1. Hi Guest
    Pls Attention! Kazirhut Accepts Only Bengali (বাংলা) & English Language On this board. If u write something with other language, you will be direct banned!

    আপনার জন্য kazirhut.com এর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার :

    যে কোন সফটওয়্যারের ফুল ভার্সন প্রয়োজন হলে Software Request Center এ রিকোয়েস্ট করুন।

    Discover Your Ebook From Our Online Library E-Books | বাংলা ইবুক (Bengali Ebook)

Collected জীবনানন্দ দাশের জীবনী ও তার লেখা কবিতাসমগ্র

Discussion in 'Collected' started by Tazul Islam, May 9, 2016. Replies: 298 | Views: 13482

  1. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    এই সব বিকেলের হেমন্তের সূর্যছবি- তবু
    দেখাবার মতো আজ কোনো দিকে কেউ
    নেই আর, অনেকেই মাটির শয়ানে ফুরাতেছে।
    মানুষেরা এই সব পথে এসে চ’লে গেছে,- ফিরে
    ফিরে আসে;- তাদের পায়ের রেখায় পথ
    কাটে কারা, হাল ধরে, বীজ বোনে, ধান
    সমুজ্বল কী অভিনিবেশে সোনা হয়ে ওঠে- দেখে;
    সমস্ত দিনের আঁচ শেষ হলে সমস্ত রাতের
    অগণন নক্ষত্রেও ঘুমাবার জুড়োবার মতো
    কিছু নেই;- হাতুড়ি করাত দাঁত নেহাই তুর্‌পুন্
    পিতাদের হাত থেকে ফিরেফির্‌তির মতো অন্তহীন
    সন্ততির সন্ততির হাতে
    কাজ ক’রে চ’লে গেছে কতো দিন।
    অথবা এদের চেয়ে আরেক রকম ছিলো কেউ-কেউ;
    ছোটা বা মাঝারি মধ্যবিত্তদের ভিড়;-
    সেইখানে বই পড়া হত কিছু- লেখা হত;
    ভয়াবহ অন্ধকারে সরুসলতের
    রেড়ীর আলোয় মতো কী যেন কেমন এক আশাবাদ ছিল
    তাহাদের চোখে মুখে মনের নিবেশে বিমনস্কতায়;
    সাংসারে সমাজে দেশে প্রত্যন্তও পরাজিত হলে
    ইহাদের মনে হত দীনতা জয়ের চেয়ে বড়;
    অথবা বিজয় পরাজয় সব কোনো- এক পলিত চাঁদের
    এ-পিঠ ও-পিঠ শুধু;- সাধনা মৃত্যুর পরে লোকসফলতা
    দিয়ে দেবে; পৃথিবীতে হেরে গেলে কোনো ক্ষোভ নেই।

