1. Hi Guest
    Pls Attention! Kazirhut Accepts Only Bengali (বাংলা) & English Language On this board. If u write something with other language, you will be direct banned!

    আপনার জন্য kazirhut.com এর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার :

    যে কোন সফটওয়্যারের ফুল ভার্সন প্রয়োজন হলে Software Request Center এ রিকোয়েস্ট করুন।

    Discover Your Ebook From Our Online Library E-Books | বাংলা ইবুক (Bengali Ebook)

Collected গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস: নিঃসঙ্গতার একশ বছর (উপন্যাস)

Discussion in 'Collected' started by abdullah, Sep 18, 2016. Replies: 53 | Views: 3134

  1. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    5,970
    Likes Received:
    1,580
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ধারাবাহিক উপন্যাস । কিস্তি ৪

    সর্বনাশ–চিৎকার করল সে– মাকন্দোর চারদিক পানিতে ঘিরে আছে।

    অভিযান থেকে ফিরে এসে মানচিত্রে যুক্তিহীনভাবে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়ার আঁকা মাকন্দো উপদ্বীপের ধারণাটি অনেকদিন পর্যন্ত টিকে ছিল। রেখাগুলো এঁকেছিল প্রচন্ড রাগে, যোগাযোগের প্রতিবন্ধকতাকে অতিরঞ্জিত করে, যেন চরম বুদ্ধিহীনভাবে জায়গাটা বেছে নেবার জন্য নিজেকে শাস্তি দেবার জন্য। “কখনই পৌঁছুতে পারব না কোথায়ও,” খেদ প্রকাশ করে সে উরসুলার কাছে, “ বিজ্ঞানের সুবিধাগুলো না পেয়ে এখানেই আমাদের জীবন পচতে থাকবে”। ছোট্ট গবেষণাগারে কয়েক মাসের উপর্যুপরি চিন্তার ফলপ্রসূ এই নিশ্চয়তা মাকন্দোকে আরও উপযুক্ত এক অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণে তাকে উদ্বুদ্ধ করে। কিন্তু এইবার, উরসুলা তার এই অস্থির পরিকল্পানার কথা আগেই আঁচ করে ফেলে। এরই মধ্যে স্থানান্তরের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করা পুরুষদের হুজুগের বিরুদ্ধে গোপন ও পিপড়ার মতো ক্ষান্তিহীন এক পরিশ্রমে গ্রামের নারীদের সে উপযোগী করে তোলে।
    পুরো ব্যাপারটি একেবারে বিশুদ্ধ আর সাধারণ একটা মরিচীকায় রূপান্তরিত হ্ওয়ার আগ পর্যন্ত হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া বুঝতেই পারলো না কখন, এমনকি কোন প্রতিকূল শক্তির গুণে তার পরিকল্পনাগুলো নানান সব অজুহাত, বিপত্তি ও ওজরের বিশৃঙ্খলার মধ্যে জড়িয়ে পড়লো।

    উরসুলা তাকে নিষ্পাপ মনোযোগ দিয়ে লক্ষ করলো, এমনকি ওর প্রতি একটু দয়াও বোধ হলো। গবেষণাগারের জিনিষগুলোকে তাদের মূল বাক্সের ভেতর যখন গুছিয়ে রাখছিলো তখন ওকে কোনার ছোট্ট ঘড়টিতে স্থান পরিবর্তনের স্বপ্নের কথা বিড়বিড় করে বলতে শুনা গেল । উরসুলা ওকে কাজগুলো শেষ করতে দিল। বাক্সগুলোতে পেরেক ঠোকা, আর ঝর্না কলম দিয়ে বাক্সের গায়ে নামের আদ্যাক্ষর লিখাও শেষ করতে দিল কোনরকম গঞ্জনা ছাড়াই, যদিও উরসুলা জানতো যে ও জেনে গেছে (কারণ সে শুনতে পেয়েছিলো ওর বধির স্বগতোক্তি) গ্রামের পুরুষরা তার এই উদ্যোগে সঙ্গী হবে না। কেবল ঘরের দরজাটা যখন তুলতে যাচ্ছে তখনই শুধু উরসুলা সাহস করল জিজ্ঞেস করে কেন সে খুলছে, আর তার জবাবটা সে দিলো তিক্ততার সঙ্গে “যেহেতু কেউ যেতে চায় না, আমরা একাই যাব”, উরসুলা এতে বিচলিত হলো না।

