1. Hi Guest
    Pls Attention! Kazirhut Accepts Only Bengali (বাংলা) & English Language On this board. If u write something with other language, you will be direct banned!

    আপনার জন্য kazirhut.com এর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার :

    যে কোন সফটওয়্যারের ফুল ভার্সন প্রয়োজন হলে Software Request Center এ রিকোয়েস্ট করুন।

    Discover Your Ebook From Our Online Library E-Books | বাংলা ইবুক (Bengali Ebook)

Info ইতিহাস খ্যাত রাজাদের পতন

Discussion in 'Collected' started by Zahir, May 19, 2013. Replies: 11 | Views: 3064

  1. Zahir
    Offline

    Zahir Administrator Admin

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    19,303
    Likes Received:
    5,823
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka, Bangladesh
    Reputation:
    1,142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ইতিহাসের শিক্ষা হলো ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না। দুনিয়ার অনেক শাসককে এ জন্য খেসারত দিতে হয়েছে। ক্ষমতায় থাকতে যারা ধরাকে সরাজ্ঞান করেছে তাদেরকে পড়তে হয়েছে করুণ পরিণতিতে। হতে হয়েছে ইতিহাসের নির্মম শিকার। খেসারত দিতে হয়েছে তাদের ভবিষ্যৎ বংশধরদেরও। তাদের পতন কাহিনী এখনো নাড়া দেয় মানুষের বিবেককে। বিশ্বের এরকম পাঁচজন শাসকের আদি-অন্ত তুলে ধরা হচ্ছে।
    [​IMG]
     
    • Winner Winner x 2
  2. Zahir
    Offline

    Zahir Administrator Admin

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    19,303
    Likes Received:
    5,823
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka, Bangladesh
    Reputation:
    1,142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    কিং অব লিবিয়া
    [​IMG]
    মোহাম্মদ ইদ্রিস বিন মোহাম্মদ আল মাহাদি। যাকে গোটা বিশ্ব চিনে কিং অফ লিবিয়া নামে। ক্ষমতার সর্বোচ্চ চূড়ায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পরও একটা সময় নক্ষত্রের পতনের মতো তলিয়ে যায় লিবিয়ার এই রাজা। ইদ্রিসের জন্ম ১৮৮৯ সালের ১২ মার্চ আল জাগবাব, অটোমান সাইরেনাইকাতে। ১৯৫১ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা লিবিয়ার প্রথম এবং একমাত্র রাজা তিনি। এ ছাড়া লিবীয় মুসলমানদের ধর্মীয় গোষ্ঠী সেনাসসিরও প্রধান ছিলেন। সেনাসসি আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র আল জাগবাব নামক স্থানে জন্মগ্রহণকারী এ লিবীয় রাজার পিতার নাম সাঈদ মুহাম্মাদ আল মাহাদি বিন সাঈদ মুহাম্মাদ আল সেনাসসি এবং মায়ের নাম