1. Hi Guest
    Pls Attention! Kazirhut Accepts Only Bengali (বাংলা) & English Language On this board. If u write something with other language, you will be direct banned!

    আপনার জন্য kazirhut.com এর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার :

    যে কোন সফটওয়্যারের ফুল ভার্সন প্রয়োজন হলে Software Request Center এ রিকোয়েস্ট করুন।

    Discover Your Ebook From Our Online Library E-Books | বাংলা ইবুক (Bengali Ebook)

Collected মোঘল হেরেমের দুনিয়া কাঁপানো প্রেম

Discussion in 'Collected' started by Zahir, Jul 3, 2013. Replies: 204 | Views: 26798

  1. Zahir
    Offline

    Zahir Administrator Admin

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    19,283
    Likes Received:
    5,823
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka, Bangladesh
    Reputation:
    1,142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    আরমান খাঁ এবং সৈয়দ বাহলুল লিখলেন- দুনিয়াতে মহান আল্লাহর আশীর্বাদের ছায়া, জিল্লে ইলাহি। হিন্দুস্তানের মহান সম্রাট জালালউদ্দিন মোহাম্মদ আকবর সমীপে পেশ করার জন্য- 'আমরা যখন আনাতোলিয়ার উসমানিয়া সুলতানের রাজধানীতে পেঁৗছলাম তখন দুপুর গড়িয়ে বিকাল হয়ে গিয়েছিল। এটা ছিল ১৫৭৬ সালের জুলাই মাস। আমরা রাজপ্রাসাদের ফটকে গিয়ে হিন্দুস্তানের সম্রাটের পত্র এবং আমাদের পরিচয়পত্র পেশ করার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের নহবত ও সানাইয়ের সুর তুলে অভ্যর্থনা জানানো হলো এবং অতি দ্রুত রাজকীয় মেহমান খানায় নিয়ে ততধিক দ্রুততার সঙ্গে আমাদের আরাম-আয়েশের ব্যবস্থা করা হলো। আমাদের ইচ্ছানুযায়ী সেদিন সন্ধ্যার পর রাজদরবারে সুলতানের সঙ্গে সাক্ষাতের আয়োজন করা হলো।

    উসমানিয়া সাম্রাজ্য তখন দুনিয়ার সবচেয়ে বড় বাদশাহী। এশিয়া-ইউরোপ এবং আফ্রিকাজুড়ে তাদের সুবিশাল সাম্রাজ্যের নাম-যশ ছিল খ্যাতির তুঙ্গে। সেই সাম্রাজ্যের রাজধানী আর রাজপ্রাসাদ এবং সর্বশেষে দরবারে উপস্থিত হয়ে আমরা বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে গেলাম। আমরা সম্রাট তৃতীয় মুরাদের সামনে নীত হয়ে কুর্নিশ করলাম যখন তার বয়স ছিল মাত্র ৩০ বছর। মাত্র দুই বছর আগে তার পিতা দ্বিতীয় সেলিম মারা যান আট বছর রাজত্বের পর। আর তখন থেকেই তিনি সুলতান। পৃথিবীর সম্রাটেদের সম্রাট মহমতি সুলায়মান ছিলেন তার দাদা। তার মৃত্যুর সময় সুলতানের বয়স মাত্র ২০ বছর। তিনি ১৫ বছর বয়স থেকেই দাদা-বাবার অধীনে যুদ্ধ করেছেন বিভিন্ন রণাঙ্গনে। আর নিজে সুলতান হওয়ার পর ইউরোপ ও এশিয়ার বলকান অঞ্চলে ঝড় তোলেন। আমরা সবাই তার দিকে নজর করলাম। রাজকীয় নকিব উচ্চৈঃস্বরে মোগল সম্রাটের চিঠি পাঠ করল। আমরা হিন্দুস্তান সম্রাটের মূল্যবান উপহারসমূহ হস্তান্তর করলাম। তিনি এসব দেখে ভারী আশ্চর্য এবং অতিশয় খুশি হলেন।

    তরুণ সম্রাটের প্রবল মেধা আর রাজসিক গাম্ভীর্যতা দেখে আমরা মুগ্ধ হলাম। তিনি শুধু একটি কথাই বললেন, তার দাদা মহামতি সুলায়মান হিন্দুস্তানের মহান সম্রাট জালালউদ্দিন মোহাম্মদ আকবরকে আমৃত্যু বন্ধু মনে করতেন। আর তার পিতা দ্বিতীয় সেলিম মোগল-এ আজমকে পিতৃবন্ধু হিসেবে অতিশয় শ্রদ্ধা করতেন। এরপর তিনি তার রাজ মুকুটের শীর্ষে স্থাপিত মহামূল্যবান হীরক খণ্ডটিকে স্পর্শ করে বললেন- আপনাদের সম্রাট এই হীরক খণ্ডেরই মতো আমার মাথার ওপর অবস্থান করছেন। সুলতানের কথা শুনে আমরা ভীষণ আহ্লাদিত হয়ে পড়লাম এবং বারবার মাথা নুইয়ে কুর্নিশ করতে থাকলাম। সুলতান ধৈর্য সহকারে আমাদের বক্তব্য শুনলেন এবং তার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিলেন, আমাদের সব প্রয়োজন মিটিয়ে দেওয়ার জন্য।
     
