1. Hi Guest
    Pls Attention! Kazirhut Accepts Only Bengali (বাংলা) & English Language On this board. If u write something with other language, you will be direct banned!

    আপনার জন্য kazirhut.com এর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার :

    যে কোন সফটওয়্যারের ফুল ভার্সন প্রয়োজন হলে Software Request Center এ রিকোয়েস্ট করুন।

    Discover Your Ebook From Our Online Library E-Books | বাংলা ইবুক (Bengali Ebook)

Collected মোঘল হেরেমের দুনিয়া কাঁপানো প্রেম

Discussion in 'Collected' started by Zahir, Jul 3, 2013. Replies: 204 | Views: 27189

  1. Zahir
    Offline

    Zahir Administrator Admin

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    19,327
    Likes Received:
    5,823
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka, Bangladesh
    Reputation:
    1,142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    শাহজাদা যথাসম্ভব চেষ্টা করলেন নিজেকে সংযত রাখার জন্য। কিন্তু তার মনে হলো তিনিও হয়তো আফসানার মতো আবেগতাড়িত হয়ে পড়বেন। একটি রমণী তার জীবন ও যৌবনের প্রথম লালিত পুরুষকে কাছে পেয়ে আবার জীবনের জন্য হারাতে যাচ্ছে- কাজেই তার অনুভূতি ভুক্তভোগী ছাড়া অন্য কেউ বুঝতে পারবে না। শাহজাদা একবার চিন্তা করলেন আফসানাকে উপপত্নী হিসেবে রেখে দেবেন। আবার মনে করলেন এতো রূপবতী এবং যোগ্যতাসম্পন্ন রমণীতো পত্নী হওয়ারই যোগ্য। এসব ভাবতে ভাবতে আফসানার প্রতি তার মমত্ববোধ বাড়াতে থাকল। তিনি বুঝতে পারলেন আফসানা তার জীবন কাহিনীর খুঁটিনাটি আর বলতে চাচ্ছে না। এই অবস্থায় শাহজাদা বললেন, কই তোমার দুটি ইচ্ছা পূরণের কথা আমাকে বলো। আফসানা এবার উঠে বসল এবং শাহজাদার হাত নিজের হাতের মধ্যে টেনে নিল। তার ডাগর দুটি আঁখি রাজপুরুষের ওপর দৃষ্টি রাখল। তার ঠোঁট দুটি কাঁপতে শুরু করল এক অস্ফুট বেদনায়। শাহজাদা তাকে পুনরায় বুকে টেনে নিয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেন।

    আফসানা বলল আমার প্রিয় সাহেবে আলম। আমি সারা জীবন আপনার স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই। আপনি যেভাবে রাখবেন সেভাবেই আমি খুশি থাকব এমনকি দাসী হিসেবেও। আজকের রাতের পর আমাদের যদি আর কোনো দিন দেখা নাও হয় সেক্ষেত্রেও আমার কোনো অনুযোগ থাকবে না। আমি কেবল আপনার পরিচয়ে এই হেরেমে থাকতে চাই। এখান থেকে বের হয়ে অন্য কারও স্ত্রী কিংবা আর কোনো পার্থিব সুখ-শান্তি সমৃদ্ধি পেতে চাই না। আপনি আমাকে আপনার হেরেমের বাসিন্দা হিসেবে কবুল করে নেবেন এই প্রার্থনা করছি। দ্বিতীয়ত, আমি আপনার সন্তানের মা হতে চাই। এ জন্য আজকের রাতের পর আপনাকে আমি আর কখনো বিরক্ত করব না। আমার বিশ্বাস হয়তো আজই আমি সৌভাগ্যবতী হতে পারব। সেই ক্ষেত্রে আপনি সুযোগ করে কোনো এক সময় আপনার সন্তানটিকে দেখে যাবেন। আর যদি মরে যাই তবে আমার জন্মস্থানে যেন আমাকে কবর দেওয়া হয় এবং সম্ভব হলে আপনি একবার সেই কবরের কাছে গিয়ে আমার জন্য যদি দোয়া করেন তবে সেটিই হবে এই দাসীর জীবনের পরম পাওয়া! শাহজাদা মনে করেছিলেন আফসানা হয়তো ধনদৌলত অর্থবিত্ত এসব চাইবে। কিন্তু তা না করে সে যেসব মানবিক আবেদন রাখল তাতে তার প্রতি এক ধরনের শ্রদ্ধাবোধ জাগলো। তিনি আফসানাকে গভীর প্রণয়ে আলিঙ্গনবদ্ধ করে কানে কানে বললেন প্রিয়! সব হবে। তোমার সব আকাঙ্ক্ষাই পূর্ণ হবে। তোমার সব প্রস্তাব আমি শ্রদ্ধাভরে গ্রহণ করলাম এবং কথা দিলাম অঙ্গীকারসমূহ পালন এবং বাস্তবায়ন করার জন্য। শাহজাদার কথা শুনে আফসানা নিজেকে সেইভাবে সমর্পণ করলেন যেভাবে একজন পুরুষ সর্বান্তকরণে একজন নারীকে পেতে চায়। রাতের আঁধার, চাঁদের আলো, দখিনা বাতাস এবং ফুলের সুগন্ধির সম্মিলনে শাহজাদার সঙ্গে আফসানার মিলন হলো। একবার অনেকবার এবং বহুবার তারা এসে অপরের সঙ্গে মিশে রইল আদিম বন্যতায়। ভালোবাসার চির অম্লান মাধুর্য এবং অনাবিল প্রশান্তিতে।