    * * *
     
  2. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    মাঝে-মাঝে প্রান্ত্রের জ্যোৎস্নায় তারা সব জড়ো হয়ে যেত-
    কোথাও সুন্দর প্রেতসত্য আছে জেনে তবু পৃথিবীর মাটির কাঁকালে
    কেমন নিবিড়ভাবে হয়ে ওঠে, আহা।
    সেখানে স্থবির যুবা কোনো- এক তন্বী তরুণীর
    নিজের জিনিস হতে স্বীকার পেয়েছে ভাঙ্গা চাঁদে
    অর্ধ সত্যে অর্ধ নৃত্যে আধেক মৃত্যুর অন্ধকারেঃ
    অনেক তরুণী যুবা- যৌবরাজ্যে যাহাদের শেষ
    হয়ে গেছে- তারাও সেখানে অগণন
    চৈত্রের কিরণে কিংবা হেমন্তের আরো।
    অনবলুন্ঠিত ফিকে মৃগতৃষ্ণিকার
    মতন জ্যোৎস্নায় এসে গোল হয়ে ঘুরে-ঘুরে প্রান্তরের পথে
    চাঁদকে নিখিল ক’রে দিয়ে তবু পরিমেয় কলঙ্কে নিবিড়
    ক’রে দিতে চেয়েছিল,- মনে মনে- মুখে নয়- দেহে
    নয়; বাংলার মানসসাধনশীত শরীরের চেয়ে আরো বেশি
    জয়ী হয়ে শুক্ল রাতে গ্রামীণ উৎসব
    শেষ ক’রে দিতে গিয়ে শরীরের কবলে তো তবুও ডুবেছে বার-বার
    অপরাধী ভীরুদের মতো প্রাণে।
    তারা সব মৃত আজ।
    তাহাদের সন্ততির সন্ততিরা অপরাধী ভীরুদের মতন জীবিত।
    ‘ঢের ছবি দেখা হল- ঢের দিন কেটে গেল- ঢের অভিজ্ঞতা
    জীবনে জড়িত হয়ে গেল, তবু, হাতে খননের
    অস্ত্র নেই- মনে হয়- চারিদিকে ঢিবি দেয়ালের
    নিরেট নিঃসঙ্গ অন্ধকার’- ব’লে যেন কেউ যেন কথা বলে।
    হয়তো সে বাংলার জাতীয় জীবন।
    সত্যের নিজের রূপ তবুও সবের চেয়ে নিকট জিনিস
    সকলের; অধিগত হলে প্রাণ জানালার ফাঁক দিয়ে চোখের মতন
    অনিমেষ হয়ে থাকে নক্ষত্রের আকাশে তাকালে।
    আমাদের প্রবীণেরা আমাদের আচ্ছন্নতা দিয়ে গেছে?
    আমাদের মনীষীরা আমাদের অর্ধসত্য ব’লে গেছে
    অর্ধমিথ্যার? জীবন তবুও অবিস্মরণীয় সততাকে
    চায়; তবু ভয়- হয়তো বা চাওয়ার দীনতা ছাড়া আর কিছু নেই।
     
  3. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ঢের ছবি দেখা হল- ঢের দিনে কেটে গেল-ঢের অভিজ্ঞতা
    জীবলে জড়িত হয়ে গেল, তবু, নক্ষত্রের রাতের মতন
    সফলতা মানুষের দূরবীনে র’য়ে গেছে,- জ্যোতির্গ্রন্থে;
    জীবনের জন্যে আজো নেই।
    অনেক মানুষী খেলা দেখা হলো, বই পড়া সাঙ্গ হলো-ত বু
    কে বা কাকে জ্ঞান দেবে- জ্ঞান বড় দূর- দূরতর আজ।
    সময়ের ব্যাপ্তি যেই জ্ঞান আনে আমাদের প্রাণে
    তা তো নেই; স্থবিরতা আছে- জরা আছে।
    চারিদিক থেকে ঘিরে কেবলি বিচিত্র ভয় ক্লান্তি অবসাদ
    র’য়ে গেছে। নিজেকে কেবলি আত্মকীড় করি; নীড়
    গড়ি। নীড় ভেঙে অন্ধকারে এই যৌথ মন্ত্রণার
    মাল্যিন এড়ায়ে উৎক্রান্ত হতে ভয়
    পাই। সিন্ধুশব্দ বায়ুশব্দ রৌদ্রশব্দ রক্তশব্দ মৃত্যশব্দ এসে
    ভয়াবহ ডাইনীর মতো নাচে- ভয় পাই- গুহার লুকাই;
    লীন হতে চাই- লীন- ব্রহ্মশব্দে লীন হয়ে যেতে
    চাই। আমাদের দু’হাজার বছরের জ্ঞান এ-রকম।
    নচিকেতা ধর্মধনে উপবাসী হয়ে গেলে যম
    প্রীত হয়। তবুও ব্রহ্মে লীন হওয়াও কঠিন।
    আমারা এখনও লুপ্ত হই নি তো।
    এখনও পৃথিবী সূর্যে হয়ে রৌদ্রে অন্ধকারে
    ঘুরে যায়। থামালেই ভালো হত- হয়তো বা;
    তবুও সকলই উৎস গতি যদি,- রৌদ্রশুভ্র সিন্ধুর উৎসবে
    পাখির প্রমাথা দীপ্তি সাগরের সূর্যের স্পর্শে মানুষের
    হৃদয়ে প্রতীক ব’লে ধরা দেয় জ্যাতির পথের থেকে যদি,
    তাহলে যে আলো অর্ঘ্য ইতিহাসে আছে, তবু উৎসাহ নিবেশ
    যেই জনমানসের অনির্বচনীয় নিঃসঙ্কোচ
    এখনও আসে নি তাকে বর্তমান অতীতের দিকচক্রবালে বার-বার
    নেভাতে জ্বালাতে গিয়ে মনে হয় আজকের চেয়ে আরো দূর
    অনাগত উত্তরণলোক ছাড়া মানুষের তরে
    সেই প্রীতি, স্বর্গ নেই, গতি আছে;- তবু
    গতির ব্যসন থেকে প্রগতি অনেক স্থিরতর;
    সে অনেক প্রতারণাপ্রতিভার সেতুলোক পার
    হল ব’লে স্থির;-হতে হবে ব’লে দীন, প্রমাণ কঠিন;
    তবুও প্রেমিক- তাকে হতে হবে; সময় কোথাও
    পৃথিবীর মানুষের প্রয়োজন জেনে বিরচিত নয়; তবু
    সে তার বহিমুর্খ চেতনার দান সব দিয়ে গেছে ব’লে
    মনে হয়; এর পর আমাদের অন্তর্দীপ্ত হবার সময়।
     
