1. Hi Guest
    Pls Attention! Kazirhut Accepts Only Benglali (বাংলা) & English Language On this board. If u write something with other language, you will be direct banned!

    আপনার জন্য kazirhut.com এর বিশেষ উপহার :

    যেকোন সফটওয়্যারের ফুল ভার্সনের জন্য Software Request Center এ রিকোয়েস্ট করুন।

    Discover Your Ebook From Our Online Library E-Books | বাংলা ইবুক (Bengali Ebook)

Islamic শবে বরাত - পালনীয় ও বর্জনীয়

Discussion in 'Role Of Islam' started by mukul, May 1, 2018. Replies: 24 | Views: 284

  1. mukul
    Offline

    mukul Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Aug 5, 2012
    Messages:
    11,742
    Likes Received:
    3,495
    Gender:
    Male
    Location:
    বন পাথারে
    Reputation:
    1,439
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    "শবে বরাত" এর মত একটি বিষয় নিয়ে কিছু লেখার কি প্রয়োজন? আমি এর কৈফিয়ত স্বরূপ কিছু কথা পেশ করছি।

    ১। গত ৪/১২/১৯৯৮ ইং তারিখে আমি গাজীপুরের একটি মসজিদে জুমু‘আর খুতবাহ ও আলোচনায় "শবে বরাত" সম্পর্কে কিছু কথা বলেছিলাম। আলোচনা শেষে উপস্থিত মুসল্লীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার দেখা যায়। অনেকে বলেছেনঃ “শবে বরাত সম্পর্কে এমন স্পষ্ট কথা আগে কোথাও শুনিনি।”
    আবার অনেকে “যতসব নুতন নুতন মাসালা” আখ্যায়িত করে আমার আলোচনাকে প্রত্যাখ্যান করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন, লেখক ও গবেষক আবুল বাশার মুহাম্মাদ ইকবাল (রহঃ)। তিনি আমাকে বললেনঃ আপনার এ বক্তব্যটি একটি প্রবন্ধ আকারে লিখে ফেলুন। তিনি আমাকে বার বার অনুরোধ করছিলেন, আর আমি লিখব লিখব বলে ওয়াদা করে যাচ্ছিলাম। কিন্তু এর পরের বছর যখন ১৫ শাবান এলো তখন তিনি আবারো বললে্নঃ “আপনাকে এ বিষয়ে লেখার জন্য বলেছিলাম, আপনি কিন্তু এখনো লিখেন নি। আগামী দশ দিনের মধ্যে লেখা জমা দিবেন। আমরা আমাদের মাসিক পত্রিকার 'শাবান সংখ্যা'য় আপনার শবে বরাত সম্পর্কিত লেখাটি প্রকাশ করতে চাই।” কিন্তু আমি তখনো তার অনুরোধ রক্ষা করতে পারিনি। তিনি প্রায়শই আক্ষেপ করে বলতে্নঃ “আপনি লিখলেন না!”
    কয়েক মাস পর তিনি ইন্তেকাল করেন। তার ইন্তেকালের পর থেকে আমি নিজেকে অপরাধী মনে করতে থাকি। তার জীবদ্দশায় তার একটি ইচ্ছা আমি পূরণ করতে পারিনি। এর প্রায়শ্চিত্ত করার অনুভূতি আমাকে তাড়া করতে থাকে।

    ২। প্রতি বছর যখন ১৫ শাবান আসে তখন দেখি আলেম-উলামাগণ, ওয়াজীনে কিরাম, আইম্মায়ে মাসাজিদ বিভিন্ন মসজিদে, পত্র-পত্রিকায়, রেডিও টিভিতে শবে বরাত সম্পর্কে লাগামহীন এবং মনগড়া আলোচনা পেশ করেন, যা শুনে একজন সাধারণ মানুষ ধারণা করে নেয় যে, শবে বরাত ইসলামের মূল পর্বগুলিার একটি। তাই তারা অত্যধিক গুরুত্ব দিয়ে তা পালন করেন। এ অবস্থা দেখে অত্যন্ত দুঃখ লাগে, ব্যথা পাই। সংকল্প করি দু একদিনের মধ্যেই এ বিষয়ে লিখতে হবে এবং লিখব। কিন্তু শবে বরাতের ডামাডোল যখন শেষ হয়ে যায় তখন সংকল্পে ভাটা পড়ে। মনে করি আবার এক বছর পর ১৫ শাবান আসবে, অনেক সময় হাতে আছে। আর এ রকম অলসতা করতে গিয়ে চলে গেছে ছয় ছয়টি বছর। আমার মনে হল অনেক দেরী হয়ে গেছে, আরও দেরী করা অন্যায় হবে।

    ৩। যখন ১৫ শাবান সমাগত হয় তখন সাধারণ মানুষ ও অনেক দা’য়ী ইলাল্লাহ, আলেম-উলামাগণ এ ব্যাপারে প্রশ্ন করেন, জানতে চান। তাদের প্রশ্নের ভাষা এ রকমঃ “অনেকে বলেন শবে বরাত বলতে কিছু নেই, এ সম্পর্কে কোন সহীহ হাদীস নেই। আবার অনেকে বলেন শবে বরাত, উহার ফযীলাত ও আমল রয়েছে, আছে তার বিশুদ্ধ প্রমাণ। আসলে বিষয়টির ব্যাপারে সঠিক অবস্থান কি হওয়া উচিত?” তাদের এ প্রশ্নের পূর্ণ জওয়াব দেয়া যেমন যরুরী, তেমনি কঠিন। আর কিছু না বলে প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এড়িয়ে গেলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। তাই এ ব্যাপারে আমি যে সিদ্ধান্তে পৌছেছি তা না লিখে কোন উপায় ছিল না।

