1. Hi Guest Pls Attention! Kazirhut Accepts Only Benglali (বাংলা) & English Language On this board. If u write something with other language, you will be direct banned!

    আপনার জন্য kazirhut.com এর বিশেষ উপহার :

    যেকোন সফটওয়্যারের ফুল ভার্সনের জন্য Software Request Center এ রিকোয়েস্ট করুন।

    Discover Your Ebook From Our Huge Collection E-Books | বাংলা ইবুক (Bengali Ebook)

Agri গবাদি পশুর রোগ-ব্যাধি ও প্রতিকার

Discussion in 'Agriculture' started by abdullah, Oct 21, 2017. Replies: 19 | Views: 103

  1. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    5,332
    Likes Received:
    1,576
    Reputation:
    834
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ওলান ফুলা বা ওলান প্রদাহ:

    বিভিন্ন প্রকার জীবাণু দ্বারা গবাদি পশুর ওলান এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। দ্রুত উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে গরুর ওলান আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

    লক্ষণঃ
    ওলানফুলে শক্ত ও গরম হয়। ওলানে ব্যথা হয়। দুধ কমে যায় এমনকি বন্ধও হয়ে যায়। দুধের রং পরিবর্তন, কখনও পুজের মত বা রক্ত মিশ্রিত হয়। কখনও কখনও দুধের পরিবর্তে টাটকা রক্ত বের হয়।

    করণীয়ঃ
    দ্রুত চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। পশুকে শুকনা ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন স্থানে রাখতে হবে। ওলান সর্বদা পরিস্কার রাখতে হবে। দোহনের পূর্বে দোহনকারীর হাত ধুয়ে নিতে হবে। ওলানে দুধ জমিয়ে রাখা যাবেনা। কোন অবস্থায় ওলানে কোন কিছুর প্রলেপ দেয়া যাবেনা। ওলান গরম হলে ঠান্ডা এবং ঠান্ডা হলে ঈষৎ গরম সেক দিতে হবে। শক্ত ওলানে দিনে দুই তিন বার কর্পূর তৈল মালিশ করতে হবে। কোন অবস্থায়ই বিলম্ব না করে অসুস্থ পশুকে অভিজ্ঞ পশু চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা করতে হবে। হাতুরে ডাক্তারের চিকিৎসার মারত্মক ক্ষতি হতে পারে।

    চিকিৎসাঃ
    এ রোগটি জটিল প্রকৃতির বিধায় পশুচিকিৎসকের পরামর্শমত চিকিৎসা করানো উচিৎ।
     
    mukul and Zahir like this.
  2. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    5,332
    Likes Received:
    1,576
    Reputation:
    834
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    বাছুরের সাদা উদরাময় (ডায়েরিয়া)
    এটি ১ দিন বয়স থেকে ৩ সপ্তাহ বয়সের বাছুরের ব্যাকটেরিয়াজনিত একটি রোগ।

    লক্ষণঃ
    বাছুর ঘনঘন চাল ধোয়া পানির মত দূর্গন্ধযুক্ত সাদা পাতলা পায়খানা করে। বাছুরের অরুচি হয় এবং শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দেয়। বাচুর দুর্বল ও ক্রমে ক্রমে নিস্তেজ হয়ে মারা যায়।

    করণীয়ঃ
    জন্মের পর বাছুরকে পর্যাপ্তপরিমাণ কাঁচলা/শাল দুধ পান করাতে হবে। বাছুরকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন স্থানে রাখতে হবে। দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হবে।

    চিকিৎসাঃ
    সালফানামাইড বা অক্সিটেট্রাসাইক্লিন অথবা উভয় জাতীয় ঔষধ নির্ধারিত মাত্রায় ৪ - ৫ দিন ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনে স্যালাইন ব্যবহার করতে হবে।
     
    mukul and Zahir like this.
  3. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    5,332
    Likes Received:
    1,576
    Reputation:
    834
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    বাছুরের নাভীফোলা (নেভাল ইল) রোগ

