1. Hi Guest
    Pls Attention! Kazirhut Accepts Only Bengali (বাংলা) & English Language On this board. If u write something with other language, you will be direct banned!

    আপনার জন্য kazirhut.com এর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার :

    যে কোন সফটওয়্যারের ফুল ভার্সন প্রয়োজন হলে Software Request Center এ রিকোয়েস্ট করুন।

    Discover Your Ebook From Our Online Library E-Books | বাংলা ইবুক (Bengali Ebook)

Collected ঢাকা-চাটগাঁ

Discussion in 'Collected' started by passionboy, May 28, 2013. Replies: 0 | Views: 782

  1. passionboy
    Offline

    passionboy Kazirhut Suprime Member Staff Member Global Moderator

    Joined:
    Aug 20, 2012
    Messages:
    56,918
    Likes Received:
    10,363
    Gender:
    Male
    Location:
    সিটি গেইট, চট্টগ্রাম
    Reputation:
    704
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    [​IMG]


    এমনিতে রাজধানীর মানুষেরা চট্টগ্রামের মানুষকে সদাগরের জাত হিসেবে চেনে। চট্টগ্রামের ইয়ার-দোস্তদের কাছ থেকে দামি সিগারেট, বিদেশি সুগন্ধি, দামি শুঁটকি ও ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী উপহার পেতে মুখিয়ে থাকেন তারা। দামি উপহারের বিনিময়েও চট্টগ্রামের মানুষের প্রতি তাদের হৃদয়ের টান খুবই নগণ্য। যেমন চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ বা বন্দর দেশের রাজস্ব আয়ের সিংহভাগ যোগান দিয়েও বরাবরই অনাদর-অবহেলার শিকার। একইভাবে চট্টগ্রামের মানুষ দামি উপঢৌকন বিলিয়েও রাজধানীবাসীর কাছ থেকে পাওয়া সদাগর নামের স্থায়ী স্টিকারটি মুছে ফেলার সুযোগ কখনো পায়নি।
    রাজধানী থেকে প্রকাশিত বাড়তি পৃষ্ঠার মেদ ও বহু রঙে সুসজ্জিত দৈনিকগুলোর কোলে হরহামেশা কিছু বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে। রাজধানীতে গড়ে উঠা বিভিন্ন চেইন রিটেইল শপের বিজ্ঞাপন এগুলো। আগোরা, স্বপ্ন, মীনাবাজারের মত ভোগ্যপণ্যের চেইন শপের বিজ্ঞাপনে ‘বিগ সেভার’, ‘কষ্টের টাকায় শ্রেষ্ঠ বাজার’ ইত্যাদি প্যাকেজের নামে মাছ, মাংস, সবজি, মুরগিসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের সাশ্রয়ী মূল্যের টোপে গ্রাহক আকর্ষণের প্রতিযোগিতা চলে। বিজ্ঞাপনগুলো নিশ্চিতভাবে উচ্চবিত্ত-মধ্যবিত্ত গৃহিণীদের দারুণভাবে আকর্ষণ করে। আকর্ষণ না করলে এত ঘন ঘন লাখ লাখ টাকার বিজ্ঞাপন ছাড়ার প্রশ্নই আসেনা। তো, চটকদার বিজ্ঞাপনী মূলো চট্টগ্রামের মানুষকে একটু বেশিই আকর্ষণ করে। আকর্ষণ করে বলেই চট্টগ্রামে প্রায় প্রতি মাসে মেলা, প্রদর্শনীর হুল্লোড় লেগে থাকে। এত হুল্লোড়ের মাঝে নগরবাসীর চোখ এড়িয়ে যেতেও পারে। আবার না গেলেও উচ্চবিত্তদের এ’নিয়ে ভাবনার কিছু নেই। তবুও সাধারণের মনোযোগ টানার জন্য একটি স্পর্শকাতর বিষয়ের উপর আলোকপাত করতে চাই। স্পর্শকাতর এ কারণে, রাজধানীতে আজকের দিনটিতে প্রতি বর্গমাইলে জনসংখ্যার ঘনত্ব অর্ধলাখের অংক ছুঁই-ছুঁই। অর্থাৎ বর্তমানে ঢাকায় বাস করছেন এক কোটি ষাট লাখ মানুষ। এ তুলনায় বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে বাস করছেন ৫০ লাখের মতো মানুষ। কিন্তু আভিজাত্যের জেল্লা এবং ব্যয়বহুল নগরী হিসেবে চট্টগ্রাম ঢাকাকে ছাড়িয়ে গেছে অনেক আগে। কি বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে? বিশ্বাস না হলে চেইন রিটেল শপের বিজ্ঞাপনে আরেকবার চোখ রাখুন। পড়ণ্ডন মনোযোগ দিয়ে।
