1. Self-Written সেকশনে শুধু মাত্র স্বরচিত গল্প, উপন্যাস, কবিতা, ছড়া, রম্য রচনা প্রকাশ করা যাবে। সংগৃহীত কোন আরটিক্যাল এই সেকশনে পোস্ট করা হলে, বিনা নোটিশে তা ডাস্টবিনে ফেলা হবে।
  2. Hi Guest
    Pls Attention! Kazirhut Accepts Only Bengali (বাংলা) & English Language On this board. If u write something with other language, you will be direct banned!

    আপনার জন্য kazirhut.com এর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার :

    যে কোন সফটওয়্যারের ফুল ভার্সন প্রয়োজন হলে Software Request Center এ রিকোয়েস্ট করুন।

    Discover Your Ebook From Our Online Library E-Books | বাংলা ইবুক (Bengali Ebook)

বাংলাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠী

Discussion in 'Self-Written' started by Rater_Bhoot, Jun 4, 2014. Replies: 21 | Views: 8828

  1. Rater_Bhoot
    Offline

    Rater_Bhoot DeviL Of KH Member

    Joined:
    May 31, 2014
    Messages:
    178
    Likes Received:
    22
    Gender:
    Male
    Reputation:
    54
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    রাখাইন
    [​IMG]
    রাখাইনরা নিজেদের উপজাতি মনে করে না। তারা ধর্মীয়ভাবে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। তবে তাদের নিজেদের কৃষ্টি-কালচার রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো 'সাং গ্রেং পোয়ে' বা নববর্ষ উৎসব। মশী সালের শেষ চার দিন এবং নতুন সালের প্রথম তিন দিন মিলে সপ্তাহব্যাপী এ উৎসব পালন করা হয়। তবে সাম্প্রতিক কালে নতুন একটি উৎসবের প্রতি তাদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এটি বর্ষা উৎসব। জুলাই থেকে প্রায় তিন মাসব্যাপী প্রতি শুক্রবার কক্সবাজার সৈকতের ঝাউবাগানে বৃষ্টিতে ভিজে এ উৎসব পালন করে রাখাইনরা। সাং গ্রেং পোয়ে ও বর্ষা উৎসব উপভোগ করতে হাজার হাজার পর্যটক কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন।

    কক্সবাজারে রাখাইনরা প্রথম আসে ১৭৯৭ সালে প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে। জাতিগত বিদ্বেষের শিকার হয়ে তারা মিয়ানমারের আরাকান প্রদেশ থেকে কক্সবাজারে এলে তৎকালীন বৃটিশ ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স তাদের এখানে পুনর্বাসিত করেন। এ সময় এখানে একটি বাজারও প্রতিষ্ঠা করা হয়। তখন থেকেই এ পর্যটন নগরীর নাম কক্সবাজার হয়ে যায়। এর আগে কক্সবাজারকে 'প্যানোয়া' বা 'পালংক্যি' নামে ডাকা হতো।
    রাখাইন তাত্ত্বিকদের মতে, খ্রিস্টপূর্ব ৩৩২৫ সালে আরাকানের রাজা 'মারাইয়্য' রাখাইন জনগোষ্ঠীর প্রবর্তক। বর্তমানে দেশের তিনটি জেলা যথাক্রমে কক্সবাজার, বরগুনা ও পটুয়াখালীতেই রাখাইনরা বাস করে। এর মধ্যে বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলায় ১০ হাজারের মতো, বাকি রাখাইনদের বসবাস কক্সবাজার জেলাতেই। রাখাইনদের মধ্যে কক্সবাজার শহরের বাসিন্দারা মূলত ব্যবসায়ী। আর উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা কৃষি ও মৎস্যজীবী।

    পর্যটন নগরী কক্সবাজারে রাখাইন তরুণীদের পরিচালিত দোকানগুলো পর্যটকদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। শিল্প, সংস্কৃতি ও ব্যবসার মাধ্যমে রাখাইনরা কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।
     
    • Informative Informative x 1
  2. Rater_Bhoot
    Offline

    Rater_Bhoot DeviL Of KH Member

    Joined:
    May 31, 2014
    Messages:
    178
    Likes Received:
    22
    Gender:
    Male
    Reputation:
    54
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    মারমা
    [​IMG]
    মারমা। তিন পার্বত্য জেলায় তাদের বসবাস দেখা গেলেও মূল জনগোষ্ঠীর অধিকাংশের বসবাস বান্দরবানে। ‘মারমা’ শব্দটি ‘ম্রাইমা’ থেকে এসেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের 'মারমা'রা মিয়ানমার থেকে এসেছে বিধায় তাদের ‘ম্রাইমা’ নাম থেকে নিজেদের ‘মারমা’ নামে ভূষিত করেছে। মারমারা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত। তারা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। কথা বলার ক্ষেত্রে মারমাদের নিজস্ব ভাষা থাকলেও লেখার ক্ষেত্রে তারা বার্মিজ বর্ণমালা ব্যবহার করে।
    মারমা সমাজ ব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক। পুরুষদের মতো মেয়েরাও পৈতৃক সম্পত্তির সমান উত্তরাধিকারী হয়। ভাত মারমাদের প্রধান খাদ্য।
    'পাংখুং', 'জাইক', 'কাপ্যা' ইত্যাদি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মারমা সমাজে জনপ্রিয়। তাদের প্রধান উৎসব ও পার্বণগুলো হচ্ছে 'সাং গ্রাই পোয়ে', 'ওয়াছো পোয়ে', 'ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে' এবং 'পইংজ্রা পোয়ে'। বান্দরবানে মারমা লোকসংখ্যা প্রায় এক লাখের কাছাকাছি। শিক্ষা-দীক্ষা ও আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে মারমারা দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।
     
