1. Hi Guest
    Pls Attention! Kazirhut Accepts Only Bengali (বাংলা) & English Language On this board. If u write something with other language, you will be direct banned!

    আপনার জন্য kazirhut.com এর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার :

    যে কোন সফটওয়্যারের ফুল ভার্সন প্রয়োজন হলে Software Request Center এ রিকোয়েস্ট করুন।

    Discover Your Ebook From Our Online Library E-Books | বাংলা ইবুক (Bengali Ebook)

Collected মহাদেব সাহার কবিতাসমুহ

Discussion in 'Collected' started by Tazul Islam, May 27, 2016. Replies: 187 | Views: 7922

  1. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    কোনো ফুলের বাগান নেই
    - মহাদেব সাহা---আমি ছিন্নভিন্ন


    আমাদের কোনো ফুলের বাগান নেই, তবু
    পৃথিবীর এই দুঃসময়ে নীলা তার টবটিতে
    ফুটিয়েছে রজনীগন্ধার কটি কলি,
    বারান্দার সঙ্কীর্ণ আলোক আর অপ্রচুর বাতাস
    সত্ত্বেও
    কেমন ফুটেছে তার হাসি, সজীব ডালটি যেন
    মনেহয় স্বচ্ছেন্দে উঠেছে বেড়ে হৃদয়ের উর্বর
    মাটিতে;
    দুবেলা আমাকে সে দেখায় তার রজনীগন্ধার এই
    চারা,
    বলে-আলো ও বাতাসহীন প্রতিকূল পরিবেশেও
    দেখো
    কেমন ফুটেছে এই প্রকৃতির ফুল!
    প্রত্যুত্তরে আমি আজো বলিনি কিছুই শুধু
    নীরবে তাকিয়ে
    থাকা ছাড়া;
    তাই আমার মুখের দিকে চেয়ে রজনীগন্ধার ভীরু
    ডালটির মতো
    সেও যেন হয়ে পড়ে খুবই সঙ্কুচিত,
    কেননা নীলা তো জানে আমার ফুলের
    প্রতি চিরকালই
    সীমাহীন দুর্বলতা আছে
    তবু রজনীগন্ধার দিকে চেয়ে আমার মুখে একটিও
    কেন প্রশংসা
    ফুটলো না?
    কী করে বোঝাই আমি অন্তহীন নীরবতা ছাড়া এর
    যোগ্য কী
    প্রশংসা হতে পারে,
    কী করে বোঝাই তাকে এই ফুল ফোটানো সাফল্য
    কতোটা!
    যখন সে বারান্দায় তার মাটির
    টবটি জুড়ে ফুটিয়েছে এই হার্দ্য,
    অনবদ্য ফুল
    তখন পৃথিবী জুড়ে তৈরি হচ্ছে মানুষ বিধ্বংসী বোমা,
    ক্ষেপনাস্ত্র, ভয়াল বারুদ
    এই রজনীগন্ধার পাশাপাশি একই সাথে পৃথিবীতে
    অঙ্কুরিত হচ্ছে মারণাস্ত্রের ভীষণ নখর,
    রজনীগন্ধার চেয়ে আরো দ্রুত চোখের
    নিমিষে ছেয়ে যাচ্ছে
    পৃথিবীর অস্ত্রশালা দাঁত, নখ ও হিংস্র থাবায়
    সেজন্যই এমন ফুলের দিকে চেয়ে একটিও প্রশংসার
    বাক্য
    স্ফোটে না,
    শুধু মনে হয় সমস্ত পৃথিবীময় মানুষের
    হৃদয়ে যদি জন্ম নিতো
    রজনীগন্ধার এই কলি!
    তাই নীলাকে বলিনি
    পৃথিবীর এই দুঃসময়ে আজ এরূপ একটি ফুল
    ফোটানো যে কতোটা কঠিন
    আর তার সার্থকতা বিজ্ঞান ও মেধার কৃতিত্বের
    চেয়েও মহৎ!
     