    – আমরা যাব না– বলল সে- আমরা এখানেই থেকে যাব, কারণ এখানেই আমার এক ছেলেকে পেয়েছি।

    – এখনও পর্যন্ত কেউ মরেও নি – সে বলল– মাটির তলায় না যাওয়া পর্যন্ত কেউ-ই কোনো জায়গার নয়।

    উরসুলা এক কোমল দৃঢ়তায় জবাব দিল – এখানে থেকে যাওয়ার জন্য যদি আমাকে মরতে হয় তবে আমি মরব।
     
  2. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    5,970
    Likes Received:
    1,580
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া বিশ্বাস করে উঠতে পারল না তার বৌয়ের ইচ্ছে শক্তি এতটা দৃঢ় হতে পারে। চেষ্টা করল তার যাদুময়ী আজগুবি কল্পনা আর বিস্ময়কর এক পৃথিবীর অঙ্গীকার দিয়ে ওকে প্রলুব্ধ করতে যেখানে মাটিতে যাদুকরী তরল পদার্থ ছিটালেই গাছ হয় মানুষের ইচ্ছানুযায়ী, যেখানে বিক্রি হয় খুব সস্তায় ব্যাথা সারানোর সব যন্ত্রপাতি। কিন্তু উরসুল ছিল নিরাসক্ত ওর দূরদৃষ্টিতে।

    – এই সব আজগুবী চিন্তার চেয়ে বরং তোমার সন্তানদের দায়িত্ব নেয়া উচিৎ– উত্তর দিল- দেখ ওদের কী অবস্থা, যেন আল্লার ওয়াস্তে ঘুরে বেড়ানো গাধা। হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া আক্ষরিক অর্থেই বৌয়ের কথাগুলো ধরে নিল। জানলা দিয়ে তাকিয়ে রৌদ্রতপ্ত বাগানে দুই ছেলেকে খালি পায়ে দেখতে পেল, ঐ মূহুর্তে ওর মনে হলো কেবল উরসুলার যাদুবলে যেন ওদের অস্তিত্বের শুরু হয়েছে। কিছু একটু ঘটে গেল তার ভিতরে, রহস্যময় এবং সুনির্দিষ্ট এমন একটা ব্যাপার যা তাকে সত্যিকারের সময় থেকে উপরে ফেলে নিয়ে যায় স্মৃতির এক অনাবিস্কৃত অঞ্চলে। উরসুলা যখন এ জীবনে গ্রাম ছেড়ে না যাবার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে ঘর ঝাড়ু দিচ্ছিল তখন সে মগ্নতা নিয়ে বাচ্চাদের দেখতে থাকে চোখগুলো ছলছল হ্ওয়া পর্যন্ত। হাত দিয়ে দুচোখ মুছে হাল ছেড়ে দেয়ার এক দীর্ঘশ্বাস ফেললো সে।