  4. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    উত্তরসাময়িকী
    বেলা অবেলা কালবেলা (১৯৬১) জীবনানন্দ দাশ

    আকাশের থেকে আলো নিভে যায় ব’লে মনে হয়।
    আবার একটি দিন আমাদের মৃগতৃষ্ণার মতো পৃথিবীতে
    শেষ হয়ে গেল তবে;— শহরের ট্রাম
    উত্তেজিত হয়ে উঠে সহজেই ভবিতব্যতার
    যাত্রীদের বুকে নিয়ে কোন্‌ এক নিরুদ্দেশ কুড়োতে চলেছে।
    এই দিকে পায়দলদের ভিড়—অই দিকে টর্চের মশালে বার—বার
    যে যার নিজের নামে সকলের চেরে আগে নিজের নিকটে
    পরিচিত;— ব্যক্তির মতন নিঃসহায়;
    জনতাকে অবিকল অমঙ্গল সমুদ্রের মতো মনে ক’রে
    যে যার নিজের কাছে নিবারিত দ্বীপের মতন
    হয়ে পড়ে অভিমানে—ক্ষমাহীন কঠিন আবেগে।


    সে মুহূর্ত কেটে যায়; ভালোবাসা চায় না কি মানুষ নিজের
    পৃথিবীর মানুষের? শহরে রাত্রির পথে হেঁটে যেতে যেতে
    কোথাও ট্রাফিক থেকে উৎসারিত অবিরল ফাঁস
    নাগপাশ খুলে ফেলে কিছুক্ষণ থেমে থেমে এ রকম কথা
    মনে হয় অনেকেরই;—
    আত্মসমাহিতিকূট ঘুমায়ে গিয়েছে হৃদয়ের!
    তবু কোনো পথ নেই এখনো অনেক দিন, নেই।
    একটি বিরাট যুদ্ধ শেষ হয়ে নিভে গেছে প্রায়।
    আমাদের আধো-চেনা কোনো-এক পুরোনো পৃথিবী
    নেই আর। আমাদের মনে চোখে প্রচারিত নতুন পৃথিবী
    আসে নি তো।
    এই দুই দিগন্তের থেকে সময়ের
    তাড়া খেয়ে পলাতক অনেক পুরুষ—নারী পথে
    ফুটপাতে মাঠে জীপে ব্যারাকে হোটেলে অলিগলির উত্তেজে
    কমিটি-মিটিঙে ক্লাবে অন্ধকারে অনর্গল ইচ্ছার ঔরসে
    সঞ্চারিত উৎসবের খোঁজে আজো সূর্যের বদলে
    দ্বিতীয় সূর্যকে বুঝি শুধু অন্ন, শক্তি, অর্থ, শুধু মানবীর
    মাংসের নিকটে এসে ভিক্ষা করে। সারাদিন— অনেক গভীর
    রাতের নক্ষত্র ক্লান্ত হয়ে থাকে তাদের বিলোল কাকলীতে।
    সকল নেশন আজ এই এক বিলোড়িত মহা-নেশনের
    কুয়াশায় মুখ ঢেকে যে যার দ্বীপের কাছে তবু
    সত্য থেকে— শতাব্দীর রাক্ষসী বেলায়
    দ্বৈপ-আত্মা-অন্ধকার এক-একটি বিমুখ নেশন।