  2. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    কবি ও কৃষ্ণচুড়া
    - মহাদেব সাহা---আমি ছিন্নভিন্ন


    চৈত্রে হয়তো ফোটেনি কৃষ্ণচুড়া
    তাতে ক্ষতি নেই; তোমার ঠোঁটেই দেখি
    এসেছে আবার কৃষ্ণচুড়ার ঋতু
    তুমি আছে তাই অভাব বুঝিনি তার;
    না হলে চৈত্রে কোথায়ইবা পাবো বলো
    কৃষ্ণচুড়ার অযাচিত উপহার,
    বর্ষায় সেই ফুটবে কদম ফুল
    তোমার খোঁপায় চৈত্রেই আনাগোনা।
    তাই সন্দেহে চোখ মেলে কেউ কেউ
    তাকায় কোথায় ফুটেছে কৃষ্ণচুড়া,
    কেউ খোঁজে এই নিরিবিলি ফুলদানি;
    চৈত্রে কোথাও ফোটেনি কৃষ্ণচুড়া
    কিন্তু ফুটেছে তোমার দুইটি ঠোঁটে,
    কবির দুচোখ এড়াতে পারেনি, তাই
    ধরা পড়ে গেছে কবিতার পংতিতে।
     
  3. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    এই কবিতার জন্যে
    - মহাদেব সাহা---আমি ছিন্নভিন্ন


    এই কবিতার জন্যে কতোবার বদ্ধ উন্মাদের মতো ঘুরলাম
    রাস্তায় রাস্তায়
    কতোবার আগুনে দিলাম হাত, প্রবল তুষারপাত নিলাম মাথায়;
    এই কবিতার জন্যে পঞ্চপাণ্ডবের মতো আবদ্ধ হলাম জতুগৃহে
    শুধু এই কবিতাকে ভালোবেসে কতোবার দাঁড়ালাম
    পরমানু বোমার বিরুদ্ধে
    কতোবার একা বুক পেতে দাঁড়ালাম আণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের সম্মুখে,
    কবিতাকে ভালোবেসে এই পৃথিবীকে কতোবার বাঁচালাম
    যুদ্ধ ও ধ্বংসের হাত থেকে।
    কবিতার প্রতি এই তীব্র ভালোবাসা ছাড়া
    এমন বিরূপ আবহাওয়া ও জলবায়ুতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে
    কখনো সম্ভব নয় বাঁচা;
    এই কবিতার জন্রে কতোবার দাঁড়ালাম বিপদের মুখোমুখি
    ট্রাফিক সঙ্কেত ভুলে পথের ওপরে,
    কতোবার প্রমত্ত ঝঞ্ঝার মুখে, স্রোতের আবর্তে
    এই কবিতার জন্যে খোয়ালাম পিতৃপুরুষের ভিটেমাটি
    যা কিচু সম্বল কানাকড়ি।
    এই কবিতার জন্রে আমিও রিলকের মতো গোলাপের দংশনেই
    হলাম আহত
    আমও বুদ্ধের মতো জরামৃত্যুব্যাধি দেখে হলাম ব্যাকুল;
    কতোবার এই কবিতার জন্যে সেই কৈশোর থেকেই
    তছনছ করেছি জীবন
    এই কবিতার জন্যে আমি আপাদমস্তক ছিন্নভিন্ন এমন ফতুর
    ভাঙা শিরদাঁড়া, পোড়-খাওয়া একটি মানুষ
    এই কবিতার জন্যে যীশুর মতোই আমি ক্রুশবিদ্ধ।
    এই কবিতার জন্যেখনো শিশুর মতো কাঁদি, দুঃখ পাই
    এখনো আগের মতোই ঠিক কবিতার জন্যে হই
    গভীর ব্যথিত, মণঃক্ষুণ্ন কিংবা উত্তেজিত;
    এই কবিতার জন্যে এখনো দাঁড়াই এসে অনায়াসে
    সকল ঝুঁকির মুখে আমি
    এই কবিতার জন্যে জীবনকে এখনো আমি
    এতো ভালোবাসি, এতো ঘৃণা করি।
     
  4. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    আমিও তো অটোগ্রাফ চাই
    - মহাদেব সাহা---আমি ছিন্নভিন্ন