    এটি নবজাত বাছুরের নাভীর একটি সংক্রামক রোগ।

    লক্ষণঃ
    জন্মের পর ২-৪ সপ্তাহের মধ্যে এ রোগ হয়। এ রোগে বাছুরের নাভী ফুলে যায়। প্রথমে শক্ত ও পরে নাভীতে ঘা ও পুঁজ হয়।

    করণীয়ঃ
    জন্মের পর নাড়ী নতুন ব্লেড/ছুরি দিয়ে কেটে ক্ষত স্থানে জীবাণুনাশক ঔষধ (টিংচার আয়োডিন, স্যাভলন, ডেটল) লাগাতে হবে। গাভীকে বাছুরের নাভীচাটা থেকে বিরত রাখতে হবে।

    চিকিৎসাঃ
    পেনিসিলিন অথবা ষ্ট্রেপটোপেনিসিলিন জাতীয় ইনজেকশন নির্ধারিত মাত্রায় ৫ - ৭ দিন ব্যবহার করতে হবে।
     
    mukul and Zahir like this.
  4. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    5,332
    Likes Received:
    1,576
    Reputation:
    834
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    প্যারাটিউবারকিউলসিস প্রতিরোধ:
    প্যারাটিউবারকিউলসিস গরুর একটি ছোঁয়াচে রোগ। Mycobacterium paratuberculosis নামের এক জাতীয় ব্যাক্টেরিয়ার কারণে এ রোগ হয়। একে ‘জোনস’ ডিজিসও বলে। এ রোগের ফলে দুগ্ধবতী গাভীর দুধ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এ রোগে গাভী মারাও যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে এক হাজার গাভী রয়েছে এমন একটি দুগ্ধ খামার প্যারাটিউবারকিউলসিস রোগের কারণে বছরে প্রায় দুই লাখ ইউএস ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হয়। আমাদের দেশে ক্ষতির পরিমাণ কত সে বিষয়ে কোনো পরিসংখ্যান না থাকায় সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। প্যারাটিউবারকিউলসিস রোগে দুগ্ধবতী গাভীর দুধ উৎপাদন কমে যাওয়া ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের লক্ষণ দেখা যায়। দীর্ঘস্থায়ী এবং ভয়ংকর ডায়রিয়া তার মধ্যে অন্যতম। ডায়রিয়ায় পানি ও প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ হারানোর কারণে গরুর শরীর শুকিয়ে যায়, ওজন কমে যায় এবং চামড়া রুক্ষ হয়ে যায়। কয়েক সপ্তাহ পর চোয়ালের নীচে ফুলে উঠে। দেখে মনে হয় বোতল জাতীয় কিছু মুখে রেখে হয়ত মুখ বন্ধ করে আছে। তাই একে ‘বটল জো’ বলে। প্রোটিন ঘাটতির কারণে এমনটি হয়ে থাকে। প্যারাটিউবারকিউলসিস প্রতিরোধ করা মোটেও সহজ নয়। ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণের উৎস কিছুতেই বন্ধ করা যায় না। ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ বন্ধ না করতে পারায় রোগ প্রতিরোধ করাও সম্ভব হয় না। তবে প্যারাটিউবারকিউলসিস প্রতিরোধে নতুন উপায়ের কথা শুনিয়েছেন আমেরিকান এগ্রিকালচারাল রিসার্চ সার্ভিসের

