1. Hi Guest
    Pls Attention! Kazirhut Accepts Only Bengali (বাংলা) & English Language On this board. If u write something with other language, you will be direct banned!

    আপনার জন্য kazirhut.com এর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার :

    যে কোন সফটওয়্যারের ফুল ভার্সন প্রয়োজন হলে Software Request Center এ রিকোয়েস্ট করুন।

    Discover Your Ebook From Our Online Library E-Books | বাংলা ইবুক (Bengali Ebook)

Ebook এপ্রিল ফুল বা এপ্রিলের বোকা!

Discussion in 'Collected' started by arn43, Oct 10, 2013. Replies: 21 | Views: 2403

  1. arn43
    Offline

    arn43 Kazirhut Elite Member Staff Member Global Moderator

    Joined:
    Aug 18, 2013
    Messages:
    28,506
    Likes Received:
    4,027
    Gender:
    Male
    Reputation:
    951
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ‘এপ্রিল ফুল’ শব্দটা ইংরেজী। এর অর্থ ‘এপ্রিলের বোকা’। এপ্রিল ফুল ইতিহাসের এক হৃদয় বিদারক ঘটনা। অথচ প্রতি বছরের এপ্রিল মাসের পহেলা তারিখে আমাদের মাঝে যেন উৎসবের আমেজ পড়ে যায়। পহেলা এপ্রিল এলেই একে অপরকে বোকা বানানো এবং নিজেকে চালাক প্রতিপন্ন করার জন্য একশ্রেণীর লোকদের বিশেষভাবে তৎপর হয়ে উঠতে দেখা যায়। বলা বাহুল্য যে, তারা অপরকে বোকা বানিয়ে নিজেরা আনন্দ উপভোগ করে থাকে হাসি-ঠাট্টায় মেতে ওঠে। ইতিহাসের বিভিন্ন বইয়ে ১লা এপ্রিল বা ‘এপ্রিল ফুল ডে’র ঘটনাসমূহে রস, কৌতুক আর আমোদ-প্রমোদের পাশাপাশি রয়েছে বেদনার এক কালো পাহাড়।
    এ দিনের সঙ্গে একই সাথে মুসলিম ও খৃষ্টান সম্প্রদায়ের দু’টি পৃথক মর্মান্তিক ঘটনা মিশে আছে। বিশেষ করে মুসলিমদের সাথে এর সম্পর্ক সবচেয়ে নিবিড়। এর ইতিহাস জানতে হ’লে আমাদের ফিরে যেতে হবে ১৪৯২ সালে।



    ইসলামের সোনালী যুগে জাযীরাতুল আরবের সীমানা ছাড়িয়ে ইসলামী রাষ্ট্র বিস্তৃত হয়েছিল পূর্ব-পশ্চিম-উত্তর-দক্ষিণের সকল দিগন্তে। আলী (রাঃ)-এর ইন্তেকালের পর উমাইয়া খিলাফত শুরু হয়, তাদের সময় ব্যাপক সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি ঘটে। ইসলামের শাশবত সৌন্দর্য ও কল্যাণে আকৃষ্ট হয়ে বিশেবর দেশে দেশে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েমের যে জোয়ার ওঠে সেই ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপের মাটিতেও। এ সময়ে মুসলিমরা জিব্রাল্টার পাড়ি দিয়ে ইউরোপের বুকে স্পেন সাম্রাজ্যের প্রতাপশালী ও অত্যাচারী রাজা রডারিককে পরাজিত করেন। সেটি অষ্টম শতকের কথা।



    মুসলিমরা স্পেন নিজেদের ইচ্ছায় দখল করেননি। স্পেনের প্রজা উৎপীড়ক রাজা রডারিক ক্ষমতায় এসেছিলেন তার পূর্বসূরী রাজা উইটিজাকে হত্যা করে। এ সময় সিউটা দ্বীপের শাসক ছিলেন কাউন্ট জুলিয়ান। তাই উইটিজার আধিপত্য ও তার পাশাপাশি অমানবিক অত্যাচার শুরু করলে জুলিয়ান তার কন্যা ফ্লোরিডাকে রাজকীয় আদব-কায়দা শেখানোর জন্য রডারিকের কাছে প্রেরণ করেন। কিন্তু রডারিক ফ্লোরিডার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। উইটিজা ছিলেন জুলিয়ানের শ্বশুর। শ্বশুর হত্যা ও কন্যার অপমানের প্রতিশোধ নিতে জুলিয়ান তার জনগণের প্রবল ইচ্ছার কারণে মুসলিম বীর মূসার কাছে আবেদন করলেন স্পেন জয় করার জন্য। স্পেনের আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অবস্থা যখন অত্যন্ত শোচনীয় তখন মূসাকে আহবান জানানো হয় তা আক্রমণের জন্য। সে সময় মুসলিম বিশ্বের শাসক ছিলেন ওয়ালীদ। মূসা তাঁর অনুমতি নিয়ে সেনাপতি তারিক বিন যিয়াদকে পাঠান স্পেন আক্রমণে। পরে মূসা এসে তার সাথে যোগ দেন।
     