  2. Zahir
    Offline

    Zahir Administrator Admin

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    19,283
    Likes Received:
    5,823
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka, Bangladesh
    Reputation:
    1,142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    আমরা উসমানিয়া সাম্রাজ্যের সেনাবাহিনী বিশেষত জেনিসারী বাহিনীর গঠন, প্রয়োজন এবং কার্যকারিতা নিয়ে কাজ করেছিলাম। এ জন্য আমাদের রাজকীয় লাইব্রেরিতে কয়েকদিন সময় কাটাতে হলো- রাজবংশের ইতিহাস এবং সাম্রাজ্যের ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার জন্য। শত শত নয়, হাজার হাজার উপজাতির বহুমুখী জীবনধারা এবং আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থান-কাল-পাত্রভেদে সাম্রাজ্যের নীতিমালা যে ভিন্ন প্রকৃতির হতে পারে, তা আমরা জানলাম। এই বংশের প্রতিষ্ঠাতা গাজী উসমান পূর্ব থেকেই সেলজুফ সুলতানদের অধীনে ছোট একটি ভূখণ্ডের শাসনকর্তা ছিলেন। পুরো মধ্য এশিয়ার বলকান অঞ্চল এবং পারস্য সেলজুফ সুলতানরা শাসন করতেন বলতে গেলে স্বাধীনভাবেই যদিও কাগজ-কলমে তারা বায়জানটাইন সম্রাটের অধীন ছিলেন।

    গাজী উসমান ছিলেন আনাতোলিয়ার শাসক এবং কাইহান গোত্রের প্রধান। ১২৯৯ সালে তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং একের পর এক জনপদ দখল করতে থাকেন। তখন বায়জান্টাইন সাম্রাজ্যের ভিত্তি দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়ে পড়েছিল আর সেই সুযোগে উসমান তার নতুন সাম্রাজ্যের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করতে থাকলেন। ১৩২৮ সালে তিনি মারা যাওয়ার সময় তার পুত্র ওরহানের জন্য রেখে গিয়েছিলেন এক বিরাট ভূখণ্ড। রাজকোষে কাড়ি কাড়ি অর্থ এবং একটি সুসংগঠিত সেনাবাহিনী। আর রেখে গিয়েছিলেন একটি অছিয়তনামা। উসমান লিখেছিলেন-