    মাইক্রোবায়োলজিস্ট কিম কুক। কুক ধারণা করেছিলেন পানির পাত্রই হয়ত খামারে ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমণের প্রধান উৎস। তাই তিনি পরীক্ষা করে দেখেন পানির পাত্রের ভিন্নতার কারণে ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমণে তারতম্য হয় কি না। কংক্রিট, প্লাস্টিক, স্টেইনলেস স্টিল এবং গ্যালভানাইজিং স্টিলের বিভিন্ন ট্রাফে (খামারে গবাদি পশুকে পানি সরবরাহ করার পাত্র) সংক্রমিত পানি নিয়ে তাতে ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা নিরূপণ করেন। তিনদিন পর লক্ষ্য করেন ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা বহুগুণে বেড়ে গেছে। তিনি তার পর্যবেক্ষণে দেখেন এসব ব্যাক্টেরিয়া ১৪৯ দিন বেঁচে ছিল। কিন্তু স্টেইনলেস স্টিল এবং গ্যালভানাইজিং স্টিলের ট্রাফে ব্যাক্টেরিয়ার বেঁচে থাকার মেয়াদ অনেক কম। এরপর তিনি অপর পরীক্ষায় ট্রাফের পানিতে প্রতি সপ্তাহে ১০০ গ্যালন পানির জন্য ৩ টেবিল চামচ পরিমাণ হিসেবে ক্লোরিন যোগ করেন। এবার আরো বিস্ময়কর ফলাফল লক্ষ্য করেন। তিন সপ্তাহ পর দেখেন কংক্রিটের ট্র্যাফেতে ব্যাক্টেরিয়ার পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪ শতাংশে, প্লাস্টিকের ট্র্যাফেতে ২০ শতাংশে। কিন্তু স্টেইনলেস স্টিল এবং গ্যালভানাইজিং স্টিলে ব্যাক্টেরিয়ার পরিমাণ অবশিষ্ট ছিল ১ শতাংশেরও কম। কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, কনক্রিটের উচ্চমাত্রার পিএইচ ক্লোরিনের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ফলে কনক্রিটের ট্রাফেতে ব্যাক্টেরিয়ার পরিমাণ বেশি ছিল। প্লাস্টিকের ট্রাফেতে ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা বেশি থাকার কারণ প্লাস্টিক ক্লোরিন শুষে নেয়। ফলে ক্লোরিনের কর্মক্ষমতা অক্ষুন্ন থাকে না। কিন্তু স্টেইনলেস স্টিল এবং গ্যালভানাইজিং স্টিলের ট্রাফেতে ক্লোরিনের কর্মক্ষমতা অপরিবর্তিত থাকায় ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা প্রায় নিমূল হয়ে গিয়েছিল। কুক এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, স্টেইনলেস স্টিলের ট্রাফেতে পানি সরবরাহ করা হলে খামারে প্যারাটিউবারকিউলসিসের মাত্রা কমাতে সহায়তা করবে। সাথে ক্লোরিন যোগ করা হলে এর মাত্রা বহুলাংশে হ্রাস পাবে। তাই খামারে প্যারাটিউবারকিউলিসিস রোগ প্রতিরোধে স্টেইনলেস স্টিলের পাত্রে ক্লোরিন মিশ্রিত খাবার পানি সরবরাহ করার পরামর্শ দিয়েছেন কুক।

    লেখক: ডা. হাসান মুহাম্মদ মিনহাজে আউয়াল
    ডিভিএম, পিজিটি, জামালপুর
     
    mukul and Zahir like this.
  5. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    5,332
    Likes Received:
    1,576
    Reputation:
    834
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    গরুর প্রাণঘাতী রোগ ব্যাবেসিওসিস:

    জমিলা খাতুন চার বছর হলো দু’টি গাভী পালন করছেন। গাভীর দুধ বিক্রিই তার আয়ের একমাত্র উৎস। ক’দিন ধরে লক্ষ্য করছেন, একটি গাভী ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করছে না। কানের গোড়ায় হাত দিয়ে দেখলেন জ্বর জ্বরও লাগছে। একদিন দুপুরে দেখলেন গাভীটির প্রস্রাব রক্তের মতো লাল। পায়খানাও লালচে ধরনের। ভীষণ ভয় পেলেন তিনি। কারণ এ ধরনের অসুখ আগে কখনো কোনো গরুর হয়নি। স্খানীয় পশু চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেন তিনি। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ব্যবস্খাপত্র দিলেন। পরদিন থেকেই গাভীটির প্রস্রাব স্বাভাবিক হয়ে এলো এবং কয়েক দিনের মধ্যে পুরোপুরি সুস্খ হয়ে উঠল।

    যেকোনো গরুরই এ ধরনের রোগ হতে পারে, যার নাম ব্যাবেসিওসিস। পরজীবীঘটিত একধরনের রোগ। Boophilus microplus নামের এক ধরনের উকুনের কামড়ে এই পরজীবী গরুর দেহে প্রবেশ করে রক্তের লোহিত কণিকায় আশ্রয় নেয়, সেখানেই বংশ বৃদ্ধি করে। ক্রমেই অন্যান্য লোহিত কণিকায়ও আক্রমণ করে। এতে লোহিত কণিকা ভেঙে হিমোগ্লোবিন রক্তে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়ে আসে। বেশি লোহিত কণিকা আক্রান্ত হলে গরুর রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়।