    শুক্রবারের একটি দৈনিকে আগোরার ‘বিগ সেভার’ বিজ্ঞাপনটি নমুনা হিসেবে দেখুন। প্রথমে নজরে পড়বে রসালো লিচু। রসনার রস উদ্দীপক পুষ্ট টকটকে লাল লিচুর গায়ে লাগানো মূল্য দেখুন। প্রতি ৫০ পিসের দাম ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য আউটলেটে ১৩৫, চট্টগ্রামে ১৪৯ টাকা। দ্বিতীয়টি তেলাপিয়া মাছের। ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য আউটলেটে দাম ১২৮ কিন্তু চট্টগ্রামে ১৩৮ টাকা। ভাঁজের নীচে আছে পাঙ্গাস, ব্রয়লার মুরগি। চট্টগ্রামে এই দু’পণ্যের আলাদা মূল্য তালিকা নেই। কিন্তু সবজিতে আছে। পটল, চিচিঙ্গা, পুঁইশাক ঢাকাসহ অনান্য আউটলেটে ২২ কিন্তু চট্টগ্রামে দাম ২৯ টাকা। একইভাবে গরু ছাগলের মাংসও রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য আউটলেটের তুলনায় চট্টগ্রামে প্রতি কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করে চেইন শপগুলো। কি, গর্বে আপনার বুকের ছাতি দু’ ইঞ্চি বেশি ফুলে উঠেনি তো! উঠবে যদি আপনার বেশুমার মালপানি থাকে- সে সাথে থাকে বেহিসাবি খরচের অভ্যাস। তাহলে আপনার ৪৬ ইঞ্চি বুকের ছাতি ৫০ ইঞ্চি পর্যন্ত স্ফীত হতে পারে অহংকারের বায়ুতে। কিন্তু আপনাদের সংখ্যাটা বড্ডো কম, জনাব! যাকে বলে একেবারে সংখ্যালঘু। প্রতি শ’য়ে বড়জোর পাঁচ সাতজন। বাকিদের সিনা স্ফীত হওয়ার বদলে সংকুচিত হওয়ার কথা-লজ্জায় বেদনায়। প্রশ্ন করতে পারেন, কেন এত লজ্জা-এত বেদনা? উত্তর হচ্ছে, দেশের প্রধান বন্দরনগরী এবং বাণিজ্যিক রাজধানীর চটকদার রাংতায় মোড়ানো চট্টগ্রাম আগাগোড়াই অবহেলিত। নামে বাণিজ্যিক রাজধানী হলেও দেশের শিল্প-বাণিজ্যের প্রাণভোমরা হচ্ছে, রাজধানী ঢাকা। শুধু প্রশাসনিক মূলকেন্দ্র নয়, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পের মূল এবং একমাত্র কেন্দ্র হচ্ছে ঢাকা। এ’কারণেই চট্টগ্রামের উঠতি কর্পোরেট পুঁজির সদর দফতর বাণিজ্যিক রাজধানীর বদলে মূল রাজধানীতে স্থানান্তরিত হয়েছে, হচ্ছে। চট্টগ্রামে জন্ম নেয়া কর্পোরেট ব্যবসায়ীদের মূল আবাসও ঢাকায়। স্বাভাবিক কারণে রাজধানীর তুলনায় চট্টগ্রামে নিত্যপণ্যের দাম কম হওয়াই ছিল স্বাভাবিক। যা পৃথিবীর প্রায় সব দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির তুলনায় মুম্বাই, চেন্নাই, কলকাতার জীবনযাত্রার মাথাপিছু ব্যয় অনেক কম। অথচ নয়াদিল্লি প্রশাসনিক কেন্দ্র হলেও ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী হচ্ছে মুম্বাই। জনসংখ্যার দিক থেকেও মুম্বাই নয়াদিল্লি থেকে অনেক এগিয়ে। একই বাস্তবতা পাকিস্তানের বেলায়ও প্রযোজ্য। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের তুলনায় করাচির জনসংখ্যার ঘনত্ব অনেক বেশি। মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও ইসলামাদের চেয়ে করাচিতে কম। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি এবং নিউইয়র্কের বেলায়ও এটা মিলে যায়। তাহলে চট্টগ্রামের জন্য মিলেনা কেন? চট্টগ্রাম তো মুম্বাই, করাচির তুলনায় একেবারে পিচ্চি নগর। জনসংখ্যা রাজধানী ঢাকার তুলনায় এক তৃতীয়াংশেরও কম। কিন্তু চেইন রিটেইল শপগুলো ঢাকা ও দেশের অন্যান্য আউটলেটের বিপরীতে অনেক বেশি দামে চট্টগ্রামে পণ্য বিক্রি করছে কেন? অন্যান্য ভোগ্যপণ্যও নিশ্চিতভাবে চট্টগ্রামে বেশি দামে বিক্রি হয়। চট্টগ্রামের মানুষ বিশেষ করে চাটগাঁইয়ারা কি বিষয়টি একবার ভেবে দেখবেন। সম্ভবত এত কষ্ট স্বীকারের গরজ চটগ্রামবাসীর নেই। নেই বলেই ঢাকার চেইন শপগুলো আমাদের পকেট কাটছে প্রায় প্রকাশ্যেই। এমনিতে রাজধানীর মানুষেরা চট্টগ্রামের মানুষকে সদাগরের জাত হিসেবে চেনে। চট্টগ্রামের ইয়ার-দোস্তদের কাছ থেকে দামি সিগারেট, বিদেশি সুগন্ধি, দামি শুটকি ও ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী উপহার পেতে মুখিয়ে থাকেন তারা। দামি উপহারের বিনিময়েও চট্টগ্রামের মানুষের প্রতি তাদের হৃদয়ের টান খুবই নগণ্য। যেমন চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ বা বন্দর দেশের রাজস্ব আয়ের সিংহভাগ যোগান দিয়েও বরাবরই অনাদর-অবহেলার শিকার। একইভাবে চট্টগ্রামের মানুষ দামি উপঢৌকন বিলিয়েও রাজধানীবাসীর কাছ থেকে পাওয়া সদাগর নামের স্থায়ী স্টিকারটি মুছে ফেলার সুযোগ কখনো পায়নি।
    আসলে চাটগাঁর মানুষ নির্ভেজাল গাঁইয়া! গাঁইয়া বলেই নিজেদের বঞ্চনার ক্ষত মুছে ফেলার কোন উদ্যোগ আমাদের নেই। ব্যবসা ও টাকার মেদ ভারি হলেই আমরা চাটগাঁ ছেড়ে ঢাকা পালাই। রাজধানীর বিলাস-ব্যসন, জৌলুষ আর ভোগ-বিনোদনের সুরভিত লেকে গা ভাসিয়ে দিই। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র এবং প্রধান বন্দরনগরীকে ঘিরেই একটি দেশ তথা জাতির উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির চাকা আবর্তিত হয়। বিকশিত হয় সভ্যতা, শিল্প-সংস্কৃতি। কিন্তু চট্টগ্রাম শুধু পেছাচ্ছে। চট্টগ্রামকে এগিয়ে নেয়ার জন্য কোথাও কেউ নেই। জাতীয় থিঙ্কট্যাঙ্কেরা এ ব্যাপারে বরাবরই পালন করছেন নির্বিকার ভূমিকা। চট্টগ্রামের মানুষও নিজেদের অধিকার আদায়ে কখনো ঐক্যের মোহনায় মিলিত হতে পারেনি। পারেননি বলেই জাতীয় নেতৃত্ব বা থিঙ্কট্যাঙ্করা নির্বিকার থাকতে পারছেন। কিন্তু জাতির বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক হৃদপিণ্ডে উন্নয়নের সুষম প্রবাহ সচল রাখা না হলে জাতীয় উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আকস্মিকভাবে স্ট্রোক বা হার্ট এ্যাটাকে আক্রান্ত হতে পারে। বিষয়টি জাতীয় থিঙ্কট্যাঙ্কদের পাশাপাশি চট্টগ্রামবাসীরও মনে রাখা উচিত। বহুল প্রচলিত প্রবাদটি এক্ষেত্রে ব্যবহার করা অপ্রয়োজনীয় হবে না। প্রবাদটি হচ্ছে ‘কাঁদলে বাচ্চা দুধ পায়’। জানিনা চাটগাঁইয়ারা কখন কাঁদবেন, কবে পাবেন উন্নয়নের দুধ!
     
    • Informative Informative x 1

Pls Share This Page:

Users Viewing Thread (Users: 0, Guests: 0)