    এ বিষয়ে লিখতে গিয়ে আমি যে বড় ধরনের কোন গবেষণা করেছি তা কিন্তু দাবী করছি না। শবে বরাতের পক্ষে-বিপক্ষে লিখিত বিভিন্ন পুস্তিকাসহ অল্প কয়েকটি কিতাবের সাহায্য নিয়েছি মাত্র। এ বিষয়ে লেখার শুরুতে আমি একটি বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিলাম যে, কোন শ্রেণীর লোকজনকে সম্বোধন করে লিখব। সাধারণ লোকদের না আলেম সমাজকে? অবশেষে উভয় প্রকারের লোকদের সম্বোধন করার চেষ্টা করেছি। এ কারণে যদি আমি বিষয়টিকে স্পষ্ট করে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হই তাহলে এটা আমার অযোগ্যতারই প্রমাণ।

    ৪। বিদ‘আত সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ঃ
    শুরু থেকে আমি একজন কওমী মাদ্রাসার ছাত্র। কওমী মাদ্রাসায় পড়ুয়া মানুষেরা ঐতিহ্যগতভাবেই অন্যের তুলনায় বিদ‘আত সম্পর্কে বেশী সচেতন হয়ে থাকে। আমি আমার আসাতিজায়ে কিরাম থেকে বিদ‘আত এর বিরুদ্ধে সচেতন হওয়ার ছবক লাভ করি। বিশেষ করে বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র আল-জামেয়াতুল আহলিয়্যা দারুল উলূম হাটহাজারী, চট্রগ্রামে যখন ইংরেজী ১৯৯২ সনে দাওরায়ে হাদীস জামাতে পড়ছিলাম। তখন আমার মুহসিন ও মুখলিস উস্তাদগণের কাছ থেকে বিদ‘আত ও উহার মূল নীতি সম্পর্কে যথেষ্ট ইস্তেফাদা অর্জন করেছিলাম। তারা ছিলেন এ দেশে প্রচলিত শির্‌ক ও বিদ‘আতের বিরুদ্ধে সোচ্চার কন্ঠ। তবে তারা যে বিপদ-আপদ দূর করার জন্য কিংবা বরকত লাভের উদ্দেশে কুরআন খতম ও খতমে বুখারীর অনুষ্ঠান করতেন, খতমে ইউনূস ও খতমে খাজেগান করতেন, তাবীজ-কবচ ব্যবহার করতে লোকজনকে উৎসাহ দিতেন, সেই কাজগুলো কুরআন ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত কিনা এ প্রশ্ন আমার মনে থেকেই যেত। উস্তাদগণের সামনে এ সকল প্রশ্ন করাকে ‘না জানি বেয়াদবী হয়ে যায়’ এমন একটা অনুভূতির কারণে চুপ হয়ে যেতাম। আবার কখনো কোন উস্তাদগণের সাথে একটু ঘনিষ্ট হলেই সওয়াল করে বসতাম। অনেকে জবাব দেয়া থেকে এড়িয়ে যেতেন। আবার অনেকে সাধ্যমত জবাব দিতেন। কিন্তু তাতে পরিতৃপ্ত হতে পারতাম না। আর এভাবে দাওরায়ে হাদীস শেষ করলাম।
    এরপর আমি বিভিন্ন আরব দেশ থেকে আগত একাধিক উস্তাদদের কাছে পড়াশুনা করার সুযোগ পেলাম। সত্যিই তাদের থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা আমার বিদ‘আত বিরোধী চেতনাকে পরিশুদ্ধ করেছে। আমি অনেক প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেলাম। অনেক সংশয়ের অবসান হল। এ সকল মুহসিন আসাতিজার সকলের নাম আমার দুর্বল স্মরণশক্তি ধরে রাখতে পারেনি। কিন্তু তাতে কি! আমি তাদের নাম হাজার বার ভুলে গেলেও ঐ সকল মুহসিন বান্দাদের আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন প্রাপ্য পুরস্কার থেকে বঞ্চিত করবেন না।
    إن الله لا يضيع أجر المحسنين.

    আমরা তাদের অবদানের যথার্থ মূল্যায়ন করতে না পারলেও যাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তাঁরা সুদূর আরব থেকে এদেশে বার বার এসে দাওয়াত, তালীমসহ বহু জনকল্যাণমূলক কাজ করেছেন, তিনি তাদের কাজের যথার্থ মূল্যায়ন করবেন। আর এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী অবদান যে ব্যক্তির, তিনি হলেন ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মাদ মুজীবুর রহমান, যিনি এ দেশের হাজার হাজার আলেমে-দ্বীন, ইমাম ও দা’য়ীদের অভিভাবক। আল্লাহর এ মুহসিন বান্দার মাধ্যমে শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উপকৃত হয়েছেন এ দেশের লাখ লাখ মানুষ। তার অক্লান্ত পরিশ্রমে নির্মিত ও আবাদ হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে শত শত মসজিদ ও ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সর্বদা প্রচারবিমুখ আল্লাহর এ মুহসিন বান্দা হয়ত এ মহান খিদমাতের স্বীকৃতি স্বরূপ কোন দিন কোন প্রতিষ্ঠান থেকে পদক পাবেন না। কিন্তু যাঁর জন্য সকল নেক ‘আমল নিবেদন করা হয় সেই মহান সত্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার প্রতিদান দিতে কোন কৃপণতা করবেন না। হৃদয় নিংড়ানো এ প্রার্থনা শুধু আমার একার নয়, আমরা যারা তার থেকে দ্বীনী শিক্ষা প্রসার ও দাওয়াতের চেতনায় সমৃদ্ধ হয়েছি, দিক-নির্দেশনা ও উৎসাহ পেয়েছি তাদের সকলের, আল্লাহর এ বিশাল দুনিয়ার যেখানেই আমরা থাকি না কেন।

    রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বদা তাঁর উম্মতকে বিদ’আত সম্পর্কে সতর্ক করতেন। তিনি প্রায় সকল খুতবায় বলতেনঃ
    أما بعد فإن خير الحديث كتاب الله وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم وشر الأمور محدثاتها وكل بدعة ضلالة.(رواه مسلم عن جابر بن عبد الله)
    অর্থঃ শুনে রেখ! সর্বোত্তম কথা হল আল্লাহর কিতাব, সর্বোত্তম পথ-নির্দেশ হল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের পথ-নির্দেশ, আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হল দ্বীনের মধ্যে নতুন সৃষ্ট বিষয় এবং সকল বিদ’আতই পথ-ভ্রষ্টতা। (মুসলিম)
    বিদায় হজ্জেও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদ’আতে লিপ্তদের পরিণাম সম্পর্কে ভাষণ দিয়েছেন।