    আমিও তো অটোগ্রাফ চাই, আমিও তো লিখতে চাই
    তোমাদেরই নাম হৃদয়ের গভীর খাতায়
    তোমাদের একেকটি স্বাক্ষর আমিও খোদাই করতে চাই
    স্মৃতিতে, সত্তায়।
    শুধু এই মানুষের অনবদ্য নাম জুঁই, চাঁপা, শিউলির মতো
    আমিও তো চাই মর্মে ফোটাতে আমার;
    ভালেবেসে কেউ যদি লেখে নাম, কেউ যদি
    একটিও অটোগ্রাফ এঁকে দেয় এই মলিন কাগজে
    তাকে আমি করে তুলি অনন্ত নক্ষত্রময় রাত্রির আকাশ;
    আমার তেমন নেই অটোগ্রাফ সংগ্রহের মনোরম খাতা
    নীল প্যাড, সুদৃশ্য মলাট
    কিন্তু আমি দিতে পারি নীলিমার চেয়েও বিসতৃত
    সমুদ্রের চেয়েও গভীর
    যে-কোনো সবুজ বনভূমি থেকে অধিক সবুজ
    এই আমার হৃদয়-
    এর চেয়ে অধিক লেখার যোগ্য আর কোনো পত্র বা
    প্রস্তরখণ্ড নেই;
    তবু আমিই লিখেছি নাম কাগজে, শিলায়, পত্রে
    কখনোবা পাহাড়ের গায়ে
    দয়ার্দ্র অনেক প্যডে, সুদৃশ্য খাতায়
    কিন্তু আজ মনে হয় ঝরা বকুলেল মতো
    আমার নশ্বর নাম করে গেছে তৎক্ষণাৎই সামান্য হাওয়ায়
    আর যেটুকুও বাকি ছিলো মুছে গেছে শিশিরে বৃষ্টিতে।
    অনেক লিখেছি তবু নাম, তবুও এঁকেছি এই বারবার
    ব্যর্থ আমার স্বাক্ষর
    আজ বুঝ কোথাও পায়নি সে এতোটুকু শ্যামল অঞ্চল
    এতোটুকু স্নিগ্ধ ছায়া, এতোটুকু নিবিড় শুশ্রূষা
    আজ তার দিকে সবাই তাকিয়ে দেখ
    অজ্ঞাত ও নাম;
    কোন প্রাগৈতিহাসিক কালের যেন ভাষা
    আমার এ ব্যর্থ হস্তাক্ষর আজ প্রাচীন কালের দুর্বোধ্য শিলালিপির
    মতোই ধূসর
    মনে হয় কেউ তার চেনে না কোনোই বর্ণমালা।
    কিন্তু আমার হৃদয় আজো ধারণ করতে পারে মানুষের
    গুচ্ছ গুচ্ছ নাম
    সেখানে সবুজ অঞ্চলের কোনোই অভাব নেই
    তাই তাতে এখনো সে খোদাই করতে পারে মানুষের প্রিয়
    নামগুলি।
    প্রকৃতই মানুষের নাম ছাড়া আমি আজো
    ফুল, পাখি কিংবা বৃক্ষ এসবের পৃথক পৃথক কোনো নাম
    তেমন জানি না,
    কিন্তু এখনো সমান আমি রাত জেগে মানুষের নামের বানান
    মুখস্ত করতে ভালোবাসি
    তাই অটোগ্রাফ আমারই নেয়ার কথা, আমিও তো
    অটোগ্রাফ চাই।
     
  5. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    আমি ছিন্নভিন্ন
    - মহাদেব সাহা---আমি ছিন্নভিন্ন