    • Informative Informative x 1
  3. Rater_Bhoot
    Offline

    Rater_Bhoot DeviL Of KH Member

    Joined:
    May 31, 2014
    Messages:
    178
    Likes Received:
    22
    Gender:
    Male
    Reputation:
    54
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    খাসিয়া
    [​IMG]
    সুনামগঞ্জে 'গারো', 'হাজং', 'খাসিয়া', 'মণিপুরী', 'কোচ', 'বানাই' 'হাদি' সহ বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছে। চরম দারিদ্র্যের মধ্যে থেকেও এ সম্প্রদায়ের লোকজন শান্তিপ্রিয়। তাদের রয়েছে নিজস্ব নিয়ম-কানুন। তবে তাদের মধ্যে খাসিয়ারাই মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় পরিচালিত। তাদের সমাজ ব্যবস্থায় কোনো পুরুষ সম্পত্তির মালিক হয় না। পুরুষদের বিয়ে হলে তারা শ্বশুরবাড়ি গিয়ে ওঠে। তারাও এ অঞ্চলের অন্যান্য আদিবাসীর মতো একটি প্রাচীন সম্প্রদায় হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করে আসছে।
    সুনামগঞ্জের সীমান্ত এলাকায় এরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। পাহাড়ের পাদদেশে বিভিন্ন টিলা এলাকায় তাদের বসবাস। দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করলেও তারা অত্যন্ত নিরীহ প্রকৃতির। তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার ও সদর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় তারা বসবাস করছে। সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২৫০টি খাসিয়া পরিবার বসবাস করছে জানা যায়, খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে আর্যরা এ দেশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করলে তারা আদিবাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে এ আদিবাসীরাই অনার্য বলে পরিচিতি লাভ করে। আর্য-অনার্য যুদ্ধে অনার্যরা পরাজিত হয়ে বনে জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। পরে এ গহিন বনেই তারা বসবাস শুরু করে। ফলে তারা শিক্ষা দীক্ষা ও আধুনিক জীবন ব্যবস্থা থেকে দূরে থাকে।
    খাসিয়াদের সাংস্কৃতিক জীবন বেশ সমৃদ্ধ। তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানগুলো খুব আকর্ষণীয়। তাদের ভাষায় রচিত গানগুলোও হৃদয় ছোঁয়া।
     
    • Winner Winner x 1
  4. Rater_Bhoot
    Offline

    Rater_Bhoot DeviL Of KH Member

    Joined:
    May 31, 2014
    Messages:
    178
    Likes Received:
    22
    Gender:
    Male
    Reputation:
    54
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    তঞ্চঙ্গ্যা
    [​IMG]
    পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে শান্ত ও নিরিবিলি হিসেবে বিবেচিত 'তঞ্চঙ্গ্যা'রা। জানা গেছে, পার্বত্য জেলাগুলোতে প্রায় ৫০ হাজার 'তঞ্চঙ্গ্যা' বসবাস করছে। তঞ্চঙ্গ্যারা পার্বত্য চট্টগ্রামের চতুর্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ আদিবাসী। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে ও ভারতের ত্রিপুরা এবং অন্যান্য রাজ্যে কিছু সংখ্যক তঞ্চঙ্গ্যা বসবাস করে। পালি, প্রাকৃত ও সংস্কৃত শব্দে তঞ্চঙ্গ্যা ভাষা পরিপূর্ণ। চাকমা ভাষার সঙ্গে তঞ্চঙ্গ্যা ভাষার ঘনিষ্ঠতা সমধিক।
    তঞ্চঙ্গ্যাদের নিজস্ব ভাষা ও অলঙ্কার রয়েছে। বিশেষত মহিলাদের পোশাকে রয়েছে বেশ বৈচিত্র্য। কারুকাজ করা চুলের কাটা ও চেইন সজ্জিত খোপার বেষ্টনী দিয়ে মাথায় খবং বাঁধা তঞ্চঙ্গ্যা মহিলার গায়ে থাকে ফুলহাতা 'কোবোই'। পরনে থাকে সাতরঙা 'পিনুইন'। তঞ্চঙ্গ্যা পুরুষদের পোশাক ধুতি ও লম্বা হাতা জামা।
    তঞ্চঙ্গ্যা সমাজে মামাতো, পিসতুতো, মাসতুতো ভাই-বোনদের মধ্যে বিয়ের প্রচলন রয়েছে। তঞ্চঙ্গ্যা সমাজে বাবার মৃত্যুর পর ছেলেরা উত্তরাধিকার সূত্রে সমান অংশে সম্পত্তির মালিক। মেয়েরা পৈতৃক সম্পত্তির দাবি করতে পারে না। তঞ্চঙ্গ্যা কোনো লোক মারা গেলে মৃত ব্যক্তির মুখে রৌপ্য মুদ্রা ঢুকিয়ে দেয়া হয়। তঞ্চঙ্গ্যারা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হলেও সনাতন প্রথা অনুযায়ী 'গাঙ পূজা', 'ভূত পূজা', 'চুঙ্গুলাং পূজা', 'মিত্তিনী পূজা', 'কে পূজা', 'বুর পাড়া' প্রভৃতি কাল্পনিক দেবদেবীর পূজা করতে দেখা যায়।
     