    আমি মনে করি আল্লাহর ফযলে যদি আমার এ সংকলনটি প্রকাশিত হয় তাহলে অনেক সম্মানিত আলেমে দ্বীন ভাইয়েরা এর প্রতিবাদ করবেন। এ বিষয়টা খন্ডন করে আবার কিতাব লিখবেন, সমালোচনা করবেন। করবেন না কেন? অবশ্যই করবেন। কিন্তু তাদের কাছে আমি সবিনয় আবেদন করব, তারা যেন তাদের এ সকল কাজ একটি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে করেন। তা হল বিদ’আতকে উৎপাটন ও সুন্নাহ কায়েম করা। বর্তমানে এ দুর্যোগময় ও বিপদ সংকুল সময়ে ইসলামের দিকে দাওয়াতে যারা নিবেদিত প্রাণ তাদের থেকে বিদ’আত প্রসারে সহায়তা করে এ রকম বিষয় প্রকাশ হওয়া মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

    আমাদের দেশে বা দেশের বাইরে যারা বিভিন্ন বিদ’আতী কাজ-কর্মে লিপ্ত তারা নিজেদের কাজের সমর্থনে কিন্তু জবরদস্ত- দলীলাদি উপস্থাপন করেন। কিন্তু এ সব দলীলাদি কি গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ? না, সেগুলো মোটেই বিশুদ্ধতার মানদন্ডে মাকবুল নয়। দলীল থাকলেই তা গ্রহণ করে ‘আমল করা যায় না। ‘আমল করার জন্য তা একশ ভাগ বিশুদ্ধ হতে হবে।

    সর্বশেষে যাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করে পারছিনা তারা হলেন বিশিষ্ট আলেমে-দ্বীন, ফাজেলে দারুল উলূম দেওবন্দ যাকারিয়া বিন খাজা আহমাদ। যিনি সংকলনটি দু’ দু’ বার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পাদনা করেছেন। একটি অধ্যায় সংযোজন করেছেন।

    আরো যারা সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন তারা হলেন সহকর্মী মাওলানা ইকবাল হোসাইন মাসূম, মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, মাওলানা জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের ও মাওলানা নুমান আবুল বাশার সাহেব। তারা সকলে যথেষ্ট যোগ্য আলেম। বয়সে নবীন হলেও ইল্‌ম ও প্রজ্ঞায় নবীনতার ছাপ নেই।
    এ ছাড়া বইটি নির্ভুল করার জন্য সময়, শ্রম ও মেধার কুরবানী দিয়েছেন মাদ্রাসা মুহাম্মাদিয়ার মুহতারম উস্তাদ হাফেয রফিকুল ইসলাম ও মাদ্রাসা দারুস সুন্নাহর পরিচালক শহীদুল্লাহ খাঁন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁদের সকলের এ খিদমাতকে علم ينتفع به হিসাবে কবুল করুন। আমীন!

    মাওলানা আব্দুল্লাহ শহীদ
    ২৯-০৬-১৪২৬ হিজরী
     
    • Informative Informative x 1
  2. mukul
    Offline

    mukul Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Aug 5, 2012
    Messages:
    11,742
    Likes Received:
    3,495
    Gender:
    Male
    Location:
    বন পাথারে
    Reputation:
    1,439
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    কতিপয় মূলনীতি

    মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে কতিপয় মূলনীতি উল্লেখ করছি, যা সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে বলে আমার বিশ্বাস।

    ১। যদি কোন একটা প্রথা যুগ যুগ ধরে কোন অঞ্চলের মুসলিম সমাজে চলে আসে, তাহলে তা শরীয়ত সম্মত হওয়ার প্রমাণ বহন করে না। এটা বলা ঠিক হবে না যে, শত শত বছর ধরে যা পালন করে আসছি তা না জায়েয হয় কিভাবে? বরং তা শরীয়ত সম্মত হওয়ার জন্য অবশ্যই শর’য়ী দলীল থাকতে হবে।

    ২। ইসলামের যাবতীয় বিষয়াবলী দু’ প্রকার
    (ক) আকীদাহ বা বিশ্বাস
    (খ) ‘আমল বা কাজ।
    কোন ‘আমল বা কাজ ইসলামের শরীয়ত সম্মত হওয়ার জন্য অবশ্যই কুরআন, হাদীস, ইজমা ও কিয়াস এই চারটির যে কোন একটি দ্বারা প্রমাণিত হতে হবে। কিন্তু আকীদাগত কোন বিষয় অবশ্যই কুরআন অথবা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হতে হবে। ইজমা অথবা কিয়াস দ্বারা আকীদাহর কোন বিষয় প্রমাণ করা যাবে না।

    ৩। যে সকল হাদীস কিতাব আকারে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে তার মধ্যে উল্লিখিত সবগুলো হাদীস বিশুদ্ধ বা সহীহ নয়। হাদীস বিশারদগণ যুগ যুগ ধরে গবেষণা করে নির্ধারণ করেছেন কোনটি সহীহ, কোনটি যয়ীফ (দুর্বল সূত্র), কোনটি মওজু (জাল বা বানোয়াট)। তাই সব ধরনের হাদীস মোতাবেক ‘আমল করা ঠিক নয়। হাদীসসমূহ থেকে শুধু সহীহগুলি ‘আমলে নেয়া হবে। যদি সব ধরনের হাদীস ‘আমলে নেয়া হয় তাহলে শত শত বছর ধরে এ বিষয় গবেষণা ও তা চর্চার সার্থকতা কি?