    সকলের সূর্যের আলো শাহজাদা এবং আফসানার ঘুম ভাঙালো। আজ থেকে দু'জনেরই শুরু হবে এক নতুন জীবন। কিন্তু বিদায়ের কথা মনে হতেই উভয়ের হৃদয় হাহাকার করে উঠল। কিন্তু নিয়তির বিধানকে স্বাভাবিকভাবেই তারা মেনে নিলেন। রাজ মহীয়সী রুকাইয়া সুলতান বেগমসহ হেরেমের সবাই সঙ্গী করে শাহজাদাকে বিদেয় জানালেন। রাজদরবারে উদ্দেশে রওনার আগে তিনি যখন ঘোড়ায় চড়বেন ঠিক তখনই অনুভব করলেন পিঠে যেন কার বেদনার অশ্রু বর্ষণ হচ্ছে আর শক্ত একটি ভালোবাসার রশি তাকে এবং তার ঘোড়াকে বেঁধে রেখেছে- তিনি এগুতে পারছেন না। তার সাহস হলো না পেছনের দিকে তাকানোর। ঘোড়ার পিঠে চড়ে শাহজাদা সামনের দিকে একটু ঝুঁকে দুই পায়ে সজোরে আঘাত করলেন ঘোড়াটির পেটে। আরব দেশীয় তেজী ঘোড়াটি শাহজাদার বেদনা আর ভালোবাসাকে পেছনে ফেলে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলল সামনের দিকে। পেছন থেকে করুণ সুরে ধ্বনিত হতে থাকল আল বিদায় ইয়া হাবিবি। আল বিদায় ইয়া হাবিবি। শাহজাদা স্থির থাকতে পারলেন না। পেছন ফিরে তাকালেন। আফসানা ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে গাছ-পাথরের মতো স্থির হয়ে। তার অমলিন চাঁদ মুখখানাতে কিসের যেন এক প্রভা বিকশিত হচ্ছিল। ঠিক ওই পর্যন্তই দেখতে পেলেন শাহজাদা, কারণ ঘোড়ার দ্রুতগতি এবং পথের দূরত্ব দুয়ে মিলে মত্যলোকের শাহজাদাকে তার আফসানা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিল। তিনি এগুতে থাকলেন আর পেছনে পড়ে থাকল একটি প্রেম, একটি প্রণয় আর ভালোবাসার এক নিদারুণ স্মৃতিচিহ্ন।
     
  2. Zahir
    Offline

    Zahir Administrator Admin

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    19,327
    Likes Received:
    5,823
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka, Bangladesh
    Reputation:
    1,142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    মোগল হেরেমের দুনিয়া কাঁপানো প্রেম (২৪তম পর্ব)

    [​IMG]

    শাহজাদা সেলিমকে বিদায় জানিয়ে আফসানা মহলে ফিরল। এতকাল তাকে থাকতে হতো ভিন্ন একটি কামরায়- হেরেমের অন্যান্য সহেলীদের সঙ্গে।

    কিন্তু যুবরাজের সঙ্গে মিলনের পর মোগল হেরেমে তার মর্যাদা বহুগুণ বেড়ে গেছে। এখন থেকে সে থাকবে সেই কামরাটিতে যেখানে শাহজাদার সঙ্গে তার বাসর হয়েছিল। রাজকোষ থেকে নিয়মিত ভাতা ছাড়াও সার্বক্ষণিক চারজন প্রহরী, তিনজন আয়া, বড় পালকি, দুটি ঘোড়ার সমন্বয়ে চালিত সওয়ার, অস্ত্র বহন করার অধিকারসহ মুকুট পরতে পারবে রাজকীয় অনুষ্ঠানগুলোতে। তার নতুন উপাধি হলো বেহতরী তাবাসসুম। সম্রাজ্ঞী রুকাইয়া বেগম সুলতান নিজমুখে আফসানার বর্তমান রাজকীয় উপাধি এবং সুযোগ-সুবিধার কথা বর্ণনা করলেন। আফসানার সহেলীরা সব হিংসায় মরে গেল। তারা একে অন্যকে চিমটি কেটে টিপ্পনি দিয়ে বলল দেখ লো ধ্যাঙ্গা মাগীর ঢং দেখ। এতদিন মনে হতো ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানে না; অথচ এক রাতেই রাক্ষুসীটা সাহেবে আলমের মাথাটা একদম গিলে খেয়ে ফেলল! অন্য একজন বলল, আরে না-না, মাথা গিলে খায়নি গো অন্য কিছু খেয়েছে। একদম চেটেপুটে খেয়ে সাবাড় করে দিয়েছে, বলেই সবাই খিলখিলিয়ে হেসে উঠল।

    আফসানার সহেলীরা দূর থেকে যে কথাবার্তা বা ঠাট্টা-মশকরা করছিল, তা স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু সেদিকে ভ্রূক্ষেপ করার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা ছিল না তার। ব্যবহার্য জিনিসপত্র আনার জন্য সে পুরনো মহলে ঢুকল। গত আটটি বছর সে এখানেই ছিল। পরিপাটি ছিমছাম কামরা। প্রাসাদের দোতলার দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত হওয়ার কারণে কামরার বাসিন্দারা সূর্যোদয় কিংবা সূর্যাস্তের পাশাপাশি সারা রাত চাঁদের আলোতে অবগাহন করার সুযোগ পেত। বিশেষ করে পূর্ণিমার রাতে কামরাটির সামনের খোলা ছাদে সহেলীদের নিয়ে শুরু হতো আড্ডা। গান-বাজনা, কৌতুক বলা এবং হাসি-তামাশার ছলে একে অপরের স্পর্শকাতর জায়গায় খোঁচা দিয়ে বিব্রত করার ঘটনা ছিল নিত্য-নৈমত্তিক।
     
