1. Hi Guest আপনার জন্য kazirhut.com এর বিশেষ উপহার :

    যেকোন সফটওয়্যারের ফুল ভার্সনের জন্য Software Request Center এ রিকোয়েস্ট করুন।

    Discover Your Ebook From Our Huge Collection E-Books | বাংলা ইবুক (Bengali Ebook)

Dismiss Notice
Hi Guest! Welcome to Kazirhut.com. we would love to see you something. Please visit this funny thread "আগষ্ট ২০১৭ ইং মাসের হাজিরার ফলাফল" and discover kazirhut's entertainment event so that you can pass some funny times with us. Thnx.

আমার কোরবানী ঈদ'১৩ইং

kazirhut's Blog entry posted by Zahir, Oct 17, 2013.

ঈদ মানে, খুশি ঈদ মানে আনন্দ। এই আনন্দের মুহুর্তগুলো একেকজন একেকভাবে ভোগ করে। কারো আনন্দের সময় কারো সাথে হুবহু মিলে না। কিছু ব্যতিক্রম থাকেই। যারা অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটায় তাদের নিরানন্দ জীবনে অবস্থাশালীর কোরবানি দেখে কিছুটা আশার সঞ্চার হয়। যদি দয়া করে দু'টুকরো গোস্ত খেতে দেয়- এই আশায়। যিনি কোরবানী দিচ্ছেন তার সুখের ঠিকানা অন্যখানে। মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে পিছনের রান পাঠাবেন কখন এই সুখে বিভোর! সমাজ সংসারের এই বৈচিত্র আমাদের তাড়িয়ে চলে।
অন্য সকলের মত বাচ্চাদের চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে আমাদের কোরবানির পশুর বিষয়ে চিন্তা করতে হয়। বাচ্চা বড় হলে, কিছুটা সমঝদার হলে বাবার পকেটের হাল বুঝার মত বয়স হলে- তাদের সামলানো যায়। আমার বাচ্চাদের মত নাদান বয়সের বাচ্চাদের সামলানো মুস্কিল। যতই বলি পকেটের হাল ভাল না তারা বুঝবে না। গরু তাদের চাই এবং মোটাসোটা!
এবার যা হয়েছে আমার। পকেট গড়ের মাঠ। তাতে কি বাবাকে গরু আনতেই হবে। আমি পরামর্শ দিলাম তোমরা তো হাফেযে কোরআন তোমারা আল্লাহর প্রিয় পাত্র। তোমরা আল্লাহর কাছে গরু চেয়ে নাও। আল্লাহর মেহেরবানী তাদের নেক দোয়া ও আহাজারী আল্লাহ তায়ালা শুনলেন। কিছু টাকার ব্যবস্থা হলে পরিচিত একজনকে দিয়ে ছেলেদের হাটে পাঠালাম। প্রায় ১ ঘন্টার ভিতর ফোন এলো গরু কেনা হয়েছে, গরু নিয়ে বাসার দিকে রওয়ানা হচ্ছে। মাগরিবের কিছু সময় পর গরু সহ ছেলেরা হাজির। চোখে মুখে আনন্দের ঝিলিক। বাবা হিসেবে পরিতৃপ্তি পেলাম। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছি আল্লাহ মেহেরবানি করে কোরবানীর ব্যবস্থা করে দিলেন।
কোরবানির দিনটা আমার জন্য বিশেষ কস্ট-ক্লেশ ও বিশাল পাওয়ার দিন। আমাদের এলাকার বিশিল সও তুল কোরআন মাদরাসার এতিম দুস্থ ছাত্রদের খানা ও আনুসঙ্গিক ব্যয় নির্বাহের জন্য মহল্লার কোরবানি কৃত পশুর চামড়া সংগ্রহ করতে সকাল থেকে দুপুর অবধি লোকজন নিয়ে ছুটতে হয় বাড়ী বাড়ী। বুঝিয়ে সামঝিয়ে চামড়া আনতে হয়। তারপর রয়েছে মহল্লার উঠতি বয়সী ছোট ভাইদের চামড়া ব্যবসার হিড়িক। সব কিছু সামাল দিয়ে টানা হেচড়া করে শ খানেক চামড়া জড় করা যায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে। দুপুর গড়িয়ে বেলা কিছু গড়ালে চামড়া বিক্রির জন্য উন্মুক্ত ডাকের ব্যবস্থা করতে হয়। এখানেও কিছু বিড়ম্বনা। ক্রেতারা অনেক সময় নিজেদের মধ্যে সখ্য গড়ে তুলে কম দামে চামড়া কেনার পায়তারা করে। ওদের ফন্দিকে ওভার ট্রাম করে উচিত মুল্যে বেচার কোসেস করতে হয়। মেলা হাঙ্গামা। বিকাল গড়ায়।
চামড়া বেচা শেষে সন্ধ্যার পর শুরু হয় আরেক তামসা। যারা দেখেন নাই তাদের বলব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য হলেও আমার মহল্লায় কোরবানি ঈদের দিন বিকেল করে একবার এসে ঘুরে যান। দেখবেন আমরা কোন দুনিয়ায় বাস করি। কি ধরনের কোরবানি ঈদ উৎযাপন করি।
আমাদের মহল্লায় রয়েছে শত বছরের পুরনো পঞ্চায়েতী ব্যবস্থা। ১৫৯ টি ঘর এই পঞ্চায়েতের সদস্য। সদস্যদের মধ্যে যারা কোরবানি করেন তারা স্বেচ্ছায় নিজের কোরবানির চার এর এক ভাগ পঞ্চায়েতে জমা দেন। প্রায় ৬০ ঘর থেকে গোস্ত আসে। সব গোস্ত সমান ১৫৯টি ভাগ করে সন্ধ্যার পর বিলি করা হয়। সারাদিন গোস্ত জমা হয়। বিকেলে ভাগ হয় সন্ধ্যার পর থেকে বিলি হয়। যেহেতু পঞ্চায়েতের গোস্ত আমাদের মহল্লার মসজিদের নিচ তলায় জমা হয় সেখানেও আমাকে কিছু দায়ত্ব আদায় করতে হয়। যদিও মুল দায়িত্ব থাকে পঞ্চায়েতের কর্মকর্তাদের উপর। সব কিছু ঘুচিয়ে যখন ক্লান্ত শরীরে বাসায় ফিরি তখন রাত দশটা। এই হল আমার ঈদুল আযহা। এভাবেই আল্লাহর মর্জি আমার গত এক যুগ চলছে।
চলুন দেখে আসি আমার ঈদুল আযহা্র দিনটা। হয়ত আপনারা কিছুটা রোমাঞ্চিত হবেন।
মহল্লার মসজিদে ঈদের নামাজ শুরু ৭।৪৫ মিঃ। শেষ ৮।১৫ মিঃ।
বাসায় কোরবানির প্রস্তুতি শুর হচ্ছে।
[​IMG]
গরু শোয়ানো শেষে নিজেই জবেহ করলাম আল্লাহর নামে...
[​IMG]
উত্তর বিশিল জামে মসজিদ এর নীচ তলায় সকাল ১০টার পর থেকে পঞ্চায়েতের গোস্ত আসা শুরু হয়। গোস্তের ঠেকির একাংশ দেখেন...
[​IMG]
গোস্ত ভাগা দেওয়ার কাজ চলছে। যারা কাজ করছে তারাও পঞ্চায়েতের সদস্য...
[​IMG]
১৫৯টি ভাগা সারিবদ্ধভাবে দেওয়া হচ্ছে।
[​IMG]