    • Informative Informative x 1
    Last edited by a moderator: Apr 1, 2017
  2. arn43
    Offline

    arn43 Kazirhut Elite Member Staff Member Global Moderator

    Joined:
    Aug 18, 2013
    Messages:
    28,506
    Likes Received:
    4,027
    Gender:
    Male
    Reputation:
    951
    Country:
    Bangladesh Bangladesh

    সেনাপতি তারিক ১২ হাযার সৈন্য নিয়ে রডারিকের ১ লক্ষ ২০ হাযার সৈন্যের মোকাবিলায় এগিয়ে আসেন। সৈন্য সংখ্যার ব্যবধান তাকে মোটেও ভাবিয়ে তোলেনি। কারণ তিনি জানতেন তাদের আসল শক্তি লোকবল নয়; বরং ঈমান।


    ৭১১ খৃষ্টাব্দে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে স্পেনের মাটিতে পা রেখেই সৈন্যদের নামিয়ে আনলেন তারিক। জ্বালিয়ে দিলেন তাদেরকে বয়ে আনা জাহাজগুলো। তারপর সৈন্যদের লক্ষ্য করে বীর সেনানী তারিক ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ‘প্রিয় বন্ধুগণ! এখন তোমাদের সামনে স্পেন, রডারিকের সেনাবাহিনী আর পিছনে ভূমধ্য সাগরের উত্তাল জলরাশি। তোমাদের সামনে দু’টো পথ। হয় লড়তে লড়তে জয়ী হয়ে ইসলামের বিজয় নিশান স্পেনের বুকে উড়ানো বা শাহাদাতের মর্যাদাসিক্ত হওয়া কিংবা সাগরের উত্তাল তরঙ্গের কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ে কাপুরুষোচিত মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা। অত্যাচারী স্পেনীয় শাসক রডারিকের বিরুদ্ধে জিহাদ করে বিজয় ছিনিয়ে আনার বাসনা যদি থাকে তবে সামনে অগ্রসর হও।’ এই বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়ে মুসলিমগণ মহান প্রজ্ঞাময় আল্লাহ তা‘আলার নামে রডারিকের রণসম্ভারে সুসজ্জিত বিশাল বাহিনীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এবং কেড়ে নিয়েছিল স্পেন। রডারিক ওয়াডালেট নদীতে ডুবে মৃত্যুবরণ করে। এ যুদ্ধ জয় ইসলামের আরেকটি গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস।


    আসলেই তখন ছিল ইউরোপীয় মানুষদের মধ্যযুগ। পুরো ইউরোপ জুড়ে তখন খৃষ্টীয় শাসন চলছিল। গীর্জা ও রাষ্ট্রের যৌথ শাসন জনগণের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল। জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। বিজ্ঞানীদের ধর্ম-বিদ্বেষী চিহ্নিত করে তাদের প্রতি নির্যাতন চলছিল। ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ছিল সর্বত্র। ধর্মীয় বিধানসমূহ গীর্জা ও পুরোহিত শাসকদের ইচ্ছানুযায়ী পরিবর্তিত হচ্ছিল বারবার।
     