    – বেশ – বলল – ওদের বল যাতে আমাকে বাক্স থেকে জিনিষগুলো বের করতে সাহায্য করে।

    বাচ্চাদের মধ্যে সবচেয়ে বড়, হোসে আর্কাদিওর চৌদ্দ বছর পূরণ হয়েছে। ওর ছিল চৌকোমাথা, মাথা ভর্তি চুল আর চরিত্র ছিল বাপের মতই স্বেচ্ছাচারী। শারীরিক বৃদ্ধি আর শক্তিমত্তা একই রকম হলেও তখন থেকেই বোঝা যাচ্ছিল যে ওর ছিল কল্পনাশক্তির কিছু অভাব। ও পেটে আসে এবং জন্ম গ্রহণ করে মাকন্দো পত্তনের আগে কষ্টকর পর্বতসংকুল পাড়ি দেবার সময়, বাবা-মা খোদাকে ধন্যবাদ জানায় ওর শরীরে কোন জন্তুর অঙ্গ ছিল না বলে। আউরেলিয়ানো ছিল মাকন্দোতে জন্মানো প্রথম মানবসন্তান, মার্চে ছয় বৎসর পূরণ হবে। স্বভাবে সে নীরব এবং মনোযোগী। মায়ের পেটে থাকতে কান্নাকাটি করত আর জন্মেছিল চোখ খোলা অবস্থায়। যখন ওর নাড়ি কাটা হচ্ছিল তখন ঘরের জিনিষপত্র চিনতে চিনতে সে মাথা নাড়ছিল এদিক ওদিক। লোকজনের চেহারা পরীক্ষা করছিল এক বিস্ময়হীন কৌতুহল নিয়ে। পরে, যারা ওকে দেখতে এসেছিল তাদের দিকে গুরুত্ব না-দিয়ে সমস্ত মনযোগ কেন্দ্রীভূত করেছিল তালের পাতায় ছাওয়া ছাদটার দিকে যেটা প্রচন্ড বৃষ্টির চাপে প্রায় ভেঙ্গে পরার উপক্রম। ওর দৃষ্টিপাতের এই তীব্রতার কখা আর মনে পড়েনি। মনে পড়লো যেদিন সে জলন্ত উনুনে বলক দিতে থাকা স্যুপের পাতিল সরিয়ে টেবিলে রাখছিল সেই মুহূর্তে তিন বছরের ছোট্ট আউরেলিয়ানে ঘরে এসে হাজির । দরজায় দাড়ানো কিংকর্তব্যবিমুঢ় শিশুটি বলল ‘‘ওটাতো পড়ে যাবে”-। পাতিলটা টেবিলের মাঝখানে ভালভাবেই রাখা ছিল, কিন্তু শিশুর ঘোষণামাত্র , যেন অভ্যন্তরিন এক গতির দ্বারা চালিত হয়ে টেবিলের কিনারে চলে আসে সেটি আর মেঝেতে পড়ে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। ভীত উরসুলা ঘটনাটা স্বামীকে জানায়, কিন্তু সে এটাকে এক প্রাকৃতিক কোনো ব্যাপার বলে ব্যাখ্যা করে। বাচ্চাদের অস্তিত্বে উদাসীন হোসে আর্কাদিও কিছুটা এরকমই ছিলো সবসময়, এমন থাকার কারণ শৈশবকে সে মানসিক অপর্যাপ্ততা বলেই মনে করতো আর অন্যদিকে নিজের অবাস্তব কল্পনায় তন্ময় থাকাটাও ছিলো আরেকটা কারণ।
     