    আমি ছিন্নভিন্ন-বিগত বছরের এটাই সর্বাপেক্ষা
    প্রধান সংবাদ
    বিশ্বের সমস্ত প্রচার মাধ্যম থেকে একযোগে প্রচারযোগ্য
    এই একটাই বিশ্বসংবাদ, আমি ছিন্নভিন্ন
    যদিও একান্ত ব্যক্তিগত এই শোকবার্তা কারো মনে
    জাগাবে না সামান্য করুণা
    তবু মনে হয় এই শতাব্দীর এটাই সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ
    একটি সংবাদ-শিরোনাম : আমি ছিন্নভিন্ন ;
    এই কবিতার মদ্যে আমি এই একান্ত জরুরী খবরটাই শুধু
    উদ্ধৃত করেছি
    শিম্ভের সমস্ত সংবাদ উৎস হতে এই একটাই বার্তা শুধু
    প্রচারিত হচ্ছে একটি শতাব্দী ধরে-
    মানুষের দিকে তাকিয়ে দেখো, তার বুকের কাছে মুখ নিয়ে
    জিজ্ঞেস করো সে বলবে, আমি ছিন্নভিন্ন
    গোলাপের দিকে তাকাও সে বলবে, আমি ছিন্নভিন্ন
    বন কিংবা উদ্ভিদের কছে যাও সেও এই একই কথাই বলবে,
    অনন্ত নীলিমার দিক চোখ ফেরাও তার কন্ঠে শুনতে পাবে
    এই একই ভয়াবহ বার্তা ; আমি ছিনইভন্ন
    পৃথিবীর মানচিত্রের দিকে ফিরে তাকাও
    সেও ক্রমাগত আর্তনাদ করে উঠবে, আমি ছিন্নভিন্ন
    সৌন্দর্যকে জিজ্ঞেস করো সেও এই একই উত্তর দেবে,
    মানুষের শুদ্ধতাকে প্রশ্ন করো সেও নিঃসঙ্কোচে
    বলবে, আমি ছিন্নভিন্ন
    প্রকৃতি ও শস্যক্ষেত্রের কাছে যাও অন্য কিচুই শুনতে পাবে না,
    এমন যে শান্ত জলধারা তার কাছেও যাও
    আহত কন্ঠে বলবে সেও দলিত-মথিত, ছিন্নভিন্ন
    গোলাপের কৌমার্য, ফুলের শুদ্ধতা আর হৃদয়ের বিশুদ্ধ আবেগ
    তারাও এই একই কথা বলবে ;
    দেশ ছিন্নভিন্ন, মানুষ ছিন্নভিন্ন,মানুষের সত্তা ছিন্নভিন্ন
    যতোই লুকোতে চাই তবুও প্রকৃত সত্য হচ্ছে
    আমি ছিন্নভিন্ন,কাঁটায় কাঁটায় বিদ্ধ ও বিক্ষত
    ট্রাজিডির করুণ নয়ক যেন চোখের সম্মুখে দেখে
    একে একে নিভিছে দেউটি, অগ্নিদগ্ধ স্বর্ণলঙ্কাপুরী
    মুহূর্তে বিরান এই সমগ্র জীবন,
    হয়তো সম্মুখ যুদ্ধে হইনি আক্রান্ক
    ভূমিকম্প কিংবা ঘূর্ণিঝড় তছনছ করেনি উদ্যান,
    তবুও তাকিয়ে দেখি আমি যেন ধ্বংসস্তপ
    এর ব্যক্তিগত শোকবর্তা যদিও কারোই মনে
    বিশেষ চাঞ্চল্য কিছু জাগাবে না ঠিক
    তবুও যেমন একটি গোলাপ বলে, একটি উদ্ভিদ বলে,
    এই দেশ বলে, মানুষের সত্তার শুদ্ধতা বলে
    আমিও তেমনি বলি সব চেয়ে সত্য আর মর্মান্তিক একটি সংবাদ ;
    আমি ছিন্নভিন্ন-
    আমার সমস্ত সত্তা ছিন্নভিন্ন, ছিন্নভিন্ন আমার শরীর
    ছিন্নভিন্ন, তবুও দাঁড়িয়ে আছি।
     
  6. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    আমার সজল চোখ বুঝলে না
    - মহাদেব সাহা---আমি ছিন্নভিন্ন