    Last edited by a moderator: Apr 1, 2017
  3. arn43
    Offline

    arn43 Kazirhut Elite Member Staff Member Global Moderator

    Joined:
    Aug 18, 2013
    Messages:
    28,506
    Likes Received:
    4,027
    Gender:
    Male
    Reputation:
    951
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    এমনি সময়ে স্পেনের বুকে ইসলামের বিজয় ছিল স্পেনীয় সাধারণ মানুষের একটি বড় পাওনা। তারা জ্ঞান-বিজ্ঞান, আদল-ইনছাফ, সাম্য-সৌভ্রাতৃত্ব, সভ্যতা ও সংস্কৃতির এক নতুন সড়কে পা রাখল মুসলিম শাসন ব্যবস্থার অধীনে। মুসলিম শাসনের সময় স্পেনের রাজধানী ছিল গ্রানাডা এবং তার অপর প্রধান শহর ছিল কর্ডোভা। গ্রানাডায় গড়ে ওঠে মুসলিম সভ্যতার একটি অন্যতম বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থান। সেখানকার আল-হামরা প্রাসাদ, গ্রান্ড মসজিদ আজো মানুষের কাছে বিস্ময়কর স্থাপত্য। কর্ডোভায় গড়ে ওঠে জ্ঞান-বিজ্ঞানের কেন্দ্রসমূহ। বিশ্বের অন্যতম বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে গড়ে ওঠে কর্ডোভা বিশ্ববিদ্যালয়। সারা ইউরোপ থেকে দলে দলে শিক্ষার্থীরা এসে এখানে জড়ো হয় মুসলিম জগতের সহায়তায় গড়ে ওঠা জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাথে পরিচিত হওয়ার জন্য। আজ যেমন লোকেরা হার্ভার্ড বা অক্সফোর্ডে যায়, তখন তারা যেত কর্ডোভায়। এ বাতিঘর থেকে আলোকিত হয়েই আধুনিক ইউরোপের উদ্দীপক ঘটনা শিল্প-বিপ্ল¬বের নায়কেরা নিজ নিজ দেশে শিল্প গবেষণা ও উন্নয়নের রেনেসাঁর সূচনা করেন।
     
  4. arn43
    Offline

    arn43 Kazirhut Elite Member Staff Member Global Moderator

    Joined:
    Aug 18, 2013
    Messages:
    28,506
    Likes Received:
    4,027
    Gender:
    Male
    Reputation:
    951
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    এভাবে মুসলিমদের সুশাসনে স্পেন হয়ে উঠে ইউরোপসহ সারা বিশেবর সকল মানুষের জন্য জ্ঞান-বিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। মুসলিম শাসনামলে স্পেনের ঘরে ঘরে ইসলামের বিস্তার ঘটে। দুই সভ্যতার মিলনকেন্দ্র স্পেনে দীর্ঘ মুসলিম শাসনামল ছিল শিক্ষা, সংস্কৃতি, সভ্যতার চরম উৎকর্ষের কাল, ধর্মীয় সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের লালন ও বিকাশের সময়। মূলতঃ মুসলিমদের নিরলস প্রচেষ্টায় স্পেন জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সভ্যতার ক্ষেত্রে বিস্ময়কর উন্নতি লাভ করে। দীর্ঘ ৮০০ বছর একটানা অব্যাহত থাকে এ উন্নতির ধারা। স্পেনে মুসলিমদের ৮০০ বছরের গৌরবময় শাসনের ফলে দেশটিতে তখন অর্থ-সম্পদ, বিত্ত-বৈভবের অঢেল জোয়ার। এ সময় ইউরোপের এ ভূখন্ডে গড়ে উঠেছিল এক অনন্য মুসলিম সভ্যতা। ফলে স্পেনীয় মুসলিমগণ সমগ্র ইউরোপের সামনে সভ্যতা ও সংস্কৃতির মডেল হিসাবে চিহ্নিত হয়। এটিকে ইউরোপ স্বীকৃতি দিয়েছে ‘মরুসভ্যতা’ হিসাবে।
     