  3. Zahir
    Offline

    Zahir Administrator Admin

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    19,327
    Likes Received:
    5,823
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka, Bangladesh
    Reputation:
    1,142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    প্রাসাদের শিক্ষিকা যদি শাসন করতে এগিয়ে না আসতেন তাহলে মেয়েরা বহুৎ দুষ্টুমি করত। এমন সব দুষ্ট দুষ্ট কথা বলা হতো যা শুনে শয়তানও লজ্জায় পালিয়ে যেত। হেরেমের মধ্যে কোনো পুরুষের প্রবেশ ছিল একবারেই নিষিদ্ধ কেবল সম্রাট ও যুবরাজ ব্যতিরেকে। হেরেমের সব বাসিন্দা হয় নারী নয়তো খোঁজা। ফলে পুরুষ শরীরের একটু ঘ্রাণ, একটু ছোঁয়া পাওয়ার জন্য সবাই ছিল পাগল। কোনো নারী যদি জীবনে একবার ভাগ্যক্রমে কোনো রাজপুরুষের সানি্নধ্য পেয়ে যেত তবে তাকে নিয়ে বছরের পর বছর চলত হইহল্লা। কিশোরী, যুবতী, বুড়ি- সব নারী গোল হয়ে বসে সেই সোহাগিনীর সৌভাগ্যের কথা শুনত। কিভাবে সাক্ষাৎ হলো- কিভাবে একে অন্যের কাছে গেল। অন্তরঙ্গ মুহূর্তের পূর্বক্ষণে কেমন লেগেছিল, পরেই-বা কেমন লেগেছিল ওটা দেখতে কেমন, সেটার রং কি, কোনটা কত বড়, কোনটা কত ছোট ইত্যাদি হাজারো প্রশ্ন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জিজ্ঞাসা করে সবাই। আর সোহাগিনী সত্য-মিথ্যা বানিয়ে রং-ঢং সাজিয়ে কত কথা যে বলত, তা কেবল আকাশের তারারাই জানত।

    হেরেমের মধ্যে সব কিছু ছিল, কেবল ছিল না নারীর নারীত্ব এবং যৌনসুখ প্রাণভরে উপভোগ করার। নারীরা এখানে কেবল বোবা কান্না কাঁদত। অন্য কোনো নারীকে জড়িয়ে ধরে কিংবা নিদেনপক্ষে খোঁজা প্রহরী বা কর্মচারীর সঙ্গে আলতো করে শারীরিক স্পর্শ লাগিয়ে সারা জীবন নিজেকে তৃপ্ত মনে করে আসছে হাজার হাজার রমণী। কেউ কেউ অবশ্য সমকামিতায় জড়িয়ে যেত। কিন্তু এদের সংখ্যা একবারেই হাতে গোনা। কারণ ঘটনা যদি ফাঁস হয়ে যেত তবে আর রক্ষা ছিল না। বেত্রাঘাত, মাথা মুণ্ডন এবং ক্ষেত্র বিশেষে জীবন্ত কবর পর্যন্ত দেওয়া হতো। এর বাইরে নিজেদের হতাশা ঢাকতে কেউ কেউ আফিমের নেশা করত কেউবা তাস-পাশা খেলত। হেরেমের অধিকর্তী অবশ্য সব কিছু জানতেন। তাই প্রায়ই তিনি গান-বাজনা, নৃত্যকলা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, ঘোড়-দৌড় ইত্যাদির আয়োজন করে হেরেমবাসীনীদের আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করতেন।

    আফসানা হেরেমে আসার পর থেকেই তার স্বভাব অনুযায়ী এখানকার সব ভালো ভালো জিনিস আয়ত্ত করেছে। অন্যদিকে মন্দ জিনিসের কাছেও যায়নি। ফলে হেরেমের সবাই তাকে অত্যধিক স্নেহ করত। তার মেধা, কর্মদক্ষতা এবং পরিশ্রম তাকে হেরেমে শিক্ষাগ্রহণকারীনীদের মধ্যে সর্বোত্তম হওয়ার কারণেই তাকে শাহজাদা সেলিমের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল প্রায় তিন বছর আগে। গত তিনটি বছর সে স্বপ্ন দেখছিল হৃদয়ের সহস্র আকুতি মিশ্রিত করে। সে ভাবত শাহজাদার সঙ্গে সার্বক্ষণিকভাবে থাকার জন্য। তার স্বপ্ন ছিল শাহজাদা সারা দিনের কর্মব্যস্ত শরীর নিয়ে দিনান্তে তার কাছে আসবেন আর সে সমস্ত দেহমন উজাড় করে দিয়ে শাহজাদার সেবা করবে। কিন্তু আজ সকালে তার সমস্ত স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। তার বিশ্বাস- এই ইহ জীবনে শাহজাদার সঙ্গে তার আর দেখা হবে না।
     
