1. Hi Guest
    Pls Attention! Kazirhut Accepts Only Bengali (বাংলা) & English Language On this board. If u write something with other language, you will be direct banned!

    আপনার জন্য kazirhut.com এর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার :

    যে কোন সফটওয়্যারের ফুল ভার্সন প্রয়োজন হলে Software Request Center এ রিকোয়েস্ট করুন।

    Discover Your Ebook From Our Online Library E-Books | বাংলা ইবুক (Bengali Ebook)

Collected জীবনানন্দ দাশের জীবনী ও তার লেখা কবিতাসমগ্র

Discussion in 'Collected' started by Tazul Islam, May 9, 2016. Replies: 298 | Views: 13220

  1. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    যতদিন পৃথিবীতে
    বেলা অবেলা কালবেলা (১৯৬১) জীবনানন্দ দাশ

    যতদিন পৃথিবীতে জীবন রয়েছে
    দুই চোখ মেলে রেখে স্থির
    মৃত্যু আর বঞ্চনার কুয়াশার পারে
    সত্য সেবা শান্তি যুক্তির
    নির্দেশের পথ ধ’রে চ’লে
    হয়তো-বা ক্রমে আরো আলো
    পাওয়া যাবে বাহিরে—হৃদয়ে;
    মানব ক্ষয়িত হয় না জাতির ব্যক্তির ক্ষয়ে।


    ইতিহাস ঢের দিন প্রমাণ করেছে
    মানুষের নিরন্তর প্রয়াণের মানে
    হয়তো-বা অন্ধকার সময়ের থেকে
    বিশৃঙ্খল সমাজের পানে
    চ’লে যাওয়া;—গোলকধাঁধাঁর
    ভুলের ভিতর থেকে আরো বেশি ভুলে;
    জীবনের কালোরঙা মানে কি ফুরুবে।
    শুধু এই সময়ের সাগর ফুরুলে।


    জেগে ওঠে তবু মানুষ রাত্রিদিনের উদয়ে;
    চারিদিকে কলরোল করে পরিভাষা
    দেশের জাতির ব্যর্থ পৃথিবীর তীরে;
    ফেনিল অস্ত্র পাবে আশা?
    যেতেছে নিঃশেষ হয়ে সব?
    কী তবে থাকবে?
    আঁধার ও মননের আজকের এ নিষ্ফল রীতি
    মুছে ফেলে আবার সচেষ্ট হয়ে উঠবে প্রকৃতি?


    ব্যর্থ উওরাধিকারে মাঝে-মাঝে তবু
    কোথাকার স্পষ্ট সুর্য-বিন্দু এসে পড়ে;
    কিছু নেই উত্তেজিত হলে;
    কিছু নেই স্বার্থের ভিতরে;
    ধনের অদেয় কিছু নেই, সেই সবই
    জানে এ খন্ডিত রক্ত বণিক পৃথিবী;
    অন্ধকারে সব-চেয়ে সে-শরণ ভালোঃ
    যে-প্রেম জ্ঞানের থেকে পেয়েছে গভীরভাবে আলো।

     
  2. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    যদিও দিন
    বেলা অবেলা কালবেলা (১৯৬১) জীবনানন্দ দাশ

    যদিও দিন কেবলি নতুন গল্পবিশ্রুতির
    তারপরে রাত অন্ধকারে থেমে থাকাঃ—লুপ্তপ্রায় নীড়
    সঠিক ক’রে নেয়ার মতো শান্ত কথা ভাবা;
    যদিও গভীর রাতের তারা (মনে হয়) ঐশী শক্তির;


    তবুও কোথাও এখন আর প্রতিভা আভা নেই;
    অন্ধকারে কেবলি সময় হৃদয় দেশ ক্ষ’য়ে
    যেতেছে দেখে নীলিমাকে অসীম ক’রে তুমি
    বলতে যদি মেঘনা নদীর মতন অকূল হয়ে;


    ‘আমি তোমার মনের নারী শরীরিণী—জানি;
    কেন তুমি স্তব্ধ হয়ে থাকো।
    তুমি আছ ব’লে আমি কেবলই দূরে চলতে ভালোবাসি,
    চিনি না কোনো সাঁকো।


    যতটা দূর যেতেছি আমি সূর্যকরোজ্জ্বলতাময় প্রাণে
    ততই তোমার সত্ত্বাধিকার ক্ষয়
    পাচ্ছে ব’লে মনে কর? তুমি আমার প্রাণের মাঝে দ্বীপ,
    কিন্তু সে-দ্বীপ মেঘনা নদী নয়।’-


