1. Hi Guest
    Pls Attention! Kazirhut Accepts Only Bengali (বাংলা) & English Language On this board. If u write something with other language, you will be direct banned!

    আপনার জন্য kazirhut.com এর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার :

    যে কোন সফটওয়্যারের ফুল ভার্সন প্রয়োজন হলে Software Request Center এ রিকোয়েস্ট করুন।

    Discover Your Ebook From Our Online Library E-Books | বাংলা ইবুক (Bengali Ebook)

Collected ভাড়াটে রুই (রম্য রচনা) - ইয়াসিন হোসাইন মাসুম

Discussion in 'Collected' started by Zahir, Jul 23, 2019. Replies: 15 | Views: 80

  1. Zahir
    Offline

    Zahir Administrator Admin

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    19,250
    Likes Received:
    5,823
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka, Bangladesh
    Reputation:
    1,142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ভাড়াটে রুই
    লিখেছেন- ইয়াসিন হোসাইন মাসুম
    [​IMG]
    সৌখিন মৎস্য শিকারী মোঃ আয়াজ, সিলেট। (পিক ফর এটেনশন)​

    ১ম খন্ড
    --------

    মতি মিয়া তার শান বাঁধানো পুকুর ঘাটে বসে পাউরুটির টুকরো ঘি ও মধুর মিশ্রনে চুবিয়ে তার ২৬ কেজি ওজনের প্রিয় রুই মাছটিকে খাওয়াচ্ছে ,মাঝে মধ্যে তেলাপিয়া ও ছোট মাছগুলো রুই মাছের মুখ থেকে পাউরুটির টুকরো ছিনিয়ে নিয়ে ভৌ দৌড় দিচ্ছে ৷ এতে করে তিনি কিছুটা বিরক্ত হচ্ছেন৷

    হঠাৎ পিছন থেকে ফারুক মন্ডল মতি মিয়ার পিঠে হাত রেখে বললো-
    "ভাই রুই মাছটা তো বেশ নাদুস নদুসই হয়েছে? "

    মতি মিয়া বললো " হ ভাই বড়ই আদরের মাছ আমার ৷৷ বিগত ৮/১০ বছর ধরে মাছটিকে মুখে তুলে নিজের সন্তানের মতই খাওয়াচ্ছি, বড্ড ভালোবাসি মাছটিকে ৷"

    ফারুক মন্ডল বললো " ভাই আগামী ১৬ই আগষ্ট রোজ শক্রবার দিনব্যাপি রাজদীঘিতে খেলা, আপনার রুই মাছটা আবারও ভাড়া চেয়েছেন পুকুর মালিক সমিতির সন্মাণিত চেয়ারম্যান জাহিদ সাহেব৷ এবার নাকি রাজদীঘিতে বেশ বড়সড় খেলা হবে ৷৷ প্রথম পুরস্কার ১০লাখ টাকা সহ সর্বমোট ২০ লাখ টাকার পুরস্কার থাকছে খেলায়৷

    মতি মিয়া বললো "তাই নাকি? "

    ফারুক মন্ডল বললো "জী ভাই,এবার দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বড় বড় গুনী শিকারীরাও আসবেন এই খেলায় অংশগ্রহন করতে , শুনলাম স্থানীয় শিকারী অনিল সরকারের বড় মামারাও নাকি কলকাতা থেকে খেলতে আসবেন ৷

    মতি মিয়া বললো "এতো বিশাল ব্যাপার, তয় ভাই এবার কিন্তুু আমারে মাছের ভাড়া বাবদ ৩ হাজার ট্যাকা বাড়ায়ে দিতে হইবো ৷"

    ফরুক মন্ডল বললো " অসুবিধা নাই জাহিদ সাহেব অনেক টাকা পয়সাওয়ালা লোক ৩/৪ হাজার টাকা তার কাছে কোন ব্যাপারই না, আজ আসি ভাই ৷"

    ফারুক মন্ডল চলে যাওয়ার পর মতি মিয়া আবার পাউরুটির টুকরো ঘি ও মধুর মিশ্রনে চুবিয়ে রুই মাছটিকে খাওয়াতে লাগলেন ৷

    মতি মিয়া তার রুই মাছটি বিগত ৬/৭ বছর ধরে ভাড়া দেন, কোন কম্পিটিশনের ৩/৪ সপ্তাহ আগেই পুকুর মালিকগ গোপনে তার রুই মাছটি নিয়ে যান এবং দিনের আলোয় সুকৌশলে জাল টেনে মাছটিকে তুলে সবাইকে দেখিয়ে বলেন এরকম সাইজের ৬ টা আছে , জালে সব মাছ একসাথে আসেনা ৷৷ প্রতিযোগিরাও সরল মনে তা মেনে নেন ৷৷

    কোন এক অদ্ভুদ কারনে মতি মিয়ার রুই মাছটি কম্পিটিশন চলাকালিন কারো টোপ গিলে না ৷৷ এতে অবশ্য কেউ কেউ ধারনা করে এটা মতি মিয়ারই কোন কেরামতি ৷৷ কেননা শর্ত থাকে রুই মাছটি ভাড়ায় থাকাকলিন কারো টোপ গিলে ধরা পড়লে মতি মিয়া কোন টাকা পাবে না ৷ এভাবেই বিগত ৬/৭ বছর ধরে প্রায় প্রতি মাসেই রুই মাছটি ভাড়া দিয়ে আসছেন তিনি ৷ কথা থাকে যে খেলা শেষ হওয়ার ২/৩ দিন পর মাছটিকে তার প্রাপ্য ভাড়াসহ মতি মিয়ার কাছে হস্তান্তর করা হবে৷ এতে করে সিজনে প্রায় প্রতি মাসেই মতি মিয়া মাছটিকে ভাড়া দিয়ে ৪/৫ হাজার টাকা আয় করেন ৷
     