  4. Zahir
    Offline

    Zahir Administrator Admin

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    19,327
    Likes Received:
    5,823
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka, Bangladesh
    Reputation:
    1,142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    গত রাতের মধুময় স্মৃতি এবং আজ সকালের বিদায় পর্বের মর্মান্তিক দৃশ্য স্মরণ করতে করতে আফসানা তার পূর্বতম কামরায় ঢুকে জিনিসপত্র গোছাচ্ছিল। সদ্য নিয়োগ পাওয়া তার চাকর-আয়ারা তাকে সাহায্য করছিল। অন্যদিকে পুরনো সহেলীরা টিপ্পনি কাটছিল। আফসানা নিরুত্তর রইল। সহেলীরা এগিয়ে এসে আরও দুষ্টুমি করার আয়োজন করতেই হঠাৎ লক্ষ করল সম্রাজ্ঞী রুকাইয়া সুলতান বেগম এগিয়ে আসছেন। সবাই যার যার স্থানে তটস্থ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। সম্রাজ্ঞী এগিয়ে এলেন এবং আফসানার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বললেন_

    আমার প্রিয় আফসানা! মহান আল্লাহর অশেষ করুণা বর্ষিত হোক তোমার প্রতি এবং তোমার পিতা-মাতার প্রতি। আসমানের সব রহমত তোমার ওপর বর্ষিত হোক_ আর তোমার কল্যাণে এই শাহী হেরেম বরকতময় হয়ে উঠুক! তোমার জন্য সুখের সংবাদ হলো_ এই মাত্র খবর পেলাম, শাহেনশাহ এবং শাহজাদার মধ্যে মধুর মিলন হয়েছে। শাহজাদা আমাকে এবং তোমাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে তোমার জন্য ১০ হাজার স্বর্ণমুদ্রা প্রদানের আদেশ দিয়েছেন। এই অর্থ হয়তো ২/১ দিনের মধ্যেই তোমার মাকামে পেঁৗছে দেওয়া হবে। অর্থগুলো তুমি নিজের কাছে রাখতে পার অথবা তোমার পিতার হাভেলিতে পাঠিয়ে দিতে পার।

    সম্রাজ্ঞী কথাগুলো বলে আফসানার আরও কাছে চলে এলেন। তারপর রাজ মহীয়সী আফসানার কপালে এঁকে দিলেন পরম স্নেহের চুম্বন। তিনি ফিরে যাওয়ার আগে একবার ভালো করে আশপাশের দিকে তাকালেন। মুহূর্তের মধ্যেই বুঝতে পারলেন পারিপাশ্বর্িক অবস্থা। তিনি খুব স্বাভাবিক গলায় আফসানার সহেলীদের উদ্দেশে বললেন_ শোন মেয়েরা! তোমাদের গর্ব করা উচিত, তোমাদেরই ঘনিষ্ঠ সহেলী হিন্দুস্তানের ভাবি শাহেনশাহ এবং যুবরাজ সেলিমের প্রেয়সী হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। শুধু তাই নয়, যুবরাজ আফসানাকে স্থায়ীভাবে হেরেমে থাকার অনুমোদন দিয়ে তার জন্য পদ ও উপাধি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কাজেই তাকে যদি তোমরা নির্বোধের মতো কেবল তোমাদের সহেলী বলে মনে কর, তবে মস্ত ভুল করবে। তোমাদের তো বটেই তোমাদের পিতা-মাতার সৌভাগ্যের দরজা বন্ধ হয়ে যাবে। আমি চাই, তোমরা তাকে কুর্নিশ করবে এবং তাকে সম্মানিতা তাবাসসুম বলে সম্বোধন করবে। কথাগুলো বলে সম্রাজ্ঞী মুহূর্ত দেরি করলেন না, হনহন করে চলে গেলেন গন্তব্যের দিকে। ঘটনার আকস্মিকতায় আফসানা হতবিহ্বল হয়ে পড়ল। তার সহেলীরা ভয়ে থর থর করে কাঁপতে লাগল। তারা সম্রাজ্ঞীর হুকুমমতো আফসানার সামনে এসে মাথা নুইয়ে কুর্নিশ করল এবং সম্মানিতা তাবাসসুম বলে সম্বোধন করল। তারা সবিনয়ে তার কাছে অনুমতি চাইল, জিনিসপত্র গোছানোর কাজে সাহায্য করার অনুমতি প্রদানের জন্য। আফসানা হাসিমুখে সম্মতি দিলে সবাই কাজ শুরু করল। অতি অল্প সময়ের মধ্যে সব জিনিসপত্র গোছানো হয়ে গেলে আফসানা তার নতুন কামরার দিকে রওনা হলো।
     