    "প্রিয় পুত্র! তোমার জীবনের যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর সর্বদা ধর্মীয় বিষয়গুলোকে অধিকতর মর্যাদা প্রদান করিও। মনে রাখবে ধর্মীয় নীতি-নৈতিকতার সাহায্যেই তুমি কেবল একটি শক্তিশালী নৈতিক রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তুলতে পারবে। ধর্মীয় বিষয়াদি তদারকির দায়িত্ব কখনো গুণাগার পাপী, দায়িত্বজ্ঞানহীন, অনভিজ্ঞ ভিন্নমতের মানুষ কিংবা অলস ব্যক্তিদের ওপর অর্পণ করবে না। এ ধরনের লোকজনকে ভুলেও রাষ্ট্রক্ষমতার কোনো পদে বসাবে না। কারণ যে মানষ তার সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে ভয় করে না, সে মানুষ কখনো আল্লাহর বান্দাকে সম্মান করতে জানে না। একজন পাপী যদি অনবরত পাপ করতে থাকে, সে ক্ষেত্রে সে কখনো কারও অনুগত হতে পারে না। পণ্ডিত ব্যক্তিরা ধার্মিক মানুষজন। শিল্পী এবং সাহিত্যিকরা হলেন রাষ্ট্রের ভিত্তি। তাদের প্রতি সব সময় সম্মান, শ্রদ্ধা এবং দয়া প্রদর্শন করবে। সব সময় খুঁজে খুঁজে গুণী ব্যক্তিদের বের করে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করবে এবং তাদের অর্থবিত্ত দিয়ে নিজেকে সম্মানিত করার চেষ্টা করবে। এসব লোকের মাধ্যমে তোমার রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় নীতিমালাসমূহ বাস্তবায়ন করবে। হে পুত্র! তুমি আমার জীবন থেকে শিক্ষা নাও- এই জনপদে আমার নেতৃত্ব ছিল অতিশয় দুর্বল। মহান আল্লাহর অনুগ্রহ নিয়ে আমি তোমাকে বর্তমানের গৌরবময় স্থানে রেখে গেলাম- অথচ এই স্থানে পৌঁছানোর কোনো যোগ্যতাই আমার ছিল না। তুমি আমার জীবনযাত্রা এবং কর্মপন্থা অবলম্বন কর, দ্বীনে মোহাম্মদীকে রক্ষা কর এবং বিশ্বাসী মানুষ ও ফুলকে সুরক্ষা কর এবং ভালোবাস। মহান আল্লাহ অধিকারের দিকে ভুলেও নজর দেবে না এবং আল্লাহর অধিকারের প্রতি সম্মান রাখবে এবং তার বান্দাদের সম্মান করবে। আমি যেভাবে তোমাকে আদেশ ও উপদেশ দিয়ে গেলাম তদ্রূপ তোমার পরবর্তী উত্তরাধিকারীকেও তুমি এই অছিয়তগুলো পৌঁছে দেবে। প্রতিটি কর্মসম্পাদনে তুমি সর্বোচ্চ যত্নশীলতার সঙ্গে পরিশ্রম করবে। কখনো নিষ্ঠুর হবে না, প্রতিটি কর্মে স্বচ্ছতা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে এবং সবশেষে ফলাফলের জন্য মহান আল্লাহর ওপর নির্ভর করবে। শত্রুর আক্রমণ, প্রতিহিংসা, নিষ্ঠুরতা আর চক্রান্ত থেকে তোমার জনগণকে রক্ষা করবে। কখনো কারও সঙ্গে অসৌজন্যমূলক অসদাচরণ করবে না। জনগণকে সম্মান করবে এবং তাদের স্বার্থ রক্ষা করবে। "
     
  3. Zahir
    Offline

    Zahir Administrator Admin

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    19,283
    Likes Received:
    5,823
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka, Bangladesh
    Reputation:
    1,142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    সুলতান ওরহান পিতার অছিয়ত অনুযায়ী ১৩২৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৩৬২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোট ৩৮ বছর রাজত্ব করেন। তিনি প্রথম নিয়মিত বেতন, নিয়মতান্ত্রিক নিয়োগ ও পদোন্নতির ব্যবস্থা করে জেনিসারী বাহিনী গঠন করেন। এটিই পৃথিবীর প্রথম আধুনিক নিয়মতান্ত্রিক সামরিক বাহিনী। জেনিসারীর অনুকরণে ফ্রান্সের সম্রাট সপ্তম চার্লস একটি সেনাবাহিনী গঠন করতে পেরেছিলেন সুলতান ওরহানের ১০০ বছর পর। আর এখানেই সুলতানের ধীশক্তি এবং উদ্ভাবনী শক্তির পরিচয় ফুটে ওঠে। এই শক্তিশালী বাহিনীর সাহায্যে তিনি এশিয়া, আফ্রিকা আর ইউরোপের বিশাল অংশ দখল করেছিলেন এবং ওইসব অঞ্চলের অন্যসব রাজা, বাদশাহ এবং সম্রাটদের হৃদয়ে কাঁপন ধরিয়েছিলেন।

    আমরা খুঁজতে থাকলাম- কেন সুলতান এ রকম একটি ব্যয়বহুল সেনাবাহিনী গঠন করতে উদ্যোগী হলেন? তারপর কীভাবে শুরু করলেন এবং কীভাবে প্রতিষ্ঠিত করলেন; সর্বশেষে কীভাবে সফলতা পেলেন। এ লক্ষ্যে আমরা প্রথমেই সাম্রাজ্যের সীমানার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেষ্টা করলাম। ইউরোপ, আফ্রিকা এবং এশিয়ার মানচিত্রের এত বিশাল এলাকা এর আগে কোনো সম্রাট একত্রে শাসন করতে পারেননি। শত শত উপজাতি, শত শত ধর্মমতের মানুষ আর হাজার রকমের ভাষায় কথা বলা জনগোষ্ঠীর মনে রাজশক্তির প্রতি সম্ভ্রম সৃষ্টি করার জন্য একীভূত সামরিক শক্তির কোনো বিকল্প যে নেই, তা সুলতান ওরহান উপলব্ধি করলেন এবং গড়ে তুলতে চাইলেন জেনিসারী নামের এক আধুনিক সেনাবাহিনী।
     