  5. arn43
    Offline

    arn43 Kazirhut Elite Member Staff Member Global Moderator

    Joined:
    Aug 18, 2013
    Messages:
    28,506
    Likes Received:
    4,027
    Gender:
    Male
    Reputation:
    951
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    প্রকৃতপক্ষে ইউরোপের বাতিঘর গ্রানাডা ছিল সকল মানুষের জন্য এক আকর্ষণীয় কেন্দ্রবিন্দু। কালক্রমে এ সভ্যতায় ভাটা পড়ে। ইতিহাসের অমোঘ নিয়মে মুসলিমদের শাসন ক্ষমতায় অবক্ষয় দেখা দেয়। একে একে মুসলিমগণ সময়ের সাথে সাথে বদলে যেতে থাকেন। নবম থেকে পঞ্চদশ শতক খৃষ্টানদের মধ্যযুগের শেষ পর্যায়। স্পেনের গ্রানাডার মুসলিম রাষ্ট্র তীব্র গতিতে ছুটছিল ধ্বংসের দিকে। কালের আবর্তে মুসলিম শাসক ও জনগণ হারিয়ে ফেলল তাঁদের মূল শক্তি ঈমান। মুসলিমদের মধ্যে শুরু হ’ল ক্ষমতার টানাটানি। মুসলিমরা ভোগ-বিলাসে মত্ত হয়ে ভুলে যায় কুরআন ও সুন্নাহ্র শিক্ষা। নৈতিক অবক্ষয় ও অনৈক্য ধীরে ধীরে গ্রাস করে তাদের। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সন্ধানে কঠিন সাধনার পথ ছেড়ে তারা ধীরে ধীর ভোগ-বিলাস, আরাম-আয়েশে মত্ত হয়ে পড়ে। ঐক্য-সংহতি, শৌর্যের স্থলে তারা বিভক্তি, হানাহানি, ভীরুতা ও অদূরদর্শিতার পথে পা বাড়ায়। তাদের মাঝে শুরু হয় প্রাসাদ ষড়যন্ত্র, গড়ে উঠে রং-মহল, তাদের হেরেমের নেতৃত্ব চলে যায় ইউরোপীয় রাজন্যবর্গের সুন্দরী আত্মীয়দের হাতে।
     
  6. arn43
    Offline

    arn43 Kazirhut Elite Member Staff Member Global Moderator

    Joined:
    Aug 18, 2013
    Messages:
    28,506
    Likes Received:
    4,027
    Gender:
    Male
    Reputation:
    951
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    মুসলিম শাসকরা যখন কুরআন ও সুন্নাহর কথা একেবারে ভুলে গিয়ে জনসাধারণের সুখ-শান্তির মূলে পদাঘাত করে ভোগ বিলাসে মত্ত হয়ে পড়ে তখন তারা হারিয়ে ফেলে ইসলামী চেতনা। কিন্তু পাশর্ববর্তী রাজ্যগুলোর খৃষ্টান রাজারা মুসলিমদের এ দুর্বলতার সুযোগ গ্রহণ করে। খৃষ্টান নৃপতিরা চারিদিকে মুসলিম শাসকদের বিরুদ্ধে সুসংগঠিত হ’তে থাকে। তারা মেতে উঠে কুটিল ষড়যন্ত্রে। তারা ঘোষণা করে যে, পিরিনিজ পর্বতমালা অতিক্রমকারী দুর্ধর্ষ মুসলিম বাহিনীকে যদি হটানো না যায়, তাহ’লে আগামী দিনগুলোতে ইউরোপের সকল গীর্জা থেকে মুসলিমদের আযান ধ্বনি শোনা যাবে। ফলে তারা সিদ্ধান্ত নেয় স্পেনের মাটি থেকে মুসলিমদের উচ্ছেদ করার। এতদুদ্দেশ্যে পর্তুগীজ রাণী ইসাবেলা পাশর্ববর্তী রাজা ফার্ডিন্যান্দের সাথে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হয় এবং উভয়ে খৃষ্টান বাহিনীর নেতৃত্ব দেয়। মুসলমানদের শক্তি অপ্রতিরোধ্য ছিল। স্পেন থেকে মুসলমানদের উৎখাত করার জন্য খৃষ্টানরা অনেকবারই চেষ্টা চালিয়েছে, কিন্তু সফল হ’তে পারেনি। তাই তারা মুসলমানদের এ শক্তির রহস্য জানতে গিয়ে অবগত হ’ল যে, মুসলমানদের আত্মিক শক্তির মূল রহস্য হচ্ছে তাক্বওয়া বা আল্লাহভীতি। তারা একমাত্র আল্লাহ হতে ভয় করে, অন্য কাউকে নয়। তারা মূলে আঘাত হেনে মুসলমানদের ঈমানী শক্তি দুর্বল করার জন্য মদ এবং নেশাজাতীয় সামগ্রী স্পেনে রফতানী আরম্ভ করল। তাদের এ কৌশলে ধীরে ধীরে মুসলমানদের ঈমান দুর্বল হ’তে লাগল। এক সময় পাশ্চাত্যের ক্যাথলিক খৃষ্টানরা স্পেনের সকল যুবকদের কাবু করে ফেলল।
     