    • Informative Informative x 1
  5. Rater_Bhoot
    Offline

    Rater_Bhoot DeviL Of KH Member

    Joined:
    May 31, 2014
    Messages:
    178
    Likes Received:
    22
    Gender:
    Male
    Reputation:
    54
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    খুমী
    [​IMG]
    বাংলাদেশের অন্যতম সংখ্যালঘু উপজাতি 'খুমী'। এদের মূল অংশের বসবাস মায়ানমারের আরাকানে। ১৪৩০ খ্রিস্টাব্দে বার্মার গোষ্ঠীগত দাঙ্গায় 'খুমী'দের একটি অংশ বার্মা থেকে পালিয়ে বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচির বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস শুরু করে। খুমীরা দুটি দল বা গ্রোত্রে বিভক্ত। একটি হলো ‘আওয়া খুমী’ অপরটি ‘আহংরাজ খুমী’।
    খুমীদের রয়েছে বিভিন্ন সামাজিক বিধি-বিধান। গোষ্ঠীগত সমাজ জীবনে যেকোন সামাজিক বিচার ও জরিমানা করার ক্ষমতা গোষ্ঠী প্রধানদের আছে। খুমীরা প্রকৃতি পূজারী। তাদের অভ্যাস, আচার-আচরণ, পোশাক-পরিচ্ছদ ও জীবনধারার সাথে 'ম্রো'দের মিল পাওয়া যায়। খুমী সমাজে 'ম্রো' সমাজের মতো কান ছিদ্র করার প্রথা আছে। তবে ম্রোদের মতো কোন আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করা হয় না।
    খুমীরা বছরে দুইবার নবান্ন উৎসব আয়োজন করে। খুমী নারীরা রূপার অলঙ্কার পরতে ভালবাসে। খুমী সমাজের নারী পুরুষ উভয়কেই সাদা কাপড়ের পাগড়ী পরতে দেখা যায়। এ সাদা পাগড়ীকে খুমীরা ‘লুপ্যা’ বলে। বৌদ্ধ, ক্রামা, খ্রিস্টান ও প্রকৃতি পূজারী এ চার ধরনের ধর্মানুসারী খুমী সমাজে রয়েছে। খুমীদের প্রচলিত উৎসবের বাইরে শিকার প্রাপ্তির আনন্দে আয়োজিত উৎসব, ‘গো-হত্যা’ উৎসব, ক্রামা ধর্মীয় উৎসব, সাং ক্রাই, বড়দিন ও পুনরুত্থান উৎসব, আংওয়াং য়ানা, পাড়াবন্ধ ইত্যাদি উৎসব অত্যন্ত জাঁকজমকের সাথে পালিত হয়।
     