  4. Zahir
    Offline

    Zahir Administrator Admin

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    19,283
    Likes Received:
    5,823
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka, Bangladesh
    Reputation:
    1,142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    রাজ্যের দুর্গম এলাকা থেকে ১০-১২ বছর বয়সী সুদর্শন, চটপটে, মেধাবী আর নিখুঁত শারীরিক গঠনের কিশোরদের সংগ্রহ করা হলো। রাজকর্মচারীরা কোনো গ্রামে যেতেন এবং সব কিশোর বালকদের লাইন দিয়ে দাঁড় করাতেন এবং পছন্দের বালকদের বাছাই করার পর জোর করে রাজধানীতে নিয়ে আসতেন। এভাবে তারা এক হাজার বালককে নির্বাচিত করে গড়ে তাদের সর্ব বিষয়ে ১০ বছর ধরে শিক্ষা দিতে থাকে। প্রথমত তাদের ভাষা, ধর্ম, পোশাক, খাদ্যাভ্যাস একই রকম করে ফেলা হয়। সবাইকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করে তুর্কি ভাষায় কথা বলা শেখানো হয়। তাদের বয়স ২১ বছর পূর্ণ হওয়ার পর তাদের সেনাবাহিনীতে নিয়মিত কমিশন দিয়ে উচ্চপদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ বাহিনী মূলত প্রাসাদ রক্ষা, সুলতানের নিরাপত্তা বিধান এবং গুরুত্বপূর্ণ সেনা ছাউনিতে কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণকালীন তাদের পুরোপুরি পরিবার-পরিজন, আত্দীয়স্বজন থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হতো। এ ছেলেগুলো কি আদৌ বেঁচে আছে, না মরে গেছে- এ ধরনের কোনো সংবাদ তাদের পরিবারের কাছে থাকত না। তারা যখন কিশোর সন্তানটিকে ভুলতে বসত তখন হঠাৎ দেখত ২১-২২ বছরের এক জেনারেল এসে উপস্থিত। পুরো জনপদে খুশির বন্যা বয়ে যেত।

    প্রথমদিকে এ ধরনের রিক্রুটমেন্ট নিয়ে লোকজনের মধ্যে প্রচণ্ড হতাশা এবং ক্ষোভ ছিল। কিন্তু ১০ বছর পর প্রথম ব্যাচের এক হাজার কর্মকর্তা উচ্চপদ নিয়োগ লাভের পর সাম্রাজ্যের সব অভিজাত পরিবার তাদের সন্তানকে স্বেচ্ছায় জেনিসারী বাহিনীতে ভর্তি করার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ত। ফলে এ বাহিনীর নিয়োগ, নির্বাচন পদ্ধতি এবং প্রশিক্ষণের বিষয়ে সুলতান প্রথম মুরাদ কার্যকর আইন প্রণয়ন করেন। ১৩৮৩ সালে অটোম্যান সাম্রাজ্যে এ বাহিনী আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে।

    প্রথমদিকে এ বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ১০০০ জনে সীমাবদ্ধ থাকলেও পরে তা ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পায়। আমরা যখন রাজধানী কনস্টান্টিনোপলে ছিলাম, তখন এ বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল ২৫ হাজার।
     
  5. Zahir
    Offline

    Zahir Administrator Admin

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    19,283
    Likes Received:
    5,823
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka, Bangladesh
    Reputation:
    1,142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    মোগল হেরেমের দুনিয়া কাঁপানো প্রেম (২৩ তম পর্ব)

    [​IMG]

    জেনিসারি বাহিনীর বাছাইকৃত তরুণদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিভিন্ন তুর্কি পরিবারে রাখা হতো। এ সময় তারা তুর্কি ভাষা, কৃষিকাজ, পশু পালন এবং ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে শিক্ষালাভ করত।

    এরপর তাদের ভর্তি করানো হতো রাজধানীর 'এসিসি ওগলান' নামক স্কুলে। এ স্কুলে পড়াকালীনই জেনিসারি ক্যাডেটদের মেধা অনুসারে বিভিন্ন বিভাগে বিভাজন করা হতো- কাউকে শেখানো হতো ইঞ্জিনিয়ারিং, কাউকে নৌবিদ্যা। আবার কাউকে পদাতিক বাহিনীর শিক্ষা কিংবা কেউ হতো আগ্নেয়াস্ত্র বিশেষজ্ঞ। ট্রেনিং শেষে তারা নিয়োগপ্রাপ্ত হতো। রাষ্ট্র থেকে বেতন, ভাতা, রেশন, পোশাক এবং পেনশন প্রদানসহ নানারকম সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হতো।