    তোমরা কেউ আমার সজল চোখ বুঝলে না, বুঝলে পেরেক
    বুঝলে ডলার-পাউণ্ড, বিমানবন্দুর, যুদ্ধজাহাজ
    তোমরা কেউ একটি খোঁপা-খোলা মেঘ বুঝলে না, বুঝলে রক্ত
    বুঝলে ছুরি, বুঝলে দংশন,
    তোমরা কেউ বন্ধুর পবিত্র মুখ বুঝলে না, বুঝলে হিংসা
    বুঝলে রাত্রি, বুঝলে অন্ধকার, বুঝলে ছোবল;
    তোমরা কেউ আমার সজল চোখ বুঝলে না, বুঝলে আঘাত
    তোমরা কেউ বন্ধুর কোমল বুক বুঝলে না, বুকে মাটির
    ঘ্রাণ বুঝলে না, বুঝলে অস্ত্র;
    তোমরা কেউ বুঝলে না, বুঝলে না, বুঝলে না।
    তোমরা একটি বকুলফুল বুঝলে না, কেনইবা কাঁদবে?
    তোমরা একটি শস্যক্ষেত্র বুঝলে না, কেনইবা দাঁড়াবে?
    তোমরা একটি মানুষ বুঝলে না, কেনইবা নত হবে?
    তোমরা বুঝলে না মায়ের চোখের অশ্রু, পিতার বুকের দুঃখ
    বুঝলে না শেশব, বাউল, ভাটিয়ালি
    তোমরা বুঝলে না, এসব কিছুই বুঝলে না।
    গ্রামের মেঠো পথ, ফুলের গন্ধ, ঝিঁঝির ডাক
    তোমরা কোনোদিন বুঝলে না, বুঝলে না নদরি গান, পাতার শব্দ
    বুঝলে না সজনে ডাঁটা, পুঁইশাক, কুমড়োলতা
    তোমরা হৃদয় বুঝলে না, বুঝলে লোহার আড়ত,
    তোমরা কিছু বুঝলে না, কিছু বুঝলে না, কিছু বুঝলে না
    শুধু বুঝলে চোরাগোপ্তা, বুঝলে রক্তপাত।
     
  7. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    স্বাধীন প্যালেস্টাইন তোমার জন্য এই কবিতা
    - মহাদেব সাহা---ফুল কই, শুধু অস্ত্রের উল্লাস


    আমার এই কবিতা, গোলাপ ও স্বর্ণচাঁপার প্রতি যার
    বিশেষ দুর্বলতা ছিলো
    যার তন্ময়তা ছিলো পাখি, ফুল ও প্রজাপতির দিকে
    সে এখন প্যালেস্টাইনী গেরিলাদের কানে স্বাধীনতার
    গান গাইছে;
    ইসরাইলী হামলায় ক্ষতবিক্ষত লেবাননের পল্লীতে সে
    এখন ব্যস্ত উদ্ধারকর্মী,
    হাতে শুশ্রূষার ব্যাগ নিয়ে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের বাহুতে
    ব্যাণ্ডেজ বেঁধে দিচ্ছে আমার এই কবিতা;
    ধ্বংসস্তপের মধ্যে কুড়িয়ে পাওয়া একটি ভাঙা গিটারে
    সে আবার বাজিয়ে দিচ্ছে প্রত্যাশার গান,
    আমার এই উদাসীন ও লাজুক কবিতাটিই এখন
    নক্ষত্র ও চন্দ্রমল্লিকার বদলে আহরণ করছে বুলেট-
    যে-হাতে গোলাপ কুড়াতো সেই হাতেই সে এখন
    প্যালেস্টাইন মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে তুলে দিচ্ছে মেশিনগান,
    বুকে বাংলাদেশের নয় কোটি মাুনষের উষ্ণ ভালোবাসা নিয়ে
    আমার এই কবিতাটি এখন সারারাত জেগে আছে অবরুদ্ধ
    গেরিলাদের পাশে।
    আমার এই কবিতাটি এখন আহত একজন প্যালেস্টাইনী যোদ্ধার
    সামনে দাঁড়িয়ে আছে শুভ্র নার্স,
    যুদ্ধে মৃত লেবাননের সেই স্বজনহারা যুবতীটার জন্য
    আমার কবিতাটিই এখন ব্যথিত এপিটাফ;
    প্যালেস্টাইনের সেইসব শহীদ যাদের জন্য কোনো শোকের
    গান গাওয়া হয়নি
    আমার কবিতাটিই তাদের জন্য আজ সারাদিন শোকের
    গান গাইবে,
    শ্রাবণের বর্ষণের মতো আমার এই কবিতাটিই এখন তাদের
    কবরে ঝরে-পড়া নীরব শোকাশ্রু।
    স্বাধীন প্যালেস্টাইন তোমাকে কেউ স্বীকৃতি দেবে কি না দেবে
    সে-কথা আমার জানা নেই-
    কিন্তু আমার এই কবিতাটির নিবিড় উষ্ণতার মধ্যে
    প্যালেস্টাইন তোমার স্বাধীনতার চিরকালীন স্বীকৃতি
    লেখা রইলো;
    আমি জানি জাতিসঙ্ঘের স্বীকৃতির সনদপত্রের চাইতেও
    এই ভালোবাসার স্বীকৃতি অনেক বেশি মূল্যবান!
    তাই তোমাদের জন্য বাড়িয়ে দিচ্ছি বাংলাদেশের
    সবুজ মাঠের বিশাল হাতছানি,
    ভাটিয়ালি গানের ব্যঞ্জনা
    আর পৃথিবীর একই আকাশের অভিন্নতার
    সাথে আমার এই কবিতার রক্তিম অভিনন্দন।
     