    Last edited: Oct 28, 2013
  7. arn43
    Offline

    arn43 Kazirhut Elite Member Staff Member Global Moderator

    Joined:
    Aug 18, 2013
    Messages:
    28,506
    Likes Received:
    4,027
    Gender:
    Male
    Reputation:
    951
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ১৫শ’ শতাব্দীর শেষে স্পেনের মুসলিম শাসক বাদশাহ হাসানকে পরাস্ত করার লক্ষ্যে তারই ছেলে আব্দুল্লাহকে দিয়ে হাসানের বিরুদ্ধে খৃষ্টানরা বিদ্রোহ করাল। খৃষ্টানরা তাকে বুঝাল যে, বাবাকে গদিচ্যুত করতে পারলে তোমাকে ক্ষমতায় বসানো হবে। পিতার বিরুদ্ধে আবু আব্দুল্ল¬াহ বিদ্রোহ করলে, তিনি ক্ষমতা ছেড়ে পলায়ন করেন। আবু আব্দুল্ল¬াহ ক্ষমতা গ্রহণ করার পর পরই শুরু হয় স্পেনের মুসলিমদের পতন। কিন্তু বেশী দিন স্থায়ী হয়নি তার এ মসনদ। আবু আব্দুল্ল¬াহর দুর্বল নেতৃত্ব, নৈতিক অবস্থান চিন্তা করে রাজা ফার্ডিন্যান্দ ও রাণী ইসাবেলার যৌথ বাহিনী স্পেন আক্রমণ করে বসে। আক্রমণ নিয়ে আবু আব্দুল্ল¬াহ আলোচনার জন্য দরবারে বিশেষ সভার আয়োজন করেন। ফার্ডিন্যান্দ আবু আব্দুল্ল¬াহকে আশ্বাস দেয় যে, তারা যদি বিনা যুদ্ধে আত্মসমর্পনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তাহ’লে তাদের জীবন রক্ষা করা হবে। দুর্বল রাজা ও তার সভাসদবর্গ অবশেষে নিজেদের জীবন বাঁচাতে অতীতের চুক্তিভঙ্গের রেকর্ড ভুলে গিয়ে ফার্ডিন্যান্দের সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আবু আব্দুল্ল¬াহ্র সভাসদের অন্যান্য সকলেই খৃষ্টানদের সন্ধিপত্রে স্বাক্ষর করতে রাজি হ’লেও, কিন্তু সেনাপতি মূসা এ সন্ধি মানতে রাজি হ’লেন না। কারণ খৃষ্টানদের প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ ও বিশ্বাসঘাতকতা সম্পর্কে তিনি ভালভাবে অবহিত ছিলেন।
     
  8. arn43
    Offline

    arn43 Kazirhut Elite Member Staff Member Global Moderator

    Joined:
    Aug 18, 2013
    Messages:
    28,506
    Likes Received:
    4,027
    Gender:
    Male
    Reputation:
    951
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    রাজা পঞ্চম ফার্ডিন্যান্দের সাথে পর্তুগিজ রাণী ইসাবেলার বিয়ের মাধ্যমে গড়ে ওঠা খৃষ্টান শক্তির ঐক্য স্পেনে মিটমিট করে জ্বলতে থাকা মুসলিমদের প্রদীপে বাতাসের প্রবল ঝাপটা দিল। ফার্ডিনান্দের শক্তির সামনে ছোট ছোট মুসলিম শাসকরা ছিল দুর্বল, বলা যেতে পারে প্রায় শক্তিহীন। মুসলিমদের ধর্মচ্যুত করার পায়তারা চলে ফার্ডিন্যান্দের আমলে। মুসলিমদের আরবী পড়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। আরবীয় পোশাক পরা ছিল আইন পরিপন্থী। বাধ্য করা হয় মুসলিমদের খৃষ্টান স্কুলে ভর্তি হ’তে। এতে যারা খৃষ্টধর্ম গ্রহণ করত, তাদের জন্য ছিল বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা। মুসলিমদের জন্য বিশেষ পোশাক ছিল, যা দেখে যত্রতত্র তাদের অপদস্থ করা হ’ত।