[​IMG]

[​IMG]
মসজিদের বারান্দায় বিশিল গ্রাম পঞ্চায়েত কমিটির প্রধান, আলহাজ্ব মোঃ শমসের আলী (মধ্যে), উপ-প্রধান- আলহাজ্ব মোঃ আলী হোসেন মোল্লা (ডানে), সম্পাদক-দেওয়ান মোঃ সাইফুল আলম মন্টু(সম্পাদক) আলোচনায় ব্যস্ত...
[​IMG]
বিশিল গ্রাম পঞ্চায়েত কমিটির প্রধান, আলহাজ্ব মোঃ শমসের আলী (ডানে), সম্পাদক-দেওয়ান মোঃ সাইফুল আলম মন্টু(মধ্যে), পঞ্চায়েত সদস্য- বিপ্লব (বামে),
[​IMG]
বাদ মাগরিব মসজিদের অফিসে মুড়ি গোস্ত ভোজনে ব্যস্ত বিশিল গ্রাম পঞ্চায়েত কমিটির প্রধান, আলহাজ্ব মোঃ শমসের আলী (ডানে), উপ-প্রধান-শেখ মোঃ মজিবুল হক (মধ্যে), সদস্য শেখ আঃ হামিদ(বামে)
[​IMG]
মসজিদের মাইকে গোস্ত নেওয়ার জন্য বাদ মাগরিব ঘোষণা হয়েছে। দলে দলে পঞ্চায়েত সদস্যগন গোস্ত সংগ্রহের জন্য ভীড় করছেন।
[​IMG]
পঞ্চায়েত সদস্য বার্ষিক চাঁদা ৫০০ টাকা। সদস্যগন দিন ভর একে একে চাঁদা জমা দিয়ে রসিদ সংগ্রহ করেন। সন্ধ্যায় সেই রসীদ দেখিয়ে সারিবদ্ধ হয়ে গোস্ত নিচ্ছেন সদস্যগন।
Zahir