    ৪। দুর্বল বা জাল হাদীসের উপর ভিত্তি করে ইসলামী শরীয়তে কোন আকীদাহ ও ‘আমল চালু করা যায় না। তবে কুরআন ও সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত কোন ‘আমলের ফযীলাতের ক্ষেত্রে দুর্বল হাদীস গ্রহণ করা যায়।

    ৫। কোন স্থান বা সময়ের ফযীলত কুরআন বা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হলে তা দ্বারা সে স্থান বা সে সময়ে ‘আমল (ইবাদাত-বন্দেগী) করার ফযীলাত প্রমাণিত হয়না। যদি ‘আমল করার ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র শরয়ী দলীল থাকে তাহলেই ‘আমল করা যায়।
     
    • Informative Informative x 1
  3. mukul
    Offline

    mukul Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Aug 5, 2012
    Messages:
    11,742
    Likes Received:
    3,495
    Gender:
    Male
    Location:
    বন পাথারে
    Reputation:
    1,439
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ‘শবে বরাত’ এর অর্থ

    শব’ একটি ফারসী শব্দ এর অর্থ রাত। ‘বারায়াত’কে যদি আরবী শব্দ ধরা হয় তাহলে এর অর্থ হচ্ছে সম্পর্কচ্ছেদ, পরোক্ষ অর্থে মুক্তি। যেমন কুরআন মাজীদে সূরা বারায়াত রয়েছে যা সূরা তাওবা নামেও পরিচিত।
    ইরশাদ হয়েছেঃ
    بَرَاءَةٌ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ (التوبة: ১)
    অর্থঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা। (সূরা তাওবা, ১)

    এখানে বারায়াতের অর্থ হল সম্পর্ক ছিন্ন করা। ‘বারায়াত’ মুক্তি অর্থেও আল-কুরআনে এসেছে যেমনঃ
    أَكُفَّارُكُمْ خَيْرٌ مِنْ أُولَئِكُمْ أَمْ لَكُمْ بَرَاءَةٌ فِي الزُّبُرِ . (سورة القمر :৪৩)
    অর্থঃ তোমাদের মধ্যকার কাফিররা কি তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ? না কি তোমাদের মুক্তির সনদ রয়েছে কিতাবসমূহে? (সূরা কামার, ৩৪)
    আর ‘বারায়াত’ শব্দ যদি ফারসী শব্দ ধরা হয় তাহলে উহার অর্থ হবে সৌভাগ্য। অতএব শবে বরাত শব্দটার অর্থ দাড়ায় মুক্তির রজনী, সম্পর্ক ছিন্ন করার রজনী। অথবা সৌভাগ্যের রাত, যদি ‘বরাত’ শব্দটিকে ফার্সী শব্দ ধরা হয়।

    শবে বরাত শব্দটাকে যদি আরবীতে তর্জমা করতে চান তাহলে বলতে হবে ‘লাইলাতুল বারায়াত’। এখানে বলে রাখা ভাল যে এমন অনেক শব্দ আছে যার রূপ বা উচ্চারণ আরবী ও ফারসী ভাষায় একই রকম, কিন্তু অর্থ ভিন্ন।
    যেমন ‘গোলাম’ শব্দটি আরবী ও ফারসী উভয় ভাষায় একই রকম লেখা হয় এবং একইভাবে উচ্চারণ করা হয়। কিন’ আরবীতে এর অর্থ হল কিশোর আর ফারসীতে এর অর্থ হল দাস।
    সার কথা হল ‘বারায়াত’ শব্দটিকে আরবী শব্দ ধরা হলে উহার অর্থ সম্পর্কচ্ছেদ বা মুক্তি। আর ফারসী শব্দ ধরা হলে উহার অর্থ সৌভাগ্য।
     
    • Informative Informative x 1
  4. mukul
    Offline

    mukul Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Aug 5, 2012
    Messages:
    11,742
    Likes Received:
    3,495
    Gender:
    Male
    Location:
    বন পাথারে
    Reputation:
    1,439
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    আল-কুরআনে শবে-বরাত এর কোন উল্লেখ নেই

    শবে বরাত বলুন আর লাইলাতুল বারায়াত বলুন কোন আকৃতিতে শব্দটি কুরআন মাজীদে খুজে পাবেন না। সত্য কথাটাকে সহজভাবে বলতে গেলে বলা যায় পবিত্র কুরআন মাজীদে শবে বরাতের কোন আলোচনা নেই। সরাসরি তো দূরের কথা আকার ইংগিতেও নেই।
    অনেককে দেখা যায় শবে বরাতের গুরুত্ব আলোচনা করতে যেয়ে সূরা দুখানের প্রথম চারটি আয়াত পাঠ করেন।
    আয়াতসমূহ হলঃ
    অর্থঃ হা-মীম। শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের। আমিতো এটা অবতীর্ণ করেছি এক বরকতময় রাতে। আমি তো সতর্ককারী। এই রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় সি’রকৃত হয়। (সূরা দুখান, ১-৪)
    শবে বরাত পন’ী আলেম উলামারা এখানে বরকতময় রাত বলতে ১৫ শাবানের রাতকে বুঝিয়ে থাকেন। আমি এখানে স্পষ্টভাবেই বলব যে, যারা এখানে বরকতময় রাতের অর্থ ১৫ শাবানের রাতকে বুঝিয়ে থাকেন তারা এমন বড় ভুল করেন যা আল্লাহর কালাম বিকৃত করার মত অপরাধ। কারণঃ

    ১। কুরআন মাজীদের এ আয়াতের তাফসীর বা ব্যাখ্যা সূরা আল-কদর দ্বারা করা হয়।
    এই সূরায় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেনঃ
    অর্থঃ আমি এই কুরআন নাযিল করেছি লাইলাতুল কদরে। আপনি জানেন লাইলাতুল কদর কি? লাইলাতুল কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এতে প্রত্যেক কাজের জন্য মালাইকা (ফেরেশ্‌তাগণ) ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশে। এই শানি- ও নিরাপত্তা ফজর পর্যন- অব্যাহত থাকে। (সূরা কাদর, ১-৫)
    অতএব বরকতময় রাত হল লাইলাতুল কদর। লাইলাতুল বারায়াত নয়। সূরা দুখানের প্রথম সাত আয়াতের ব্যাখ্যা হল এই সূরা আল-কদর। আর এ ধরনের ব্যাখ্যা অর্থাৎ আল-কুরআনের এক আয়াতের ব্যাখ্যা অন্য আয়াত দ্বারা করা হল সর্বোত্তম ব্যাখ্যা।