    রোগের লক্ষণ :

    জ্বর হচ্ছে এই রোগের প্রথম লক্ষণ। জীবাণু বহনকারী উকুনের কামড়ের প্রায় তিন সপ্তাহের মধ্যেই জ্বর দেখা দেয়। গরু ঘন ঘন শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়। শ্বাস গ্রহণের চেয়ে শ্বাস একটু জোরে ত্যাগ করে। খাবারের রুচি কমে যায়। আক্রান্ত গরু দুর্বল হয়ে যায়। চোখ এবং দাঁতের মাড়ি ফ্যাকাশে হয়ে যায়। প্রস্রাবের সাথে রক্ত বের হয়। অনেক সময় পায়খানার সাথেও রক্ত বের হতে পারে। গর্ভবতী গাভীর ক্ষেত্রে গর্ভপাত হতে পারে। গরু কোনো কিছুর সাথে মাথা ঘষা, বৃত্তাকারে চার দিকে ঘোরাসহ এই ধরনের নানান অসংলগ্ন আচরণ করতে পারে। পক্ষাঘাত, অচেতন হয়ে যাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুও হতে পারে।

    পোস্টমর্টেম লক্ষণসমূহ :

    মৃত গরুর দেহ পোস্টমর্টেম করলে হৃৎপিণ্ড ও অন্ত্রে সাব সেরোসাল হেমোরহেজ দেখা যায়। প্লীহা কিছুটা বড় হয়ে যায়। দেখতে লালচে ও নরম হয়। যকৃৎ আকারে স্বাভাবিকের চেয়ে বড় হতে পারে।

    রোগ সনাক্ত করা :

    রোগের লক্ষণ দেখে এ রোগ নিরুপণ করা যায়। নিশ্চিত হওয়ার জন্য আক্রান্ত গরুর রক্ত পরীক্ষা করা হয়।

    চিকিৎসা :

    রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা দিলে দ্রুত সেরে যায়। এই রোগের চিকিৎসায় বিভিন্ন ধরনের ওষুধ রয়েছে। বাজারে এখন যেসব ওষুধ পাওয়া যায় সেগুলোর মধ্যে ইমিডোকার্ব ও ডিমিনাজেন এসিচুরেট বেশি ব্যবহার করা হয়। ট্রিপেন ব্লুও প্রয়োগ করা হয়। মনে রাখা প্রয়োজন, কিছু ওষুধ রয়েছে বিষাক্ত। তাই সব সময় ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করা উচিত।

    প্রতিকারমূলক ব্যবস্খা :

    প্রতিরোধমূলক ব্যবস্খার মধ্যে উকুন নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। এ জন্য যেসব এলাকায় এই উকুনের প্রাদুর্ভাব বেশি সেখানে পানির মধ্যে একারাসিড জাতীয় ওষুধ গুলে গরুকে গোসল করাতে হবে। তাতে গরুর শরীর উকুনমুক্ত হবে। চার থেকে ছয় সপ্তাহ পর পর গোসল করালে উকুনের আক্রমণের সম্ভাবনা কমে। দেশীয় গরুগুলোর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি বলে এই রোগে কম আক্রান্ত হয়। কিন্তু সঙ্কর জাতের কিংবা বিদেশী জাতের গরু সহজেই এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এ জন্য ভ্যাকসিন দেয়া প্রয়োজন। অবশ্য কোনো গরু একবার এই রোগে আক্রান্ত হলে পরে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে। কারণ আক্রান্ত হওয়ার ফলে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জন্ম নেয়। গরুকে রোগবালাই থেকে রক্ষার জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্খা সবচেয়ে বেশি কার্যকর। এ ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। সুষ্ঠু ও যত্নশীল পরিচর্যা গরুকে এ রোগ থেকে রক্ষা করতে পারে। কোনো কারণে রোগগ্রস্ত হলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসার ব্যবস্খা করা এ রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি হ্রাস করবে।
     
    mukul and Zahir like this.
  6. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    5,332
    Likes Received:
    1,576
    Reputation:
    834
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    গবাদিপশুর থাইলেরিয়াসিস রোগ ও প্রতিকার:

    থাইলেরিয়াসিস গবাদিপশুর রক্তবাহিত এক প্রকার প্রোটোজোয়াজনিত রোগ। এই জীবাণু গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়াকে আক্রান্ত করে। সাধারণত গ্রীষ্মকালে থাইলেরিয়াসিস রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। থাইলেরিয়ার জীবাণু আক্রান্ত গরু থেকে সুস্থ গরুতে আঠালির মাধ্যমে এ রোগ সংক্রমিত হয়ে থাকে। গ্রীষ্মকাল আঠালির প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত সময়। এ কারণে গ্রীষ্মকালে গরু আঠালি দ্বারা বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে এবং দ্রুত রোগ ছড়াতে সাহায্য করে।

    বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশে থাইলেরিয়াসিস দেখা যায়। Theileriaগণভুক্ত বিভিন্ন প্রজাতির প্রোটোজোয়া দ্বারা এ রোগ সৃষ্টি হয়ে থাকে। বাংলাদেশে গরুতে Theileria annulata আক্রান্তের হার খুব কম হলেও মৃত্যু হার প্রায় ৯০-১০০%। এ রোগের ক্লিনিক্যাল লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পর পশুর রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা খুব নীচে নেমে যায়। ফলে রোগটি নির্ণিত হওয়ার পর চিকিৎসা দিলেও গরুকে সুস্থ করে তোলা প্রায়ই সম্ভব হয় না। তাছাড়া মাঠপর্যায়ে গরুর রক্ত পরিবহন বাস্তবে সম্ভব হয়ে উঠে না। এ রোগের চিকিৎসার জন্য উন্নতমানের ঔষধের দাম খুব বেশি এবং তা সর্বত্র সহজে সব সময় পাওয়া যায় না। এ কারণে থাইলেরিয়াসিস অর্থনৈতিক ভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ রোগ সঙ্কর জাতের গরুতে বেশি দেখা যায়। সঙ্কর জাতের একটি গাভীর দাম ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা। গবাদিপশুর খামারের ক্ষতিকর রোগগুলির মধ্যে থাইলেরিয়াসিস একটি অন্যতম রোগ। আমাদের দেশের প্রায় প্রতিটি জেলাতেই এ রোগ দেখা যায়। বিভিন্ন কারণে থাইলেরিয়া রোগ নির্ণয় করতে অনেক সময় লেগে যায়। খামারীদের কাছাকাছি এলাকায় প্রায়শ রোগ নির্ণয় কেন্দ্র থাকে না। থাইলেরিয়া রোগে প্রতিবছর বাংলাদেশে কোটি কোটি টাকা মূল্যের গো-সম্পদ নষ্ট হয়ে থাকে।

    রোগের জীবন চক্র
    থাইলেরিয়া রোগের মাধ্যমিক পোষক হিসাবে কাজ করে প্রায় ছয় প্রজাতির আঠালি। যথা-
    Rhipicephalus Spp
    Hyalomma Spp
    Boophilus Spp
    Haemophysalis Spp
    Ornithodoros Spp
    Dermacentor Sppবাংলাদেশে প্রধানত Hyalomma Spp -এর আঠালি Theileria annulata প্রোটোজায়ার মাধ্যমিক পোষক হিসাবে কাজ করে। থাইলেরিয়া আক্রান্ত আঠালির লালা গ্রন্থির মধ্যে অবস্থিত Sporozoits রক্ত শোষণকালে সুস্থ গরুর দেহে প্রবেশ করে। পরে লসিকা গ্রন্থি ও প্লীহার লসিকা কোষকে আক্রান্ত করে ম্যাক্রোসাইজোন্ট বা ককস্-ব্লু বডি (Koch’s blue bodies) সৃষ্টি করে যা মাইক্রোসাইজোন্ট-এ পরিণত হয়। এই মাইক্রোসাইজোন্ট লোহিত কণিকাকে আক্রান্ত করে পাইরোপ্লাজম সৃষ্টি করে। রক্ত শোষণের সময় এই পাইরোপ্লাজম আঠালির দেহে প্রবেশ করে। আঠালির দেহের মধ্যে বিভিন্ন পদ্ধতিতে রূপান্তরিত হয়ে আঠালির লালা গ্রন্থিতে অবস্থান নেয় যা পরে গবাদিপশুর রক্ত শোষণকালে প্রাণীর দেহে প্রবেশ করে। আক্রান্ত আঠালি সুস্থ গরুকে কামড়ানোর ৭-১০ দিন পর পশুর দেহে তাপ দেখা দেয়।