    এ-কথা যদি জলের মতো উৎসারণে তুমি
    আমাকে—তাকে—যাকে তুমি ভালোবাসো তাকে
    ব’লে যেতে;—শুনে নিতাম, মহাপ্রাণের বৃক্ষ থেকে পাখি
    শোনে যেমন আকাশ বাতাস রাতের তারকাকে।

     
  3. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    শতাব্দী
    বেলা অবেলা কালবেলা (১৯৬১) জীবনানন্দ দাশ

    চার দিকে নীল সাগর ডাকে অন্ধকারে, শুনি;
    ঐখানেতে আলোকস্তম্ভ দাঁড়িয়ে আছে ঢের
    একটি-দুটি তারার সাথে — তারপরেতে অনেকগুলো তারা;
    অন্নে ক্ষুধা মিটে গেলেও মনের ভিতরের
    ব্যথার কোনো মীমাংসা নেই জানিয়ে দিয়ে আকাশ ভ’রে জ্বলে;
    হেমন্ত রাত ক্রমেই আরো অবোধ ক্লান্ত আধোগামী হয়ে
    চলবে কি না ভাবতে আছে — ঋতুর কামচক্রে সে তো চলে;
    কিন্তু আরো আশা আলো চলার আকাশ রয়েছে কি মানবহৃদয়ে।
    অথবা এ মানবপ্রাণের অনুতর্ক; হেমন্ত খুব স্থির
    সপ্রতিভ ব্যাপ্ত হিরণগভীর সময় ব’লে
    ইতিহাসের করুণ কঠিন ছায়াপাতের দিনে
    উন্নতি প্রেম কাম্য মনে হলে
    হৃদয়কে ঠিক শীত সাহসিক হেমন্তলোক ভাবি;
    চারি দিকে রক্তে রৌদ্রে অনেক বিনিময়ে ব্যবহারে
    কিছুই তবু ফল হল না; এসো মানুষ আবার কেখা যাক
    সময় দেশ ও সন্ততিদের কী লাভ হতে পারে।
    ইতিহাসের সমস্ত রাত মিশে গিয়ে একটি রাত্রি আজ পৃথিবীর তীরে;
    কথা ভাবায়, ভ্রান্তি ভাঙে, ক্রমেই বীতশোক
    করে দিতে পারে বুঝি মানবভাবনাকে;
    অন্ধ অভিভুতের মতো যদিও আজ লোক
    চলছে, তবু মানুষকে সে চিনে নিতে বলে:
    কোথায় মধু–কোথায় কালের মক্ষিকারা — কোথায় আহ্বান
    নীড় গঠনের সমবায়ের শান্তি-সহিষ্ণুতার—
    মানুষও জ্ঞানী; তবুও ধন্য মক্ষিকাদের জ্ঞান।
    কাছে-দুরে এই শতাব্দীর প্রাণনদীরা রোল
    স্তব্ধ করে রাধে গিয়ে যে-ভূগোলের অসারতার পরে
    সেখানে নীলকন্ঠ পাখি ফসল সূর্য নেই,
    ধূসর আকাশ — একটি শুধু মেরুন রঙের গাছের মর্মরে
    আজ পৃথিবীর শূণ্য পথ ও জীবনবেদের নিরাশা তাপ ভয়
    জেগে ওঠে — সুর ক্রমে নরম — ক্রমে হয়তো আরো কঠিন হতে পারে;
    সোফোক্লেস ও মহাভারত মানবজাতির এ ব্যর্থতা জেনেছিল; জানি;
    আজকে আলো গভীরতর হবে কি অন্ধকারে।
     
  4. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    সময়ের তীরে
    বেলা অবেলা কালবেলা (১৯৬১) জীবনানন্দ দাশ

    নিচে হতাহত সৈন্যদের ভিড় পেরিয়ে,
    মাথার ওপর অগণন নক্ষত্রের আকাশের দিকে তাকিয়ে,
    কোনো দূর সমুদ্রের বাতাসের স্পর্শ মুখে রেখে,
    আমার শরীরের ভিতর অনাদি সৃষ্টির রক্তের গুঞ্জরণ শুনে,
    কোথায় শিবিরে গিয়ে পৌঁছলাম আমি।
    সেখানে মাতাল সেনানায়কেরা
    মদকে নারীর মতো ব্যবহার করছে,
    নারীকে জলের মতো;
    তাদের হৃদয়ের থেকে উত্থিত সৃষ্টিবিসারী গানে
    নতুন সমুদ্রের পারে নক্ষত্রের নগ্নলোক সৃষ্টি হচ্ছে যেন;
    কোথাও কোনো মানবিক নগর বন্দর মিনার খিলান নেই আর;
    এক দিকে বালিপ্রলেপী মরুভূমি হু-হু করছে;
    আর এক দিকে ঘাসের প্রান্তর ছড়িয়ে আছে-
    আন্তঃনাক্ষত্রিক শূন্যের মতো অপার অন্ধকারে মাইলের পর মাইল।