    • Winner Winner x 1
  2. Zahir
    Offline

    Zahir Administrator Admin

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    19,250
    Likes Received:
    5,823
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka, Bangladesh
    Reputation:
    1,142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ২য় পর্ব
    ------------
    রাতের আধারে রুই মাছটিকে ধরে রাজদীঘিতে নেওয়া হলো, সকাল বেলায় সুকৌশলে জাল টেনে মাছটিকে ধরে কোলে তুলে হাসি মুখে জনসাধারনের মাঝে ফটোসেশন করলেন জাহিদ সাহেব ৷৷ ডিজিটাল পাল্লায় ওজন করে দেখানো হলো ২৬.৮৫৩ কেজি৷৷ মাইকে ঘোষনা আসলো রাজদীঘির পুরনো রুই, এরকম আরো ৬/৭ রুই মাছ আছে, সাথে বড় সাইজের কিছু কাতল, মিরকা, রুই, কার্ফু, কালিবাউশ, তেলাপিয়া, চিতল, বোয়াল ও দেখানো হলো ৷৷ তবে ওজনের দিক দিয়ে রুই মাছের আশে পাশেও কোন মাছ নেই ৷৷ সুতরাং ধারনা করা হচ্ছে কম্পিটিশনে রুই মাছটি যিনি শিকার করছেন তিনিই হবেন প্রথম পুরস্কার ১০ লাখ টাকার বিজয়ী ৷৷

    এবার রাজদীঘির কম্পিটিশনে ১৫০ টি সিট ও প্রতিসিটের মূল্য ৩০,০০০/- টাকা এবং প্রতি ছিটে ৩টি ছিপ নির্ধারন করা হয়েছে ৷৷ কম্পিটিশনটি চলবে ফ্রি স্টাইলে কিন্তুু এংকর হুক ব্যবহার নিষিদ্ধ৷৷

    সর্বপরি শর্তানুযায়ী রাজদীঘি কম্পিটিশন কমিটির সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত বলে গন্য হবে ৷৷ স্থানীয় পত্রিকা, পোষ্টার, ব্যানার ,মাইকিং সহ অনলাইন পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, মেসেঞ্জার ,হোয়াটস এ্যাপের মাধ্যেমেও রাজদীঘি কম্পিটিশনের ব্যাপক প্রচার প্রচারনা চলছে। দীঘিতে নতুন করে মাচাও বসানো হচ্ছে ৷৷ ফলে রাজদীঘির আশে পাশে বেশ উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে ৷৷ এলাকায় সন্ধ্যার পর চা আড্ডাতেও রাজদীঘির কম্পিটিশন মূল আলোচ্য বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সৌখিন মৎস্য শিকারীগন যে যেভাবে পারছে রাজদীঘি সম্পর্কৃত খোজ খবর নিয়ে সিট বুকিং দিচ্ছেন ৷

    চলবে...
     
    • Winner Winner x 1
  3. mukul
    Offline

    mukul Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Aug 5, 2012
    Messages:
    12,115
    Likes Received:
    3,461
    Gender:
    Male
    Location:
    বন পাথারে
    Reputation:
    1,439
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    গল্পটা ব্যাপক বিনুদুন দিবে মনে হচ্ছে... আপডেট প্লিজ।
     
    • Friendly Friendly x 1
  4. sotobhai
    Offline

    sotobhai Junior Member Member

    Joined:
    Nov 10, 2012
    Messages:
    131
    Likes Received:
    47
    Gender:
    Male
    Reputation:
    31
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    এটা কি মানা যায়!
    মাঝপথে নৌকা থামায়া দিলেন যে!
     
    • Like Like x 1
    • Friendly Friendly x 1
  5. Zahir
    Offline

    Zahir Administrator Admin

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    19,250
    Likes Received:
    5,823
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka, Bangladesh
    Reputation:
    1,142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ৩য় পর্ব
    ---------

    আর মাত্র ৭ দিন বাকি রাজদীঘির টিকিট বুকিং চলছে মহা ধুমধামে ৷ টিকিট বুকিং দিয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গুনী শিকারীগন, কেউ সিট বুকিং দিয়েছেন একাই খেলবেন বলে, কেউবা ২ জন বা ৩ জন মিলে, আবার কেউবা একটি টিম হিসেবে সিটে খেলবেন ৷৷ কেউ পুরস্কারের টাকার নেশায় কেউ বা শখ করে একটু বিনোদনের তাগিদে ৷৷ তবে সবার টার্গেট যে ঐ রুই মাছের উপরেই তা বলার অপেক্ষা থাকে না ৷