  3. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    5,970
    Likes Received:
    1,580
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    কিন্তু সেই বিকেলের পর থেকে, যেদিন সে বাচ্চাদের ডাকলো বাক্স থেকে জিনিসপত্রগুলো বের করতে সাহায্যের জন্য তখন থেকেই বেশীর ভাগ সময় সে ওদের পিছনে উৎসর্গ করতে লাগলো। মূল বাড়ি থেকে একটু দূরের সেই কামরাটার দেয়াল ভরে উঠছিল ধীরে ধীরে অবিশ্যাস্য মানচিত্র, আর অলীক সব গ্রাফে, সেখানে ওদের শেখাল পড়তে, লিখতে, গুনতে, সর্বোপরি শেখাল পৃথিবীর বিস্ময়গুলো সম্পর্কে যা কেবল ওর জানা জগতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো না বরং সেগুলো ওর অবিশ্বাস্য কল্পনার শেষ সীমা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো । এভাবেই শিশুরা শেখে আফ্রিকার একেবারে দক্ষিণপ্রান্তে এমন সব বুদ্ধিমান আর শান্তিপ্রিয় মানুষ আছে যাদের বিনোদন হচ্ছে শুধুমাত্র বসে বসে ভাবা অথবা এক দ্বীপ থেকে অন্যদ্বীপে লাফ দিয়ে পার হওয়ার মাধ্যমে ইজিয়ান সাগর পাড়ি দেয়া সম্ভব সালোনিক বন্দর পর্যন্ত । সেই সমস্ত ঘোরলাগা বৈঠকগুলো শিশুদের মনের মধ্য এমনভাবে গেঁথে যায় যে, বহু বছর পর পদাতিক বাহিনীর অফিসার ফায়ারিং স্কোয়াডকে গুলি ছোড়ার আদেশের এক মূর্হতে আগে, কর্ণেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়া চলে গেল মার্চের সেই নরম বিকেলে যখন ওর বাবা পদার্থবিদ্যায় বিরতি দিয়ে, স্থির চোখে, বাতাসে হাত তুলে মুগ্ধ হয়ে দাড়িয়ে শুনছিল দূর থেকে আসা বাঁশী, ঢোল আর খরতালের জিপসীদের আরও একবার গাঁয়ে আসার শব্দ, আর ঘোষণা করছে মেমফিসের বিজ্ঞ লোকদের আশ্চর্যকর সর্বশেষ আবিস্কারের কথা। এরা ছিল নতুন জিপসী দল। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও মহিলার দল শুধু মাত্র কথা বলতে পারে নিজেদের ভাষায়। তেলতেলে চামড়া আর বুদ্ধিদীপ্ত হাতের আদর্শ সৌন্দর্যের পুরুষগুলো নাচ আর গান দিয়ে রাস্তায় বপন করেছিলো এক আনন্দময় হট্টগোলের আতংক। এদের সঙ্গে ছিলো ইটালিয় গাথাকাব্য আওড়াতে সক্ষম বহুবর্ণে রাঙানো টিয়া পাখী, তামবোরিনের আ্ওয়াজে শতেক সোনার ডিমপ্রসবী মুরগী, মানুষের চিন্তা আঁচ করতে পারা এক প্রশিক্ষিত বাঁদর, একাধিক কাজে সক্ষম যন্ত্র যা দিয়ে বোতাম শেলাই ও জ্বর নামানো যায়, খারাপ স্মৃতি ভুলে যাবার যন্ত্র, সময় ভুলে যাবার বড়ি। আরও হাজারটা আবিষ্কার, যা এতই উৎভাবনশক্তিসম্পন্ন আর অসাধরণ যে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়ার খুব ভালো লাগতো যদি ওগুলো মনে রাখার একটা যন্ত্র আবিস্কার করতে পারতো। মূহুর্তের মধ্যে গ্রামটা বদলে যায়। মাকন্দোবাসীরা হারিয়ে যায় ওদের নিজেদেরই রাস্তায়, মেলার ভীড়ে বিহবল হয়ে।

    বিশৃংখলার মধ্যে যাতে না হারিয়ে যায়, তাই দুই হাতে দুই ছেলেকে ধরে সোনার দাঁতের কসরৎকারী আর ছয় বাহুর ভেল্কিবাজ, মল আর চন্দন কাঠের দমবন্ধ করা গন্ধের ভিতর, হোঁচট খেতে খেতে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া পাগলের মত সর্বত্র খুঁজছিল মেলকিয়াদেসকে, যাতে করে সে অবিশ্যাস্য দুঃস্বপ্নের গোপন কথাগুলো ব্যাখা দিতে পারে। অনেক জিপসীর কাছেই সে গেল কিন্তু কেউ-ই তার ভাষা বুঝতে পারলো না।
     