  5. Zahir
    Offline

    Zahir Administrator Admin

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    19,327
    Likes Received:
    5,823
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka, Bangladesh
    Reputation:
    1,142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    সবাই মিলে কামরা গোছাতে গোছাতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। আফসানা তার জন্য নির্ধারিত হাম্মাম খানায় ঢুকে অবাক হয়ে গেল সেটির সাজসজ্জা এবং জাঁকজমক দেখে। এর আগে সে অন্যান্য সহেলীর সঙ্গে সাধারণ চৌবাচ্চায় গোসল সারত। আগ্রায় থাকাকালীন একবার যমুনায় নেমে গোসল করতে গিয়ে কিই-না লঙ্কাকাণ্ড ঘটে গিয়েছিল, সে কথা স্মরণে এলে আজো ভয়ে শরীর জড়সড়ো হয়ে যায়। মনের অজান্তে ছেলেটির জন্য বড্ড মায়া হয়। কয়েকবার ছেলেটিকে স্বপ্নেও দেখেছে। মনে হয় সে বেহেশতে চলে গেছে, নইলে ওমন হাসাহাসি মুখ আর সফেদ সাদা পোশাক পরে কিভাবে স্বপ্নের মধ্যে আফসানার কাছে ও আসতে পারল। নদীর কথা মনে হলে, কিংবা চৌবাচ্চাতে গোসল করতে গেলেই আফজাল নামক ছেলেটির কথা মনে পড়ে। আগে ভীষণ কান্না পেত; কিন্তু ইদানীং যদিও কান্না পায় না তথাপি কিছু সময়ের জন্য হলেও মনটা যেন কেমন কেমন করে ওঠে।

    আজ থেকে আট বছর আগে আফসানা তাদের হাভেলি থেকে আগ্রায় পেঁৗছে সুবেদার ইমতিয়াজ খানের মেহমান হয়েছিলেন। শাহী হেরেমের শিক্ষিকা খানজালার তত্ত্বাবধানে সে সাতদিন আগ্রা নগরীতে ছিল। শহরের অলিগলি প্রাসাদসমূহ, সরকারি দফতরসমূহ এবং সামরিক চৌকিগুলো দেখার পর সে যখন যমুনার তীরে গিয়েছিল, তখন তার বালিকা হৃদয় বিস্ময়ে-বিমূর্ত হয়ে পড়েছিল স্রোতময় যমুনার অপার সৌন্দর্য দেখে। বিশাল নদী কুল কুল শব্দে অনবরত বয়ে চলেছে। স্বচ্ছ নীল জল- আকাশের নীল রংয়ের সঙ্গে মাখামাখি ভাব করে আরও গাঢ় নীল রং ধারণ করেছে। সে দিনের সেই বিকাল বেলায় কোথা থেকে যেন একখণ্ড কালো মেঘ আকাশে ভর করল আফসানা দেখল নদীর পানির রং সম্পূর্ণ কালো হয়ে গেছে মেঘের রঙের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। দক্ষিণ দিক থেকে সজোরে ঠাণ্ডা বাতাস দূর-দূরান্তের ফুল ফলের মিষ্টি গন্ধ বয়ে নিয়ে আসছিল। আফসানার মনে হচ্ছিল- আহা একটু যদি যমুনায় নামতে পারতাম! কিংবা মজা করে একটু সাঁতার কাটতে পারতাম। কিন্তু সে দিন আর তা করা সম্ভব হলো না। খানজালা তাড়া দিলেন_ চটজলদি ইমতিয়াজ খানের প্রাসাদে ফেরার জন্য।

    রাতে আফসানা খাবার খেতে খেতে ইমতিয়াজ খানের কন্যাদের কাছে ঘটনাটি বলল। সুবেদারের কোনো পুত্রসন্তান ছিল না_ চারটিই মেয়ে। ভীষণ আদুরে আর অসম্ভব সুন্দরী। একটি মেয়ের বয়স ছিল আফসানার সমান। অর্থাৎ ১০ বছর, নাম মেহজাবিন। মূলত মেহজাবিনই তার আব্বাকে রাজি করাল আগামীকাল বিকালে আফসানাসহ পরিবারের মেয়েদের যমুনায় গোসল করার অনুমতি দেওয়ার জন্য। সুবেদার তার কন্যাদের জলকেলীকে সর্বোচ্চ আনন্দদায়ক করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই করলেন।
     
  6. Zahir
    Offline

    Zahir Administrator Admin

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    19,327
    Likes Received:
    5,823
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka, Bangladesh
    Reputation:
    1,142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ইমতিয়াজ খানের প্রধান সহিস অর্থাৎ ঘোড়ারক্ষকের একটি ছেলে ছিল। নাম আফজাল। বয়স ১২/১৩ বছর। অসম্ভব সুন্দর, মায়াবী আর নিষ্পাপ চেহারার আফজালের ছিল ততোধিক সুন্দর ধবধবে সাদা রঙের একটি তুর্কি গাধা। আফসানা লক্ষ্য করল, আফজাল তার গাধাটির পিঠে চড়ে সর্বক্ষণ তার সঙ্গে সারা শহর ঘুরেছে। আফসানার জুড়ি গাড়ি কোথাও দাঁড়িয়ে গেলে আফজালও তার গাধাটি সমেত দাঁড়িয়ে যেত। যদিও আফজাল গাধার পিঠে চড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল কিন্তু তার ভাবখানা ছিল এমন যেন সে তেজী টাট্টু ঘোড়ায় চড়ে আফসানাকে তদারক করছে। আফসানা লক্ষ্য করল, শহরের সবাই আফজালকে ভালোবাসে। এমনকি খানজালার মতো রাশভারি শিক্ষিকাও আফজালের প্রতি যথেষ্ট স্নেহপ্রবণ।