  8. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    লেলিন, এইনাম উচ্চারিত হলে
    - মহাদেব সাহা---ফুল কই, শুধু অস্ত্রের উল্লাস


    লেনিন, এই নাম উচ্চারিত হলে
    রোমাঞ্চিত হয়ে ওঠে প্রাণ;
    দেখি ভলগা থেকে নেমে আসে মানবিক উৎসধারা
    আমাদের বঙ্গোপসাগরে
    আমাদের পদ্মা-মেঘনা ছেয়ে যায় প্রাণের বন্যায়;
    লেনিন নামের অর্থ আমি তাই করি শোষণহীন একটি গোলাপ
    লেনিন নামের অর্থ আমি তাই করি শোষণমুক্ত একঝাঁক পাখি,
    লেনিন নামের অর্থ আমি তাই করি শোষণহীন একটি সমাজ।
    ভালোবাসা ছাড়া আর কোনো যোগ্য প্রতিশব্দ আমি দেখিনি কোথাও
    যা হতে পারে লেনিন শব্দের ঠিক স্বচ্ছ অনুবাদ,
    মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা কখনো যে হতে পারে
    সীমাহীন আকাশের মতো
    কখনো যে মানুষের এই হাত এতোটা উপরে উঠতে পারে
    তোমার আগে কখনো তা কেউ দেখায়নি, কমরেড লেনিন।
    তুমিই প্রথম পৃথিবীর মাটিতে উড়িয়ে দিলে সাম্যের পতাকা
    এই মাটিতেই মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার কাজ এভারেস্ট জয়ের
    চেয়েও যে কঠিন,
    কঠিন যে উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে কোনো নতুন দেশের
    সন্ধান লাভের চেয়েও
    কিংবা কোনো অজ্ঞাত দ্বীপ আবিস্কারের চেয়েও যে দুরূহ
    তু তুমি জানতে বলেই এই কাজই বেছে নিয়েছিলে;
    তাই তুমি পৃথিবীর মাটিতে উড়ালে প্রথম এই মানুষের মুক্তির পতাকা।
    এর আগে মানুষ কোথাও আর প্রকৃতই স্বাধীন ছিলো না
    মানুষ তোমারই হাতে এই পেলো প্রথম স্বীকৃতি
    তার আগে মেহনতী মানুষের ছিলো না কিছুই;
    এবার শস্য তার, শস্যের খামার তার, শিল্প-কারখানাও এবার তাদেরই।
    সমরেড লেনিন, এই নাম উচ্চারিত হলে রক্তে খেলে যায়
    প্রত্যাশার কী যে বিদ্যুৎ ঝিলিক
    ইতিহাস হয়ে ওঠে সচকিত গভরি উজ্জ্বল
    দেখতে পাই মানুষের কাছে কীভাবে খুলে যাচ্ছে সম্ভাবনার
    একেকটি দুয়ার;
    লেনিনের নামে মুহূর্তে শূন্যে ওঠে মানুষের মুষ্টিবদ্ধ হাত
    লেনিনের নামে উড়ে যায় একঝাঁক শান্তি কপোত,
    লেনিন নামের, সেদিন মানুষের দেহে ছিলো শোষকের
    নিষ্ঠুর দাঁতের চিহ্ন
    সেই চিহ্ন সুদুর বাংলায় আজো মানচিত্রের শরীরে ব্যাপক
    আরো বহু দেশে মানুষের এই চরম নিগ্রহ ;
    তাই যখন তোমার দিকে ফিরে চাই কমরেড লেনিন
    মনে হয় আর কোনো ভয় নেই-
    শোষণের দিন শেষ পৃথিবীতে মেহনতী মানুষ জেগেছে!
    লেনিন এনেছে পৃথিবীতে নবযুগ
    কাস্তে-হাতুড়ি সাম্যের সংবাদ,
    লেনিন এনেছে ঐক্যের মহামন্ত্র
    মানুষের মানুষে মৈত্রীর সেতুবন্ধন
    কমরেড লেনিন এই নাম উচ্চারিত হলে
    হৃদয়ে হৃদয়ে ওঠে গঢ় শিঞরন, খুলে যায় মানবিক সকল উৎসধারা
    ভলগা এসে মোশে এই গৈরিক পদ্মায়-
    আকাশ হঠাৎ যেন নিচু হয়ে মাটিকেই জানায় সেলাম,
    মানুষের অফুরন্ত প্রাণের জোয়ারে ভেসে ওঠে তোমার মুখ,
    কমরেড লেনিন
    আমি আর কিছুই দেখি না, সেইদিকে শুধু চেয়ে থাকি।
     
