরা ছেলেমেয়েরাও কোন দিন খোঁজ নিলাম না কিন্তু ইউটিউবে কিভাবে তাঁর সৃষ্টি গানটি বেঁচে আছে এতো দিন পরেও...







Zahir

About the Author

কাজীর হাটের সেবক
  1. monjurul
    Vary good article.
    sorol manush likes this.
  2. abdullah
    গানের কলি থেকে যতটুকু ধারনা হয়েছে গভীর মর্ম বেদনা থেকে গানটি রচিত। সে রকম কিছু জানা থাকলে শেয়ার করবেন। অনেক ভাল লেগেছে পুরো বিষয়টি।
    sorol manush and monjurul like this.
  3. AurorA 13
    মামা আপনার বাবার স্মৃতিচারণ, জীবনের হাজারো ব্যস্ততায় আমার বাবাকে অনুভব করার সুযোগ করে দিল। বাবা যে কি তা বুঝি। এই শূন্যতা অপূরনীয়। আপনার বাবার লেখা গানটি মনকে খুব আবেগ তাড়িত করে দিল মামা। আল্লাহ উনাকে বেহেশত নসীব করুন।
  4. sorol manush
    গানটির কথা অনেক রিদয়গ্রাহী। মন ভরে গেল।
    monjurul, abdullah and Zahir like this.
  5. --A.R--
    চোখে পানি এসে গেল মামা। আপনি যে একজন সংগ্রামি মানুষ তা আমি খুব ভাল করেই জানি।
    আপনার বাবার মাধ্যমে সুন্দর একটি গান উপহার পেলাম।
    গানটিও অনেক সুন্দর।
    আল্লাহ পাক আপনার বাবাকে বেহেস্ত নসিব করুন। আমিন...
  6. nobish
    কিইবা বলার আছে! পাখি উড়ে যায়, রয়ে যায় ঝরা পালক! সেই পালক দেখে যখন আরেকটা পাখি যখন সকরুন সূরে ডেকে ওঠে তখন আমরা চমকে তাকাই! আমাদের মনটাও উদাস হয়ে যায়। মানুষ বড় কাদায়.....
  7. Sultana
    আমাদের সাথে আপনার আব্বার কথা শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ । এই গানটা আসলেই সুন্দর । আপনি না জানালে হয়তো এই গানের লেখকের নাম কোনদিনই জানা হতো না।
  8. মনিপুরি
    পড়ে ভীষণ আবেগ তাড়িত হয়েছিলাম দুইটা কারনে । প্রথমতঃ আমারও বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন । তখন আমার কোলের ওপরেই তার মাথা ছিল । বড়ই কঠিন এক অনুভুতি । দুইঃ আপনার পরবর্তী কঠিন সংগ্রামের ইতিহাসের সামান্যই আপনার কাছ থেকে জেনেছি ।
    অনেক কথা একসাথে বুকের ভিতর থেকে বার হয়ে আসতে চেয়ে জগাখিচুড়ী পাকিয়ে ফেলছিল । তাই কিছু লিখতে পারিনি ।
    অসম্ভব আবেগ পূর্ণ লেখা । ছেলের কাছ থেকে বাবার পূর্ণ পাওয়া ।
    শ্রদ্ধা নিবেন ।
    sorol manush, monjurul and abdullah like this.
  9. Zahir
    জীবনের না বলা কথাগুলো এই প্রথম বলছি। বন্ধুদের সাথে কখনই শেয়ার করি নি বা সে সুযোগ হয় নি। যুবিকে একদিন শুধু বলেছিলাম আব্বার কথা- উনি সাহিত্যিক ছিলেন। অনেক গল্প উপন্যাস, নাটক লিখেছেন।স্বাধীনতার আগে ও পরে আব্বার কয়েকটি নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। যুদ্ধের বেশ কিছু দিন আগে কয়েকটি নাটক তথ্য মন্ত্রনালয়ে জমা দিয়েছিলেন । নাটক লিখার জন্য তথ্য মন্ত্রনালয় থেকে মুক্তিযুদ্ধ চলমান সময়কালে সরকারী উপহার হিসেবে বেশ কিছু টাকাও পেয়েছিলেন। যুদ্ধের কঠিন দুঃসময়ে হার্টের রোগী আব্বার চিকিৎসা ব্যয় ও পরিবারের খরচ নির্বাহে সেই টাকা আল্লাহর রহমত হয়ে কাজে লেগেছিল। মরহুমা মা ও বড় বোন সূত্রে পরে জেনেছি।
    sorol manush, monjurul and abdullah like this.
  10. Yuvrajj
    শুধু ভাবাবেগটুকু উপলব্ধি করার চেষ্টা করলাম। ধন্যবাদ নিজেকে আমাদের সাথে ভাগ করে নেয়ার জন্য।