    আফজাল তার চলার পথে শহরের সবচেয়ে ভালো কিছু মিঠাই-মণ্ডা কিনে আফসানা এবং খানজালাকে দিল। একটি মাটির পুতুলও উপহার দিল। যমুনার তীরে পেঁৗছে কোত্থেকে যেন একগাদা সুগন্ধী বুনোফুল এনে আফসানার হাতে দিল। ছেলেটির আন্তরিকতা, সরলতা এবং চমৎকার আতিথেয়তা তাকে যারপরনাই মুগ্ধ করল। সে আফজালের সঙ্গে ভাইয়ের মতো খোলামেলা ব্যবহার করতে শুরু করল। প্রাসাদে ফিরে লক্ষ্য করল ইমতিয়াজ খানের পুরো পরিবারই আফজালকে ভীষণ রকম ভালোবাসে।

    পরের দিন যমুনায় গোসল করার কথা শুনে আফজালও সঙ্গে যেতে চাইল। সে তখন ও বালক হওয়ার কারণে বড়রা কেউ আপত্তি করল না। অন্যদিকে ইমতিয়াজ খানের কন্যারা ভারি খুশি হলো। মেহজাবিন আফসানাকে জানাল আফজাল অসম্ভব সুন্দর করে সাঁতার কাটতে পারে। তার গাধাটিও খুব ভালো সাঁতার জানে। আফজাল যমুনার তীরের খাড়া অংশ থেকে স্রোতস্বিনী নদীতে গাধা সমেত যখন ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং নদী পাড়ি দেয় তখন দেখতে ভীষণ রকম ভালো লাগে। মাঝনদীতে গিয়ে সে চিৎকার করে যখন আমাদের ডাকে তখন আমরা উচ্চৈঃস্বরে তার সঙ্গে গলা মেলাই। নদীর পাড়ের প্রাসাদের দেয়ালে সেই শব্দ প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরে আসে, যা শুনতে অদ্ভুত সুন্দর লাগে।
     
  7. Zahir
    Offline

    Zahir Administrator Admin

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    19,327
    Likes Received:
    5,823
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka, Bangladesh
    Reputation:
    1,142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    সুবেদার পরিবারের গোসলের জন্য যমুনা তীরের নির্দিষ্ট অংশ সাজানো হলো। পাথর ফেলে তৈরি করা হলো অস্থায়ী স্নানঘাট। তারপর নিরাপত্তা চৌকি বসানো হলো, যাতে সাধারণ মানুষ ওই স্থানে যেতে না পারে। আফসানাসহ পরিবারের প্রায় ২০-২৫ জন বালিকা, যুবতী ও বৃদ্ধা সেইদিন বিকালে উপস্থিত হলো যমুনার তীরে। এই দলে একমাত্র পুরুষ হলো বালক আফজাল। সে তার প্রিয় গাধাটিসহ কাফেলার সঙ্গে যোগ দিল। আফসানা নিজে খুব ভালো সাঁতার কাটতে পারত, তারপরও সবাই তাকে সাবধান করল যমুনার ভয়াবহতার কথা বর্ণনা করে। বিশেষ করে নদীটির প্রচণ্ড স্রোত, কালাপানি এবং জায়গায় জায়গায় ঘূর্ণায়মান স্রোতকে অনেকেই ভয় করে।

    নদীতীরে এসে সবাই হই-হুল্লোড় করে নেমে পড়ল পানিতে। বালিকা থেকে বুড়ি সবার বয়স যেন একরকম হয়ে গেল যমুনার পানির স্পর্শে। সাঁতার কাটতে কাটতে সবাই লক্ষ্য করল, আফজাল তার গাধাটিসহ মুখ গোমরা করে বসে আছে। সে নামছে না। কেমন যেন একটা উদাসী মন নিয়ে বারবার আকাশের দিকে তাকাচ্ছে। মেহজাবিন ও আফসানা সমস্বরে আফজালকে ডাকল পানিতে নেমে আসার জন্য। আফজাল বলল, তার শরীরটা ভালো লাগছে না। মেহজাবিনের বড় বোনেরা তীরে উঠে আফজালের হাত ধরে টানাটানি শুরু করল। আফজাল বলল আমার ভয় করছে। রাতে স্বপ্নে দেখেছি আমি এবং গাধাটি পানিতে ডুবে মারা গেছি। নদীর মধ্যে এক ডাইনি বুড়ি আছে। সে শিকল দিয়ে আমাকে এবং গাধাটিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে, শত চেষ্টা করেও আমরা বাঁচতে পারিনি।

    আফজালের কথা শুনে সবাই হই হই করে হেসে উঠল। অন্যরাও পানি থেকে উঠে এসে সেই হাসির সঙ্গে যোগ দিল। তারপর সবাই মিলে অনেক তোয়াজ-তদবির করে আফজাল এবং তার গাধাটিকে পানিতে নামাল। পানিতে নামার পর আফজাল কিছুক্ষণ ম্রিয়মাণ হয়ে থাকল। তারপর সেও অন্যদের মতো মহাসমারোহে হই-হুল্লোড় শুরু করল। সবার মধ্যে এক অসাধারণ প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এলো। হঠাৎ মেহজাবিন লক্ষ্য করল মাঝনদীতে একটি ছোট্ট খেলনা নৌকা ভাসছে। নৌকাটি ছিল সবুজ রংয়ের এবং ফুল দিয়ে সাজানো। মেহজাবিনের দেখাদেখি আফসানা এবং অন্যরাও অবাক হয়ে নৌকাটির দিকে তাকিয়ে রইল। আফজাল বলল, আমি যাচ্ছি নৌকাটি নিয়ে আসতে। বলেই সে কারও প্রতি ভ্রূক্ষেপ না করে গাধার পিঠে শুয়ে অতি দ্রুত সাঁতরাতে সাঁতরাতে মাঝনদীতে ভাসমান খেলনা নৌকাটির পানে ছুটল।
     