আয়েশা বিনতে আহমেদ আল সার্থি। তার দাদা উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের বিখ্যাত মুসলিম গোষ্ঠী সেনাসসি মুসলিম সুফির প্রতিষ্ঠাতা। ব্রিটিশদের খুব কাছের মানুষ হিসেবে তাদের দেওয়া উপাধি আমির হিসেবে গোটা বিশ্বে তিনি বিশ্বে পরিচিতি পান। ১৯২২ সালের ২৮ জুলাই তাকে আমির অব ত্রিপোলিটানিয়া উপাধি দেওয়া হয়। এই রাজা তার জীবনের প্রথম সময়টা কাটিয়েছেন মাতৃভূমি সাইরেনাইকার স্বাধীনতার জন্য। ১৯২২ সালে ইতালিয়ান আর্মিদের লিবিয়া অভিযানকে কেন্দ্র করে তিনি বিপ্লবী হয়ে ওঠেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি যুক্তরাজ্যের পক্ষ অবলম্বন করেন। কারণ ইদ্রিস লিবিয়ার ক্ষমতা দখলে মরিয়া ছিলেন। তিনি এবং তার সহযোগীরা মিলে জার্মান এবং ইতালিয়ান সৈন্যদের বিরুদ্ধে জোট গঠন করেন। এ জোটের সহযোগিতায় ব্রিটিশ অষ্টম পদাতিক সৈন্যদল উত্তর আফ্রিকাতে জার্মান এবং ইতালিয়ান বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হন। আরউইন রোমেলের নেতৃত্বে এই জোট জার্মান এবং ইতালিয়ান বাহিনীকে পরাজিত করতে সমর্থ হয়। এরপর থেকেই তার উত্থান শুরু। অবশেষে বেনগাজিতে পেঁৗছে দাফতরিক সরকার গঠন করেন ইদ্রিস। ১৯৪৬ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশদের সাহায্যের স্বীকৃতিস্বরূপ যুক্তরাজ্য তাকে অর্ডার অব গ্রান্ড ক্রস পুরস্কারে ভূষিত করে। পরবর্তীতে তিনি পশ্চিমাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৪৯ সালে ইদ্রিস লিবিয়ার সংবিধান প্রণয়ন করেন। যা ১৯৫১ সালে অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়। ন্যাশনাল কংগ্রেস তাকে কিং অব লিবিয়া বলে ঘোষণা দেয়। ১৯৫১ সালের ২৪ অক্টোবর তার নেতৃত্বে লিবিয়া স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আবিভর্ূত হয়। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পর তার সুযোগ্য উত্তরসূরি না থাকায় ১৯৬৯ সালে তার ভাইয়ের ছেলে হাসানকে প্রিন্স হিসেবে নিযুক্ত করেন। তবে তার জীবনের শেষভাগটা ছিল নিদারুণ কষ্টের। ১৯৬৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর ইদ্রিস যখন তুরস্কের হাসপাতালে চিকিৎসারত তখন একদল সেনা অফিসার নিয়ে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে লিবিয়ার ক্ষমতা দখল করেন কর্নেল গাদ্দাফি। ফলে তার রাজত্বের অবসান ঘটে এবং রিপাবলিক অব লিবিয়ার জন্ম হয়। এ অভ্যুত্থানের খবর পেয়ে রানীকে নিয়ে গ্রিসে পালিয়ে যান ইদ্রিস এবং পরবর্তীতে মিসর থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তোলা হয় লিবিয়ার পাবলিক আদালতে। ১৯৭১ সালে নভেম্বরে ইদ্রিসের ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন আদালত।
     