    রোগ লক্ষণ
    গরুর প্রবল জ্বর (১০৪-১০৭০ ফা), ক্ষুধামান্দ্য, রক্তশূন্যতা, চোখ দিয়ে পানি ঝরা, রুমেনের গতি হ্রাস, লসিকা গ্রন্থি ফুলে যাওয়া, রক্ত ও আম মিশ্রিত ডায়ারিয়া ও নাসিকা থেকে শ্লেম্মা নির্গত হয়। এ সময় গরু শুকিয়ে যায় এবং কোনো এন্টিবায়োটিক দ্বারা চিকিৎসায় ফল পাওয়া যায় না। দুধ উৎপাদন একদম কমে যায়, গরু শুয়ে থাকতে বেশি পছন্দ করে, হাঁপায় এবং ধীরে ধীরে গরুর মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুর পূর্বে হঠাৎ করে গরুর শরীরের তাপমাত্রা হ্রাস পায়। সাধারণত আক্রান্ত হবার ১৮-২৪ দিন পর প্রাণী মারা যায়। থাইলেরিয়ায় আক্রান্ত প্রাণী চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠলে কিছুটা প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করে তবে প্রাণীটি এ রোগের বাহক হিসাবে কাজ করে।

    রোগ নির্ণয়
    রোগের লক্ষণ, ইতিহাস এবং চিকিৎসকের অভিজ্ঞতা দিয়ে প্রাথমিক ভাবে এই রোগ নির্ণয় করা যায়। ল্যাবরেটরিতে আক্রান্ত প্রাণীর রক্ত জেম্সা স্টেইন করে অণুবীক্ষণ যন্ত্রে পাইরোপ্লাজম দেখে সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করা যায়।

    চিকিৎসা
    রোগ নির্ণয়ে বেশি দেরী হলে চিকিৎসায় তেমন উপকার হয় না। দ্রুত রোগ নির্ণয় করে মাত্রামত Buparvaquone, Diminazene diaceturate ইত্যাদি প্রয়োগ করতে হবে। সহায়ক চিকিৎসা হিসাবে ভিটামিন ই১২ ইনজেকশন, Hartmann’s Solution ইত্যাদি প্রয়োগ করতে হবে। সম্ভব হলে রক্ত সংযোজন করতে হবে যা দূরূহ ব্যাপার। আক্রান্ত প্রাণীর শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধ খাওয়াতে হবে। পশুকে ছায়াযুক্ত আরামদায়ক পরিবেশে রাখতে হবে। প্রচুর ঠান্ডা পানি পান করতে দিতে হবে।

    প্রতিরোধ
    ডেইরী খামারীদেরকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে থাইলেরিয়া রোগ সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। যে কোন মূল্যে পশুর খামারকে উকুন, আঠালি ইত্যাদি থেকে মুক্ত রাখতে হবে। গোয়াল ঘর ও এর চতুর্দিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। প্রতি ৪ মাস অন্তর গাভীকে আঠালি প্রতিরোধক ইনজেকশন প্রয়োগ করে আঠালি মুক্ত রাখতে হবে। গ্রীষ্মকালে সপ্তাহে দুই বার গোয়াল ঘরে আঠালিনাশক ঔষধ মাত্রামত সপ্রে করলে গোয়াল ঘর আঠালি মুক্ত থাকে। আক্রান্ত এলাকার সন্দেহজনক সকল গবাদিপশুকে Buparvaquone, Diminazene diaceturate ইত্যাদি প্রতিশেধক হিসাবে মাত্রামত প্রয়োগ করা উচিত।