  8. Zahir
    Offline

    Zahir Administrator Admin

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    19,327
    Likes Received:
    5,823
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka, Bangladesh
    Reputation:
    1,142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    উপস্থিত মেয়েরা সব হাততালি দিয়ে আফজালকে উৎসাহ যোগাতে লাগল। নদীতে সেদিন স্রোত তুলনামূলক অনেক কম ছিল। আকাশও ছিল মেঘমুক্ত। আফজাল এগিয়ে যাচ্ছে আর মেয়েরা দুই হাত দিয়ে পানির উপর থাপ্পড় দিয়ে ঝপাঝপ শব্দ করছে। আফজাল প্রায় নৌকাটির কাছে পেঁৗছে গেল, আর একটু হলেই নৌকাটি ধরে ফেলবে সে। হঠাৎ করেই একটি শুশুক এসে হুস করে লাফ দিয়ে খেলনা নৌকাটি ডুবিয়ে দিল। আফজাল ডুব দিল নৌকার খোঁজে। গাধাটি হঠাৎ বিকট শব্দে চিৎকার করে উঠল।

    এক মিনিট যায়, দুই মিনিট যায়, আফজাল আর উঠে না। হঠাৎ গাধাটিও প্রচণ্ড ঘূর্ণি স্রোতের মধ্যে পড়ে বেশ কয়েকবার ঘুরপাক খেল এবং প্রচণ্ড জোরে আর্তচিৎকার শুরু করল। তারপর সেটিও ডুবে গেল। ঘটনার আকস্মিকতায় উপস্থিত মহিলারা হাউমাউ করে কান্না শুরু করলেন। অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা রক্ষীরা ছুটে এলো। ছয় দাঁড়ি ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে মাঝনদীতে গেল উদ্ধারকারী দল। কিন্তু ফলাফল শূন্য। আফজাল বা তার গাধাটির কোনোই সন্ধান মিলল না।

    শাহী হাম্মামখানার পাশে দাঁড়িয়ে আফসানার মনে হলো ১০ বছর আগে ঘটে যাওয়া সেই হৃদয়বিদারক উপাখ্যানটি। সে আজও ভেবে পায় না আফজাল কেন পানিতে ডুবে মরল? তার গাধাটিই বা কেন ডুবল? আফজাল যে ডুবে মরবে তা তো সে আগেই বলেছিল। আগের রাতে সে স্বপ্নে দেখেছিল যমুনায় ডুবে মরার ঘটনাটি। তাহলে কেন সে আফজালকে পীড়াপীড়ি করেছিল নদীতে নামার জন্য। আজও তার আফসোস হয়, আহা রে সেদিন যদি সবাই মিলে আফজালকে পানিতে নামার জন্য জোর না করত! আফসানা যখন এসব কথা ভাবছিল ঠিক তখনই তার সদ্য নিয়োগ পাওয়া বাঁদীটি এগিয়ে এসে তার কানে কানে ফিসফিসিয়ে কি যেন বলল, আর অমনিই খুশিতে টগবগিয়ে উঠল তার সারা শরীর।
     
  9. Zahir
    Offline

    Zahir Administrator Admin

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    19,327
    Likes Received:
    5,823
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka, Bangladesh
    Reputation:
    1,142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    মোগল হেরেমের দুনিয়া কাঁপানো প্রেম (২৫তম পর্ব)

    [​IMG]

    হাম্মাম থেকে আফসানা বলতে গেলে খুব তাড়াহুড়া করেই তার কামরায় ফিরল। তারপর নিজেকে সুন্দরতম পোশাকে আবৃত করল।

    পারস্য দেশীয় আতর আর সুরমা মেখে নিজেকে আয়নার সামনে তুলে ধরল। তার প্রিয় বাঁদিটি এসে খোঁপায় কয়েকটি গোলাপ গুঁজে দিল। প্রফুল্ল মনে আফসানা বিছানার ওপর মখমলের বালিশে হেলান দিয়ে মহা উৎসুক্য নিয়ে জিজ্ঞাসা করল- কই সেটি কোথায়। মৃদু হেসে বাঁদিটি বলল- আমার আলিয়া! অধীর হবেন না। অনুগ্রহ করে কিছু মুখে দিয়ে নিন। সারা দিন আপনি কিছুই খাননি। আপনার মুখ বড্ড ফ্যাকাসে লাগছে! চোখ দুটি কোটরাগত, মনে হচ্ছে কাঁদতে কাঁদতে আপনি সব অশ্রু ঝরিয়ে ফেলেছেন! চোখের উদাস দৃষ্টি আর সকরুণ চাহনি আমাদের ভীষণভাবে আহত করছে- মনে হচ্ছে আমরা সব কিছু হারিয়ে সাহারা মরুভূমির মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছি।

    আফসানা অবাক দৃষ্টিতে বাঁদিটির দিকে তাকাল, তারপর হৃদয়ের শত বেদনার মধ্যেও এক ধরনের প্রশান্তি অনুভব করল। মনে হলো, হ্যাঁ অন্তত একজন মানুষকে পাওয়া গেল, যে তাকে নিয়ে তার শরীর নিয়ে তার ভালোমন্দ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছে।