    • Informative Informative x 2
    • Winner Winner x 1
  3. Zahir
    Offline

    Zahir Administrator Admin

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    19,303
    Likes Received:
    5,823
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka, Bangladesh
    Reputation:
    1,142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ইরানশাহ রেজা পাহলভি
    [​IMG]
    ইরানের রাজ সিংহাসনের শেষ শাহ বা রাজা মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভি। প্রতাপশালী ও কঠিন শাসন ব্যবস্থার জন্য যে কয়জন রাজা বা রাষ্ট্রনেতা ইতিহাসের পাতায় আজো অম্লান তাদের মধ্যে রেজা শাহ পাহলভি অন্যতম। তার জন্ম ১৯১৯ সালের ২৬ অক্টোবর ইরানের রাজধানী তেহরানে। তিনি ১৯৪১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর সিংহাসনে বসেন এবং ১৯৭৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ইরানের অভ্যুত্থানের পূর্ব পর্যন্ত ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। হাউস অব পাহলভি সিংহাসনের দ্বিতীয়তম উত্তরাধিকারী ছিলেন। মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভি একজন রাজা হিসেবে অনেকগুলো উপাধি লাভ করেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য_ হিজ ইম্পেরিয়াল ম্যাজেস্ট্রি, শাহানশাহ আরইয়ামেহের, বুজর্গ আরটেস্টারান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন তার পিতা রেজা শাহর হাত ধরে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। তার শাসনামলে ইরানি তেল কোম্পানিগুলো প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মাদ মোসাদ্দেগের নেতৃত্বে জাতীয়করণ করা হয়। সাইরাস দ্য গ্রেটের পারস্য সিংহাসনের ক্ষমতা দখল থেকে ২৫০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় তার নেতৃত্ব। শাসক হিসেবে তিনি হোয়াইট রেভ্যুলেশন বা সাদা আন্দোলনের পথিকৃত। এ আন্দোলন ইরানের অর্থনীতি, আর্থ-সামাজিক এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। আর জন্ম হয় বৈশ্বিক ক্ষমতাধর আধুনিক ইরানের। এ ছাড়া এ সময় পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও কাজ করার অধিকার দেওয়া হয়। দেশজুড়ে গড়ে ওঠে একাধিক শিল্প-কারখানা। একজন অসাম্প্রদায়িক মুসলিম শাসক হিসেবে পরিচিত পাওয়ার পর ধীরে ধীরে শিয়া সম্প্রদায়ের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা কমতে থাকে। বিশেষত আধুনিক ইরান গড়ে তোলার মনোবাসনা তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। এ ছাড়াও ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে মতের অমিল, ইসরায়েলকে স্বীকৃতি প্রদান তার গ্রহণযোগ্যতার পথে বড় বাধা হয়ে আসে। অধিকন্তু নানাবিদ অগ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত, সমাজতান্ত্রিক কমিউনিস্ট তুদেহ পার্টিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ইত্যাদি কার্যক্রম তার সঙ্গে দেশের মুষ্টিমেয় গোষ্ঠীর দূরত্ব বাড়তে থাকে। অফিসিয়াল পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১৯৭৮ সালে রাজনীতি করার দায়ে ২২০০ জনকে বন্দী করা হয়। সব মিলিয়ে ইরানে তার বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ গড়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৯ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতা গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। আর ১৯৭৯ সালের ১৭ জানুয়ারি তিনি দেশ ত্যাগে বাধ্য হন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে। ইসলামিক রিপাবলিক হিসেবে ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনি ইরানকে প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করেন। পরবর্তী সময়ে অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে, ইরানে ফিরে এলে তার ফাঁসি কার্যকর হবে। এরপর ১৯৮০ সালের ২৭ জুলাই মিসরে অবস্থানকালে ৬০ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মিসরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদ'ত

    রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আধুনিক ইরানের এ রূপকারকে শেষ বিদায় জানান।
     
    • Informative Informative x 2
    • Winner Winner x 1
  4. Zahir
    Offline

    Zahir Administrator Admin

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    19,303
    Likes Received:
    5,823
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka, Bangladesh
    Reputation:
    1,142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    নেপালের রাজা জ্ঞানেন্দ্র
    [​IMG]
    জ্ঞানেন্দ্র বীর বিক্রম শাহ দেব। তার সম্পর্কে নতুন করে আর কিছু বলার নেই। তিনি হচ্ছেন নেপালের প্রয়াত রাজা মহেন্দ্র ও রানী ইন্দিরার মেজ ছেলে এবং প্রয়াত রাজা বীরেন্দ্রের মেজভাই। নেপালের রাজ বংশীয় ইতিহাসে যে কয়জন রাজা বিভিন্ন কারণে বার বার আলোচনায় এসেছেন তাদের মধ্যে জ্ঞানেন্দ্র অন্যতম। ১৯৪৭ সালের ৭ জুলাই কাঠমান্ডুতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই তিনি খুব মেধাবী ছিলেন। খেলাধুলায়ও ছিলেন খুব পারদর্শী। ১৯৬৬ সালে জ্ঞানেন্দ্র ভারতের দার্জিলিং সেন্ট জোসেফ কলেজের হাই ক্যামব্রিজ শাখায় লেখাপড়া করেন। এরপর ১৯৬৯ সালে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। তারপর উচ্চশিক্ষার জন্য চলে যান ব্রিটেনের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানেও পুরোপুরি সফল হন জ্ঞানেন্দ্র। ব্যক্তিত্ব ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় শিক্ষিত ছিলেন তিনি। এ কারণে রাজা বীরেন্দ্রের বিদেশ সফরকালে, জ্ঞানেন্দ্র ভারপ্রাপ্ত কমিটি ও রাজকীয় প্রতিনিধি পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তখন থেকেই রাজকার্য পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত হন তিনি। এ ছাড়া সামাজিক কর্মকাণ্ডেও ভূমিকা ছিল তার। জ্ঞানেন্দ্র বিশ্ব বুনো পশু তহবিলের তৃতীয় ও চতুর্থ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। এ ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ভারত ও ব্রিটেন ইত্যাদি দেশ সফর করেছেন। ১৯৬৭ সাল থেকে তিনি স্বদেশ ও বিশ্বে বিভিন্ন রকমের পুরস্কার পেয়েছেন। এসব কারণে রাজপরিবারের অন্যতম সদস্য হয়ে ওঠেন তিনি। ১৯৭০ সালের মে মাসে জ্ঞানেন্দ্র প্রয়াত রানী ঐশ্বর্যার ছোট বোন কোমলকে বিয়ে করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। ২০০১ সালের অক্টোবর মাসে তার ছেলে পারসকে যুবরাজ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। রাজপরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন জ্ঞানেন্দ্র। এর মধ্যে ১৯৭৫ এবং ১৯৯৪ সালে চীন সফর উল্লেখযোগ্য। কিন্তু তার জীবনে সব কিছু ছাপিয়ে যায় ২০০১ সাল। কারণ ২০০১ সালের ১ জুন সন্ধ্যায় নেপালের রাজপ্রাসাদে রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে, যা নেপালবাসীর মতো গোটা বিশ্ববাসীকে আজও নাড়া দেয়। রাজা বীরেন্দ্র ও রানী ঐশ্বর্যা এবং তাদের দুই ছেলেসহ রাজপরিবারের ১০ জনেরও বেশি সদস্য গুলিবর্ষণে নিহত হন। তখন থেকেই পাল্টে যেতে থাকে রাজপরিবারের ভাগ্য। অশনি সংকেত শুরু হয় নেপালের এই রাজবংশে। এরপর জ্ঞানেন্দ্র ৪ জুন নেপালের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন এবং শাহ রাজবাংশের ১২তম রাজা হন। মূলত সেখান থেকেই তার উত্থান শুরু। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পরপরই দেশ পরিচালনায় মনোযোগী হন। দেশের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী রাজা জ্ঞানেন্দ্র ২০০২ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনজন প্রধানমন্ত্রীকে নিযুক্ত করেন। আবার তাদেরকেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। কারণ হিসেবে জাতীয় নির্বাচন ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করতে না পারাকে দায়ী করেন তিনি। এ সুযোগে নেপালের বিদ্রোহী দলগুলো একে অন্যের সঙ্গে জোট গড়তে শুরু করে। এ সময় তাদের মূলমন্ত্র হয়ে ওঠে যে কোনো মূল্যে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। সময়ের পরিক্রমায় ২০০৬ সালের এপ্রিল মাসে মাওবাদী ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো জ্ঞানেন্দ্রর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। ২১ এপ্রিল ২৩ জন আন্দোলনকারী নিহত হলে তার সিংহাসনের ভিত নড়ে যায়। তিনি ঘোষণা দেন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে নতুন করে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেবেন। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো তার এই অভিপ্রায়ে বাদ সাধে। অবশেষে চরম নাটকীয়তা শেষে গিরিজা প্রসাদ কৈরালাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। কিন্তু জনগণ তা মেনে নেয়নি। পরবর্তীতে নেপালকে গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করতে আগ্রহ দেখান। সবমিলিয়ে এক অস্থিরতার মধ্যে পড়ে যান রাজা জ্ঞানেন্দ্র। অবশেষে ২০০৬ সালের ১০ জুন নেপালের পার্লামেন্ট তার সর্বময় ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়। এমনকি ভোট দানের ক্ষমতাও কেড়ে নেওয়া হয় তার। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালের ২৭ মে তীব্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজপ্রাসাদ ছেড়ে দিতে বলা হয় তাকে। তিনিও বাধ্য হয়ে রাজপ্রাসাদ পরিহার করেন। আর সেখানে সংরক্ষিত মূল্যবান ধনসম্পদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করেন। এর মাধ্যমে ১৭৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত শাহ রাজতন্ত্রের যবনিকা ঘটে।