    • Informative Informative x 1
  6. Rater_Bhoot
    Offline

    Rater_Bhoot DeviL Of KH Member

    Joined:
    May 31, 2014
    Messages:
    178
    Likes Received:
    22
    Gender:
    Male
    Reputation:
    54
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    লুসাই
    [​IMG]
    'লুসাই'দের চাকমারা ‘কুগী’, মারমারা ‘লাঙ্গী’ ও ত্রিপুরারা ‘শিকাম’ নামে অভিহিত করে। মিজোরামের লুসাই পাহাড় এলাকায় তাদের মূল জনগোষ্ঠী বসবাস করে। তারা অত্যন্ত যুদ্ধপ্রিয় জাতি। একদা নিষ্ঠুরতা ও নরহত্যার জন্য তাদের নামডাক ছিল।
    মিজোরামের সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড় ও জঙ্গলাকীর্ণ এলাকায় লুসাই পল্লীগুলো অবস্থিত। রাঙ্গামাটি জেলায় তাদের সংখ্যা অত্যন্ত নগন্য। শুধু সাজেকের সীমান্ত এলাকায় তাদের কিছু পরিবার বসবাস করতে দেখা যায়। তবে ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে দেশ বিভাগের পর লুসাইরা ব্যাপক হারে এ দেশ ত্যাগ করে।
    লুসাইরা নৃতাত্বিক বিচারে যাযাবর প্রকৃতির। ব্রিটিশ প্রশাসক ও নৃতত্ত্ববিদ লিউইনের মতে লুসাইরা ৪-৫ বছরের মধ্যে বাসস্থান পরিবর্তন করে থাকে।
    লুসাইদের ভাষাও কুকী-চীন গোষ্ঠিভূক্ত। তাদের কোন লিখিত ভাষা বা বর্ণমালা পাওয়া যায় না। তাদের নৃত্যগীতের রেওয়াজ আছে। জুমচাষকে কেন্দ্র করে লুসাইদের বিভিন্ন উৎসব পালন করা হয়।
    পূর্বে লুসাইরা সর্বপ্রাণবাদে বিশ্বাসী ছিল। তবে বর্তমানে তারা খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছে। ফলে তারা ভাষা ও সংস্কৃতিগত ভাবে ইউরোপীয় আদলে উন্নতি লাভ করেছে।
    আদিবাসী লুসাইরা বাংলাদেশে একটি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী হলেও অপরিচিত নয়। একসময় বাংলাদেশে ফুটবল ও হকির মাঠে রাজত্ব করেছেন রামা লুসাই। ক্রীড়াঙ্গনের বাইরেও তাকে বহু লোকে চিনে, তার নাম জানে। বিংশ শতাব্দির সত্তুর ও আশির দশকে যারা যুবক ছিলেন, তাদের সবার কাছে রামা লুসাই সুপরিচিত। যে কারণে লুসাই আদিবাসীদের কথা দেশের বহু লোকে জানে।
     
  7. Rater_Bhoot
    Offline

    Rater_Bhoot DeviL Of KH Member

    Joined:
    May 31, 2014
    Messages:
    178
    Likes Received:
    22
    Gender:
    Male
    Reputation:
    54
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    মুন্ডা
    [​IMG]
    বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় আদিবাসীদের বসবাস৷ বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর মানুষেরা ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলোর স্বাতন্ত্র্য, পৃথক, ভাষা ও ঐতিহ্যকে এখনো পর্যন্ত ইতিবাচক দেখতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেনি৷ কেউ কেউ বলেন তাদের জাতিগত সংখ্যা ৪৫।
    এদেরই একটি গোষ্ঠী 'মুন্ডা'। ১৯৯১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী বাংলাদেশের মুন্ডাদের সংখ্যা ছিল ১২,০৫,৯৭৮ জন৷ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আদিবাসী মুন্ডাদের বসবাস আছে৷ মুন্ডাদের রয়েছে নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যগত ইতিহাস৷ বাংলাদেশে কত মুন্ডা আছে সরকারিভাবে তার কোন পরিসংখ্যান নেই৷ দিন দিন তাদের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে৷
    পেশাচ্যুতি ও কর্মহীনতার কারণে প্রতি বছর মুন্ডারা ভারতে যেমন চলে যাচ্ছে তেমনি দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে।
    মুন্ডা, দক্ষিণ এশিয়ার একটি বড় উপজাতি। কেউ কেউ এদেরকে বুনোও বলে। ভারতের ঝাড়খণ্ড ও ছত্তীসগঢ় রাজ্যের ছোটনাগপুর অঞ্চল, মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গে এঁদের বাস। এছাড়া, বাংলাদেশের কোনো কোনো অঞ্চলেও এঁরা বাস করেন। মুন্ডরা যে ভাষায় কথা বলেন, তার নাম 'মুন্ডারি'। এটি অস্ট্রো- এশিয়াটিক ভাষা গোষ্ঠীর অন্তর্গত। আবার 'হো' ভাষা নামেও পরিচিত। হো ভাষা, 'বিহার হো' বা 'লংকা কোল' নামেও পরিচিত। অস্ট্রো-এশীয় ভাষা পরিবারের একটি মুন্ডা ভাষা, যা প্রধানত ভারতে ও বাংলাদেশে প্রচলিত। প্রায় ১২ লক্ষ লোক ভাষাটিতে কথা বলে। ভাষাটি 'দেবনাগরী' বা বরং 'ক্ষিতি লিপি'তে লেখা হয়। হো জাতির লোকেরা এই ভাষাতে কথা বলে।
    সংগ্রামী আদিবাসী বিদ্রোহের নেতা, মুন্ডা বিদ্রোহের নেতা 'বিরসা মুন্ডা'র ১০৯তম আত্মত্যাগ দিবস পালিত হয়েছে ২০১০ সালের জুন মাসে। ১০৯ বছর আগের মুন্ডা বিদ্রোহের কাহিনী একটি স্বতন্ত্র ইতিহাস। ১৯০০ সালে সংগঠিত সেই আন্দোলনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় মুন্ডারা কতটা সমাজ সচেতন ছিল এবং সমাজের অন্যান্য গোষ্ঠীগুলোর সাথে তাদের কত সুসম্পর্ক ছিল, অন্যদের উপর তাদের প্রভাব কতটা ছিল। এর পিছনের ছিল মুন্ডাদের সারল্য আর সততা, যে কারণে সমাজের অপর গোষ্ঠীগুলো মুন্ডাদেরকে বিশ্বাস করতো, তাদের উপর আস্থা রাখতো।
    তবে মুন্ডা বিদ্রোহ কোন আকস্মিক ঘটনা ছিল না। তৎকালীন ব্রিটিশ সাম্ভ্রাজ্যবাদের মদতে রাজা , জমিদার ও মহাজনদের শোষন শাসন থেকে বাচাঁর দাবীতে মুন্ডারা সংগঠিত হয়ে আন্দোলন শুরু করেছিল। যে আন্দোলন শেষ পর্যন্ত সাম্ভ্রাজ্যবাদের শোষন শাসনের পরিসমাপ্তি এবং স্বাধীন মুন্ডারাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল। এই আন্দোলন শুধু মুন্ডা সমপ্রদায় বা আদিবাসী সমাজ অংশ নিয়েছিল তা নয়, সমাজের কৃষক ও অন্যন্য দুরদ্র খেটে খাওয়া মানুষেরাও এই আন্দোলনে শামিল হয়েছিল। ফলে এই আন্দোলন আদিবাসী মুন্ডা ও সমস্ত কৃষক সমাজের মুক্তি আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল। সে কারণে মুন্ডা বিদ্রোহের রাজনৈতিক তাৎপর্য আজও প্রাসঙ্গিক। এর সাথে ভূমি সংস্কারের আন্দোলনের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। ভূমি সংস্কারের দাবী, এদেশের কৃষিজীবি আদিবাসী, বাঙ্গালী, সবার অনেক দিনের দাবী। 'চোয়াড়' বিদ্রোহের সময় থেকেই কৃষকেরা নিজস্ব জমির দাবীতে আন্দোলন করেছে, লড়াই করেছে। কৃষক সমাজের এই ন্যায়সঙ্গত দাবী আজও অপূর্ণ রয়েছে। মুন্ডা বিদ্রোহের প্রেক্ষাপটও ছিল জীবন ও জীবিকার স্বরাজ। অর্থাৎ তারাও স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রনের অধিকার চেয়ে আন্দোলনে নেমেছিল। অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নেমে ১৯০০ সালের ৯ জুন আদিবাসী নেতা বিরসা মুন্ডা ব্রিটিশ শাসকদের নির্যাতনে কারাগারে নির্মমভাবে শহীদ হন।
     