    রাজদীঘিতে শিকারে বসা মানেই রাজকীয় ব্যাপার, চারিদিকেই বেশ হইচইও পড়ে গেল ৷৷ এলাকার হাফিজ, আলিম ও মাসুদ এরা পেশায় কাঠমিস্ত্রি, চা-দোকানদার ও রাজমিস্ত্রি। এরা স্বল্প আয়ের মানুষ হলেও শিকারে খুব নেশা। এলাকার ছোট ছোট টিকেটগুলোতে অংশগ্রহন করে থাকে, কখনো মাছ পায় কখনো বা পুকুর মালিকের প্রতারনার শিকার হয়ে পরিবারও আত্নীয়-স্বজনদের গালমন্দ ও অপমানের শিকার হতে হয় ৷ কখনো কখনো তিনজনই সিদ্ধান্ত নেয় শিকারটা ছেড়ে দিবো। তবে টিকেটের কথা শুনলেই মাথা খারাপ হওয়ার মত অবস্থার সৃষ্টি হয়। তখন সবকিছু ভুলে কিভাবে শিকারে বসা যায় সে বিষয়ে আলোচনায় মেতে উঠে ওরা ৷ এদের অনেক দিনের ইচ্ছে রাজদীঘিতে শিকারে বসার, কিন্তুু রাজদীঘির টিকিট যে বড়ই রাজসিক ব্যাপার ৷৷ তিনজন মিলে সিধান্ত নেয় রাজদীঘির টিকিট নেওয়ার কিন্তুু ৩০০০০ টাকা পাবে কোথায়! তবে রাজদীঘিতে শিকারের নেশায় তাদের অনেক বছরের স্বপ্ন। কাঠমিস্রি হাফিজ তার কেনা মেহগনি গাছের গুড়িটি বিক্রি করে, আলিম তার বাজার সমিতিতে সঞ্চয় গুলো তুলে নেয় এবং মাসুদ তার পালা দেড় বছর বয়সী ছাগলটি বিক্রয় করে দেয় ৷৷ অবশেষে টিকিটের টাকা ম্যানেজ করে তিনজন সিদ্ধান্ত নেয় প্রত্যেকে যার যার হুইল ও টোপ দিয়ে শিকার করবে এবং যা মাছ পাবে তা সমান ভাবে ভাগ করে নিবে ৷৷ কম্পিটিশনের দুদিন আগেই ঐতিহ্যবাহি রাজদীঘির প্রায় সকল সিটই বুকিং হয়ে গেছে এবং সবাইকে কম্পিটিশনের আগের দিন বিকেলেই বুকিং এর বাকি টাকাসহ রাজদীঘির মঞ্চের পাশে উপস্থিত থাকতে বলা হলো। ইতোমধ্যে কলকাতা থেকে অনিল সরকারের মামারাও ব্যাক-প্যাক নিয়ে তাদের বাড়িতে উপস্থিত হলো ৷৷

    বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দীঘির আশেপাশে শিকারীদের ভীড় জমে গেল। কেউ কেউ দীঘির পাশে তাবু গাড়ছে, কেউবা ডেকোরেটরের চাদোয়া দিয়ে প্যান্ডল তৈরি করে নিচ্ছে ৷৷ রাজদীঘি কমিটির সৌজন্যে রাজদীঘির চারপাশটাও রাজকীয় সজ্জায় সাজানো হচ্ছে। দীঘির পাশেই একটা মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে যেখান থেকে মাইকের মাধ্যমে আপডেট দেওয়া হবে কোন সিটে কে, কি মাছ ধরলো, মাছের ওজন ও কে কত নম্বর পজিশনে আছে জানানোর জন্যে ৷ সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে বিকাল চারটা থেকেই মাইকের মাধ্যেম প্রতিযোগিদের ডেকে বুকিং এর বাকি টাকা জমা নেওয়া হলেো ৷৷ বিকেল ৫টার দিকে রাজদীঘি কমিটির সভাপতি জাহিদ সাহেবের অনুরোধে মঞ্চে উপস্থিত হলেন মন্ত্রী মহোদয়, সম্মানিত ডিসি সাহেব, ওসিসহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গগন ৷৷ পর্যায়ক্রমিক সকলের শুভেচ্ছা বক্তব্য ও করা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের করার নির্দেশ জারি করে মন্ত্রী মহোদয়, ডিসি ও ওসি বিদায় নিলেন ৷৷ সিদ্ধান্ত হলো রাত্রি ১২.০১ মিনিটে লটারির মাধ্যমে ড্র অনুষ্ঠিত করে আসন নির্ধারন করা হবে৷
     