    ব্যক্তিগত জীবনে জ্ঞানেন্দ্র খুব শৌখিন ও আরামপ্রিয় মানুষ। তিনি প্রকৃতি, গবেষণা এবং ঘোড়ায় চড়তে পছন্দ করেন। তিনি হচ্ছেন বুনো পশু অনুরাগী। ১৯৭৬ সালে তিনি বিশ্ব বুনো পশু তহবিল সংস্থার আন্তর্জাতিক সদস্য হন। ১৯৭৭ সালে তিনি নেপালের রাষ্ট্রীয় সভার সদস্য হন। ১৯৮২ সাল থেকে ২০০১ সালে তিনি রাজা মহেন্দ্র প্রকৃতি সংরক্ষণ তহবিলের চেয়ারম্যান হন। ১৯৮৬ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত তিনি লুম্বিনি উন্নয়ন তহবিলের চেয়ারম্যান হন। নেপালের ক্ষমতাচ্যুত এই রাজা আবারও সিংহাসনে ফিরতে চান। এক টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকারে জ্ঞানেন্দ্র বলেন, সাত বছর আগে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে একটি চুক্তি সই করেছিলেন। সেই চুক্তি অনুসারে জ্ঞানেন্দ্রই নেপালের সাংবিধানিক রাজা। তবে ২০০৮ সালে সরকার রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করে দেয়। সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্র বলেন, তিনি কখনোই নেপালের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে চাননি। তবে তিনি বড় পরিসরে একটি আনুষ্ঠানিক পদে থাকতে চেয়েছিলেন। তবে জ্ঞানেন্দ্র এও বলেছেন, নেপালের মানুষ তাকে আবার সিংহাসনে আরোহণের বিষয়টিকে ভালোভাবে দেখবে কি না, তা পরিষ্কার নয়। এমনকি আনুষ্ঠানিক পদেও তাকে মেনে নেবে কি না, তা বোঝা যাচ্ছে না। নেপালে এখনো রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা চলছে। আর এ অস্থিতিশীলতার মধ্যেই জ্ঞানেন্দ্র নতুন করে আসার আলো দেখছেন। তার মতে, দেশটিতে রাজনৈতিক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।

    বিশ্লেষকেরা বলছেন, বেকারত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলো অগ্রগতি ঘটাতে ব্যর্থ হওয়ায় নেপালের বহু সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

    সাক্ষাৎকারে জ্ঞানেন্দ্র বলেন, কয়েক সপ্তাহের সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর ২০০৬ সালে তাকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চুক্তি করতে বাধ্য করা হয়। সেই চুক্তিতে ভেঙে দেওয়া পার্লামেন্ট পুনর্বহাল, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্য থেকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ, সাংবিধানিক রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনা ও বহুদলীয় গণতন্ত্র চালুর মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। বর্তমানে অনেকটাই মিডিয়ার আড়ালে চলে গেছেন সাবেক এই রাজা। গত বছর জুলাই মাসে নিজের ৬৬তম জন্মদিনে সমর্থক ও স্বজনরা তার বাড়িতে ভিড় জমান। রাজপ্রাসাদ ছাড়ার পর কাঠমান্ডুর শহরতলি মহারাজ গঞ্জের একটি বাড়িতে বসবাস করছেন তিনি। জন্মদিন উপলক্ষে সেদিন প্রায় তিন হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিল সেখানে। এ সময় তারা রাজতন্ত্রপন্থি স্লোগানও দেয়। তাইতো রাজ সিংহাসন হারানো নেপালের সাবেক এই রাজা নতুন করে স্বপ্ন বুনা শুরু করেছেন। কেউ কেউ বলছেন, পর্দার আড়ালে জ্ঞানেন্দ্র নতুন কৌশলে ব্যস্ত রয়েছেন। চেষ্টা করছেন সিংহাসন ফিরে পেতে। তার এ স্বপ্ন ফের পূরণ হয় কিনা সেটাই দেখার অপেক্ষা।
     
    • Informative Informative x 2
    • Winner Winner x 1
  5. Zahir
    Offline

    Zahir Administrator Admin

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    19,303
    Likes Received:
    5,823
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka, Bangladesh
    Reputation:
    1,142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    রাশিয়ার দ্বিতীয় নিকোলাস
    [​IMG]
    রাশিয়ানদের সম্রাট এবং একনায়ক বলে পরিচিত দ্বিতীয় নিকোলাস। জন্ম ১৮৬৮ সালে ১৮ মে। তিনি রাশিয়ার শেষ সম্রাট। ফিনল্যান্ডের গ্রান্ড ডিউক এবং পোল্যান্ডেরও সম্মানসূচক রাজা ছিলেন নিকোলাস। যদিও ১৭২১ সালে টিজারডোম বা রাজ শাসনের অবসান হয়, তবুও রাশিয়ান অন্য সম্রাটদের মতো তাকে টিজার বলা হতো। এ ছাড়া রাশিয়ান অর্থোডঙ্ চার্চ তাকে সেইন্ট নিকোলাস বলে অভিহিত করত। তিনি ১৮৯৪ সাল থেকে শুরু করে ১৯১৭