    লেখক: ডাঃ মনোজিৎ কুমার সরকার
    ভেটেরিনারি সার্জন,উপজেলা পশুসম্পদ অফিস, রংপুর।
    তথ্যসূত্র: পোলট্রি, পশুসম্পদ ও মৎস্য বিষয়ক মাসিক পত্রিকা ‘খামার’
     
    mukul and Zahir like this.
  7. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    5,332
    Likes Received:
    1,576
    Reputation:
    834
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    গবাদিপশুর ফুট রট রোগ নিয়ন্ত্রণ:

    ফুট রট গবাদিপশুর পায়ের ক্ষুরের চারপাশে ও ক্ষুরের মধ্যবর্তী স্থানের টিস্যুর প্রদাহজনিত একটি সংক্রামক রোগ। সকল শ্রেণীর সব বয়সের পশুই (গাভী, বলদ, ষাঁড়, বকনা ইত্যাদি) এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এ রোগকে ইন্টারডিজিটাল নেক্রোব্যাসিলোসিস, ফাউল ইনদি ফুট, ফুট রট বা ইন্টার ডিজিটাল ফ্লেগমন হিসাবেও আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে।

    কারণতত্ব ও এপিডেমিওলজী:
    ফুট রট সাধারণত Fusobacterium necrophorum দ্বারা সংঘটিত হয়ে থাকে তবে অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া যেমন Bacterorides melaninogenicus ও এ রোগের কারণ হতে পারে। পরীক্ষামূলকভাবে F. necrophorum গবাদিপশুর ইন্টারডিজিটাল চামড়ার মাঝে ইনজেকশন দিলে ইন্টারডিজিটাল নেক্রোব্যাসিলোসিস এর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লিশান পরিদৃষ্ট হয়। এই ব্যাকটেরিয়ার অধিকাংশ আইসোলেট পরীক্ষা করে দেখো গেছে এরা অ এবং অই গ্রুপের অর্ন্তভুক্ত। এরা একজাতীয় exotoxinউৎপন্ন করে যা ইনজেকশন করলে গবাদি পশু ও ইঁদুর আক্রান্ত হয়। আবার লিশান থেকে প্রাপ্ত আর একজাতীয় isolotes যারা ইন্টারডিজিটাল নেক্রোব্যাসিলোসিস হিসাবে শ্রেণীভুক্ত নয় এবং সুস্থ গরুর পা থেকে সংগৃহীত হয় এরা বায়োটাইপ ই হিসাবে (F. necrophorum subspecies funduliforme) চিহ্নিত হয়। এরা তেমন ক্ষতিকারক নয়। Bacteroides nodosus এর স্ট্রেইন যা ভেড়ার ফুট রট করে তা গবাদিপশুর ক্ষুর থেকে সংগৃহীত হয়েছে তবে তা অল্প বিস্তর ইন্টারডিজিটাল ডার্মাটাইটিস করে থাকে। কিন্তু এরা আবার মারাত্নক ইন্টারডিজিটাল নেক্রোব্যাসিলোসিস রোগের সৃষ্টি করতে পারে।

    পৃথিবীর প্রায় সবদেশেই এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়ে থাকে এবং এর ফলে ৫-১০% গবাদিপশু খোঁড়া হয়ে যেতে পারে। সকল বয়সের গরু এবং দুই মাস বয়সের বেশি ভেড়া ও ছাগলে এ রোগ দেখা দিতে পারে। বর্ষা ও স্যাঁৎসেঁতে আবহাওয়ায় এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি হয়ে থাকে। ডেয়রী খামারের গাভীতে এ রোগ হলে অত্যন্ত ক্ষতি হয়। দেশী জাতের গরু অপেক্ষা বিদেশী জাতের ও সংকর জাতের গাভীতে এ রোগ মারাত্নক হয়ে থাকে। আক্রান্ত গরুর পায়ের ক্ষত হতে নিঃসৃত রস থেকে রোগজীবাণু অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে। যদিও এ রোগ বিচ্ছিন্নভাবে দেখা দেয় তথাপি তা অনুকূল পরিবেশে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