    • Friendly Friendly x 2
  6. Zahir
    Offline

    Zahir Administrator Admin

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    19,250
    Likes Received:
    5,823
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka, Bangladesh
    Reputation:
    1,142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ৪র্থ পর্ব
    ------------
    সন্ধ্যা থেকেই রাজদীঘির চারপাশটা কোলাহলে পরিপুর্ন ৷ বেশ কিছু অস্থায়ী চা-বিস্কুট -পান -সিগারেট এর দোকান গড়ে উঠেছে দীঘির চারিপাশে। দূর দুরন্ত থেকে আগত শিকারীগন একে অপরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করছে। গল্পগুজবে মত্ত শিকারীগনের মাঝে কেউ কেউ তাদের পুরোনো কোন কম্পিটিশনে ধরা বড় মাছগুলোর ইতিহাস তুলে ধরছেন ৷ কেউ কেউ দীঘির চারপাশটা ঘুরে ঘুরে বোঝার চেষ্টা করছেন বড় মাছগুলো অবস্থান কোন দিকে ৷৷ রাজদীঘির চারপাশটা মাতাল করা মৌ মৌ মিষ্টি গন্ধে ভরপুর, সম্ভবত শিকরীদের নিয়ে আসা টোপ- চারের গন্ধ হবে হয়তো ৷৷
    আলিম, হাফিজ, মাসুদ ও দীঘির পাড়ে এসেছে তাদের স্ব-স্ব মাছ শিকারের ছিপ-বড়শী টোপ চার নিয়ে ৷ আজ সারাদিন এরা এদের কর্মস্থলে না গিয়ে দুই চার গ্রাম ঘুরে ঘুরে পিপড়ার ডিম ও বোল্লার ডিম সংগ্রহ করেছে ৷৷ পিপড়ার ডিম সংগ্রহ করাটা দুঃসাধ্য না হলেও শত শত পিপড়ার কামড় খেয়ে হাতে-পায়ে বেশ চুলকানিরও সৃষ্টি হচ্ছে ৷৷ তবে মুল বিপত্তিটা ঘটেছে বোল্লার বাসা ভাংতে গিয়ে ৷৷ আলিম তার পারদর্শীতা দেখাতে গিয়ে বোল্লার বাসায় বাশের লগি দিয়ে যেইনা খোচা দিয়েছে বোল্লার চৌদ্দগুষ্টি তেড়ে এসে কম বেশী সবাইকে হুল ফুটিয়েছে। আলিমের কপালটা বেশ ফুলেও উঠেছে ৷ হাফিজ ও মাসুদ আলিমের এমন কর্মকান্ডে বেশ বিরক্ত ৷ হাফিজের খুব ইচ্ছে ছিলো তাদের বাড়ির পাশের বিশাল বটগাছটা থেকে মৌমাছির চাক ভেঙ্গে একটু মধু সংগ্রহ করার কিন্তুু বল্লার বাসার ভাংগার বিপত্তির পর আর সাহস হয়নি কারোই ৷৷ তবে আলিম কথা দিয়েছে সে সকালে যেভাবেই হোক মৌমাছির চাক ভেঙ্গে দিবে ৷৷ হাফিজ ও মাসুদ এক সাথে কিছুটা বিদ্রুপে হাসিও দিয়েছিলো সে সময় ৷৷ তবে সারাদিনের ক্লান্তির ছাপ তাদের চোখে মুখে৷ তিনজনই চা ও সিগারেটের উদ্দেশ্যে দীঘিপাড়ের অস্থায়ী দোকনগুলোর দিকে গেল ৷৷ চা পান শেষে ফেরার পথে আলিম হাফিজ ও মাসুদ লক্ষ করলেন মতি মিয়া দীঘিরপাড়ে মন্ত্র পাঠের ভংগিতে বসে মুখ দিয়ে বিড়বিড় করে কি সব আওড়াচ্ছে ৷৷ কৌতুহলি মাসুদ মতি মিয়ার দিকে এগুতেই মাসুদকে দেখে কিছুটা ইতস্ততঃ হয়ে দীঘি পাড় থেকে দ্রুত সটকে গেলেন মতি মিয়া।
    রাজদীঘিতে স্বদলবলে শিকারে এসেছেন রিটায়ার্ড ফরেস্ট অফিসার মাহতাব চৌধুরী। নিজেদের বড়সড় প্যান্ডলের পাশে তার লোকেরা রান্নাবাড়ায় ব্যাস্ত। চেয়ার পেতে বসে তাকে ঘিরে দাড়িয়ে থাকা ৪/৫ কে বিভিন্ন রকম নির্দেশনা দিচ্ছেন, তাদের মধ্যে থেকে নির্ধারন করছেন কে চার করবে, কে টোপ গাথবে, কে নেট করবে। তিনি ভিডিওম্যান ও সঙ্গে এনেছেন যেন সিটে বসে তার হিট করা প্রতিটি মাছের ভিডিও থাকে ৷৷ তিনি তার ব্যাকপ্যাক থেকে নামিদামী বিশেদী ব্যান্ডের রিল, রড়, হুকগুলো বের করে সঙ্গীসাথীদের দেখাচ্ছেন সাথে বলে যাচ্ছেন কোনটা কোন দেশ থেকে এনেছেন, কোয়ালিটি, দাম ইত্যাদি সম্পর্কে। তিনি টোপ ও চারের বাক্স খুলতেই লক্ষ করলেন কিছুটা দুরে আলিম, হাফিজ ও মাসুদ দাড়িয়ে তাকে ফলো করছেন ৷ এতে করে তিনি ভীষন রকম ক্ষেপে গেলেন ৷ তিনি চান না তার সিক্রেট বিষয়গুলো কেউ জানুক ৷ সুতরাং তিনি ইশারা করা মাত্র তার সহকারীরা আলিম, হাফিজ ও মাসুদের দিকে তেড়ে গেলো ৷
     
    • Friendly Friendly x 1
  7. Zahir
    Offline

    Zahir Administrator Admin

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    19,250
    Likes Received:
    5,823
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka, Bangladesh
    Reputation:
    1,142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ৫ম পর্ব
    ---------
    রাজকীয় সজ্জায় সজ্জিত রাজদীঘির ছোট ছোট গাছগুলোকেও লাল, নীল, হলুদ জোনাক বাতির মাধ্যমে আলোকিত করা হয়েছ। লাগানো হয়েছে বেশ কিছু সোডিয়াম বাল্ব, কোলাহলে মুখরিত রাজদীঘি দিনের আলোর মতই পরিস্কার ৷৷ দূর দুরান্ত থেকে আগত শিকারীদের কেউ কেউ তাবুতে ঘুমাচ্ছে ৷
    অনিল সরকারের মামারাও তাদের তাবুতে বসে ৷ অনিল সরকারও অনেকদিন পর তার মামা বিজয়, অনিমেষ ও অভিজিৎদের কাছে পেয়ে মহাখুশি। দীঘি পাড়ের তাবুতে বসে বেশ গল্পও জমিয়েছে। দীঘির পাড়ে বাড়ি হওয়ার সুবাদে সার্বক্ষণিক খেদমত ও আপ্যায়নে ব্যস্ত অনিল সরকারের বাড়ীর লোকেরাও। চা-বিস্কুট ও পানির পাশাপাশি বাড়ি থেকে নিয়ে আসছে তার মায়ের হাতে তৈরি বিভিন্ন প্রকার পিঠা-পুলি ৷ পিঠা-পুলি খেতে খেতে মামারাও অনিল সরকারের থেকে দীঘির মাছ সম্পর্কে জানতে চাইলেন ৷ অনিল সরকার তখন জাহিদ সাহেবের কোলে তুলে ফটোসেশন করা রুই মাছটির বর্ননা শুরু করলো ৷