    জেনিসারি নিয়ে আমাদের পর্যবেক্ষণে মনে হয়েছে, হিন্দুস্তানে এই বাহিনীর গঠন সম্ভব নয়। প্রথমত, স্থানীয়ভাবে ক্যাডেটদের সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। আবার অন্য দেশ থেকে সংগ্রহ করে তাদের উচ্চপদে নিয়োগ দেওয়া হলে সেনাবাহিনীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেবে। কারণ হিন্দুস্তানে কোনো বাহিনীর সেনাপতি হতে হলে তাকে অবশ্যই অভিজাত পরিবারের সন্তান হতে হয়।
     
  6. Zahir
    Offline

    Zahir Administrator Admin

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    19,283
    Likes Received:
    5,823
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka, Bangladesh
    Reputation:
    1,142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    অন্যদিকে হিন্দুস্তানে কারোর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্মান্তরিত করে মুসলমান বানানো হলে রাজ্যময় ব্যাপক বিদ্রোহ দেখা দেবে। তা ছাড়া সব উচ্চপদে একচেটিয়াভাবে মুসলমানদের নিয়োগ স্থানীয় হিন্দু অভিজাতবর্গ কিছুতেই মেনে নেবে না। তবে জেনিসারির আদলে হেরেমে সীমিত আকারে মেয়েদের শিক্ষা দেওয়া যেতে পারে।

    মূলত আরমান খাঁ এবং বাহলুল খাঁর লিখিত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মহামতি সম্রাট আকবর জেনিসারি বাহিনীর আদলে একটি সৈন্যবাহিনী গড়ে তোলার ইচ্ছা থেকে ফিরে আসেন এবং হেরেমের মেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এর আগে হেরেমগুলোতে কেবল মেয়েদের শিক্ষা দেওয়া হতো কীভাবে একজন রাজপুরুষের জীবনসঙ্গিনী, শয্যাসঙ্গিনী এবং রাজপুত্রের মা হওয়া যায়। এরপর শেখানো হতো গৃহশয্যা, ব্যক্তিগত সাজসজ্জা, নাচ, গান চিত্রাঙ্কন ইত্যাদি। এসবই করা হতো কেবল একটি সুখী গৃহকোণ গড়ে তোলার জন্য। ফলে হেরেমবাসীকে বিয়ে করার জন্য দরবার তথা সাম্রাজ্যের তাবৎ উচ্চপদস্থ রাজপুরুষরা উন্মুখ হয়ে থাকতেন। কিন্তু এ ব্যাপারে তাদের কিছুই করার ছিল না। কারণ হেরেমবাসীর অভিভাবক ছিলেন স্বয়ং শাহেন শাহ। তিনি তার ইচ্ছামতো এবং পছন্দের রাজকর্মচারীর জীবন আলোকিত করার জন্য হেরেমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মেয়েদের সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা করতেন।

    হেরেমে দুই ধরনের শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রথমত, রাজপরিবারের সদস্য তথা রাজরক্তের ধারক মেয়েরা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মেয়েরা। এখানকার পরিবেশ, প্রতিবেশ এবং শিক্ষাপদ্ধতি সবার জন্য সমান ছিল। আপনি শুনে অবাক হবেন, আমরা আমাদের আট বছরের শিক্ষাজীবনে কখনো শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রীর কাছ থেকে কটূ বাক্য শ্রবণ করিনি কিংবা কখনো দণ্ডপ্রাপ্ত হয়নি। অথচ আমাদের পাঠ্যসূচিতে রাজ্যের সব কঠিন কঠিন বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং আমরা তার সব কিছুই শিখেছি। মূলত শিক্ষা পদ্ধতির আধুনিকতা এবং শিক্ষকদের মানের কারণে শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষা লাভ ছিল এক আনন্দময় ঘটনা।
     
  7. Zahir
    Offline

    Zahir Administrator Admin

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    19,283
    Likes Received:
    5,823
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka, Bangladesh
    Reputation:
    1,142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    আমি যখন শিক্ষা লাভ শুরু করি তখন ১০টি মেয়ে ছিল, যারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এসেছিল। এ ছাড়া রাজপরিবারের সদস্য ছিলেন আরও ১৭ জন। মোট ২৭ জন মিলে আমরা শিক্ষালাভ করতাম। আর আগেই বলেছি আমার কামরায় আরেকজন মেয়ে ছিলেন মেহেরজান নামে যে কিনা অনেক আগে থেকেই হেরেমে ছিলেন। মেহেরজানের কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখলাম। প্রথম রাতে আমরা অনেকক্ষণ জেগে জেগে গল্প করলাম। এক সময় মেহেরজান তার বিছানা ছেড়ে আমার বিছানায় চলে এলো। আমাকে জড়িয়ে ধরে আবেগে কাঁদতে লাগল। বলল, অনেক দিন পরিবার-পরিজনের কথা ভুলেছিলাম। আজ তোমাকে দেখে মনে পড়ল আমার ছোট বোনের কথা। তাই তোমাকে স্পর্শ না করা পর্যন্ত শান্তি পাচ্ছিলাম না। আমি তাকে জড়িয়ে ধরলাম এবং বড় বোন হিসেবে মনে মনে সমীহ করা শুরু করলাম। সে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে নিজে সান্ত্বনা পাওয়ার চেষ্টা করতে থাকল।