  4. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    5,970
    Likes Received:
    1,580
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    অবশেষে সেই জায়গায় সে এলো যেখানে মেলকিয়াদেস তাঁবু গাড়তো আর পেলো এক মৃদুভাষী আর্মেনিয়কে যে কিনা স্প্যানিশ ভাষায় ঘোষণা করছে অদৃশ্য হওয়ার গুনসম্পন্ন এক সিরাপের কথা। হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া দর্শকদের ভীর ঠেলে যখন ওকে প্রশ্ন করতে পারল তখন লোকটা এক ঢোকে পীতাভ রংয়ের এক পদার্থ কেবল মাত্র গলধঃকরণ করেছে। জিপসী তাকে এক বিস্ময়াষ্টি দৃষ্টিতে জড়িয়ে ফেলে। ধোঁয়া ও দুর্গন্ধময় আলকাতরায় পরিণত হওয়ার আগমুহূর্তে তার দেয়া উত্তরের প্রতিধ্বনি সেখানে ভাসসে থাকেঃ “মেলকিয়াদেস মারা গেছে”। এই খবরে কিংকর্ত্যববিমূঢ় হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া অনড় হয়ে থাকে দুঃখটাকে হজম করার জন্য। ইতিমধ্যে ভীরটা হাল্কা হতে শুরু করেছে অন্য কোন প্রদর্শনী দেখার জন্য আর মিতভাষী আর্মেনিয় সম্পূর্ণরূপে বাষ্প হয়ে গেছে। আরও পরে অন্য জিপসীরা তাকে নিশ্চিত করে যে সত্যি মেলকিয়াদেস সিংগাপুরের বালির স্তুপে হার মানে জ্বরের কাছে আর তার দেহ ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে জাভা সমুদ্রের সবচেয়ে গভীর জায়গায়। খবরটা বাচ্চাদের কাছে কোনো গুরুত্ব পায় না। ওরা বাবাকে তাগাদা দিচ্ছে মেমফিসের বিজ্ঞদের বিস্ময়কর নতুনত্বের সঙ্গে পরিচয় করাতে। ঢোকার সময়েই তাবু থেকে ঘোষণা করা হয়েছিলো সেটার মালিক ছিল রাজা সোলেমান। এত বেশি পীড়াপিরি করে ওরা যে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া তিরিশ রিয়ালের বিনিময়ে তাবুর মাঝখানে প্রবেশ করে যেখানে লোমশ শরীর, কামানো মাথা, নাকে তামার নোলক, গোড়ালিতে ভারী শিকল বাঁধা এক বিশাল লোক পাহাড়া দিচ্ছে জলদস্যুদের এক সিন্দুক। দৈত্যটা যখন সিন্দুকটাকে খোলে তখন ওটার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে এক ঠান্ডা প্রবাহ। ওর ভেতর রয়েছে বিশাল স্বচ্ছ একটি টুকরো যাতে অগুনতি সূঁচ বসানো, এগুলো থেকে উষার নির্মলতায় বিক্ষিপ্ত হচ্ছে তারার মতো রং বেরঙের উজ্জ্বলতা। বিচলিত, হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া জানে যে বাচ্চাগুলো অপেক্ষা করছে শিগগিরই এটার ব্যাখ্যা পাওয়ার জন্য, বুকে সাহস নিয়ে বিড়বিড় করলো সে:

    – এটা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হিরক খন্ড।
    – না – জিপসী শুধরে দেয় – এটা বরফ।