    বিয়ের পর দু’জনে সম্মিলিতভাবে মুসলিম নিধনে নেতৃত্ব দেয়। সম্মিলিত খৃষ্টান বাহিনী হাযার হাযার মুসলিম নারী-পুরুষকে হত্যা করে, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়ে উল্লাস করতে করতে ছুটে আসে রাজধানী গ্রানাডায়। সম্মুখ যুদ্ধে মুসলিমদের কখনও পরাজিত করতে পারেনি বলে চতুর ফার্ডিন্যান্দ পা বাড়ায় ভিন্ন পথে। তার নির্দেশে আশপাশের সব শস্যখামার জ্বালিয়ে দেয়া হয়। আগুন জ্বালিয়ে পুড়ে দেয়া হয় শহরের খাদ্য সরবরাহের প্রধান কেন্দ্র ভেগা উপত্যকা। অচিরেই দুর্ভিক্ষ নেমে আসে শহরে।
     
    Last edited by a moderator: Apr 1, 2017
  9. arn43
    Offline

    arn43 Kazirhut Elite Member Staff Member Global Moderator

    Joined:
    Aug 18, 2013
    Messages:
    28,506
    Likes Received:
    4,027
    Gender:
    Male
    Reputation:
    951
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    এভাবে একের পর এক স্পেনের অধিকাংশ এলাকা খৃস্টানদের দখলে চলে যায়। অনেক আগেই তারা মুসলিমদের হাত থেকে কর্ডোভাসহ অনেক অঞ্চল দখল করে নিয়েছিল। বাকি ছিল গ্রানাডা। মুসলিম সেনাপতি মূসা আত্মসমর্পণের চেয়ে সম্মুখ সমরে যুদ্ধ করে প্রাণ বিসর্জন দেয়াকেই অধিক সম্মানজনক মনে করেছিলেন। আবু আব্দুল্লাহ খৃষ্টানদের কাছে আত্মসমর্পণ করে প্রাণে রক্ষা পাবেন বলে যে ধারণা করেছিলেন, শিগগিরই তা মিথ্যায় পর্যবসিত হয়। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে ফার্ডিন্যান্দ বাহিনী শহর অবরোধ করে রাখে। বিচ্ছিন্নভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যান কিছু মুসলিম।


    মুসলিম বাহিনীর শেষ আশ্রয়স্থল ছিল রাজধানী গ্রানাডা। ফার্ডিন্যান্দ বাহিনীও গ্রানাডার দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছে যায়। ১৪৯১ সালের ২৪ নভেম্বর সহজেই ফার্ডিন্যান্দ গ্রানাডার রাজপথসহ সমগ্র শহর দখল করে নেয়। শুরু করে নৃশংস ও বর্বর হত্যাযজ্ঞ, লুণ্ঠন ও ধর্ষণ। অত্যাচার-নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেলে অনেক মুসলিম স্থানে স্থানে বিদ্রোহ করে। বিদ্রোহী এসব লোকজনকে হত্যা করা হয়। এক পর্যায়ে রাজা ফার্ডিন্যান্দ ও ইসাবেলার বাহিনীর পক্ষ থেকে একটি ঘোষণাপত্র প্রচার করা হয় যে, ‘মুসলিমগণ যদি শহরের প্রবেশদ্বার উন্মুক্ত করে দিয়ে এবং নিরস্ত্র হয়ে গ্রানাডার মসজিদগুলোতে আশ্রয় নেয়, তবে তাদের পূর্ণ নিরাপত্তা দেয়া হবে। আর যারা খৃষ্টান জাহাজগুলোতে আশ্রয় নেবে, তাদের অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্রে পাঠিয়ে দেয়া হবে। অন্যথা আমাদের হাতে তোমাদের প্রাণ হারাতে হবে।’
     
