1. Hi Guest
    Pls Attention! Kazirhut Accepts Only Bengali (বাংলা) & English Language On this board. If u write something with other language, you will be direct banned!

    আপনার জন্য kazirhut.com এর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার :

    যে কোন সফটওয়্যারের ফুল ভার্সন প্রয়োজন হলে Software Request Center এ রিকোয়েস্ট করুন।

    Discover Your Ebook From Our Online Library E-Books | বাংলা ইবুক (Bengali Ebook)

Islamic নজরুলের কারাজীবন ও বাংলা সাহিত্যে জাতীয় চেতনার উন্মেষ

Discussion in 'Role Of Islam' started by arn43, Feb 12, 2020. Replies: 3 | Views: 184

  1. arn43
    Offline

    arn43 Kazirhut Elite Member Staff Member Global Moderator

    Joined:
    Aug 18, 2013
    Messages:
    28,912
    Likes Received:
    4,031
    Gender:
    Male
    Reputation:
    951
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    নজরুলের কারাজীবন ও বাংলা সাহিত্যে জাতীয় চেতনার উন্মেষ


    বাংলা সাহিত্যে কাজী নজরুল ইসলাম দ্বিতীয় কবি যিনি কবিতা লেখার জন্য কারাবরণ করেন। কবিতার জন্য কারাবরণকারী প্রথম হলেন সিরাজগঞ্জের ‘অনল প্রবাহ’ কবি ইসমাঈল হোসেন সিরাজী। কিন্তু নজরুল যেমন কবিতায় আলোড়ন সৃষ্টি করে ব্রিটিশের মত রাজশক্তিকে নাড়িয়ে তুলেছিলেন, এমন আর কেউ পারেননি। এদিক থেকে নজরুল জাতীয়তাবাদী কবি হিসাবে আজো সকলের শ্রদ্ধেয়।
    ১৯২২ সালে যুদ্ধ ফেরত নজরুল বন্ধুকে নিয়ে প্রকাশ করলেন সাপ্তাহিক ‘ধূমকেতু’। শৌর্যের বার্তাবহ এ কাগজ তরুণচিত্তে অপূর্ব আত্মদানের আহবান নতুন করে জাগাল। বাংলার বিপ্লবী মন বিস্ময়ে ‘ধূমকেতু’র প্রতিটি অক্ষরে প্রাণের কথা পাঠ করে উৎসাহিত হ’ল। টনক নড়লো ব্রিটিশ সরকারের। তারা ধূমকেতুকে দমন করার জন্য সচেষ্ট হয়ে উঠলো। পূজা সংখ্যার ধূমকেতুতে কবিতা বেরুল :


    ‘আর কতকাল থাকবি বেটি
    মাটির ঢেলার মূর্তি আড়াল,
    স্বর্গ যে আজ জয় করেছে
    অত্যাচারী শক্তি চাঁড়াল।



    মাস দুই যেতে না যেতেই পুলিশ এসে হানা দেয় ধূমকেতু অফিসে। ছাপাখানাকেও রেহাই দিল না। সম্পাদক, মুদ্রাকর, প্রকাশক নজরুল ফেরার হয়ে গেল। কিন্তু কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে এল নজরুলকে। ধূমকেতুর মামলায় পুলিশ কোর্টে যে চাঞ্চল্য জাগালো তা অবর্ণনীয়। বহু উকিল স্বেচ্ছায় এলেন নজরুল তথা ধূমকেতুর পক্ষ সমর্থনের জন্য। মলিন মুখোপাধ্যায় হলেন প্রধান উকিল। সাক্ষী শেষে নজরুল এক লিখিত জবানবন্দি দাখিল করেন। তাতে কবি বলেন, ‘সত্য স্বয়ং প্রকাশ, তাকে কোন রক্ত অাঁখি রাজদন্ড নিরোধ করতে পারে না। দোষ আমারও নয়, আমার বীণারও নয়। দোষ তার যিনি আমার কর্ণে তার বীণা বাজান। প্রধান রাজদ্রোহী সেই বীণাবাদক ভগবান। তাকে শাস্তি দেবার মত রাজশক্তি বা দ্বিতীয় ভগবান নেই। আমি সত্য রক্ষার ন্যায় উদ্ধারে বিশ্বপ্রলয় বাহিনীর লাল সৈনিক। বাংলার শ্যাম শ্মশানের মায়া নিদ্রিত ভূমিতে আমায় তিনি পাঠিয়েছিলেন অগ্রদূত তূর্যবাদক করে। আমি সামান্য সৈনিক যতটুকু ক্ষমতা ছিল তার আদেশ পালন করছি। বিচারক জানে, আমি যা বলেছি, যা লিখেছি, তা ভগবানের চোখে অন্যায় নয়। ন্যায়ের এজলাসে মিথ্যা নয়। কিন্তু তবুও হয়তো সে শাস্তি দেবে। কেননা সে সত্যের নয়, সে রাজার। সে ন্যায়ের নয়, সে আইনের। সে স্বাধীন নয়, সে রাজভৃত্য।’
     