    রাত ১১.৩০ মিনিট, ইতিমধ্যেই মঞ্চের মাইকে ফারুক মন্ডলের কন্ঠে ঘোষনা আসলো
    "সম্মানিত শিকারীগন
    আসসালামু আলাইকুম ৷
    রাজদীঘির বর্শি প্রতিযোগিতায় আপনাদের শুভেচ্ছা ও সুস্বাগতম ৷৷
    অল্প কিছুক্ষনের মধ্যেই আমাদের লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। লটারির মাধ্যমেই নির্ধারন করা হবে আপনারা কে, কোন সিট পাচ্ছেন। সুতরাং টিকিটসহ প্রতিটি সিটের বিপরীতে একজনকে মঞ্চের পাশে উপস্থিত থাকতে অনুরোধ করা হলো ৷ ধন্যবাদ "

    এরপর জাহিদ সাহেব তার মেনেজিং কমিটির সদস্যদের নিয়ে বৈঠকে বসলেন।

    রাত ১২.০৫ মিনিটে মঞ্চে উপবিষ্ট রাজদীঘি কমিটির সভাপতি জাহিদ সাহেব লটারির মাধ্যমে একে একে শিকারীগনকে তাদের সিট বুঝিয়ে দিলেন ৷ এসময় তার পাশে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় থানার এস.আই আরিফ ভূইয়া ৷৷ লটারি শেষে শিকারীদের কেউ কেউ খুশি হলো কেউবা রেগে চোখমুখ লাল করে ফেললো পছন্দের ছিটগুলোতে ছিট না পরায় ৷ পরিস্থিতি কিছুটা উত্তেজনাপূর্ন হলেও এস.আই আরিফ তার কনসটেবল ও আনসার বাহিনী দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে দিলেন।
    মাইকে ঘোষনা দেওয়া হলো "ভোর ৫.৩০ মিনিটের পূর্ব কেউ মাচায় উঠতে ও চার করতে পারবেন না এবং সকাল ৬.০০ টার পুর্বে কেউ ছিপ ফেলতে পারবেন না। শিকার চলবে সকাল ৬.০০- থেকে সন্ধ্যা ৬. ০০ পর্যন্ত ৷ সর্বোপরি রাজদীঘি কমিটির সিদ্ধান্তই হবে চুড়ান্ত ৷"……

    ফজরের আজানের শব্দে ঘুম ভাংলো আলিমের, বুক পকেটে রাখা নোকিয়া-১১১০ ফোনে তখন ৪. ১৫ মিনিট ৷ হাফিজ তখনো জেগে আছে, কোন টিকিটের পুকরে শিকারে গেলে হাফিজের ঘুম আসে না। তখন ছিপ বড়শীগুলো বের করে চেক করে, চেক করে কাটার ধার কেমন, বাধাটা ঠিক আছে কিনা, আবার কৌটা থেকে চার টোপগুলো নাকের কাছে নিয়ে বুঝতে চেষ্টা করে ঘ্রান ঠিক আছে কিনা। নিজের কাছেই প্রশ্ন জাগে চারে মাছ আসবে তো? টোপগুলো মাছ খাবে তো? ইত্যাদি ……

    অপর দিকে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে মাসুদ ৷ মাছ ধরার তার ব্যপক আগ্রহ থাকলেও সে অত্যাধিক ঘুম কাতুরে ছেলে। একবার কোলেশ্বরীর পুকুরে শিকার বসে দুপুর বেলা যখন মাছ টোপ নিচ্ছে না তখন সে পাড়ের কিনারার বড়শী নিয়ে কিছুটা ঝিমাচ্ছিলেন। হঠাৎ একটা রুই মাছ লাফ দিয়ে ছিপে টান দেওয়াতে বড়শী নিয়েই পানিতে পড়ে গিয়েছিলেন । তবে মাছ নেট করে সেইরকম হাসি দিয়ে মজা করে বলেছিলেন "আমি ইচ্ছে করেই চোখ বন্ধ রেখেছিলাম যেন মাছটা ভাবে আমি ঘুমিয়ে পড়েছি ৷ আসলে মাছটাকে বোকা বানাতেই এই অভিনয় ৷ হাহাহা …… ৷"
    তবে সেদিন কে কাকে বোকা বানিয়েছিলো উপস্থিত সবাই দেখেছিলো ৷

    আলিম মোবাইলটা রেখেই হালকা করে মাসুদের নাকটা চেপে ধরলো, হঠাত নিশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় মাসুদের ঘুম ভেঙ্গে গেল৷৷ পরে রাগান্বিত মাসুদকে হাফিজ শান্ত করে সবকিছু গোছগাছ করে নিতে বললো ৷৷