    ২। সূরা দুখানের লাইলাতুল মুবারাকার অর্থ যদি শবে বরাত হয় তাহলে এ আয়াতের অর্থ দাড়ায় আল কুরআন শাবান মাসের শবে বরাতে নাযিল হয়েছে। অথচ আমরা সকলে জানি আল-কুরআন নাযিল হয়েছে রামাযান মাসের লাইলাতুল কদরে
    যেমন সূরা বাকারার ১৮৫ নং আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন বলেনঃ
    شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآَنُ.
    অর্থঃ রামাযান মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে আল-কুরআন।

    ৩। অধিকাংশ মুফাচ্ছিরে কিরামের মত হল উক্ত আয়াতে বরকতময় রাত বলতে লাইলাতুল কদরকেই বুঝানো হয়েছে। শুধু মাত্র তাবেয়ী ইকরামা রহ. এর একটা মত উল্লেখ করে বলা হয় যে, তিনি বলেছেন বরকতময় রাত বলতে শাবান মাসের পনের তারিখের রাতকেও বুঝানো যেতে পারে।
    তিনি যদি এটা বলে থাকেন তাহলে এটা তার ব্যক্তিগত অভিমত। যা কুরআন ও হাদীসের বিরোধী হওয়ার কারণে পরিত্যাজ্য। এ বরকতময় রাতের দ্বারা উদ্দেশ্য যদি শবে বরাত হয় তাহলে শবে কদর অর্থ নেয়া চলবে না।

    ৪। উক্ত আয়াতে বরকতময় রাতের ব্যাখ্যা শবে বরাত করা হল তাফসীর বির-রায় (মনগড়া ব্যাখ্যা), আর বরকতময় রাতের ব্যাখ্যা লাইলাতুল কদর দ্বারা করা হল কুরআন ও হাদীস সম্মত তাফসীর। সকলেই জানেন কুরআন ও হাদীস সম্মত ব্যাখ্যার উপসি’তিতে মনগড়া ব্যাখ্যা (তাফসীর বির-রায়) গ্রহণ করার কোন সুযোগ নেই।

    ৫। সূরা দুখানের ৪ নং আয়াত ও সূরা কদরের ৪ নং আয়াত মিলিয়ে দেখলে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, বরকতময় রাত বলতে লাইলাতুল কদরকেই বুঝানো হয়েছে। সাহাবী ইবনে আব্বাস (রাঃ), ইবনে কাসীর, কুরতুবী প্রমুখ মুফাচ্ছিরে কিরাম এ কথাই জোর দিয়ে বলেছেন এবং সূরা দুখানের ‘লাইলাতুম মুবারাকা’র অর্থ শবে বরাত নেয়াকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। (তাফসীরে মায়ারেফুল কুরআন দ্রষ্টব্য)
    ইমাম কুরতুবী (রহঃ) তাঁর তাফসীরে বলেছেনঃ “কোন কোন আলেমের মতে ‘লাইলাতুম মুবারাকাহ’ দ্বারা উদ্দেশ্য হল মধ্য শাবানের রাত (শবে বরাত)। কিন’ এটা একটা বাতিল ধারণা।”
    অতএব এ আয়াতে ‘লাইলাতুম মুবারাকাহ’ এর অর্থ লাইলাতুল কদর। শাবান মাসের পনের তারিখের রাত নয়।

    ৬। ইকরামা (রঃ) বরকতময় রজনীর যে ব্যাখ্যা শাবানের ১৫ তারিখ দ্বারা করেছেন তা ভুল হওয়া সত্ত্বেও প্রচার করতে হবে এমন কোন নিয়ম-কানুন নেই। বরং তা প্রত্যাখ্যান করাই হল হকের দাবী। তিনি যেমন ভুলের উর্ধ্বে নন, তেমনি যারা তার থেকে বর্ণনা করেছেন তারা ভুল শুনে থাকতে পারেন অথবা কোন উদ্দেশ্য নিয়ে বানোয়াট বর্ণনা দেয়াও অসম্ভব নয়।

    ৭। শবে বরাতের গুরুত্ব বর্ণনায় সূরা দুখানের উক্ত আয়াত উল্লেখ করার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে এ আকীদাহ বদ্ধমূল হয়ে গেছে যে, শবে বরাতে সৃষ্টিকূলের হায়াত-মাউত, রিয্‌ক-দৌলত সম্পর্কে সিদ্ধান- নেয়া হয় ও লিপিবদ্ধ করা হয়। আর শবে বরাত উদযাপনকারীদের শতকরা নিরানব্বই জনের বেশী এ ধারণাই পোষণ করেন। তারা এর উপর ভিত্তি করে লাইলাতুল কদরের চেয়ে ১৫ শাবানের রাতকে বেশী গুরুত্ব দেয়। অথচ কুরআন ও হাদীসের আলোকে এ বিষয়গুলি লাইলাতুল কদরের সাথে সম্পর্কিত। তাই যারা শবে বরাতের গুরুত্ব বুঝাতে উক্ত আয়াত উপস’াপন করেন তারা মানুষকে সঠিক ইসলামী আকীদাহ থেকে দূরে সরানোর কাজে লিপ্ত, যদিও মনে-প্রাণে তারা তা ইচ্ছা করেন না।

    ৮। ইমাম আবু বকর আল জাসসাস তার আল-জামে লি আহকামিল কুরআন তাফসীর গ্রনে’ লাইলালাতুন মুবারাকা দ্বারা মধ্য শাবানের রাত উদ্দেশ্য করা ঠিক নয় বলে বিস-ারিত আলোচনা করার পর বলেন : লাইলাতুল কদরের চারটি নাম রয়েছে, তা হল : লাইলাতুল কদর, লাইলাতু মুবারাকাহ, লাইলাতুল বারাআত ও লাইলাতুস সিক। (আল জামে লি আহকামিল কুরআন, সূরা আদ-দুখানের তাফসীর দ্রষ্টব্য)
     