  2. arn43
    Offline

    arn43 Kazirhut Elite Member Staff Member Global Moderator

    Joined:
    Aug 18, 2013
    Messages:
    28,912
    Likes Received:
    4,031
    Gender:
    Male
    Reputation:
    951
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ১৯২৩ সালের জানুয়ারী মাসে চিফ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট সুইনহো নজরুলকে এক বছরের সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেন। আদালত থেকে যখন কবিকে গাড়িতে তোলা হয় তখন বিমর্ষ বন্ধু-বান্ধবদের সান্ত্বনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘দুঃখ করিসনে ভাই’ একটা বছর দেখতে দেখতে কেটে যাবে। হয়তো এই কারাবাসের আমার দরকার ছিল। বিধাতার আমোঘ বিধান খন্ডাবে কে। এর পিছনে আমি মঙ্গল মায়ের মঙ্গল হস্তই দেখতে পাচ্ছি।’
    কারাবাসের প্রথম কিছুদিন নজরুলকে আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে রাখা হয়। কবিগুরু তার ‘বসন্ত’ নাটিকা নজরুলকে উৎসর্গ করলে জেলে তা পৌঁছে দেয়া হয়। একটা সাধারণ ‘কনভিক্ট’কে পোয়েট টেগোর বই ‘ডেডিকেট’ করেছেন একথা শুনে তাজ্জব বনে গেলেন জেলার ফিরিঙ্গি অফিসার আর পাহারাদার মহল। সসম্ভ্রমে তারা প্রশ্ন করলেন, ‘ইজ হি রিয়েলি সো গ্রেট এ ম্যান? থ্যাঙ্ক হেভেন্স।’ এরপর আলিপুর থেকে নজরুলকে বদলি করা হয় হুগলি জেলে। কিন্তু সেখানে কয়েদিদের ওপর নির্যাতনের আর বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে কবি অনশন শুরু করেন। এ খবরে সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠলেন। জেল কর্তৃপক্ষ নানা শাস্তির ব্যবস্থা করলো। ডান্ডাবেড়ি নির্জন কুঠুরিতেই কয়েদ- কিছুতেই কিছু হ’ল না। তার পর শুরু করলো ফোরসড ফিডিং। সেটি আরো যন্ত্রণাদায়ক। দিনের পর দিন দুর্বল হয়ে পড়েন কবি। এ খবরে কবির বন্ধু-বান্ধবরা ছোটাছুটি করে তার অনশন ভঙ্গের চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনভাবেই তা সম্ভবপর হয়ে ওঠে না। দেশবন্ধু, হেমন্ত সরকার, অতুল সেন, মৃনাল কান্তি বসু, কবি যতীন্দ্র মোহন বাগচী প্রমুখ সকলে দাবি জানালেন নজরুলকে বাঁচানো বাংলাদেশ ও সাহিত্যের জন্য প্রয়োজন। কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করতে হবে নজরুল যাতে অনশন ভঙ্গ করে।
     
