1. Hi Guest
    Pls Attention! Kazirhut Accepts Only Bengali (বাংলা) & English Language On this board. If u write something with other language, you will be direct banned!

    আপনার জন্য kazirhut.com এর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার :

    যে কোন সফটওয়্যারের ফুল ভার্সন প্রয়োজন হলে Software Request Center এ রিকোয়েস্ট করুন।

    Discover Your Ebook From Our Online Library E-Books | বাংলা ইবুক (Bengali Ebook)

Islamic মানবাধিকার ও ইসলাম

Discussion in 'Role Of Islam' started by arn43, Feb 16, 2019. Replies: 33 | Views: 427

  1. arn43
    Offline

    arn43 Kazirhut Elite Member Staff Member Global Moderator

    Joined:
    Aug 18, 2013
    Messages:
    28,663
    Likes Received:
    4,027
    Gender:
    Male
    Reputation:
    951
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ফ্রান্সে মানবাধিকার :

    ফ্রান্সে মানবাধিকারের জন্ম, ধারণা ও পরিস্থিতিও প্রায় বৃটেন ও আমেরিকার পর্যায়ে। কারণ তৎকালে ফ্রান্সের মধ্য শ্রেণী কৃষ্ণাঙ্গরা রাজা কর্তৃক মারাত্মকভাব শোষিত, বঞ্ছিত ও নির্যাতিত হয়েছে। এই বিপ্লবীরাই (মধ্যবিত্ত শ্রেণী ও কৃষক) ১৭৮৯ সালে স্বৈরাচারী রাজাকে উৎখাত করে একটি খসড়া দলীল ঘোষণা করে। যার নাম Declaration of Rights of man and of the Citizen. ঘোষণাটির খসড়া দলীল তৈরী করেন জেনারেল দ্য মার কুইজ ডি লাফায়েত, যিনি ছিলেন আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের বন্ধু এবং আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে লাফায়েতকেও বেশ কষ্ট সহ্য করতে হয়েছিল। ১৭৮৯ সালের ২৬শে আগষ্ট গৃহীত এই ঘোষণায় বলা হয়, Men are born and remain free and equal in Rights (অনুচ্ছেদ ১) এবং প্রত্যেক রাজনৈতিক সংগঠনের উদ্দেশ্য হ’ল স্বাধীনতা, সম্পত্তি, নিরাপত্তা এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ (অনুচ্ছেদ-২)। এই ঘোষণায় আরও সন্নিবেশিত ছিল খামখেয়ালী গ্রেফতার থেকে মুক্তি (অনুচ্ছেদ ৭), ধর্মীয় স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ১০), বাক ও সংবাদ পত্রের স্বাধীনতা এবং সম্পত্তির অধিকার (অনুচ্ছেদ ১১, ১৭)। তাই ফ্রান্সের এই দলীলকে American Declaration-এর ‘কনিষ্ঠ ভগ্নি’ বলা হয়। এই ঘোষণার অনুচ্ছেদ ১০-এ ফ্রান্সের জনগণের ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা বলা হ’লেও তা বর্তমান শাসকবর্গের পদতলে পিষ্ট হচ্ছে। ইতিমধ্যে (২০১১ সালে) সেখানে মুসলিম নারীদের হিজাব পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই আইন কেউ অমান্য করলে তাকে জেল-জরিমানাসহ বিভিন্ন দন্ড পেতে হবে। সম্প্রতি আরব দেশ থেকে ৩ জন হিজাব পরিহিতাকে ফ্রান্সের এয়ারপোর্ট থেকে দেশে ফিরে আসতে হয়েছে। কারণ সে দেশের আইনানুযায়ী বোরক্বা/হিজাব নিষিদ্ধ। এয়ারপোর্ট থেকে তাদের হিজাব খোলা ছাড়া তারা ফ্রান্সে প্রবেশ করতে দিবে না। ফলে মুসলিম মহিলারা ফিরে যেতে বাধ্য হয়। এটা নিয়ে বিশ্বে হৈচৈ পড়ে গেছে। তবুও তাতে কোন কাজ হয়নি। এখানে মুসলিম ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ করা হ’ল যা জাতিসংঘ মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লংঘন। অথচ পশ্চিমা শক্তিগুলো এখন এসব ব্যাপারে যেন মুখে কুলুপ এঁটেছে।
     