    Last edited by a moderator: Apr 1, 2017
  10. arn43
    Offline

    arn43 Kazirhut Elite Member Staff Member Global Moderator

    Joined:
    Aug 18, 2013
    Messages:
    28,506
    Likes Received:
    4,027
    Gender:
    Male
    Reputation:
    951
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    অসহায় মুসলিমগণ আল্লাহর উপর ভরসা করার কথা ভুলে গিয়ে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে যুদ্ধ বন্ধ করে দেয়। সেদিন ছিল ১৪৯২ খৃষ্টাব্দের ১লা এপ্রিল মোতাবেক ৮৯৭ হিজরীর ১২ রবীউল আউয়াল। দুর্ভাগ্যতাড়িত গ্রানাডাবাসী অসহায় নারী ও মা‘ছূম বাচ্চাদের করুণ মুখের দিকে তাকিয়ে খৃষ্টানদের আশবাসে বিশবাস করে খুলে দেয় শহরের প্রধান ফটক। সরল বিশবাসে, ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় সেদিন হাযার হাযার মুসলিম নর-নারী, বৃদ্ধ-শিশু সবাইকে নিয়ে আশ্রয় নেয় আল্লাহর ঘর পবিত্র মসজিদে। অনেকে আরোহণ করে জাহাজে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস মিথ্যাবাদী প্রতারক কুখ্যাত ফার্দিন্যান্দ ইসাবেলার খৃষ্টান বাহিনী শহরে প্রবেশ করে মুসলিমদেরকে মসজিদের ভেতর আটকে রেখে প্রতিটি মসজিদে তালা লাগিয়ে দেয়। তারা তখনও জানত না যে, তারা মুসলিম ইতিহাসের এক নিষ্ঠুর ইতিহাসে পরিণত হ’তে যাচ্ছে। এরপর রাতের আঁধারে একযোগে শহরের সমস্ত মসজিদের চারিপাশের্ব আগুন লাগিয়ে মসজিদে আশ্রয় গ্রহণকারী নিরস্ত্র হাযার হাযার নিরপরাধ মুসলিম শিশু-বৃদ্ধ নর-নারীকে নৃশংসভাবে পুড়িয়ে বর্বর উল্লাসে মেতে ওঠে। লক্ষ লক্ষ নারী-পুরুষ-শিশু অসহায় আর্তনাদ করতে করতে জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারায় মসজিদের ভেতর। প্রজ্জ্বলিত অগ্নিশিখায় দগ্ধ অসহায় মুসলিমদের আর্তচিতকার যখন গ্রানাডার আকাশ-বাতাস ভারী ও শোকাতুর করে তুলল, তখন ফার্দিন্যান্দ ও রাণী ইসাবেলা আনন্দে আত্মহারা হয়ে হেসে বলতে লাগল, ‘হায় মুসলিম! হায় (April’s Fool) এপ্রিলের বোকা। শত্রুর আশ্বাসে কেউ বিশ্বাস করে’? দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা আগুন, নারী-পুরুষের আর্ত চিৎকার আর ফার্ডিন্যান্দ-ইসাবেলার ক্রুর হাসি একাকার হয়ে যায়। ওদিকে জাহাজে আরোহণকারী মুসলিমদের জাহাজ ডুবিয়ে হত্যার মাধ্যমেও খৃষ্টানরা বিশবাসঘাতকতার পরিচয় দেয়। জীবিতদেরকে জোরপূর্বক খৃষ্টান বানায়। ৭১২ সালে এক মুসলিম সেনাপতি মূসা যে রাজ্যের পত্তন করেন। ৭৮০ বছর পরে ১৪৯২ সালে ঐ নামের আরেক সেনাপতির হাতে একই রাজ্যের পতন ঘটে। এ হৃদয়বিদারক ও করুণ ঘটনার মাধ্যমেই নিভে গেল মিটমিট করে জ্বলতে থাকা মুসলিম রাষ্ট্রশক্তির প্রদীপের শেষ আলো। মুসলিমদের বোকা বানিয়ে মুসলিম ইতিহাসের এক রক্তাক্ত জঘন্য উৎসবে মেতেছিল খৃষ্টানরা, আর এখনও সে ধারাবাহিকতা চলছে সারা বিশেব। একদিন যে কর্ডোভা ও গ্রানাডার মসজিদগুলো থেকে পাঁচ ওয়াক্ত আযান ধ্বনিত হ’ত, আন্দোলিত হ’ত স্পেনের মুসলিদের হৃদয়, আজ সেখানে দাঁড়িয়ে আছে সব গীর্জার স্তম্ভ। যেকোন মুসলিম স্পেনের বিমানবন্দরে ছালাত আদায়ের জন্য দাঁড়ালে অন্যরা ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে, কী করছে এই লোক? আহ্ কী অসহ্য দৃশ্য!
     

Pls Share This Page:

Users Viewing Thread (Users: 0, Guests: 0)