    শুধু বাতাস উড়ে আসছেঃ
    স্থলিত নিহত মনুষ্যত্বের শেষ সীমানাকে
    সময়সেতুগুলোকে বিলীন ক’রে দেবার জন্যে,
    উচ্ছ্রিত শববাহকের মূর্তিতে।
    শুধু বাতাসের প্রেতচারণ
    অমৃতলোকের অপস্রিয়মান নক্ষত্রযান-আলোর সন্ধানে।
    পাখি নেই,—সেই পাখির কঙ্কালের গুঞ্জরণ;
    কোনো গাছ নেই,—সেই তুঁতের পল্লবের ভিতর থেকে
    অন্ধ অন্ধকার তুষারপিচ্ছিল এক শোণ নদীর নির্দেশে।

    সেখানে তোমার সঙ্গে আমার দেখা হলো, নারি,
    অবাক হলাম না।
    হতবাক হবার কী আছে?
    তুমি যে মর্ত্যনারকী ধাতুর সংঘর্ষ থেকে জেগে উঠেছ নীল
    স্বর্গীয় শিখার মতো;
    সকল সময় স্থান অনুভবলোক অধিকার ক’রে সে তো থাকবে
    এইখানেই,
    আজ আমাদের এই কঠিন পৃথিবীতে।
     
    Last edited: Jun 30, 2016
  5. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh

    কোথাও মিনারে তুমি নেই আজ আর
    জানালার সোনালি নীল কমলা সবুজ কাচের দিগন্তে;
    কোথাও বনচ্ছবির ভিতরে নেই;
    শাদা সাধারণ নিঃসঙ্কোচ রৌদ্রের ভিতরে তুমি নেই আজ।
    অথবা ঝর্ণার জলে
    মিশরী শঙ্খরেখাসর্পিল সাগরীয় সমুৎসুকতায়
    তুমি আজ সূর্যজলস্ফুলিঙ্গের আত্মা-মুখরিত নও আর।
    তোমাকে আমেরিকার কংগ্রেস-ভবনে দেখতে চেয়েছিলাম,
    কিংবা ভারতের;
    অথবা ক্রেমলিনে কি বেতসতম্বী সূর্যশিখার কোনো স্থানে আছে
    যার মানে পবিত্রতা শান্তি শক্তি শুভ্রতা—সকলের জন্যে!
    নিঃসীম শুন্যে শুন্যের সংঘর্ষে স্বতরুৎসারা নীলিমার মতো
    কোনো রাষ্ট্র কি নেই আজ আর
    কোনো নগরী নেই
    সৃষ্টির মরালীকে যা বহন ক’রে চলেছে মধু বাতাসে
    নক্ষত্রে—লোক থেকে সূর্যলোকান্তরে!

    ডানে বাঁয়ে ওপরে নিচে সময়ের
    জ্বলন্ত তিমিরের ভিতর তোমাকে পেয়েছি।
    শুনেছি বিরাট শ্বেতপক্ষিসূর্যের
    ডানার উড্ডীন কলরোল;
    আগুনের মহান পরিধি গান ক’রে উঠছে।
     
  6. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    সামান্য মানুষ
    বেলা অবেলা কালবেলা (১৯৬১) জীবনানন্দ দাশ

    একজন সামান্য মানুষকে দেখা যেতো রোজ
    ছিপ হাতে চেয়ে আছে; ভোরের পুকুরে
    চাপেলী পায়রাচাঁদা মৌরলা আছে;
    উজ্জ্বল মাছের চেয়ে খানিকটা দূরে


    আমার হৃদয় থেকে সেই মানুষের ব্যবধান;
    মনে হয়েছিলো এক হেমন্তের সকালবেলায়;
    এমন হেমন্তের ঢের আমাদের গোল পৃথিবীতে
    কেটে গেছে; তবুও আবার কেটে যায়।