  2. arn43
    Offline

    arn43 Kazirhut Elite Member Staff Member Global Moderator

    Joined:
    Aug 18, 2013
    Messages:
    28,663
    Likes Received:
    4,027
    Gender:
    Male
    Reputation:
    951
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ফ্রান্সে মানবাধিকার সনদকে ১৭৯১ সালে আইনের অন্তর্ভুক্ত করা হ’লেও সেখানে পরিষ্কার বলা হয়েছে, ‘যদিও উপনিবেশগুলো এবং এশিয়া, আফ্রিকা ও আমেরিকায় ফ্রান্সের অধিকারভুক্ত কোন দেশে ফরাসী রাষ্ট্রের একটি অংশ, কিন্তু এই আইন তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। তাহ’লে এখানে সুস্পষ্টভাবে বুঝা যাচ্ছে যে, ফ্রান্সে যে মানবাধিকার আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, তা অপরিপূর্ণ ও লংঘনীয় ও জাতীয়তাবাদের রাহুগ্রাসে আষ্টে-পৃষ্টে বাঁধা। তাই তো পুরানো ‘সাম্রাজ্যনীতি’র হস্ত সম্প্রসারণের নতুন আক্রমণের শিকার হ’ল মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলো তথা লিবিয়া আক্রমণ। একই নীতিতে বৃটেন, আমেরিকা, ফ্রান্স, তাদের ক্রীড়নক ন্যাটো সহ গোটা পাশ্চাত্য দেশগুলোর ন্যক্কার জোটবদ্ধতা, তথাকথিত গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে তারা প্রমাণ করেছে- বিশ্বে মানবাধিকার রক্ষার একমাত্র রক্ষক তারাই (?); এরাই আবার জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করছে।
     
  3. arn43
    Offline

    arn43 Kazirhut Elite Member Staff Member Global Moderator

    Joined:
    Aug 18, 2013
    Messages:
    28,663
    Likes Received:
    4,027
    Gender:
    Male
    Reputation:
    951
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    মানবাধিকারের সমাজতান্ত্রিক ধারণা :

    পাশ্চাত্যে মানবাধিকারের ধারণার সাথে সাথে আমাদের সমাজতান্ত্রিক মানবাধিকার সম্পর্কে ধারণা থাকা যরূরী। কারণ মানবাধিকারের উদগারক হিসাবে এদের দাবীর কমতি নেই। তাই এর প্রথম ও প্রধান উদগারক হ’ল জার্মান বংশের কার্লমার্কস (১৮১৮-১৮৮৩)। কার্লমার্কসকে পারিবারিক প্রতিকূলতায় যুবক বয়সে তাঁর পিতা হার্সকেল বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠান। সেখানে তিনি আইন, ইতিহাস ও দর্শনের উপর পড়ালেখা ও গবেষণা করেন। বিশেষ করে তিনি ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হেগল-এর দর্শনশাস্ত্র, প্রকৃতি তত্ত্ব প্রভৃতি বই পড়ে যুবসমাজের উপর এক বিপ্লবী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হন। তিনি শাসক বিরোধী লেখার কারণে জার্মান থেকে ফ্রান্সে বিতাড়িত হন। সেখানে অবস্থানকালে প্রকাশিত Vorwart গ্রন্থে তার ভবিষ্যত জীবনের চিন্তা-ভাবনার প্রকাশ ঘটাতে গিয়ে তিনি ধর্ম নিয়ে এক বিতর্কিত বক্তব্য লিখলেন, ‘ধর্ম পৃথিবীর মানুষের দুঃখ ভোলাবার জন্য স্বর্গের সুখের প্রতিশ্রুতি দেয়। এ আর কিছুই নয়; আফিমের মত মানুষকে ভুলিয়ে রাখবার একটা কৌশল’। দার্শনিকদের সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা শুধু নানাভাবে জগতের ব্যাখ্যা করা ছাড়া কিছুই করেনি। আমরা শুধু ব্যাখ্যা করতে চাই না, চাই জগতকে পালটাতে। এখানে তার দর্শনের সাথে শুরু হয় উঁচু শ্রেণীর সংঘাত। অনিবার্য এই অস্থিতিশীল পরিবেশের কারণে ফরাসী সরকার তাকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করে। এখানে পনেরো মাসের জীবনে পরিচয় হয় আর এক সংগ্রামী দার্শনিক ফ্রেডারিক এঙ্গেলস, যিনি মার্কসের ৬৬ বছর বয়সে মৃত্যুর পর তার বাকী কর্মের বাস্তবায়ন করেন। সমাজতান্ত্রিক ধারণা নিয়ে ১৮৪৭ সালে প্রথমে গড়ে উঠল আন্তর্জাতিক কমিউনিষ্ট লীগ। যেখানে যোগ দেয় বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানী, লন্ডনের প্রতিনিধিরা। এখানেই মার্কস এঙ্গেলসের যৌথ কমিউনিষ্ট ম্যানিফেস্টো ঘোষণা করা হয়। (Mychel H. Heart, THE HUNDRED, P. 124-125.)
     