    সালে অসুস্থ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত দেশ শাসন করেন। তার শাসনামলে রাশিয়া পৃথিবীর সুপার পাওয়ারে পরিণত হয়। যদিও তখন বিশ্বে অর্থনৈতিক ধ্বংস চলছিল। তবে তার শত্রুরা তাকে 'ব্লাডি নিকোলাস' বলে ডাকত। কারণ বিরুদ্ধাচরণকারী রাজনীতিবিদদের নির্বিচারে ফাঁসি প্রদান করতেন নিকোলাস।

    এ কারণে তার বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস পেতেন না কেউই।

    কেউ কেউ বলেন, নির্বিচারে গণহত্যা করেছেন রাশিয়ার এই সম্রাট। এ ছাড়া তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং নিজের স্বার্থসিদ্ধিতে মিলিটারি ক্যাম্পেইন করতেন। তবে নিজ দেশের স্বাধীনতার জন্য বরাবরই আপসহীন ছিলেন নিকোলাস। এ বিষয়ে কাউকে ছাড় দেননি। প্রতিপক্ষকে নিয়ে ঘাবড়াতেন না। তার নেতৃত্ব রুশ-জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ করে রাশিয়া। রাজ্যের শীর্ষ কর্তাব্যক্তি হওয়ায় তার অনুমতিতেই রাশিয়া ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। যে যুদ্ধে প্রায় ৩০ লাখ রাশিয়ান আত্দাহুতি দেয়। যুদ্ধে তার ইম্পেরিয়াল আর্মি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার বহুবিধ ভুল সিদ্ধান্তের কারণে রোমানভ রাজত্ব ধ্বংসের মুখে পতিত হয়। এ জন্য তাকে চড়া মাশুল দিতে হয়েছিল। সে সময় জনরোষের কবলে পড়েন এই সম্রাট। শেষ পর্যন্ত ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে গণঅভ্যুত্থানের মুখে তিনি এবং তার পরিবার আলেকজান্ডার প্যালেসে বন্দী হন। পরবর্তী সময়ে তাদের সেখান থেকে গভর্নরস ম্যানশন টবলস্কিতে প্রেরণ করা হয়। এ সময় রাশিয়াতে এক প্রকার গৃহযুদ্ধ চলতে থাকে। একে অন্যকে ঘায়েলে ব্যস্ত ছিলেন সবাই। প্রতিপক্ষকে কিভাবে দমানো যায় সেই কৌশল অাঁটত শীর্ষস্থানীয় নেতারা। পরবর্তী সময়ে ১৯১৮ সালে নিকোলাসকে স্থানীয় সোভিয়েতদের হাতে তুলে দেন তৎকালীন কমিশার ভ্যসিলি ইয়াকোভলেভ। ১৯১৮ সালের ১৬ অথবা ১৭ জুলাই স্ত্রী আলেকজান্দ্রা, ছেলে অ্যালেঙ্ িনিকোলাইভিচ, চার কন্যা, পারিবারিক চিকিৎসক, পারিবারিক রাঁধুনিসহ নিকোলাসকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে বলশেভিকরা।
     