    আমার বয়স আজ চল্লিশ বছর;
    সে আজ নেই এ-পৃথিবীতে;
    অথবা কুয়াশা ফেঁসে-ওপারে তাকালে
    এ-রকম অঘ্রাণের শীতে


    সে-সব রূপোলি মাছ জ্ব’লে ওঠে রোদে,
    ঘাসের ঘ্রাণের মতো স্নিগ্ধ সব জল;
    অনেক বছর ধ’রে মাছের ভিতরে হেসে খেলে
    তবু সে তাদের চেয়ে এক তিল অধিক সরল;


    এক বীট অধিক প্রবীণ ছিল আমাদের থেকে;
    ওইখানে পায়চারি করে তার ভূত-
    নদীর ভিতরে জলে তলতা বাশেঁর
    প্রতিবিম্বের মতন নিখুঁত


    প্রতিটি মাছের হাওয়া ফাল্গুনের আগে এসে দোলায় সে-সব।
    আমাদের পাওয়ার ও পার্টি-পোলিটিক্স
    জ্ঞান-বিজ্ঞানে আরেক রকম শ্রীছাঁদ।
    কমিটি মিটিং ভেঙে আকাশে তাকালে মনে পড়ে–
    সে আর সপ্তমী তিথি চাঁদ।

     
  7. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    সারাৎসার
    বেলা অবেলা কালবেলা (১৯৬১) জীবনানন্দ দাশ

    এখন কিছুই নেই—এখনে কিছুই নেই আর,
    অমল ভোরের বেলা র’ইয়ে গেছে শুধু;
    আশ্বিনের নীলাকাশ স্পষ্ট ক’রে দিয়ে সূর্য আসে;
    অনেক আবছা জল জেগে উঠে নিজ প্রয়োজনে
    নদী হয়ে সমস্ত রৌদ্রের কাছে জানাতেছে দাবি;


    নক্ষত্রেরা মানুষের আগে এসে কথা কয় ভাবি;
    পল অনুপল দিয়ে অন্তহীন নিপলের চকমকি ঠুকে
    ঐ সব তারার পরিভাষার উজ্জ্বলতা;
    আমার লক্ষ্য ছিল মানুষের সাধারণ হৃদয়ের কথা
    সহজ সঙ্গের মতো জেগে নক্ষত্রকে
    কী ক’’রে মানুষও মানুষীর মতো ক’’রে রাখে।


    তবু তার উপচার নিয়ে সেই নারী
    কোথায় গিয়েছে আজ চ’লে;
    এই তো এখানে ছিল সে অনেক দিন;
    আকাশের সব নক্ষত্রের মৃত্যু হলে
    তারপর একটি নারীর মৃত্যু হয়ঃ
    অনুভব ক’’রে আমি অনুভব করেছি সময়।

     
  8. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    সূর্য নক্ষত্র নারী
    বেলা অবেলা কালবেলা (১৯৬১) জীবনানন্দ দাশ

    তোমার নিকট থেকে সর্বদাই বিদায়ের কথা ছিলো
    সব চেয়ে আগে; জানি আমি।
    সে-দিনও তোমার সাথে মুখ-চেনা হয় নাই।
    তুমি যে এ-পৃথিবীতে র’য়ে গেছো।
    আমাকে বলেনি কেউ।
    কোথাও জল্কে ঘিরে পৃথিবীর অফুরান জল
    র’য়ে গেছে;–
    যে যার নিজের কাজে আছে, এই অনুভবে চ’লে
    শিয়রে নিয়ত স্ফীত সুর্যকে চেনে তারা;
    আকাশের সপ্রতিভ নক্ষত্রকে চিনে উদীচীর
    কোনো জল কী ক’রে অপর জল চিনে নেবে অন্য নির্ঝরের?
    তবুও জীবন ছুঁ’য়ে গেলে তুমি;-
    আমার চোখের থেকে নিমেষ নিহত
    সূর্যকে সরায়ে দিয়ে।