  4. arn43
    Offline

    arn43 Kazirhut Elite Member Staff Member Global Moderator

    Joined:
    Aug 18, 2013
    Messages:
    28,663
    Likes Received:
    4,027
    Gender:
    Male
    Reputation:
    951
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    মার্কস ৫ সদস্যের সংসারে অত্যন্ত কষ্ট করে মানবেতর জীবন যাপন করতেন। দু’কামরা বিশিষ্ট কক্ষে কোন রকম ঠাঁই নিয়ে বেঁচে ছিলেন। পরের দিন খাওয়া জুটবে কি জুটবে না তা কেউ জানে না। জামা-কাপড়, জুতোর অবস্থা এমন যে, বাইরে যাওয়া দুষ্কর। বহুদিন গিয়েছে শুধু একটি জামার অভাবে ঘরের বাইরে যেতে পারেনি মার্কস। অভুক্ত শিশুরা বসে আছে শূন্য হাঁড়ির সামনে। দোকানী ধারে কোন মাল দেয়নি। এমনি করে তার কত দিন-রজনী কেটেছে নিদারুণ কষ্টে। তবে বন্ধু এঙ্গেলস তাকে সহযোগিতা করেছে। সম্ভবত এ অভিজ্ঞতা থেকে তিনি ধনী-গরীবের ব্যবধান ঘুচানোর জন্য গড়ে তোলেন শ্রেণী সংগ্রাম, যা আজও তার চেতনায় উজ্জীবিত। মাকর্স মনে করতেন, সমগ্র সমাজ ব্যবস্থার মূল চালিকা শক্তি হ’ল অর্থনীতি। যাদের হাতে উদ্ধৃত্ত অর্থ সঞ্চিত হবে, তারাই হবে সবচেয়ে ক্ষমতাবান, সমাজের প্রভু। যা ১৮৬৭ সালে তার বিখ্যাত ‘ড্যাস ক্যপিটাল’ (Das Capital) বই-এর মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়। এই বইটিই মূলতঃ ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের প্রেরণা যুগিয়েছিল। (তদেব, পৃঃ ১২৫।) এই ধারণা মার্কসবাদ তথা কমিউনিজম স্বীকার করে না। যদি এমন কোন উচু-নীচু বা অসম পার্থক্য দেখে, তাহ’লে সমাজতান্ত্রিক নীতিতে রাষ্ট্রীয় শাসকবর্গ সে শক্তিকে নিমিষে চুর্ণ-বিচুর্ণ করে দিতে প্রস্ত্তত। অর্থাৎ এই নীতিতে নিজের বলে কোন সম্পদ, অর্থ থাকবে না। সবই থাকবে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে।

    সমাজতান্ত্রিক দর্শনের চিন্তা ও ধারণা জনগণের মধ্যে এমনভাবে গ্রোথিত হয়েছিল, কখনও কখনও যার মারাত্মক পরিণতি স্বয়ং কমিউনিষ্ট নেতা ও শাসকগণকেই বহন করতে হয়েছিল। এ রকমই এক ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কমিউনিষ্ট নেতা ক্রুশ্চেভ-এর এক সুন্দরী কুমারী মেয়ে ছিল। এক সময় অনুসারীরা তার মেয়েকে তার সামনে থেকে ছিনিয়ে নিতে যায়। তখন ক্রুশ্চেভ বলেছিলেন, ‘তোমরা আমার মেয়েকে নিয়ে যাচ্ছ কেন?’ তখন জনগণ বলেছিল, আপনি তো বলেছেন, রাষ্ট্রে ‘আমার ব্যক্তির’ বলে কোন কিছু থাকবে না, সবই রাষ্ট্রের। সুতরাং এ সুন্দরী মেয়ে আপনার না, রাষ্ট্রের তথা জনগণের। তাই এ মেয়েকে ভোগ করার অধিকার আমাদের সকলের। তখন ক্রুশ্চেভ মেয়েকে রক্ষা করতে পারেননি। সেদিন শুধু পথচেয়ে নির্বাক চিত্তে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া তার করার কিছুই ছিল না। এই তো হ’ল হতভাগা শাসক আর কমিউনিজ্যম কনসেপ্ট বা ধারণা।
     

Pls Share This Page:

Users Viewing Thread (Users: 0, Guests: 0)