    শীত আর বীতশোক পৃথিবীর মাঝখানে আজ
    দাঁড়ায়ে এ জীবনের কতগুলো পরিচিত সত্ত্বশূন্য কথা—
    যেমন নারীর প্রেম, নদীর জলের বীথি, সারসের আশ্চর্য ক্রেঙ্কার
    নীলিমায়, দীনতায় যেই জ্ঞান, জ্ঞানের ভিতর থেকে যেই
    ভালোবাসা; মানুষের কাছে মানুষের স্বাভাবিক
    দাবীর আশ্চর্য বিশুদ্ধতা; যুগের নিকটে ঋণ, মনবিনিময়,
    এবং নতুন জননীতিকের কথা— আরো স্মরণীয় কাজ
    সকলের সুস্থতার— হৃদয়ের কিরিণের দাবী করে; আর অদূরের
    বিজ্ঞানের আলাদা সজীব গভীরতা;
    তেমন বিজ্ঞান যাহা নিজের প্রতিভা দিয়ে জেনে সেবকের
    হাত দিব্য আলোকিত ক’রে দেয়— সকল সাধের
    কারণ-কর্দম-ফেণা প্রিয়তর অভিষেকে স্নিগ্ধ ক’রে দিতে;—
    এই সব অনুভব ক’রে নিয়ে সপ্রতিভ হতে হবে না কি।
    রাত্রির চলার পথে এক তিল অধিক নবীন
    সম্মুখীন— অবহিত আলোকবর্ষের নক্ষত্রেরা
    জেগে আছে। কথা ভেবে আমাদের বহিরাশ্রয়িতা
    মানবস্বভাবস্পর্শে আরো ঋত— অন্তর্দীপ্ত হয়।

     
  5. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    একটি কবিতা
    বেলা অবেলা কালবেলা (১৯৬১) জীবনানন্দ দাশ

    আমার আকাশ কালো হতে চায় সময়ের নির্মম আঘাতে;
    জানি, তবু ভোরে রাত্রে, এই মহাসময়েরই কাছে
    নদী ক্ষেত বনানীর ঝাউয়ে ঝরা সোনার মতন
    সূর্যতারাবীথির সমস্ত অগ্নির শক্তি আছে।
    হে সুবর্ণ, হে গভীর গতির প্রবাহ,
    আমি মন সচেতন;—আমার শরীর ভেঙে ফেলে
    নতুন শরীর কর—নারীকে যে উজ্জ্বল প্রাণনে
    ভালোবেসে আভা আলো শিশিরের উৎসের মতন,
    সজ্জন স্বর্ণের মতো শিল্পীর হাতের থেকে নেমে;
    হে আকাশ, হে সময়গ্রন্থি সনাতন,
    আমি জ্ঞান আলো গান মহিলাকে ভালোবেসে আজ;
    সকালের নীলকন্ঠ পাখি জল সূর্যের মতন।
     
  6. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    গভীর এরিয়েলে
    বেলা অবেলা কালবেলা (১৯৬১) জীবনানন্দ দাশ