    • Informative Informative x 1
  5. mukul
    Offline

    mukul Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Aug 5, 2012
    Messages:
    11,742
    Likes Received:
    3,495
    Gender:
    Male
    Location:
    বন পাথারে
    Reputation:
    1,439
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    লাইলাতুল বারাআত হল লাইলাতুল কদরের একটি নাম। শাবান মাসের পনের তারিখের রাতের নাম নয়
    ইমাম শাওকানী (রহ.) তার তাফসীর ফতহুল কাদীরে একই কথাই লিখেছেন। (তাফসীর ফাতহুল কাদীর : ইমাম শাওকানী দ্রষ্টব্য)
    এ সকল বিষয় জেনে বুঝেও যারা ‘লাইলাতুম মুবারাকা’র অর্থ করবেন শবে বরাত, তারা সাধারণ মানুষদের গোমরাহ করা এবং আল্লাহর কালামের অপব্যাখ্যা করার দায়িত্ব এড়াতে পারবেন না।

    শবে বরাত নামটি হাদীসের কোথাও উল্লেখ হয়নি
    প্রশ্ন থেকে যায় হাদীসে কি লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত নেই? সত্যিই হাদীসের কোথাও আপনি শবে বরাত বা লাইলাতুল বারায়াত নামের কোন রাতের নাম খু্‌জে পাবেন না। যে সকল হাদীসে এ রাতের কথা বলা হয়েছে তার ভাষা হল ‘লাইলাতুন নিস্‌ফ মিন শাবান’ অর্থাৎ মধ্য শাবানের রাত্রি। শবে বরাত বা লাইলাতুল বারায়াত শব্দ আল-কুরআনে নেই, হাদীসে রাসূলেও নেই। এটা মানুষের বানানো একটা শব্দ। ভাবলে অবাক লাগে যে, একটি প্রথা ইসলামের নামে শত শত বছর ধরে পালন করা হচ্ছে অথচ এর আলোচনা আল-কুরআনে নেই। সহীহ হাদীসেও নেই। অথচ আপনি দেখতে পাবেন যে, সামান্য নফল ‘আমলের ব্যাপারেও হাদীসের কিতাবে এক একটি অধ্যায় বা শিরোনাম লেখা হয়েছে।
     
    • Informative Informative x 1
  6. mukul
    Offline

    mukul Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Aug 5, 2012
    Messages:
    11,742
    Likes Received:
    3,495
    Gender:
    Male
    Location:
    বন পাথারে
    Reputation:
    1,439
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ফিকহের কিতাবে শবে বরাত

    শুধু আল-কুরআনে কিংবা সহীহ হাদীসে নেই, বরং আপনি ফিক্‌হের নির্ভরযোগ্য কিতাবগুলো পড়ে দেখুন, কোথাও শবে বরাত নামের কিছু পাবেন না। বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশে দ্বীনি মাদ্রাসাগুলিতে ফিক্‌হের যে সিলেবাস রয়েছে যেমন মালাবুদ্দা মিনহু, নুরুল ইজাহ, কদুরী, কানযুদ্‌ দাকায়েক, শরহে বিকায়াহিদায়াহ খুলে দেখুন না!
    কোথাও শবে বরাত নামের কিছু পাওয়া যায় কিনা! অথচ আমাদের পূর্বসূরী ফিকাহবিদগণ ইসলামের অতি সামান্য বিষয়গুলো আলোচনা করতেও কোন ধরনের কার্পণ্যতা দেখাননি। তারা সূর্যগ্রহণ, চন্দ্রগ্রহণের সালাত সম্পর্কেও অধ্যায় রচনা করেছেন। অনুচ্ছেদ তৈরী করেছেন কবর যিয়ারতের মত বিষয়েরও। শবে বরাতের ব্যাপারে কুরআন ও সুন্নাহর সামান্যতম ইশারা থাকলেও ফিকাহবিদগণ এর আলোচনা মাসয়ালা-মাসায়েল অবশ্যই বর্ণনা করতেন।

    অতএব এ রাতকে শবে বরাত বা লাইলাতুল বারায়াত অভিহিত করা মানুষের মনগড়া বানানো একটি বিদ‘আত যা কুরআন বা হাদীস দ্বারা সমর্থিত নয়।
     
    • Informative Informative x 1
  7. mukul
    Offline

    mukul Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Aug 5, 2012
    Messages:
    11,742
    Likes Received:
    3,495
    Gender:
    Male
    Location:
    বন পাথারে
    Reputation:
    1,439
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    শবে বরাত সম্পর্কিত প্রচলিত আকীদাহ বিশ্বাস ও ‘আমল

    শবে বরাত যারা পালন করেন তারা শবে বরাত সম্পর্কে যে সকল ধারণা পোষণ করেন ও উহাকে উপলক্ষ্য করে যে সকল কাজ করে থাকেন তার কিছু নিম্নে উল্লেখ করা হল।