    পরদিন সকালে নাশতা সারার পর আমাকে ধারণা দেওয়া হলো প্রতি দিনকার কর্মসূচি, শিক্ষা পদ্ধতি এবং অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে। এরপর আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হলো এবং সবার সঙ্গে পরিচয় করে দেওয়া হলো। আমাদের দিনের একটি অংশে শিখতে হতো হেরেমের মধ্য থেকে আর বাকি সময়ে আমাদের বাইরে নিয়ে যাওয়া হতো হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়ার জন্য। মূলত ঘোড়ায় চড়া, তীর চালানো, তরবারির যুদ্ধ, বন্দুক চালানো এবং গোলাবারুদের ব্যবহার সম্পর্কে আমাদের শেখানো শুরু হলো। দিনের নির্দিষ্ট সময়ে আমরা ব্যায়াম করতাম এবং খুব সকালে যোগব্যায়াম করতাম। হেরেমের সব মেয়েই ছিল মুসলমান। ফলে আমাদের নামাজ, কালাম, কোরআন-হাদিস পড়ার পাশাপাশি ইসলাম ধর্মের মৌলিক মূল্যবোধও শিক্ষা দেওয়া হতো। আমাদের খাদ্য তালিকা এমনভাবে তৈরি করা ছিল যাতে করে বয়সের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা খাদ্যমানের পুষ্টি পেতাম। বেশির ভাগ খাবারই ছিল চর্বিবর্জিত। যেসব খাবারে শরীরে কাম, ক্রোধ, উত্তেজনা এবং হিংসা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে সেসব খাবার থেকে আমাদের দূরে রাখা হতো এবং ওইসব খাবারের খারাপ দিক সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া হতো।
     
  8. Zahir
    Offline

    Zahir Administrator Admin

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    19,283
    Likes Received:
    5,823
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka, Bangladesh
    Reputation:
    1,142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    আমাদের রাজনীতি, অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, ভূগোল, অংক, জ্যামিতি, যুদ্ধনীতি এবং তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব (Comparative religian theology) শিক্ষা দেওয়া হতো। আমরা যাতে এগুলো ভুলে না যাই এ জন্য প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত বিতর্কের আয়োজন করা হতো। একবার বিতর্কে আমার দায়িত্ব পড়ল সুলতান মুহাম্মাদ বিন তুঘলক সম্পর্কে বক্তব্য উপস্থাপন করার জন্য। তাকে কেন ইতিহাসের অন্যতম মেধাবী সম্রাট বলা হয়, আবার কেন পাগলা রাজা বলা হয়- তা নিয়ে আমাকে বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হলো। আমি রাত-দিন পরিশ্রম করে হেরেমের লাইব্রেরি থেকে অনেক তথ্যউপাত্ত সংগ্রহ করলাম। আমার বোন মেহেরজান আমাকে যারপরনাই সাহায্য ও সহযোগিতা করল। আমি খুবই আশ্চর্যজনক এবং চমকপদ কিছু তথ্য পেলাম সুলতান সম্পর্কে। তার সম্পর্কে জানতে গিয়ে নিজের অজান্তেই তার মস্তবড় ভক্ত হয়ে গেলাম। তাকে আমার মনে হতে লাগল ইতিহাসের এক মহানায়ক হিসেবে।