    • Informative Informative x 2
    • Winner Winner x 1
  6. Zahir
    Offline

    Zahir Administrator Admin

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    19,303
    Likes Received:
    5,823
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka, Bangladesh
    Reputation:
    1,142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    আফগান কিং জহির শাহ
    [​IMG]
    মোহাম্মদ জহির শাহ ছিলেন আফগানিস্তানের ইতিহাসে শেষ রাজা। পাশতুন সম্প্রদায়ের এ ক্ষমতাধর নেতার জন্ম ১৯১৪ সালের ১৫ অক্টোবর আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে। তার বাবা মোহাম্মদ নাদির শাহ ছিলেন বারাকজাই রাজপরিবারের সদস্য এবং তৎকালীন রাজা আমানুল্লাহ খানের প্রধান সেনাপতি। তিনি কাবুলে অবস্থিত হাবিবা হাইস্কুলে রাজকীয় সম্মানে ক্লাস করতেন। বাবার ইচ্ছামতে পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা নিতে ফ্রান্সে পাঠানো হয় তাকে। দেশে ফিরে তিনি তার বাবা এবং চাচাদের রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনায় সাহায্য করতেন। ১৯৩৩ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি রাজা শাহ হিসেবে সিংহাসনে বসেন। দীর্ঘ ৩০ বছর রাজ্য পরিচালনায় বলার মতো কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেননি তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে ১৯৩৪ সালে তার নেতৃত্বে আফগানিস্তান লিগ অব নেশনসের সদস্য পদ লাভ করেন। ১৯৩০ সালের শেষের দিকে ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটে, বিশেষ করে জার্মানি, ইতালি এবং জাপানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৯৭৩ সালে তিনি চোখের চিকিৎসা করতে ইতালি যান। আর এ সুযোগে তার চাচাত ভাই (যিনি আগে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন) মোহাম্মদ দাউদ খান ক্ষমতা দখল করে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। এতে ইতালি থেকে আফগানিস্তানে তার ফেরার পথ বন্ধ হয়ে যায়। তবে ১৯৭০ সালের শেষদিকে তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়াতে কমিউনিস্ট শাসনব্যবস্থা পুনরায় প্রবর্তিত হলে তিনি আফগানিস্তানে ফিরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ১৯৮৩ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হলে তিনি পুনরায় ক্ষমতা দখলের নীল নকশা আঁকেন। কিন্তু ইসলামিক সমমনা দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় তার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।

    ২০০২ সালের এপ্রিল মাসে আফগানিস্তান যখন তালেবানদের শাসনে চলে যায় তখন পার্লামেন্ট লয়াজিরগা চালু করতে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। তবে মার্কিন বাহিনীর হাতে তালেবানদের পতন হলে দেশের প্রধান হিসেবে শাসন ব্যবস্থায় ফিরে আসতে তিনি ঘোষণা করেন- আমি আর রাজত্ব চাই না এবং লয়াজিরগার আদর্শে দেশ পরিচালনা করব। দেশের মানুষ আমাকে বাবা বলে ডাকে এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া। তবে মার্কিনিদের প্রিয় হামিদ কারজাই ক্ষমতা গ্রহণ করলে তার স্বপ্ন অধরা থেকে যায়। ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি গুরুতর অসুস্থ থাকার পর, সে বছরেরই ২৩ জুলাই মোহাম্মদ জহির শাহ পরলোকগমন করেন।
     
    • Informative Informative x 2
    • Winner Winner x 1
  7. passionboy
    Offline

    passionboy Kazirhut Suprime Member Staff Member Global Moderator

    Joined:
    Aug 20, 2012
    Messages:
    56,943
    Likes Received:
    10,363
    Gender:
    Male
    Location:
    সিটি গেইট, চট্টগ্রাম
    Reputation:
    704
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    অনেক তথ্যবহুল শেয়ার।
    :yourock:
     
    • Friendly Friendly x 1
  8. captcha
    Offline

    captcha Welknown Member Member

    Joined:
    Aug 7, 2012
    Messages:
    6,287
    Likes Received:
    1,812
    Location:
    বাংলাদেশ
    Reputation:
    1,203
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    I'm the monarch of all my sarvey.... মনে পরে গেল!
    সোজা হইয়া কবরে...
    অসাধারণ তথ্যপূর্ণ শেয়ার...:yourock:
     
    • Like Like x 1
  9. Dark007
    Offline

    Dark007 Junior Member Member

    Joined:
    Aug 25, 2012
    Messages:
    295
    Likes Received:
    248
    Gender:
    Male
    Reputation:
    20
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    তথ্যবহুল একটা থ্রেড।ধন্যবাদ মামা
     
    • Like Like x 1
  10. arn43
    Offline

    arn43 Kazirhut Elite Member Staff Member Global Moderator

    Joined:
    Aug 18, 2013
    Messages:
    28,435
    Likes Received:
    4,027
    Gender:
    Male
    Reputation:
    951
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    অনেক কিছু জানলাম। খুব ভালো লেগেছে, মামা। আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
     

Pls Share This Page:

Users Viewing Thread (Users: 0, Guests: 0)