    ডুবলো সূর্য; অন্ধকারের অন্তরালে হারিয়ে গেছে দেশ।
    এমনতর আঁধার ভালো আজকে কঠিন রুক্ষ শতাব্দীতে।
    রক্ত-ব্যথা ধনিকতার উষ্ণতা এই নীরব স্নীগ্ধ অন্ধকারের শীতে
    নক্ষত্রদের স্থির সমাসীন পরিষদের থেকে উপদেশ
    পায় না নব; তবুও উত্তেজনাও যেন পায় না এখন আর;
    চারদিকেতে সার্থবাহের ফ্যাক্টার ব্যঙ্ক মিনার জাহাজ—সব,
    ইন্দ্রলোকের অপ্সরীদের ঘাটা,
    গ্লাসিয়ারের যুগের মতন আঁধারে নীরব।


    অন্ধকারের এ-হাত আমি ভালোবাসি; চেনা নারীর মতো
    অনেক দিনের অদর্শনার পরে আবার হাতের কাছে এসে
    জ্ঞানের আলো দিনকে দিয়ে কি অভিনিবেশে
    প্রেমের আলো প্রেমকে দিতে এসেছে সময় মতো;
    হাত দু’খানা ক্ষমাসফল; গণনাহীন ব্যক্তিগত গ্লানি
    ইতিহাসের গোলকধাঁধায় বন্দী মরুভূমি-
    সবের প্রে মৃত্যুতে নয়—নীরবতায় আত্মবিচারের
    আঘাত দেবার ছলে কি রাত এমন স্নিগ্ধ তুমি।


    আজকে এখন আধাঁরে অনেক মৃত ঘুমিয়ে আছে।
    অনেক জীবিতেরা কঠিন সাঁকো বেয়ে মৃত্যুনদীর দিকে
    জলের ভিতর নামছে—ব্যবহৃত পৃথিবীটিকে
    সন্ততিদের চেয়েও বেশি দৈব আধাঁর আকাশবাণীর কাছে
    ছেড়ে দিয়ে—স্থির ক’রে যায় ইতিহাসের গতি।
    যারা গেছে যাচ্ছে—রাতে যাবো সকলি তবে।
    আজকে এ-রাত তোমার থেকে আমায় দূরে দাঁড় করিয়ে দিয়ে
    তবুও তোমার চোখে আত্মা আত্মীয় এক রাত্রি হয়ে রবে।


    তোমায় ভালোবেসে আমি পৃথিবীতে আজকে প্রেমিক, ভাবি।
    তুমি তোমার নিজের জীবন ভালোবাস; কথা
    এইখানেতেই ফুরিয়ে গেছে; শুনেছি তোমার আত্মলোলুপতা
    প্রেমের চেয়ে প্রাণের বৃহৎ কাহিনীদের কাছে গিয়ে দাবি
    জানিয়ে নিদয় খৎ দেখিয়ে আদায় ক’রে নেয়
    ব্যাপক জীবন শোষণ ক’রে যে-সব নতুন সচল স্বর্গ মেলে;
    যদিও আজ রাষ্ট সমাজ অতীত অনাগতের কাছে তমসুকে বাধাঁ,
    প্রাণাকাশে বচনাতীত রাত্রি আসে তবুও তোমার গভীর এরিয়েলে।

     
  7. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    চারিদিকে প্রকৃতির
    বেলা অবেলা কালবেলা (১৯৬১) জীবনানন্দ দাশ