  8. Rater_Bhoot
    Offline

    Rater_Bhoot DeviL Of KH Member

    Joined:
    May 31, 2014
    Messages:
    178
    Likes Received:
    22
    Gender:
    Male
    Reputation:
    54
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ম্রো
    [​IMG]
    পাহাড় কন্যা বান্দরবান। বাংলার দার্জিলিং খ্যাত পাহাড়কে ঘিরেই 'ম্রো' জনগোষ্ঠীর বসবাস। পার্বত্য তিন জেলার মধ্যে একমাত্র বান্দরবানে রয়েছে ১১টি জাতীগোষ্ঠীসহ ১৩টি সম্প্রদায়ের বসবাস। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর মধ্যে জনসংখ্যার অনুপাতে 'ম্রো' সমপ্রদায়ের অবস্থান তৃতীয় হলেও ১১টি আদিবাসীর মধ্যে ম্রো জনগোষ্ঠীরা শিক্ষার ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে সবচেয়ে বেশি।
    জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে পাহাড়ের চূড়ায় ছোট ছোট মাচাংঘর তৈরি করে বসবাস করে ম্রোরা। তবে সাঁজ গোজ এবং রূপ চর্চায় কম যায়না ম্রো আদিবাসীরা। কানে, পায়ে এবং মাথায় ম্রো আদিবাসীরা অলংকার পড়ে। তবে কোন সোনার তৈরি অলংকার নয়। রূপা এবং পিতলের তৈরি স্বাভাবিক স্বর্ণালংকারের চেয়ে অনেক বড় অলংকার পড়ে ম্রোরা। এসব অলংকার শুধু মাত্র তাদের শরীরে মানায়।
    প্রতিটি জনগোষ্ঠীর মত ম্রোদের রয়েছে আলাদা সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং ভাষা। রয়েছে ম্রো বর্ণমালার বই। ম্রো জনগোষ্ঠীর জন্য জেলা সদরের মাঝের পাড়ায় সরকারী ভাবেই গড়ে তোলা হয়েছে ম্রো আবাসিক বিদ্যালয়।
    জেলা জুড়ে ম্রোরা বসবাস করলেও 'চিম্বুক' পাহাড়কে ঘিরেই ম্রো জনগোষ্ঠীর মূল অবস্থান। পাহাড়ে চূড়ায় ছোট ছোট মাচাংঘর বানিয়ে শত শত বছর ধরে বসবাস করে চলেছে এরা। কিছুদিন পর পর ম্রোরা স্থান পরিবর্তন করে নতুন নতুন পাহাড়ে মাচাংঘর বানায়। একই পাহাড়ে বা স্থানে ম্রো জনগোষ্ঠীরা বেশিদিন থাকে না বা বসবাস করে না। তাদের বিশ্বাস একই স্থানে অনেকদিন বসবাস করলে তাদের অমঙ্গল হয়।
    ম্রো জনগোষ্ঠীর বানানো মাচাংঘর গুলো দেখতে খুব সুন্দর। দূর থেকে দেখে মনে হয় পাহাড়ের কূলে গড়ে তোলা ছোট ছোট পর্যটন স্পট। শিক্ষার মতই ম্রো জনগোষ্ঠীরা এখনো পিছিয়ে রয়েছে পোষাক পরিচছদের দিক থেকেও। ম্রো আদিবাসী নারী, পুরুষ এবং তরুন-তরুণীরা এখনো অর্ধউলঙ্গ কাপড় পড়ে।
    পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর মধ্যে একমাত্র ম্রোরা আজও জুম চাষের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। জুম চাষের মাধ্যমেই ম্রোরা সারাবছরের জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। বছরের মার্চ-এপ্রিল মাসের দিকে ম্রোরা জুমের জন্য পাহাড়ে আগুন দেয়। মে-জুন মাসের দিকে ম্রো আদিবাসীরা আগুনে পোড়ানো পাহাড়ে জুম চাষ শুরু করে। ম্রোরা পাহাড়ের ধান, ভূট্টা, মরিচ, যব সরিষা, মিষ্টি কুমড়া, মারমা, টকপাতাসহ বিভিন্ন রকম সবজির চাষ করে।
     