    তারা বিশ্বাস করে যে,
    • শবে বরাতে আল্লাহ তা‘আলা সকল প্রাণীর এক বছরের খাওয়া দাওয়া বরাদ্দ করে থাকেন।
    • এই বছর যারা মারা যাবে ও যারা জন্ম নিবে তাদের তালিকা তৈরী করা হয়।
    • এ রাতে বান্দার পাপ ক্ষমা করা হয়।
    • এ রাতে ইবাদাত-বন্দেগী করলে সৌভাগ্য অর্জিত হয়।
    • এ রাতে কুরআন মাজীদ লাওহে মাহফুজ হতে প্রথম আকাশে নাযিল করা হয়েছে।
    • এ রাতে গোসল করাকে সওয়াবের কাজ মনে করা হয়।
    • মৃত ব্যক্তিদের রূহ এ রাতে দুনিয়ায় তাদের সাবেক গৃহে আসে।
    • এ রাতে হালুয়া রুটি তৈরী করে নিজেরা খায় ও অন্যকে দেয়া হয়।
    • বাড়ীতে বাড়ীতে মীলাদ পড়া হয়। আতশবাযী করা হয়।
    • সরকারী- বেসরকারী ভবনে আলোক সজ্জা করা হয়।
    • সরকারী ছুটি পালিত হয়।
    • পরের দিন সিয়াম (রোযা) পালন করা হয় ।
    • কবরস্থানগুলো আগরবাতি ও মোমবাতি দিয়ে সজ্জিত করা হয়।
    • লোকজন দলে দলে কবরস্থানে যায়।
    • মাগরিবের পর থেকে মাসজিদগুলি লোকে পরিপূর্ণ হয়ে যায়।
    • যারা পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে ও জুমু‘আয় মসজিদে আসে না তারাও এ রাতে মসজিদে আসে।
    • মসজিদগুলিতে মাইক চালু করে ওয়াজ নসীহাত করা হয়।
    • শেষ রাতে সমবেত হয়ে দু‘আ-মুনাজাত করা হয়।
    • বহু লোক এ রাতে ঘুমানোকে অন্যায় মনে করে থাকে।
    • নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে একশত রাকাত সালাত আদায় করা হয়।
    • লোকজন ইমাম সাহেবকে জিজ্ঞেস করে ‘হুজুর! শবে বরাতের সালাতের নিয়ম ও নিয়্যতটা একটু বলে দিন।’ ইমাম সাহেব আরবী ও বাংলায় নিয়্যাত বলে দেন। কিভাবে সালাত আদায় করবে, কোন্‌ রাকা‘আতে কোন্‌ সূরা তিলাওয়াত করবে তাও বলে দিতে কৃপণতা করেন না।
    যদি এ রাতে ইমাম সাহেব বা মুয়াজ্জিন সাহেব মসজিদে অনুপসি’ত থাকেন, তাহলে তাদের চাকুরী যাওয়ার উপক্রম হয়।
     
    • Informative Informative x 1
  8. mukul
    Offline

    mukul Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Aug 5, 2012
    Messages:
    11,742
    Likes Received:
    3,495
    Gender:
    Male
    Location:
    বন পাথারে
    Reputation:
    1,439
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    শবে বরাতের সম্পর্ক শুধু ‘আমলের সাথে নয়

    শবে বরাত
    সম্পর্কে উপরোল্লিখিত কাজ ও আকীদাহসমূহ শবে বরাত উদযাপনকারীরা সকলেই করেন তা কিন্তু নয়। কেহ আছেন উল্লিখিত সকল কাজের সাথে একমত পোষণ করেন। আবার কেহ আতশবাজী, আলোক-সজ্জা পছন্দ করেন না, কিন্তু কবরস্থানে যাওয়া, হালুয়া-রুটি, ইবাদাত-বন্দেগী করে থাকেন। আবার অনেক আছেন যারা এ রাতে শুধু সালাত আদায় করেন ও পরের দিন সিয়াম (রোযা) পালন করেন। এ ছাড়া অন্য কোন ‘আমল করেন না। আবার অঞ্চল ভেদে ‘আমলের পার্থক্য দেখা যায়। কিন্তু একটি বিষয় হল, শবে বরাত সম্পর্কে যে সকল ধর্ম বিশ্বাস বা আকীদাহ পোষণ করা হয় তা কিন্তু কোন দুর্বল হাদীস দ্বারাও প্রমাণিত হয় না। যেমন ভাগ্যলিপি ও বাজেট প্রনয়নের বিষয়টি।

    যারা বলেনঃ ‘‘আমলের ফাযীলতের ক্ষেত্রে দুর্বল হাদীস গ্রহণ করা যায়, অতএব এর উপর ভিত্তি করে শবে বরাতে ‘আমল করা যায়, তাদের কাছে আমার প্রশ্ন তাহলে শবে বরাতের আকীদাহ সম্পর্কে কি দুর্বল হাদীসেরও দরকার নেই?
    অথবা এ সকল প্রচলিত আকীদাহর ক্ষেত্রে যদি কোন দুর্বল হাদীস পাওয়াও যায় তাহলে তা দিয়ে কি আকীদাহগত কোন মাসয়ালা প্রমাণ করা যায়? আপনারা শবে বরাতের ‘আমলের পক্ষ সমর্থন করলেন কিন্তু আকীদাহর ব্যাপারে কি জবাব দিবেন?
    কাজেই শবে বরাত শুধু ‘আমলের বিষয় নয়, আকীদাহরও বিষয়। তাই এ ব্যাপারে ইসলামের দা’য়ীদের সতর্ক হওয়ার দাওয়াত দিচ্ছি।

    শবে বরাত সম্পর্কে এ বিশ্বাস পোষণ করা যে, আল্লাহ তা‘আলা এ রাতে আল-কুরআন অবতীর্ণ করেছেন, তিনি এ রাতে মানুষের হায়াত, রিয্‌ক ও ভাগ্যের ফায়সালা করে থাকেন, এ রাতে ইবাদাত-বন্দেগীতে লিপ্ত হলে আল্লাহ হায়াত ও রিয্‌ক বাড়িয়ে সৌভাগ্যশালী করেন ইত্যাদি আকীদা কি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রতি মিথ্যা আরোপ করার মত অন্যায় নয়?

    আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেনঃ
    وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ. (الصف : ৭)
    অর্থঃ তার চেয়ে বড় যালিম আর কে যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে? (সূরা সাফ, ৭)
     
    • Informative Informative x 1
  9. mukul
    Offline

    mukul Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Aug 5, 2012
    Messages:
    11,742
    Likes Received:
    3,495
    Gender:
    Male
    Location:
    বন পাথারে
    Reputation:
    1,439
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    শাবানের মধ্যরজনীর ফযীলত সম্পর্কিত হাদীসসমূহের সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা

    ১ নং হাদীস


    ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আমাদের কাছে আহমাদ ইবনে মুনী’ হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইয়াযীদ ইবনে হারূন থেকে, তিনি হাজ্জাজ ইবনে আরতাহ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ "আমি এক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিছানায় পেলাম না তাই আমি তাকে খুঁজতে বের হলাম, ‘বাকী’ নামক কবরস্থানে তাকে পেলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তুমি কি আশংকা করেছো যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমার সাথে অন্যায় আচরণ করবেন?

    আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি মনে করেছি আপনি আপনার অন্য কোন স্ত্রীর কাছে গিয়েছেন। তিনি বললেনঃ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মধ্য শাবানের রাতে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন, অতঃপর কালব গোত্রের পালিত বকরীর পশমের পরিমানের চেয়েও অধিক পরিমান লোকদের ক্ষমা করেন।"


    ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আয়িশা (রাঃ) এর এই হাদীস আমি হাজ্জাজের বর্ণিত সনদ (সূত্র) ছাড়া অন্য কোনভাবে চিনি না। আমি মুহাম্মাদকে (ইমাম বুখারী রহঃ) বলতে শুনেছি যে, তিনি হাদীসটিকে দুর্বল বলতেন। তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ ইয়াহ্‌ইয়া ইবনে কাসীর উরওয়াহ থেকে হাদীস শুনেননি এবং মুহাম্মদ (ইমাম বুখারী) বলেছেনঃ হাজ্জাজ ইয়াহ্‌ইয়াহ ইবনে কাসীর থেকে শুনেন নি।

    এ হাদীসটি সম্পর্কে ইমাম বুখারী রহঃ ও ইমাম তিরমিযীর রহঃ মন্তব্য প্রমাণিত হয় যে, হাদীসটি দুটো দিক থেকে মুনকাতি অর্থাৎ উহার সূত্র থেকে বিচ্ছিন্ন।

    অপর দিকে এ হাদীসের একজন বর্ণনাকারী হাজ্জাজ ইবনে আরতাহ মুহাদ্দিসীনদের নিকট দুর্বল বলে পরিচিত।

    সম্মানিত পাঠকবৃন্দ! যারা শবে বরাতের বেশী বেশী ফাযীলাত বয়ান করতে অভ্যস্ত তারা তিরমিযী বর্ণিত এ হাদীসটি খুব গুরুত্বের সাথে উপস্থাপন করেন অথচ যারা হাদীসটির অবস্থা সম্পর্কে ভাল জানেন তাদের এ মন্তব্যটুকু গ্রহণ করতে চাননা। এ হাদীসটি ‘আমলের ক্ষেত্রে পরিত্যাজ্য হওয়ার জন্য ইমাম তিরমিযীর এ মন্তব্যটুকু কি যথেষ্ট নয়? যদি তর্কের খাতিরে এ হাদীসটিকে বিশুদ্ধ বলে ধরে নেয়া হয় তাহলে কি প্রমাণিত হয়? আমরা যারা ঢাকঢোল পিটিয়ে মাসজিদে একত্র হয়ে যেভাবে শবে বরাত উদযাপন করি তাদের ‘আমলের সাথে এ হাদীসটির মিল কোথায়?

    বরং এ হাদীসে দেখা গেল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিছানা ছেড়ে চলে গেলেন, আর পাশে শায়িতা আয়িশা (রাঃ) কে ডাকলেন না। ডাকলেন না অন্য কাউকেতাতাকে জাগালেন না বা সালাত আদায় করতে বললেন না। অথচ আমরা দেখতে পাই যে, রামাযানের শেষ দশকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে রাত জেগে ইবাদাত-বন্দেগী করতেন এবং পরিবারের সকলকে জাগিয়ে দিতেন। বেশী পরিমাণে ইবাদাত-বন্দেগী করতে বলতেন। যদি ১৫ শাবানের রাতে কোন ইবাদাত করার ফাযীলাত থাকত তাহলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেন আয়িশাকে (রাঃ) বললেন না? কেন রামাযানের শেষ দশকের মত সকলকে জাগিয়ে দিলেন না, তিনি তো নেক কাজের প্রতি মানুষকে আহ্বান করার ক্ষেত্রে আমাদের সকলের চেয়ে অগ্রগামী ছিলেন। এ ব্যাপারে তিনি তো কোন অলসতা বা কৃপণতা করেন নি।
     
    • Informative Informative x 1
  10. mukul
    Offline

    mukul Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Aug 5, 2012
    Messages:
    11,742
    Likes Received:
    3,495
    Gender:
    Male
    Location:
    বন পাথারে
    Reputation:
    1,439
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ২ নং হাদীস

    অর্থঃ আলা ইবনে হারিস থেকে বর্ণিত, আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ এক রাতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। সিজদাহ এত দীর্ঘ করলেন যে, আমি ধারণা করলাম তিনি ইন্তেকাল করেছেন। আমি এ বস্থা দেখে দাড়িয়ে তার বৃদ্ধাঙ্গুল ধরে নাড়া দিলাম, আঙ্গুলটি নড়ে উঠল। আমি চলে এলাম। সালাত শেষ করে তিনি বললেনঃ হে আয়িশা অথবা বললেন হে হুমায়রা! তুুমি কি মনে করেছ আল্লাহর নবী তোমার সাথে বিশ্বাস ভংগ করেছেন? আমি বললামঃ আল্লাহর কসম হে রাসূল! আমি এমন ধারণা করিনি। বরং আমি ধারণা করেছি আপনি না জানি ইনে-কাল করলেন! অতঃপর তিনি বললেনঃ তুমি কি জান এটা কোন রাত? আমি বললামঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ এটা মধ্য শাবানের রাত। এ রাতে আল্লাহ তা’আলা তার বান্দাদের প্রতি মনোনিবেশ করেন। ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন এবং রাহমাত প্রার্থনাকারীদের রহম করেন। আর হিংসুকদেরকে তাদের অবস’ার উপর ছেড়ে দেন। (বাইহাকী তার শুয়াবুল ঈমান কিতাবে বর্ণনা করেছেন)

    হাদীসটি মুরসাল। সহীহ বা বিশুদ্ধ নয় । কেননা বর্ননাকারী ‘আলা’ আয়িশা (রাঃ) থেকে শুনেননি।
     

Pls Share This Page:

Users Viewing Thread (Users: 0, Guests: 0)