    রাজদীঘির পাড়ে দাড়িয়ে থাকা মতি মিয়া বেশ উদ্বিগ্ন, কেন যানি তার সবকিছু গুলিয়ে যাচ্ছে ৷ নিজ সন্তানের মত পালা রুই মাছটি যে এই প্রথম রাজদীঘিতে ভাড়ায় এসেছে তা নয় ৷৷ তবে তিনি রুই মাছটিকে যেখানেই ভাড়া দেন না কেন পাড়ে দাড়িয়েই পানিতে থাকা মাছের অস্তিত্ব অনুভব করতে পারেন ৷ কিন্তুু রাজদীঘিতে রুই মাছটি ভাড়ায় আসার পর তিনি তেমনটি অনুভব করতে পারছেন না ৷

    এদিকে আবার এতো বড় প্রতোযোগিতায় রুই মাছটি প্রথম যেখানে দেশ বিদেশের নামিদামি শিকারীগন শিকারে এসেছেন ৷ এবার যদি তার সন্তানতুল্য রুই মাছটি কোন শিকারীর দেওয়া লোভনীয় টোপের ফাঁদে পড়ে ভাবতেই তার বুকটা কেঁপে উঠলো ৷

    প্রতিযোগিরা তাদের নির্ধারিত মাচার সামনে, প্রায় প্রত্যেকেই যার যার মতো করে বিভিন্ন রকম চারার মিশ্রন তৈরি করছেন। ৬৯ নং মাচার সামনে মাহতাব চৌধুরীকে দেখা যাচ্ছে তিনি দাড়িয়ে থেকে তার সহযোগিদের বেশ বড়সড় কন্টিনারে রাখা চারাগুলো বের করে বিভিন্ন রকম মসলা মিক্সড করার নির্দেশ দিচ্ছেন ৷ কোনটা কি পরিমান মেশাতে হবে তাও নির্ধারন করে দিচ্ছেন ৷

    এদিকে ৬৮ নং মাচার সামনে দাড়িয়ে আলিম, হাফিজ ও মাসুদ ৷ নিজেদের তৈরি সামান্য চারাতে সরিষার খৈল, এটেল মাটি আর কি কি যেন পুটলি থেকে বের করে মিক্সড করে মাঝখানে পিপড়ার ডিম দিয়ে টেনিস বলের মত তৈরি করছেন ৷৷

    ভোর ৫.৩০ মিনিটে মাইকে ঘোষনা দেয়া হলো -
    "সম্মানিত শিকারীগন! আপনাদেরকে আপনাদের নির্ধারিত সিটে উঠার জন্য অনুমুতি দেয়া গেল, আপনারা চাইলে পানিতে চারা ফেলতে পারেন, ধন্যবাদ৷"

    ঘোষনা পাঠ শেষ হওয়া মাত্র শিকারীগন নিজ নিজ মাচায় অবস্থান নিলেন। শুরু হলো মাছের আকর্ষণ করার যুদ্ধ। শিকারীগন পানিতে একের পর এক নিজেদের তৈরি গ্রেনেড বল নিক্ষেপ শুরু করলেন ৷৷
    এখন চারিদিকে শুধু ঝপাৎ ঝপাৎ শব্দমালা সৃষ্টি হচ্ছে ৷
    রাজদীঘিতে টানা ৩০ মিনিট গ্রেনেড বল নিক্ষেপের পর মাইকে ঘোষন পাওয়া মাত্র শিকারীগন তাদের তৈ্রীকৃত টোপ বড়শীতে লাগিয়ে নিজ নিজ করা চারে নিক্ষেপ করতে শুরু করলেন ৷

    ভোর ৬.১৫ মিনিটে মাচায় বড়শী রেখে শিকারীগন অধীর আগ্রহের সহিত ফাতনার দিকে চোখ রেখে অপেক্ষা করছে ৷ এমন সময় হঠাৎ ৫৪ নং মাচা থেকে আওয়াজ এলো " ভাই, কেউ হিট দিয়েন না, বামে মাছ গেছে ৷"
     
    • Friendly Friendly x 1
  8. Zahir
    Offline

    Zahir Administrator Admin

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    19,250
    Likes Received:
    5,823
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka, Bangladesh
    Reputation:
    1,142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ৬ষ্ঠ পর্ব

    বিজয় মামা আবারো জোরে চিৎকার দিয়ে বললো " ভাই হিট দিয়েন না কেউ প্লিজ , আমাদের মাছ ঐ দিকে গেছে৷"

    ৫৪ নং মাচাতে অভিজিৎ মামাকে ছিপ হাতে খেলতে দেখা যাচ্ছে পাশেই নেট হাতে দাড়িয়ে বিজয় মামা ৷ রাজদীঘির উৎসুক জনতাদের চোখ অভিজিৎ মামার হাতের ছিপের দিকে। অভিজিৎ মামা বেশ দ্রুতই মাছটিকে টেনে বিজয় মামা ধরে রাখা ক্যাচিং নেটের মধ্যে নিয়ে আসলেন ৷ উৎসুক জনতা তখন জোরেই চিৎকার দিয়ে উঠলেন, কেউ কেউ করতালি দিয়ে বাহবা দিলেন, তবে নেট পানি থেকে উঠতেই আর সেই আগ্রহটা থাকলো না উৎসুক জনতার ৷ মাছটিকে ওজনে পাঠানো হলো। মঞ্চ থেকে ঘোষনা আসলো "রাজদীঘির ১ম হিট ৫৪ নং মাচা থেকে রুই মাছ ওজন ২.৭৪০ কেজি'।