About the Author

কাজীর হাটের সেবক
  1. captcha
    অসাধারন একটা ব্লগ পড়ার সুযোগ পেলাম। গোস্ত দেখে মনে হচ্ছে এখনই এক লোকমা খেয়ে নেই।
    চমতকার সামাজিক ব্যবস্থা। ধন্যবাদ।
    passionboy likes this.
  2. MAHBOOB
    শহরের ভিতর এত সুন্দর পঞ্চায়েত ব্যবস্থা এখনো বর্তমান আপনার লেখা এবং ছবিগুলো না দেখলে বিশ্বাস হতো না। মামা আপনারা প্রতি বছর অনেক সওয়াবের কাজ করেন। এরকম সৌভাগ্য কয়জনের হয়। আমরা নিজেদের কাজ করেই ক্লান্ত হয়ে যাই। আল্লাহ আপনাদেরকে সমাজের কাজে এভাবে সব সময় লেগে থাকার তৌফিক দান করুন। আমিন
  3. Sultana
    বিস্তারিত পড়ে ভালো লাগলো । অনেক গুছানো লেখা ।
    আমাদের গ্রামে বোধহয় আগে ছিল পঞ্চায়েত ব্যবস্থা । এখন গরিব লোকেরা দলে দলে এসে গোশত নিয়ে যায় ।
    আমার চাচাও গ্রামের মাদ্রাসায় একটা অংশ গোশত দেন । চাচা ওখানে কি পদে আছেন সেটা কখনো জিজ্ঞেস করা হয় নি ।
    passionboy and MAHBOOB like this.
  4. sorol manush
    আপনার মত ঈদ ভাগ্য কয়জনের আছে বলুন। আমি তো নিজের কোরবানী নিয়ে পরে থাকি। সমাজ সেবার টাইম কই? অনেক ভাল লাগল।
    passionboy and MAHBOOB like this.
  5. abdullah
    আজকে আমার এক ভাই গল্প করছিলো সাভারের কোথাও কোথাও পঞ্চায়েতী ব্যবস্থা আছে। তারা নিজ কোরবানির ৩/১ অংশ পঞ্চায়েতে জমা দেয়। পরে সব ভাগ এক সাথে করে সব সদস্যদের মাঝে সমানভাবে ভাগ করে বন্টন করে।
    ব্লগটা পড়ে নতুনত্বের স্বাদ পেলাম। ধন্যবাদ।
  6. Zahir
    @দস্যু... মিরপুর-১, ঢাকা।
    বিশিল পঞ্চায়েত কমিটির অন্তর্ভুক্ত সদস্য।
  7. মরুভূমির জলদস্যু
    ঢাকার পুরান টাউনে এই ব্যবস্থা এখনো চালো আছে। আপনি কোন এলাকাতে আছেন?
  8. Yuvrajj
    কয়েকটি উপলব্ধিঃ
    বাচ্চারা আসলে বাচ্চাই
    পঞ্চায়েত-এর নামে মহল্লায় সবার কোরবানীতে অংশগ্রহন দারুন এক ব্যবস্থাপনা

    তবে শেষ ছবিটা না দিলেও পারতেন
    ২৫ অক্টোবরের প্রস্তুতি ধরে নিয়ে ডিবি-র‌্যাব চলে আসতে পারে
  9. passionboy
    আমাদের দেশে গ্রাম অঞ্চলে এখনো পঞ্চায়েত ব্যবস্থা পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু শহর এলাকায় তা খুজে পাওয়া ভার।
    আপনাদের এই পঞ্চায়েতে কর্মনপুনতা সর্বোচ্চ। কারণ পঞ্চায়েতের সবাই বিত্তশালী নয়। বিত্তশালীরা তাদের কোরবানীর গোস্তের এক অংশ একসাথে করে পঞ্চায়েতের অন্যান্য সদস্য যারা কম বিত্তশালী তাদেরকে বন্টন করছে। এতে শুধু কোরবানীর আনন্দ ভাগ হচ্ছে না আরো এলাকার ভ্রাতৃত্ববোধ অটুট থাকছে।
    আল্লাহ আপনাদের এই পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে শত শত বছর তৌফিক দান করুক।
    আপনার কোরবানী দেখে সবার মনে কোরবানীর আনন্দ তাদের প্রতিবেশি ধনী গরীব সবার সাথে ভাগাভাগী করে নিতে উদ্বুদ্ধ করবে।
    ধন্যবাদ
  10. মনিপুরি
    এ ধরনের বিষয়গুলো শহুরে কর্মবাস্ততায় উপলব্ধি করাই কঠিন যান্ত্রিকায়নের কল্যাণে । পঞ্চায়েত বাবস্থা যে এখনও শহরে কার্যকরীভাবে টিকে আছে এটা জানা ছিলনা । আপনাকে হাজারও সালাম মামা । ধন্য আপনার জীবন ।
    passionboy, captcha, MAHBOOB and 3 others like this.