    রোগ বিস্তার:
    সাধারণত আক্রান্ত গরু থেকে রোগের বিস্তার ঘটে। আক্রান্ত প্রাণীর ক্ষুরের ক্ষত স্থান থেকে নিঃসৃত রস প্রচুর জীবাণু বহন করে যা থেকে সুস্থ প্রাণী আক্রান্ত হয়ে থাকে। গবাদি পশুর পায়ের ক্ষুরের করোনেট বা দুই ক্ষুরের মধ্যবর্তী স্থানের টিসু্যতে কোনো কিছু দ্বারা আঘাতের ফলে ক্ষত হলে ও সর্বদা কাদা-পানি বা গোবরের মাঝে পা রাখলে ক্ষতস্থান দিয়ে রোগজীবাণু সহজেই দেহে প্রবেশ করে এ রোগের সৃষ্টি করতে পারে।

    এছাড়াও শক্ত স্থান, ধারালো পাথরের নুড়ি অথবা চারণক্ষেত্রের শক্ত ধান বা গমের মুড়া থেকে ক্ষুরের নরম টিসু্য আঘাতপ্রাপ্ত হলে সেখান থেকেও সংক্রমণ ঘটতে পারে। যে কোনো কারণেই হোক না কেন পা যদি সব সময় ভেজা থাকে তাহলে ক্ষুরের মাঝে ক্ষত হবার সম্ভাবনা বেশি দেখা দেয়। অস্বাস্থ্যকর গোয়াল ঘর হলে রোগের সংক্রমণ বেশি হতে পারে।

    রোগ লক্ষণ
    আক্রান্ত প্রাণীকে আকষ্মিকভাবে খোঁড়াতে দেখা যায়। সাধারণত এক পায়ে ব্যথা হলেও তা প্রায়শ মারাত্নক হয়ে থাকে। দেহের তাপমাত্রা ১০৩-১০৪ ফা লক্ষ্য করা যায়। ক্ষুধামান্দ্য দেখা দেয় ও গাভীর দৈহিক ওজন ও দুধ উৎপাদন হ্রাস পায়। আক্রান্ত ষাঁড় সাময়িকভাবে অনুর্বর (infertile) হয়ে যেতে পারে।
     
    mukul, morsalin and Zahir like this.
  8. Zahir
    Offline

    Zahir Administrator Admin

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    19,135
    Likes Received:
    5,960
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka, Bangladesh
    Reputation:
    1,010
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    তথ্য ও উপস্থাপনা চমৎকার হয়েছে।
    কৃষক ও খামারীদের জন্য আমাদের আরো কাজ করা দরকার।
    মনে রাখতে হবে গ্রামেও এখন অনেকের হাতে স্মার্ট ফোন।
     
    mukul likes this.
  9. morsalin
    Offline

    morsalin Junior Member Member

    Joined:
    Jan 25, 2017
    Messages:
    386
    Likes Received:
    130
    Gender:
    Male
    Location:
    hizla,aminbazar,savar
    Reputation:
    106
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    খামারীদের জন্য খুব দরকারী পোষ্ট হয়েছে।
     
    mukul likes this.
  10. mukul
    Offline

    mukul Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Aug 5, 2012
    Messages:
    10,435
    Likes Received:
    3,267
    Gender:
    Male
    Location:
    বন পাথারে
    Reputation:
    1,273
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    অনেক দিন পর হাটে কৃষি নিয়ে পোষ্ট দেখলাম।
    আব্দুল্লাহ মামাকে ধন্যবাদ আপনার এই থ্রেডটা অনেক বেশী দরকারী আমাদের দেশ ও মাটির জন্য।
    দেশের উন্নয়নের জন্য এই ধরনের থ্রেড বেশী বেশী দরকার।
    অনেক ধন্যবাদ মামা।
     

Pls Share This Page:

Users Viewing Thread (Users: 0, Guests: 0)

Users found this page by searching for:

  1. টিংচার আয়োডিন

    ,
  2. www.গরুর ওলান প্রদাহ এর চি‌কিৎসা.com

    ,
  3. গাভীর লালা গ্রন্থির কাজ