  9. Rater_Bhoot
    Offline

    Rater_Bhoot DeviL Of KH Member

    Joined:
    May 31, 2014
    Messages:
    178
    Likes Received:
    22
    Gender:
    Male
    Reputation:
    54
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    বম
    [​IMG]
    'বম' একটি সংযুক্ত জাতি। পূর্বাঞ্চলীয় 'শুনল্লা' ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় 'পাংহাই' গোত্র সংযুক্ত হয়ে 'বম' উপজাতির সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে এই সৃষ্টিকাল সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। বমদের আদি নিবাস বার্মার (মিয়ানমার) 'ইরাবতী' ও 'চীনদুইন' নদীর মধ্যবর্তী এলাকায় বলে ধারণা করা হয়। কারও মতে চীনের 'চিনলুং' পর্বতমালায় তাদের আদি বাসস্থান ছিল এবং পরবর্তীতে বার্মা (মিয়ানমারে) চলে আসছে। চিনলু এর অর্থ অসংখ্য পাথুরে পর্বত।বাংলাদেশে বমদের আবাসস্থলগুলোতেও প্রচুর পাথর দেখা যায়। বার্মা বা মিয়ানমারে অবস্থানরত বম জনগোষ্ঠী ‘লাইম’ ও ‘চিন’ নামে পরিচিত। এরাও গোষ্ঠীবদ্ধ হয়ে বসবাস করে। 'ড্রইট্রাং' নামে তিনটি গোত্র বসবাস করে। বমদের স্বতদন্ত্র ভাষা রয়েছে; তবে নিজস্ব ভাষায় লিখিত পুস্তকাদি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
    'বম'রা এক সময় প্রকৃতি পূজারী থাকলেও বর্তমানে খ্রিষ্ট ধর্ম গ্রহণ করেছে। খ্রিস্টান চার্চও ধর্মযাজকদের প্রভাবে তাদের সামাজিক রীতি-নীতির পরিবর্তন হয়েছে। অতীতে বমরা ঈশ্বরকে ‘খাজিং’ বলতো। তারা ‘কর্ণবুল’ নামে এক ভূতের পূজা করতো। তারা একটি মোরগ হত্যা করে ‘কর্ণবুল’ এর পূজা করতো।
    মানুষের সৃষ্টি সম্পর্কে বমদের ধারণা ইতিপূর্বে তাদের পূর্বপুরুষগণ পৃথিবীর একটি গর্ত থেকে বের হয়ে আসে এবং এভাবে তারা একজন বড় সর্দার পায়। এই সর্দারের নাম ‘থানড্রোপা’, তিনিই প্রথম বন্য গয়ালকে গৃহপালিত পশুতে পরিণত করেন। তিনি এতই ক্ষমতাশালী ছিলেন যে, তিনি ঈশ্বরের কন্যাকে বিয়ে করেন। এর জন্য ‘থানড্রোপা’ তার শ্বশুর ঈশ্বরকে তার একটি বিখ্যাত বন্দুক উপহার প্রদান করেন।
     