  9. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    মেঘ দেখার দুঃখ, গোলাপ দেখার ব্যাকুলতা
    - মহাদেব সাহা---ফুল কই, শুধু অস্ত্রের উল্লাস


    কী করে বলি এই মেঘ দেখর দুঃখ, এই গোলাপ দেখার
    ব্যাকুলতা-
    কিন্তু আমিও যখন মেঘের দিকে তাকাই দেখি কালিদাসই
    দেখছেন বিরহী যক্ষকে,
    হঠাৎ মন ভরে যায় বহু যুগের ওপার থেকে আসা বর্ষণে:
    এই গোলাপ দেখর কথা আমার হয়তো বলাই হবে না
    কিন্তু যখান গোলাপের দিকে তাকাই দেখি ব্রেক
    তাকিয়ে আছেন গেলোপের রুগ্নতার দিকে,
    কিংবা রিলকে আয়ত্ত করে চলেছেন একটি শ্বেতগোলাপ,
    কী করে বলি এই মেঘ দেখার দুঃখ, এই
    গোলাপ দেখার ব্যাকুলতা!
    মেঘ দেখতে দেখতে আমি যে কখন মেঘদূতের ভেতর ডুবে যাই,
    বিরহকাতর যক্ষের জন্য ভারী হয়ে ওঠে এই বুক
    কিংবা গোলাপের দিকে তাকাতেই চোখে ভেসৈ ওঠে
    রিলকের মুখটি,
    এই মেঘ দেখার দুঃখ, এই গোলাপ দেখার ব্যাকুলতা
    কাউকে বলাই হবে না ;
    আমি যখন এই প্রকৃতির দিকে তাকাই দেখি রবীন্দ্রনাথ
    দেখছেন প্রকৃতির নীলাম্বরী
    সেই ব্যকুল বসন্তে আমারও দুচোখ জলে ভরে যায় -
    এই মেঘ, এই গোলাপ আমারও অলিখিত কবিতা।
    যখন মানুষের সুদ্ধতার কথা ভাবি দেখি দাঁড়িয়ে আছেন
    ব্যথিত বোদলেয়ার
    শহরের রাত্রির দিকে তাকালে মনে হয় জীবনানন্দ দাশ দেখছেন
    লিবিয়ার জঙ্গল,
    যখন একজন বিপ্লবীর দিকে তাকাই দেখি দুচোখে
    মায়াকোভস্কির স্বপ্ন
    আর্ত স্বদেশের দিকে তাকিয়ে আমিও নেরুদার কথাই ভাবি,
    কেউ জানে না একটি ফুলের মৃত্যু দেখে, একটি পাখির ক্রন্দন দেখে
    আমারও হৃদয় পৃথিবীর আহত কবিদের মতোই হাহাকার
    করে ওঠে।
    একটি ফুল দেখে আমিও একজন প্রেমিকের মতোই পরাজিত
    হতে ভালোবাসি
    একটি ঝরাফুলের দুঃখ বুকে নিয়ে যে-কোনো ব্যথিত কবির
    মতোই সারাদনি ঘুরে বেড়াই,
    আসলে সে-কথাগুলোই বলা হয়নি, বলা হয়নি;
    মানুষের সমাজে এই বৈষম্য দেখে আমিও একজন
    বিপ্লবীর মতোই শ্রেনীসংগ্রামের জন্য তৈরি হই,
    এই জরা বার্ধক্য দেখে কতোবার বুদ্ধের মতোই
    ব্যথিত হয়ে উঠি;
    কিন্তু কী করে বলবো এইসব মেঘ দেখার দুঃখ, এইসব
    গোলাপ দেখার ব্যাকুলতা!
     