    আজ আট বছরেরও বেশি সময় পার হতে চলল, যে সময়ে আফসানা বালিকা থেকে কিশোরী হলো, আবার কিশোরী থেকে যুবতী। আজ তার খুব মনে পড়ছে মায়ের কথা। মনে হচ্ছে, মা যদি কাছে থাকতেন তাহলে মায়ের কোলে মাথা রেখে সে প্রাণভরে অনেকক্ষণ কেঁদে-কেটে মনের জ্বালা নিবৃত করতেন। এ কথা সে কথা এলোমেলোভাবে ভাবতে ভাবতে আফসানা বাঁদিটির মুখের দিকে তাকাল। অসম্ভব সুন্দরী। বয়স হয়তো তার চেয়ে ২/৩ বছরের বড় হবে। চেহারা সুরতে তাকে বেশ অভিজাত বলেই মনে হচ্ছে। আফসানা জিজ্ঞাসা করল, কি নাম তোমার?
    আফসানার প্রশ্ন শুনে বাঁদিটি মাথা নুইয়ে কুর্নিশ করল। তারপর বলল, আমার নাম জায়েদা। গত সাত বছর ধরে আমি হেরেমে কাজ করছি। এর আগে আমি কিছুদিন মেহেরুন নিসা নামক একজনের সেবা করেছি। যিনি ছিলেন আপনারই মতো সুন্দরী এবং অভিজাত। এরপর জায়েদা- অন্য বাঁদীদের ডেকে পরিচয় করিয়ে দিল। ইতোমধ্যে কিছু ফলমূল এবং শরবত আফসানার সম্মুখে পেশ করা হলো। আফসানা অনিচ্ছা সত্ত্বেও কিছু গ্রহণ করল এবং নিজের শরীরের হারানো শক্তি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করল। প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে খাবার গ্রহণের পর সহজাত কারণেই আফসানার মন কিছুটা সতেজ হয়ে উঠল আগের তুলনায়। এবার সে মুখে কোনো কথা না বলে জায়েদার দিকে হাত বাড়িয়ে দিল আর জায়েদাও বুদ্ধিমতীর মতো সেই মহাকাঙ্ক্ষিত জিনিসটি আফসানার হাতে দিল।
     
  10. Zahir
    Offline

    Zahir Administrator Admin

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    19,327
    Likes Received:
    5,823
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka, Bangladesh
    Reputation:
    1,142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    আফসানা জায়েদার হাত থেকে জিনিসটি নিয়ে প্রথমে বুকে চেপে রাখল অনেকক্ষণ ধরে। তারপর সেটিকে তুলে ধরে চুমো দিল একবার, দুবার, বহুবার। আবার তা বুকে চেপে ধরল। বুক থেকে উঠিয়ে চোখের সঙ্গে ছোঁয়াল। নাকের কাছে নিয়ে আচ্ছামতো ঘ্রাণ নিল। হ্যাঁ ঠিকই তো আছে, একই ঘ্রাণ ঠিক যেমনটি অনুভব করেছিল গত কয়েকদিনে, বিশেষত কাল রাতে। বস্তুটি মোড়ানো ছিল একটি রেশমি কাপড়ে। কাপড়ের ওপর সেঁটে দেওয়া হয়েছিল শাহজাদা সেলিমের ব্যক্তিগত সিলমোহর আর নিচে লিখে দেওয়া হয়েছিল একান্ত ব্যক্তিগত। শাহজাদা সেলিম শাহী দরবারে পৌঁছে খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে মহামতি সম্রাট আকবরের সঙ্গে সাক্ষাৎ পর্ব সমাপ্ত করে তার নিজ মহলে পেঁৗছেন ত্বরিত গতিতে। পিতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার আগ পর্যন্ত তিনি সে মহলেই ছিলেন। গত কয়েক মাসের ব্যবধানে তার কাছে সব কিছু যেন কেমন ফ্যাকাসে, অদ্ভুত আর অচেনা মনে হতে লাগল।

    শাহজাদা তার মহলে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে দেখলেন পাত্র-মিত্র, পাইক-পেয়াদা এবং পরিবারের লোকজন দাঁড়িয়ে আছে তাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য। তার প্রধান ও প্রথমা স্ত্রী, রাজপুত, রাজদূহিতা মনভাবতীও রয়েছেন। সকরুণ নেত্রে তিনি স্বামীর দিকে তাকিয়ে রইলেন। শাহজাদা কাছে আসতেই মনভাবতী মাথা নুইয়ে কুর্নিশ জানালেন। সঙ্গে সঙ্গে হেরেমের বাসিন্দারা শাহজাদার মাথায় পুষ্প বৃষ্টি বর্ষালেন। শাহজাদা অন্তপুর বাসিনীদের সংবর্ধনা গ্রহণ করে তার খাস কামরায় প্রবেশ করলেন এবং নির্দেশ দিলেন বিকেল পর্যন্ত কেউ যেন তাকে বিরক্ত না করে। তারপর লিখতে বসলেন পত্র- প্রিয়তম আফসানার কাছে। চিঠি লেখা শেষ হলে তিনি তাতে সিলমোহর করে বিশেষ দূতের মাধ্যমে আফসানার বাসস্থান রুকাইয়া সুলতান বেগমের হেরেমে পাঠিয়ে দিলেন।
     

Pls Share This Page:

Users Viewing Thread (Users: 0, Guests: 0)