    তার ডাক নাম ছিল জুনা খান। সুলতান হওয়ার আগে তিনি যখন যুবরাজ ছিলেন তখন তার নাম ছিল শাহজাদা ফকর মালিক। তার পিতা গিয়াসউদ্দিন তুঘলক হঠাৎ করেই প্রবল অহংকারী হয়ে উঠেন এবং আলেম ওলামাদের অপমান এবং তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে থাকেন। রাজ্যের জ্ঞানীগুণী ও পণ্ডিত ব্যক্তিদের নিয়েও তিনি রং তামাশা করে কথা বলতেন। ফলে তার মৃত্যু হয় এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার মাধ্যমে। সবাই বিশ্বাস করে, দিলি্লর মেহরুলীতে বসবাসরত সর্বজন শ্রদ্ধেয় ওলি আল্লামা হজরত নিজাম উদ্দীন আউলিয়ার অভিশাপে তিনি মৃত্যুর কবলে পড়েন। কেউ কেউ আবার বলে থাকেন, যুবরাজ জুনা খান চক্রান্ত করে তার জন্মদাতা পিতাকে মেরে ফেলেন তাড়াতাড়ি সিংহাসনে আরোহণের জন্য। আমার ভাবতে খুব ভালো লাগছিল যে, আমার স্বপ্নের পাগলা রাজা বাধাহীনভাবে ২৬ বছর রাজত্ব করেছিলেন। ১৩২৫ থেকে ১৩৫১ সাল অবধি তার রাজত্বকালে পুরো মুসলিম দুনিয়া ছিল উত্তাল। বাগদাদ তখন মোঙ্গলদের দখলে। হাজার হাজার বাগদাদী মুসলমান মোঙ্গলদের অত্যাচার থেকে পালানোর জন্য পৃথিবীময় ছড়িয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে বেশ কিছু সংখ্যক লোক ছিলেন, যারা আব্বাসীয় রক্তের ধারক। জুনা খান একবার খবর পেলেন দিলি্লতে আব্বাসীয় খলিফাদের এক রক্তের আত্দীয় এসেছেন। এ খবর শোনার পর সুলতান শুরু করলেন হাউমাউ করে কান্নাকাটি। সভাসদ-পারিষদ বর্গতো মহাঅবাক! প্রকাশ্য দরবারে সুলতান অবোধ শিশুর মতো কাঁদছেন। তারা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে ভাবতে লাগলেন কি করা যায়।
     
  9. Zahir
    Offline

    Zahir Administrator Admin

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    19,283
    Likes Received:
    5,823
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka, Bangladesh
    Reputation:
    1,142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    সুলতান কাঁদতে কাঁদতে সিংহাসন থেকে নেমে এলেন। তারপর খালি পায়ে হাঁটতে হাঁটতে তার খাস কামরায় গেলেন। মাথা থেকে রাজমুকুট নামিয়ে রাখলেন। হাতের রাজ দণ্ডটিও ফেলে দিলেন। মূল্যবান মণিমুক্তার কণ্ঠহার, হাতের বাজুবদ্ধ আংটি সব কিছু খুলে আশপাশে ছুড়ে মারতে লাগলেন। তারপর মেঝেতে শুয়ে গড়াগড়ি করে কাঁদতে শুরু করলেন। তিনি কাঁদেন আর বিলাপ করে বলতে থাকেন হায় আল্লাহ আমার এখন কি হবে গো! আমি তো নির্ঘাত জাহান্নামবাসী হবগো। বাগদাদের রাজরক্ত এখন দিলি্লতে রাসূলের বংশধর এখন দিল্লির রাস্তায়, খলিফা হারুন অর রশিদের আত্দীয় এখন আমার মেহমান! অথচ আমি জানি না। ইয়া আল্লাহ তুমি আমায় মাফ কর। আমার যে ভুল হয়েছে তাতে আমার জায়গা দারুল হাবিয়াতেও হবে না- এসব বলতে বরতে সুলতান তার কান্নার দাপট বাড়িয়ে দিলেন।

    পাত্রমিত্ররা সব ভয়ের চোটে হাহাকার শুরু করলেন। এরকম অদ্ভুত কাণ্ড তারা জীবনেও দেখেননি কিংবা শোনেনইনি। কি করা যায় কি করা যায়। এসব নিয়ে যখন গবেষণা চলছিল তখন সুলতান কাঁদতে কাঁদতে উঠে দাঁড়ালেন। তারপর তার রাজপোশাক খুলে ফেলে ফকিরি পোশাক পরলেন। সবাইকে বললেন, ওরে তোরা কে কোথায় আছিস। আমাকে হুজুরের কাছে নিয়ে যা। আমি পায়ে হেঁটে ফকিরের মতো হুজুরের দরবারে যাব। সেই কথা সেই কাজ। তিনি পায়ে হেঁটে রওনা হলেন আব্বাসীয় বংশের লোকটির কাছে।