  10. Rater_Bhoot
    Offline

    Rater_Bhoot DeviL Of KH Member

    Joined:
    May 31, 2014
    Messages:
    178
    Likes Received:
    22
    Gender:
    Male
    Reputation:
    54
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ওরাওঁ
    [​IMG]
    'ওরাওঁ' এই নামের আদিবাসীরা নৃতাত্বিক বিচারে আদি-অষ্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্থেলীয়) জনগোষ্ঠীর উত্তর পুরুষ। এদের গায়ের রং কালো, নাক চ্যাপটা, চুল কালো ও কুঞ্চিত, উচ্চতা মাঝারি। উপমহাদেশে ওরাওদের প্র্রধান বসতি উড়িষ্যা, ছোটনাগপুর, রাজমহল ও বিহারের সন্নিহিত অঞ্চলে। নৃতত্ত্ববিদগণের মতে একই অঞ্চলের 'মুন্ডা', 'মালপাহাড়ি' ও 'সাঁওতাল'দের সংঙ্গে 'ওরাঁও'দের ঘনিষ্ঠ জনতাত্ত্বিক সম্পর্ক রয়েছে। ভাষার দিক থেকেও এরা সবাই একই অস্ট্রিক পরিবারের অন্তভূর্ক্ত। কারো কারো মতে 'কুরুখ' ভাষার বিভাজিত একটি অংশের 'টোটেম' রূপে ওরাওঁ কথাটা এসেছে।
    'ওরাও' আদিবাসীরা ঠিক কবে কি কারণে বাংলাদেশে এসে বসবাস শুরু করে সে সম্পর্ক নিশ্চিত কোন তথ্য নেই। বতর্মানে রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া ও রাজশাহী জেলা ওরাওদের প্রধান বসতিস্থল। এছাড়াও গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুরের রসুলপুর ইউনিয়নে ১৫টি ওরাও পরিবার বসবাস করছে। তবে ১৮৮১ সালের লোকগণনায় দেখা যায় যে, উত্তরবঙ্গ স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে চিহ্নিত না করার কারণে বহুদিন এদের সঠিক জনসংখ্যা নির্ধারণ করা যায়নি। ১৯৯১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশে ওরাওঁ জনসংখ্যা নির্ধারণ করা যায়নি। ১৯৯১ সালের আদমগুমারী অনুযায়ী বাংলাদেশে ওরাওঁ জনসংখ্যা ছিল প্রায় ছয় হাজার।
    অনেক আদিবাসী জাতির মতো ওরাওঁ সমাজও সর্বপ্রাণবাদী প্রকৃতি উপাসক। তবে তাদের ধর্মবিশ্বাসে সৃষ্টিকর্তা হিসেবে সর্বশক্তিমান 'ধরমেশ' স্বীকৃত। এই সর্বশক্তিমানের অবস্থান সূর্যে। তাই ধর্মীয় অনুষ্ঠান অধিকাংশই সূর্যকে ঘিরে উদযাপিত হয়। এছাড়া ওরাওঁ সমাজ নানা দেবতায় বিশ্বাসী ঐসব দেবতার প্রতিকী অবস্থান গ্রাম, কৃষিসম্পদ, অরণ্য, মহামারী ইত্যাদি বিষয়কে কেন্দ্র করে। এদের তুষ্টির জন্য রয়েছে ধর্মীয় উৎসব অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা। কোন কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সঙ্গে হিন্দুদের পূজার মিল পাওয়া যায়, যেমন হিন্দু সম্প্রদায়ের 'ভাদু' উৎসবের সঙ্গে ওরাওঁ দের 'করম' উৎসবের মিল অত্যন্ত স্পষ্ট। 'কদম' শাখাকে ঘিরে অনুষ্ঠিত এ উৎসবের সঙ্গে ভূমির উর্বরতা নিশ্চিত করার সম্পর্ক রয়েছে। গাছ, ফুল ও ফলের পূজা তথা উদ্ভিদ বন্দনার উদ্দেশ্য ফসল ফলানো ও গোষ্ঠী রক্ষা। এদের 'উবরতা ব্রত' আর 'যৌনতা ব্রতে'র মধ্যে প্রভেদ নেই। এসবের সংঙ্গে জীবনযাপন, অস্তিত্বরক্ষা এবং আনন্দময়তার নিকট সম্পর্ক রয়েছে। ধমীর্য় অনুষ্ঠান আর ঋতু উৎসব তাদের জীবনযাত্রা ও সামাজিক প্রয়োজনের সঙ্গে একাকার হয়ে রয়েছে। এদের যাদুশক্তিতে বিশ্বাস জীবনযাপন থেকে ভিন্ন কিছু নয়। ওরাওঁদের বিচিত্র সব ব্রত পূজায় যেমন বৈশাখে 'বসুন্ধরা ব্রত', 'ভাদ্রে ভাদব ব্রত', কিংবা 'অঘ্রাণে সেঁজুতি' ও ফাল্গুনে 'ইতু', এমনকি চৈত্রে 'বসন্ত' উৎসব 'সরহুল' এ প্রতিফলিত হয় কৃষিনির্ভর জীবনাযাত্রার বিভিন্ন রূপ। এসব ব্রত অনুষ্ঠানে নারীদের ভূমিকা প্রধান।