    স’রে যেতো; তবুও আয়ুর দিন ফুরোবার আগে।
    নব-নব সূর্যকে কে নারীর বদলে
    ছেড়ে দেয়; কেন দেব? সকল প্রতীতি উৎসবের
    চেয়ে তবু বড়ো
    স্থিরতর প্রিয় তুমি;- নিঃসূর্য নির্জন
    ক’রে দিতে এলে।
    মিলন ও বিদায়ের প্রয়োজনে আমি যদি মিলিত হতাম
    তোমার উৎসের সাথে, তবে আমি অন্য সব প্রেমিকের মতো
    বিরাট পৃথিবী আর সুবিশাল সময়কে সেবা ক’রে আত্মস্থ হতাম।
    তুমি তা জানো না, তবু, আমি জানি, একবার তোমাকে দেখেছি;-
    পিছনের পটভূমিকায় সময়ের
    শেষনাগ ছিলো, নেই;- বিজ্ঞানের ক্লান্ত নক্ষত্রেরা
    নিভে যায়;- মানুষ অপ্রিজ্ঞাত সে-আমায়; তবুও তাদের একজন
    গভীর মানুষী কেন নিজেকে চেনায়!
    আহা, তাকে অন্ধকার অনন্তের মতো আমি জেনে নিয়ে, তবু,
    অল্পায়ু রঙিন রৌদ্রে মানবের ইতিহাসে কে না জেনে কোথায় চলেছি!
     
  9. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    দুই


    চারিদিকে সৃজনের অন্ধকার র’য়ে গেছে, নারী,
    অবতীর্ণ শরীরের অনুভূতি ছাড়া আরো ভালো
    কোথাও দ্বিতীয় সূর্য নেই, যা জ্বালালে
    তোমার শরীর সব অলোকিত ক’রে দিয়ে স্পষ্ট ক’রে দেবে কোনো কালে
    শরীর যা র’য়ে গেছে।
    এই সব ঐশী কাল ভেঙে ফেলে দিয়ে
    নতুন সময় গ’ড়ে নিজেকে না গ’ড়ে তবু তুমি
    ব্রহ্মান্ডের অন্ধকারে একবার জন্মাবার হেতু
    অনুভব করেছিলে;-
    জন্ম-জন্মান্তের মৃত স্মরণের সাঁকো
    তোমার হৃদয় স্পর্শ করে ব’লে আজ
    আমাকে ইসারাপাত ক’রে গেলে তারি;-
    অপার কালের স্রোত না পেলে কী ক’রে তবু, নারী
    তুচ্ছ, খন্ড, অল্প সময়ের স্বত্ব কাটায়ে অঋণী তোমাকে কাছে পাবে-
    তোমার নিবিড় নিজ চোখ এসে নিজের বিষয় নিয়ে যাবে?
    সময়ের কক্ষ থেকে দূর কক্ষে চাবি
    খুলে ফেলে তুমি অন্য সব মেয়েদের
    আত্ম অন্তরঙ্গতার দান
    দেখায়ে অনন্তকাল ভেঙ্গে গেলে পরে,
    যে-দেশে নক্ষত্র নেই- কোথাও সময় নেই আর-
    আমারো হৃদয়ে নেই বিভা-
    দেখাবো নিজের হাতে- অবশেষে কী মকরকেতনে প্রতিভা।
     
  10. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    তিন


    তুমি আছো জেনে আমি অন্ধকার ভালো ভেবে যে-অতীত আর
    যেই শীত ক্লান্তিহীন কাটায়েছিলাম;
    তাই শুধু কাটায়েছি।
    কাটায়ে জানেছি এই-ই শূন্যে, তবু হৃদয়ের কাছে ছিল অন্য-কোন নাম।
    অন্তহীন অপেক্ষার চেয়ে তবে ভালো
    দ্বীপাতীত লক্ষ্যে অবিরাম চ’লে যাওয়া
    শোককে স্বীকার ক’রে অবশেষে তবে
    নিমেষের শরীরের উজ্জলতায়-অনন্তের জ্ঞানপাপ মুছে দিতে হবে।
    আজ এই ধ্বংসমত্ত অন্ধকার ভেদ ক’রে বিদ্যুতের মতো
    তুমি যে শরীর নিয়ে র’য়ে গেছো, সেই কথা সময়ের মনে
    জানাবার আশার কি একজন পুরুষের নির্জন শরীরে
    একটি পলক শুধু- হৃদয়বিহীন সব অপার আলোকবর্ষ ঘিরে?
    অধঃপতিত এই অসময়ে কে-বা সেই উপচার পুরুষ মানুষ?-
    ভাবি আমি;- জানি আমি,তবু
    সে-কথা আমাকে জানাবার
    হৃদয় আমার নেই;–
    যে-কোনো প্রেমিক আজ এখন আমার
    দেহের প্রতিভূ হয়ে নিজের নারীকে নিয়ে পৃথিবীর পথে
    একটি মুহূর্তে যদি আমার অনন্ত হয় মহিলার জ্যোতিষ্ক জগতে।
     

Pls Share This Page:

Users Viewing Thread (Users: 0, Guests: 0)