  3. arn43
    Offline

    arn43 Kazirhut Elite Member Staff Member Global Moderator

    Joined:
    Aug 18, 2013
    Messages:
    28,912
    Likes Received:
    4,031
    Gender:
    Male
    Reputation:
    951
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    অবশেষে নজরুলের মাতৃসমা বিরজাসুন্দরী দেবী কারাগারে এসে নজরুলের অনশন ভঙ্গ করালেন। এ যাত্রায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ে নজরুল-প্রেমীরা।
    হুগলি জেল নজরুলকে অনেক কিছু দিয়েছে। যেমন, নজরুল হুগলির জেলে থাকাকালীন বহু তরুণ বিপ্লবী যুব ও ছাত্র সমাজ আন্দোলনের সৈনিকরূপে হুগলি বিদ্যামন্দিরে স্বেচ্ছাসেবকরূপে সমবেত হয়। হুগলি জেল তখন বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক বন্দীর সমাগমে গমগম করছিল। কবি নজরুলকে পেয়ে বন্দীরা গানে, আবৃত্তিতে ও হাসির হুল্লোড়ে হৈ-চৈ করে কাটাতো। বিচারক সুইনগো নিজে কবি হয়েও বিদ্রোহী কবির বেলাতে কোন শ্রেণী বিভাগ না করেই তাকে সাধারণ কয়েদিরূপে গণ্য করেছিল। ডোরাকাটা হাফ পাঞ্জাবি ওই কাপড়ের জের। আর ওই কাপড়েরই গামছার মতো গা মোছা চাদর, বিষম ফুটফুটে খোঁচা লোমের কম্বলসহ এই অপরূপ পোশাকে জেল কর্তৃপক্ষ বাংলার জাতীয় জাগরণের কবিকে সাজিয়ে কয়েদীর গাড়িতে ছেড়ে দিল। কোলকাতা থেকে হুগলি জেলে কবিকে আনা হয়েছিল কোমরে দড়ি বেঁধে। জেলখানায় ঢুকেই কবি উদাত্ত সুরে ‘দে গরুর গা ধুইয়ে’ বলে হাঁক ছাড়লেন। রাজনৈতিক বন্দীরা সচকিত হয়ে উঠল বিদ্রোহী কবি নজরুল হুগলি জেলে পদার্পণ করেছেন। সকলেই কবির আগমনে বন্দীদশার একঘেয়েমিতে বৈচিত্রের অবস্থায় উৎফুল্ল হয়ে উঠলো।
    কবির হুগলি জেলে অবস্থানকালীন নানা কারণে স্মরণীয় হয়ে আছে। কবিকে পেয়ে বন্দীদের একঘেয়েমির অবসান ঘটে। বাইরে থেকে ছাত্রের দল হুগলি ব্রিজের উপরে উঠে জেলের কয়েদীদের দেখত এবং নানারকমে উৎসাহিত করতো বিপ্লবী তরুণ নেতা সিরাজুল হক, হামিদুল হক জনাদন প্রমুখ ব্রিজের উপর থেকে সুযোগ বুঝে কাপড়, গামছা, তোয়ালে, সাবান, বিড়ি-সিগারেট, খবরের কাগজ ছুঁড়ে দিতেন। বন্দীরাও তাদের খবরাখবর পাঠাবার জন্য চিঠি প্রভৃতি ঢিলের সাথে জড়িয়ে ছুঁড়ে এদিকে পাচার করতেন। যতগুলো জেল ছিল তার মধ্যে হুগলি জেলটা সবচেয়ে উঁচু। এর জেলার যেমন অভদ্র, তেমনি অশিক্ষিত। চোর, ডাকাত, পকেটমারদের সাথে যে ব্যবহার করতো, বিশিষ্ট ও রাজনৈতিক বন্দীদের সাথেও সেই ধরনের ব্যবহার করতো। চিঠি লেখার কাগজ, খবরের কাগজ তো দিতই না, কলম, পেন্সিলও অফিসে জমা নিয়ে নিতো তারা জোর করে। এ ব্যাপারে কবির মনটা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল।
     
  4. arn43
    Offline

    arn43 Kazirhut Elite Member Staff Member Global Moderator

    Joined:
    Aug 18, 2013
    Messages:
    28,912
    Likes Received:
    4,031
    Gender:
    Male
    Reputation:
    951
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    এই সময়ে হুগলি জেলের সুপারিনটেনডেন্ট ছিলেন এক ইংরেজ। নাম আর্সটিন। রাজনৈতিক বন্দীদের দেখলেই সে কারণে-অকারণে তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠতো। বন্দীরাও মজা দেখবার জন্য তাকে চটাবার আয়োজন করে রাখতো। কবি এই ইংরেজ জেল সুপারের নাম রেখেছিলেন ‘ইসটোন’। মানে পিচেশ কণ্ঠী। কবি তাকে চটাবার জন্য ‘সুপার বন্দনা’ নামে একটি গান লেখেন। এই গান লেখার পর সরকার মনোনীত পত্রিকাগুলোও বন্ধ করে দিল আর্সটিন। শুধু তাই নয় পূর্বের নিয়ম ভেঙে বন্দীদের একটা ঘরে একজনকে, কোথাও দু’জনকে আটকে রেখে বাইরে বেড়ানোও বন্ধ করে দিল। বন্দীর সাথে বন্দীরা কথাও বলতে পারতো না। কবি নজরুল গান না গেয়ে থাকতেও পারতেন না। তিনি গান ধরতেন :
    ‘কারার ঐ লৌহ কপাট
    ভেঙে ফেল কররে লোপাট
    রক্ত জমাট
    শিকল পূজার পাষাণ বেদী।
    ওরে ওই তরুণ ঈশান
    বাজা তোর প্রলয় বিষাণ
    ধ্বংস নিশান
    উড়ুক প্রাচীর প্রাচীর ভেদি।’
     

Pls Share This Page:

Users Viewing Thread (Users: 0, Guests: 0)