    সকাল থেকেই মতি মিয়ার মনটা ভীষন রকম খারাপ, শরীরটাও খুব একটা ভালো নেই তার, দীঘির পাশেই বকুল গাছটার নিচে বসে বেশ চিন্তিত দেখাচ্ছে। তার মনে একটা অজানা ভীতি কাজ করছে ৷ যদিও তিনি তার বিগত দিনের অভিজ্ঞতা থেকে নিশ্চিত, তার ভাড়াটে রুই মাছটি কোন শিকারীর টোপই গিলবে না ৷ তবে বিশাল আকৃতির দৈহিক গঠনের জন্য তার মাছটির শরীরের কোন অংশে যে শিকারীর ঝুমকো কাটায় বিধবে না এমনটিও তিনি নিশ্চিত নন ৷৷ চিন্তিত মনে মতি মিয়ার খুব মনে পড়ছে তিনি যখন তার পুকুরে রুই মাছটিকে ঘি মধুতে পাউরুটি চুবিয়ে খাওয়ান তখন রুই মাছ কৃতজ্ঞতা স্বরূপ অদ্ভুত রকমের শব্দ করে থাকে ৷ যে শব্দে মিশে থাকে মায়া, মমতা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ৷ আজ তিনি বড়ই অসহায়!

    সকাল ৮.৪৭ মিনিট হাফিজ এক দৃষ্টিতে তার ফাতনার দিকে তাকিয়ে আছে, মাসুদের চোখ মাহতাব চৌধুরীর মাচার দিকে। সেদিনের ঐ ব্যবহারের জন্য মাসুদের খুব ইচ্ছে করছে ব্যাটাকে জাপটে ধরে কোলে তুলে মাচা থেকে ফেলে দিতে ৷ তবে মোটাসোটা ভুড়িওয়ালা মাহতাব চৌধুরীকে তিনি জাপটে ধরে তুলতে পারবেন কিনা তার সন্দেহ আছে, তবে তার কাছে আরো একটা উপায় আছে ৷ হঠাৎ আলিম তার ছিপে হিট দিয়ে দাড়িয়ে গেল ৷ হাফিজ তখন নিজেদের রড গুলো সামলাতে ব্যাস্ত মাছ যেন নিজেদের সুতায় না পেচিয়ে যায় সেদিকে লক্ষ। কাচাকাছি মাছটা আসতেই আলিমকে সতর্ক করে দিচ্ছেন কোন ভাবেই যেন মাছটা মাচার ভিতরে না ঢোকে ৷ মাছ ভেসে উঠতেই মাসুদ মাছটাকে নেট করে বিজয়ের হাসি দিলেন ৷৷ মাছটা ওজনে গেলে মঞ্চ থেকে ঘোষনা আসলো "৬৮ নং মাচা, মাছের নাম- কার্ফু ওজন ৪.২৯২ কেজি "৷ মাছের অবস্থান ৬ষ্ঠ ৷৷

    ইতিমধ্যে বেশ কিছু মাছ হিট হয়েছে। ৮৩ নং মাচা থেকে হিট হওয়া ৭.৫৩৯ কেজি সাইজের মিরকা ১ম স্থান অধিকার করে আছে ৷

    ৬৯ নং মাচাতে মাহতাব চৌধুরী তার সহকারীদের বেশ ধমকাচ্ছেন। ওরা নাকি তিনি দেখিয়ে দেওয়া সত্বেও চারে মশলার মিশ্রনটা সঠিক ভাবে করতে পারেনি, ফলে তার চারে নাকি তেমন কোন মাছই আসছে না, ফলে ফাতনাও নড়তেছে না ৷ তিনি এবার নিজেই তার চারের কন্টেইনার থেকে আরো কিছু চার বের করে ও মসলা মিশিয়ে পয়েন্টে ফেলে বড়শিতে নতুন করে টোপ লাগিয়ে দিলেন৷

    মাহতাব চৌধুরীর এমন অবস্থা দেখে মাসুদের বেশ হাসি পাচ্ছে, এখন আর তার দ্বিতীয় ইচ্ছেটা দৌড়ে গিয়ে মাহতাব চৌধুরীকে জাপটে ধরে পানিতে লাফ দিতে আর ইচ্ছে করছে না ৷

    অনীল দা'র বাড়ী থেকে মামাদের জন্য সকালের নাস্তা স্বরূপ নডুলস, পাকা আম ও পেয়ারা পাঠানো হয়েছে৷

    ঐদিকে মাহতাব চৌধুরীর ছিপে হিট হয়েছে তার দামী রিলটা থেকে ইতিমধ্যে অনেক সুতা বেড়িয়ে গেছে। তিনি মাচা থেকে পাড়ে উঠে মাছটার পিছনে পিছনে ছিপ নিয়ে ছুটছেন। পিছনে তার ক্যামেরাম্যান রানা তা ভিডিও করছেন। মাছটা যখন ৬৮, ৬৭ নং মাচা পার করে ছুটছে,তখন তিনি গিয়ার টাইট করতেই মাছটা থেমে গেলো। মাছটা যখন নেট করা হলো পাড়ে দাড়িয়ে থাকা কৌতুহলি জনতা তখন হো হো হো করে হেসে চলছেন ৷ তার সহকারি সাজু যখন বললেন " স্যার,মাছটা কি ওজনে পাঠাবো? “ সম্ভবত তিনি তখন আরো ক্ষেপে গেলেন ৷৷ মাহতাব চৌধুরীর এমন ভুল এর আগেও দেখেছেন তার সহকারীরা টোপ ফেলার পর তার আর গিয়ারটা ঠিক করে এডজাস্ট করতে মনে থাকে না ফলস্বরূপ আধা কেজি সাইজের তেলাপিয়া মাছ এবারো ইচ্ছেমত দৌড় দিয়েছিলো ৷