    চারিদিকে প্রকৃতির ক্ষমতা নিজের মতো ছড়ায়ে রয়েছে।
    সূর্য আর সূর্যের বনিতা তপতী—
    মনে হয় ইহাদের প্রেম
    মনে ক’রে নিতে গেলে, চুপে
    তিমিরবিদারী রীতি হয়ে এরা আসে
    আজ নয়,—কোনো এক আগামী আকাশে।
    অন্নের ঋণ,বিমলিন স্মৃতি সব
    বন্দ্র বস্তির পথে কোনো এক দিন
    নিমেষের রহস্যের মতো ভুলে গিয়ে
    নদীর নারীর কথা—আরো প্রদীপ্তির কথা সব
    সহসা চকিত হয়ে ভেবে নিতে গেলে বুঝি কেউ
    হৃদয়কে ঘিরে রাখে দিতে চায় একা আকাশের
    আশেপাশে অহেতুক ভাঙা শাদা মেঘের মতন।
    তবুও নারীর নাম ঢের দূরে আজ,
    ঢের দূরে মেঘ;
    সারাদিন নিলেমেয় কালিমার খারিজের কাজে মিশে থেকে
    ছুটি নিতে ভালোবেসে ফেলে যদি মন
    ছুটি দিতে চায় না বিবেক।
    মাঝে-মাঝে বাহিরের অন্তহীন প্রসারের থেকে
    মানুষের চোখে-পড়া-না-পড়া সে কোন স্বভাবের
    সুর এসে মানবের প্রাণে
    কোন এক মানে পেতে চায়ঃ
    যে-পৃথিবী শুভ হতে গিয়ে হেরে গেছে সেই ব্যর্থতার মানে।
    চারিদিকে কলকাতা টোকিও দিল্লী মস্কো আতলান্তিকের কলরব,
    সরবরাহের ভোর,
    অনুপম ভোরাইয়ের গান;
    অগণন মানুষের সময় ও রক্তের জোগান
    ভাঙে গড়ে ঘর বাড়ি মরুভূমি চাঁদ
    রক্ত হাড় বসার বন্দর জেটি ডক;
    প্রীতি নেই,—পেতে গেলে হৃদয়ের শান্তি স্বর্গের
    প্রথম দুয়ারে এসে মুখরিত ক’রে তোলে মোহিনী নরক।
    আমাদের এ-পৃথিবীর যতদুর উন্নত হয়েছে
    ততদূর মানুষের বিবেক সফল।
    সে-চেতনা পিরামিডে পেপিরাসে প্রিন্টিং-প্রেসে ব্যাপ্ত হয়ে
    তবুও অধিক আধুনিকতর চরিত্রের বল।
    শাদাশাদে মনে হয় সে-সব ফসলঃ
    পায়ের চলার পথে দিন আর রাত্রির মতন;—
    তবুও এদের গতি স্নিগ্ধ নিয়ন্ত্রিত ক’রে বার বার উত্তর সমাজ
    ঈষৎ অনন্যসাধারণ।




     
  8. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    জয়জয়ন্তী সূর্য
    বেলা অবেলা কালবেলা (১৯৬১) জীবনানন্দ দাশ

    কোনো দিন নগরীর শীতের প্রথম কুয়াশায়
    কোনো দিন হেমন্তের শালিখের রঙে ম্লান মাঠের বিকেলে
    হয়তো বা চৈত্রের বাতাসে
    চিন্তার সংবেগ এসে মানুষের প্রাণে হাত রাখেঃ
    তাহাকে থামায়ে রাখে।
    সে-চিন্তার প্রাণ
    সাম্রাজ্যের উত্থানের পতনের বিবর্ণ সন্তান
    হয়েও যা কিছু শুভ্র র’য়ে গেছে আজ-
    সেই সোম-সুপর্ণের থেকে এই সূর্যের আকাশে-
    সে-রকম জীবনের উত্তরাধিকার নিয়ে আসে।
    কোথাও রৌদ্রের নাম-
    অন্নের নারীর নাম ভালো ক’রে বুঝে নিতে গেলে
    নিয়মের নিগড়ের হাত এসে ফেঁদে
    মানুষকে যে-আবেগে যত দিন বেঁধে
    রেখে দেয়,
    যত দিন আকাশকে জীবনের নীল মরুভূমি মনে হয়,
    যত দিন শূন্যতার ষোলো কলা পূর্ণ হয়ে- তবে
    বন্দরে সৌধের ঊর্ধ্বে চাঁদের পরিধি মনে হবে,-
    তত দিন পৃথিবীর কবি আমি- অকবির অবলেশ আমি
    ভয় পেয়ে দেখি- সূর্য ওঠে;
    ভয় পেয়ে দেখি- অস্তগামী।
    যে-সমাজ নেই তবু র’য়ে গেছে, সেখানে কায়েমী
    মরুকে নদীর মতো মনে ভেবে অনুপম সাঁকো
    আজীবন গ’ড়ে তবু আমাদের প্রাণে
    প্রীতি নেই- প্রেম আসে নাকো’।
     