  10. Tazul Islam
    Offline

    Tazul Islam Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Apr 20, 2016
    Messages:
    19,473
    Likes Received:
    538
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka
    Reputation:
    142
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ফুল কই, শুধু অস্ত্রের উল্লাস
    - মহাদেব সাহা---ফুল কই, শুধু অস্ত্রের উল্লাস


    কতোদিন কোথাও ফোটে না ফুল, দেখি শুধু
    অস্ত্রের উল্লাস
    দেখি মার্চপাস্ট, লেফট রাইট, কুচকাওয়াজ ;
    স্বর্ণচাঁপার বদলে দেখি মাথা উঁচু করে আছে হেলমেট
    ফুলের কুঁড়ির কোনো চিহ্ন নেই, গাছের আড়ালে থেকে
    উঁকি দেয় চকচকে নল,
    যেখানে ফুটতো ঠিক জুঁই, বেলি, রঙিন গোলাপ
    এখন সেখানে দেখি শোভা পাচ্ছে বারুদ ও বুলেট ;
    প্রকৃতই ফুলের দুর্ভিক্ষে আজ বিরান এদেশ
    কোথাও সামান্য কোনো সবুজ অঞ্চল নেই, খাদ্য নেই,
    শুধু কংক্রিট, পাথর আর ভয়ল আগুন
    এখানে কারফিউ-ঘেরা রাতে নিষিদ্ধ পূর্ণিমা ;
    আজ গানের বদলে মুহুর্মুহু মেশিনগানের শব্দ-
    সারাক্ষণ বিউগল, সাইরেন আর বিকট হুইসিল
    বুঝি কোথাও ফুলের কোনো অস্তিত্বই নেই।
    ফুলের শরীর ভেদ করে জিরাফের মতো আজ
    অস্ত্রই বাগয়েছে গ্রীবা
    পাতার প্রতীক তাই ভুলে গেছি দেখে দেখে অস্ত্রের মডেল!
    খেলনার দোকানগুলিতে একটিও গিটার, পুতুল কিংবা
    ফুল পাখি নেই
    শিশুদের জন্য শো-কেসে সাজানো শুধু অস্ত্রের সঞ্চার
    বাইরেবাতাস শ্বাসদুদ্ধকর, রাজপথে সারি সারি বুট,
    সব কিছু চেয়ে আছে অস্ত্রেরই বিশাল ডালপালা ;
    কোথাও ফোটে না ফূল, কোথাও শুনি না আর
    হৃদয়ের ভাষা,
    কেবল তাকিয়ে দেখি মার্চপাস্ট, কুচকাওয়াজ, লেফট রাইট
    এই রক্তাক্ত মাটিতে আর ফুল কই, শুধু অস্ত্রের উল্লাস।
     

Pls Share This Page:

Users Viewing Thread (Users: 0, Guests: 1)