    অন্যান্য আদিবাসীদের মতো ওরাওঁ সমাজও নৃত্যগীতবাদ্য অনুরাগী। নৃত্যগীত এদের সামাজিক সাংস্কৃতিক জীবনের অপরিহার্য অঙ্গ। ঝুমুর গানে ওরাওঁ ভক্তিবাদিতার পাশাপাশি জীবনযাপনের নানা অনুষঙ্গ পরিস্ফুট। ওরাওঁদের সামাজিক জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক 'ধুমকুরিয়া' ঠিক যেমন 'গারো'দের 'দেকাচাঙ' কিংবা সাঁওতালদের 'আখড়া' আর মুরিয়াদের 'ঘটুল'। অনেকটা ডর্মিটরি ধরনের জায়গায় একত্রে বেশ কিছুদিন বসবাসের ব্যবস্থাসম্বলিত এ অনুষ্ঠানে ওরাওঁ তরুণ তরুণীদের পরস্পর মেলামেশার সুযোগ ভবিষৎ জীবনসঙ্গি ও সঙ্গিনী র্নিবাচনের অবকাশ তৈরী হয়। ওরাওঁ সমাজে বিবাহ পদ্ধতি অনেকটা সাঁওতাল ও মুন্ডাদের মতোই। পারিবারিক ব্যবস্থার মাধ্যমে বিয়ের অনুষ্ঠান হলেও পাত্রপাত্রীরা মতামত সেখানে প্রাধান্য পায়। অপ্রাপ্তবয়স্ক বিবাহ সমাজে সমর্থন পায় না। এদের মধ্যে বিধবা বিবাহ কিংবা ঘরভাঙ্গা বিয়েও প্রচলিত। বিবাহ বিচ্ছেদও সামাজিকভাবে স্বীকৃত। স্ত্রী ও পুরুষ একাধিকবার বিয়ে করতে পারে, তবে কোন পুরুষ একসঙ্গে একাধিক স্ত্রী রাখতে পারে না।
    ওরাওঁ নারীপুরুষ পরিচ্ছদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সাদাসিধা। মেয়েরা মোটা শাড়ি এবং পুরুষরা ধুতি, লুঙ্গি পরে, গরিবদের পরনে থাকে গামছা। মেয়েরা অলল্কারপ্রিয়। ফুল তাদের সাজ ও শোভাবর্ধনের অঙ্গ। শরীরে উল্কিচিহ্ণ ধারণ স্ত্রী পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই সামাজিক রীতি হিসেবে স্বীকৃত। সচ্ছল বা শিক্ষিত ওরাওঁ পুরুষদের সার্ট-প্যান্ট বা পাজামা-পাঞ্জাবি পরতে দেখা যায়, আর মেয়েরা শাড়ি-ব্লাউজ পরে থাকে।
    ওরাওঁ পরিবারের প্রধান আহার্য্য ভাত। সেই সঙ্গে থাকে শাক-সবজি, মাছ বা মাংস। ঘরে তৈরি মদ 'পচাঁই' তাদের প্রধান পানীয়। সাধারণত ভাত পচিয়ে 'পচাঁই' তৈরি হয়। কৃষিকর্ম ওরাওদেঁর জীবিকার প্রধান উপায় হালচাষ পুরুষ সদস্যরা করে, তবে অন্যান্য কাজে মেয়েরা অংশ নিয়ে থাকে। তাছাড়া মাছ, তরি-তরকারি ফলমূল বিক্রয়ের কাজ মেয়েরা করে। পুরুষের তুলনায় মেয়েরা অনেক বেশি কর্মঠ। ভূমিহীন ওরাওঁ নারী পুরুষদের ক্ষেত্রমজুর বা কুলি কামিন হিসেবে কাজ করতে দেখা যায়।
    ওরাওঁদের মৃতদেহ চিতার আগুনে ভস্মীভূত করার রীতি প্রচলিত। মৃতদেহের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও শেষকৃত্যের অনুসঙ্গ হিসেবে ফুল ও পাতার নৈবেদ্য প্রদানের প্রথাও প্রচলিত। আনুষ্ঠানিক শোক প্রকাশের রীতিও সমাজে রয়েছে।
    ওরাওঁ সমাজ এখনও প্রাচীন পঞ্চায়েত ব্যবস্থার অধীন। ওরাওদেঁর মধ্যে আধুনিক শিক্ষার প্রসার সামান্যই ঘটেছে। অশিক্ষার প্রধান কারণ দারিদ্র, সেই সঙ্গে প্রাচীন ঐতিহ্য ও রীতি প্রথার প্রতি অনড় অনুগত সাম্প্রতিকালে খ্রিষ্টান ধর্মযাজদের তরফ থেকে শিক্ষার প্রসার ঘটানোর চেষ্টা চলছে। স্বভাবতই এতে খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিতদের সংখ্যা বাড়ছে। তাদের অর্থনৈতিক উন্নতিতে এনজিও কর্মকান্ডেরও কিছু প্রভাব লক্ষণীয়।
     

Pls Share This Page:

Users Viewing Thread (Users: 0, Guests: 0)