    ঘড়িতে দুপুর ১.৩৭ মিনিট জাহিদ সাহেব ও তার কমিটির সদস্যগন রাজদীঘির প্রায় প্রতিটি মাচায় গিয়ে খোজ খবর নিচ্ছেন, তিনি লক্ষ করলেন প্রায় প্রতিটি মাচাতেই ছোট বড় মিলিয়ে কম বেশী ভালোই হিট হয়ছে ৷ ৭/৮ সিট ব্যাতিতো কম বেশী সবাই সন্তুষ্ট ৷ ১১৩ নং মাচাতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় কাতলা মাছটি হিট হয়েছে যার ওজন ১১.৩১০ গ্রাম ,এটি বর্তমানে ১ম পুরস্কার ১০ লাখ টাকার দাবিদার ৷

    ইতিমধ্যে রাজদীঘি কর্তৃপক্ষ প্রতিটি মাচায় মাচায় ৩ প্যাকেট করে দূপুরের খাবার সরবরাহ করে যাচ্ছেন ৷৷ খাবারের প্যাকেট পাওয়া মাত্রই মাসুদ দীঘির পানিতে হাতটা ডলে ধুয়ে খেতে বসলেন, হাফিজের তেমন ক্ষুধা তিনি একাই ছিপগুলো সামলে নিবেন বলে আলিম কেও খেয়ে নিতে বললেন ৷৷
    মাহতাব চৌধুরী খুব বিরক্ত, প্রায় প্রতিবারই তার ফাতনা ডুবিয়ে নিচ্ছে কিন্তুু তিনি হিট দিলেও কোন মাছ উঠছে না, পাশে বসেই সাজু তাকে বিভিন্ন রকম পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন ৷ হঠাৎ আবারো ফাতনা ডুবে গেলে মাহতাব চৌধুরী এবার তার শরীরের সমস্ত শক্তিদিয়ে হিট দিলেন ,সাজু আহ করে নড়ে উঠলেন, সাজুর পাশেই মাচাতে একটা তেলাপিয়া মাছ লাফাচ্ছে, সাজু তার চকচকে টাক মাথাটা ডলে যাচ্ছে ৷৷ মাচার পিছনে থাকা সহযোগিরা তখনো হেসে যাচ্ছেন৷
    দুপুর গড়িয়ে যাচ্ছে ,মাছের টোপ নেওয়া কমে গেছে, আলিম মাচা থেকে ওঠে গেলো, তার অনেক দিনের ইচ্ছে গুনী শিকারীদের সংস্পর্শে থেকে হাতে কলমে তাদের কাটা,টোপ,চার সম্পর্কে জানার ৷৷ আলিম পুুকুরে বাম পাশের পাড়ি দিয়ে হেটে চলছে লক্ষ করলেন ৭২ নং মাচার সামনে একজন সাদা দাড়িওয়ালা প্রবীন লোন ৬ কাটায় ডিম রুটির টোপ তৈরি করে চাপ দিয়ে একটা কোটার মধ্যে ডুবিয়ে টোপের বক্সে জমা রাখছেন ৷ আলিম তার কাছে ঘেষতেই মাচা থেকে একজন বলে উঠলেন "কি চাই? "
    আলিম "'কিছু না ভাই ,এমনি দেখতেছি৷"
    লোকটি " ঐ মিয়া এখান থেকে সরেন, ছিপের বাড়ি লাগবো৷"
    আলিম সামনে দিকে এগোতে থেকে লক্ষ করলেন রাজদীঘিতে প্রতিটি শিকারীই তাদের নিজের মত করে ভিন্ন ভিন্ন টোপ ব্যবহার করে চলছেন কেউ ডিমরুটি,হলুদ লাড্ডু,কালো টোপ, পাইলিং টোপ ,বিন্নির টোপ আরো কত কি!
    তবে টোপের ব্যাপারে জানতে চাইলে কেউ ই সুস্পষ্ট রেসিপি টা দিচ্ছে, নিজেদের টোপ টা গোপন রাখছেন ,ঠিক যেন পারমানবিক বোমার মতই অন্যকেউ ফর্মুলাটা জানলে নিজেদের আধিপত্য টিকিয়ে রাখাটা মুশকিল হবে বলে ৷

    অবশেষে আলিম নিজেদের মাচায় ফেরার সময় লক্ষ করলো মাহতাব চৌধুরী বেশ বড়সড় একটা হিট করেছে নেট হাতে সাজুকে বেশ এক্সাইটেড দেখাচ্ছে ৷ ইতিমধ্যে মাছটাও মাচার বেশ কাছেই চলে এসেছে,হঠাৎই সাজু আচমকা মাছটিকে নেট করার চেষ্টা করলেন কিন্তুু ………( চলবে)
     
    • Friendly Friendly x 1
  9. mukul
    Offline

    mukul Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Aug 5, 2012
    Messages:
    12,115
    Likes Received:
    3,461
    Gender:
    Male
    Location:
    বন পাথারে
    Reputation:
    1,439
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    মাছ শিকার নিয়ে গল্পটি এই পর্যায়ে বেশ উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। পরের পর্বের জন্য অপেক্ষায় রইলাম।
     
  10. sotobhai
    Offline

    sotobhai Junior Member Member

    Joined:
    Nov 10, 2012
    Messages:
    131
    Likes Received:
    47
    Gender:
    Male
    Reputation:
    31
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    এটা কি হল মামা! আপনি দেখি জলসা'র নাট্যকার হয়ে গেলেন। নাহ! ভাল্লাগেনা।
     
    • Funny Funny x 1

Pls Share This Page:

Users Viewing Thread (Users: 0, Guests: 0)