  9. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    কোথাও নিয়তিহীন নিত্য নরনারীদের খুঁজে
    ইতিহাস হয়তো ক্রান্তির শব্দ শোনে, পিছে টানে;
    অনন্ত গণনাকাল সৃষ্টি ক’রে চলে;
    কেবলই ব্যক্তির মৃত্যু গণনাবিহীন হয়ে প’ড়ে থাকে জেনে নিয়ে- তবে
    তাহাদের দলে ভিড়ে কিছু নেই- তবু
    সেই মহাবাহিনীর মতো হতে হবে?

    সংকল্পের সকল সময়
    শূন্য মনে হয়
    তবুও তো ভোর আসে- হঠাৎ উৎসের মতো, আন্তরিকভাবে;
    জীবনধারণ ছেপে নয়,- তবু
    জীবনের মতন প্রভাবে;
    মরুর বালির চেয়ে মিল মনে হয়
    বালিছুট সূর্যের বিস্ময়।
    মহীয়ান কিছু এই শতাব্দীতে আছে,- আরো এসে যেতে পারেঃ
    মহান সাগর গ্রাম নগর নিরুপম নদী;-
    যদিও কাহারো প্রাণে আজ এই মরণের কালিমাকে ক্ষমা করা যাবে;
    অনুভব করা যাবে স্মরণের পথ ধ’রে চ’লেঃ
    কাজ ক’রে ভুল হলে, রক্ত হলে, মানুষের অপরাধ ম্যামথের ময়
    কত শত রূপান্তর ভেঙে জয়জয়ন্তীর সূর্য পেতে হলে।
     
  10. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    তার স্থির প্রেমিকের নিকট
    বেলা অবেলা কালবেলা (১৯৬১) জীবনানন্দ দাশ

    বেঁচে থেকে কোনো লাভ নেই,- -আমি বলিনাতো।
    কারো লাভ আছে;– সকলেরই;– হয়তো বা ঢের।
    ভাদ্রের জ্বলন্ত রৌদ্রে তবু আমি দূরতর সমুদ্রের জলে
    পেয়েছি ধবল শব্দ– বাতাসতাড়িত পাখিদের।


    মোমের প্রদীপ বড়ো ধীরে জ্ব’লে– ধীরে জ্বলে আমার টেবিলে;
    মনীষার বইগুলো আরো স্থির,– শান্ত,– আরাধনাশীল;
    তবু তুমি রাস্তার বার হ’লে,- ঘরেরও কিনারে ব’সে টের পাবে নাকি
    দিকে-দিকে নাচিতেছে কী ভীষণ উন্মত্ত সলিল।


    তারি পাশে তোমারে রুধির কোনো বই- কোনো প্রদীপের মতো আর নয়,
    হয়তো শঙ্খের মতো সমুদ্রের পিতা হ’য়ে সৈকতের পরে
    সেও সুর আপনার প্রতিভায়- নিসর্গের মতোঃ
    রূপ–প্রিয়– প্রিয়তম চেতনার মতো তারপরে
    তাই আমি ভীষণ ভিড়ের ক্ষোভে বিস্তীর্ণ হাওয়ার স্বাদ পাই;
    না হলে মনের বনে হরিণীকে জড়ায় ময়ালঃ
    দণ্ডী সত্যাগ্রহে আমি সে-রকম জীবনের করুণ আভাস
    অনুভব করি; কোনো গ্লাসিয়ার- হিম স্তব্ধ কর্মোরেন্ট পাল–
    বুঝিবে আমার কথা; জীবনের বিদ্যুৎ-কম্পাস অবসানে
    তুষার-ধূসর ঘুম খাবে তারা মেরুসমুদ্রের মতো অনন্ত ব্যাদানে।

     

Pls Share This Page:

Users Viewing Thread (Users: 0, Guests: 0)