    লোকটির নাম ছিল আবু বকর। দিলি্লর শহরতলীর কোনো এক বস্তিতে তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন দীনহীন ফকিরের বেশে। ভারতবর্ষে এসেছিলেন প্রাণ বাঁচানোর জন্য। কথা প্রসঙ্গে তিনি একবার লোকজনের কাছে নিজের বংশ পরিচয় দিয়েছিলেন একটু খাতির যত্ন পাওয়ার জন্য। কেউ কোনো খাতির যত্ন না করলেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে থাকল শহরময় এবং এক সময় তা রাজদরবারে সুলতান মোহাম্মদ বিন তুঘলকের কানে পৌঁছলো। তিনি হাঁটতে হাঁটতে সত্যিই বস্তিতে এসে পৌঁছলেন। ফকিরের বেশে সুলতান হাঁটছেন আর তার হাতি-ঘোড়া, পাইক-পেয়াদা সব পেছনে। এই দৃশ্য দেখে শহরবাসী এক অজানা আশঙ্কায় ভয়ে থর থর করে কাঁপতে লাগল। কেউ কেউ খিড়কির সদর দরজা বন্ধ করে দিল। অন্যরা জানালা-দরজা বন্ধ করে ঘরের মধ্যে অবস্থান নিল।
     
  10. Zahir
    Offline

    Zahir Administrator Admin

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    19,283
    Likes Received:
    5,823
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka, Bangladesh
    Reputation:
    1,142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    সুলতানের আগমনের খবরে বস্তিতে দৌড়াদৌড়ি শুরু হলো। তারা মনে করল সুলতানের সৈন্যবাহিনী হয়তো বস্তি উচ্ছেদ করে ফেলবে। সুলতানের লোকজন গিয়ে বস্তিবাসীদের আসল ঘটনা বলল। একটি চেয়ারে আবু বকরকে বসানো হলো। সুলতান উপস্থিত হয়ে তার পায়ের কাছে বসে আবু বকরের পা জড়িয়ে ধরে ক্ষমা চাইতে লাগলেন। আবু বকর বুদ্ধিমান লোক ছিলেন। তিনি পরিস্থিতির গুরুত্ব এবং নিজের করণীয় সম্পর্কে বুঝতে পারলেন। তিনি সিংহ বিক্রমে হুঙ্কার দিয়ে বললেন, এভাবে বেখেয়ালে হয়ে রাজ্য চালাস কেন। সুলতান হাউমাউ করে কান্না শুরু করলেন। আবু বকর তাকে সান্ত্বনা দিয়ে কাফফারা আদায় করার হুকুম দিলেন। কি সেই কাফফারা আবু বকরের জন্য একটি প্রাসাদ এবং বড় অংকের রাজকীয় পারিতোষিক। সুলতান সঙ্গে সঙ্গে তা কবুল করলেন।

    জুনা খানের এত্তোসব কাণ্ডকারখানার জন্য অচিরেই তিনি পাগলা রাজা খ্যাতি পেলেন। এ সুযোগে রাজ্যের অনেক জায়গায় বিদ্রোহ দেখা দিল। তিনি কঠোর হস্তে সেসব বিদ্রোহ দমন করলেন। আশ্চর্য ব্যাপার হলো, যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি ছিলেন সত্যিই অপরাজেয় বীর। একবার রাজধানী দিলি্ল থেকে দেওগীরে (বর্তমান দৌলতাবাদ) স্থানান্তর করলেন। বহু লোক মারা গেল। দিলি্ল একটি বিরান নগরীতে পরিণত হলো। কিন্তু হঠাৎ করেই তিনি পুনরায় দিলি্লতে রাজধানী স্থানান্তর করলেন। বলা নেই কওয়া নেই হঠাৎ করেই তিনি তাম্র মুদ্রা চালু করলেন। এরপর একদিন অতিরিক্ত তৈলাক্ত মাছ পেটপুরে খেয়ে উদরাময় রোগে আক্রান্ত হলেন এবং মারা গেলেন ১৩৫১ সালে।

    আমি যখন এতসব বিষয় মজা করে বিতর্ক অনুষ্ঠানে বললাম তখন উপস্থিত সবাই আমার খুব প্রশংসা করলেন। দিনে রাতে নানা কর্মে আমরা আনন্দের মাঝে বড় হতে থাকলাম। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আমার যোগ্যতা এবং রূপের কারণে আমাকে আপনার খেদমতের জন্য নির্ধারণ করে রাখা হলো। সেদিন আমার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলো সেদিন আমাকে জানানো হলো আমার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে। আমি আশার আলো আর আনন্দের বন্যায় দোল খেতে থাকলাম এবং অপেক্ষা করলাম আপনার সঙ্গে মিলিত হওয়ার উদগ্র বাসনা বুকে ধারণ করে। আল্লাহর শুকরিয়া যে আমি শেষ পর্যন্ত আপনার সাক্ষাৎ পেলাম তবে বড্ড অসময়ে। এ কথা বলে আফসানা শাহজাদা সেলিমের বুকে মাথা রেখে ফুঁফিয়ে ফুঁফিয়ে কাঁদতে লাগলেন।
     

Pls Share This Page:

Users Viewing Thread (Users: 0, Guests: 0)