    না বুঝে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া হাত বাড়িয়ে দেয় বরফের টুকরোর দিকে। কিন্তু দৈত্যটা হাত সরিয়ে দেয়, “ছোঁয়ার জন্য আরও পাঁচ রেয়াল”– বলল। হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া তাই দিল। বরফের উপর হাত রাখল, ওভাবেই রাখল কয়েক মিনিট আর ততক্ষণে তার বুক ভরে উঠছে ভয় আর রহস্যময় স্পর্শের আনন্দে। কি বলবে বুঝতে না পেরে আরও দশ রিয়াল দিল যাতে কোরে বাচ্চারাও এই আশ্চর্য অভিজ্ঞতা অনুভব করতে পারে। ছোট্ট হোসে আর্কাদিও ছুঁতে অস্বীকার করল। অন্যদিকে আউরেলিয়ানো এক পা বাড়িয়ে হাত রাখল আর সরিয়ে নিল সঙ্গে সঙ্গে। “এটা বলকাচ্ছে”–চমকে গিয়ে বলল। কিন্তু ওর বাবার তাতে মনোযোগ ছিল না। সেই সময়ে এই অত্যাশ্চর্যের প্রমাণে মাতাল সে ভুলে গেল তার ব্যর্থ পরিকল্পনার হতাশার কথা আর স্কুইডের ক্ষিধের কাছে পরিত্যক্ত মেলকিয়াদেসের দেহের কথা। আরও পাঁচ রিয়াল দিয়ে বরফের উপর হাত রেখে পবিত্র হরফ ছুঁয়ে সাক্ষ্য দেয়ার ভঙ্গিতে বললো- “এটা হচ্ছে আমাদের সময়ের মহান আবিষ্কার”।
     
  5. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    5,970
    Likes Received:
    1,580
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ধারাবাহিক উপন্যাস । কিস্তি ৫

    যখন জলদস্যু ফ্রান্সিস ড্রেক ষোড়শ শতকে রিওআচা আক্রমণ করে তখন উরসুলা ইগুয়ারানের পরদাদী বিপদ ঘন্টা আর কামানের গোলার শব্দে দিশা হারিয়ে জ্বলন্ত উনুনের উপর বসে পড়েছিল। সেই আগুনের ক্ষত তাকে করে দিয়েছিল সারাজীবনের জন্য এক অকর্মা বউ। সম্পূর্ণভাবে বসতে পারত না, বসত এক পাশে ভর করে, বালিশের সাহায্যে। তার হাটাচলায় অজ্ঞাত কিছু একটা ছিলো, যেকারণে সে আর কখনোই জনসম্মুখে হাটেনি। গা থেকে পোড়া গন্ধ বের হয়–এমন বদ্ধমূল ধারণা থাকায় সব ধরনের সামাজিক কাজ থেকে সে বিরত থাকে। ভোরবেলাটা আঙ্গিনায় নির্ঘুম তাকে চমকে দিতো, কারন সে দুঃস্বপ্ন দেখত যে ইংরেজরা তাদের হিংস্র কুকুরসহ জানালা দিয়ে শোবার ঘরে ঢুকে উত্তপ্ত লাল লোহা তার ভেতর লজ্জাজনকভাবে ঢুকিয়ে অত্যাচার করছে। স্প্যানিশ ব্যবসায়ী যে-স্বামীর ঔরসে দুই সন্তান রয়েছে সে ঔষধপত্র আর আনন্দফূর্তির পেছনে দোকানের অর্ধেকটা ফতুর করে ফেলে স্ত্রীর ভয় কাটানোর জন্য। সবশেষে ব্যবসা লাটে তুলে তাকে নিয়ে গেল সমুদ্র থেকে দূরে পাহাড়ের পাদদেশে এক নিরীহ আদিবাসীদের লোকালয়ে, যেখানে বানালো স্ত্রীর জন্য এক শোবার ঘর, ওটাতে এমন কোনো জানালা ছিল না যাতে করে তার দুঃস্বপ্নের জলসদ্যুরা ঢুকতে পারে।

    সেই গোপন লোকালয়ে অনেক আগে থেকে বাস করতো দন হোসে আর্কাদি্ও বুয়েন্দিয়া নামের এক আদিবাসী তামাক চাষী যার সঙ্গে উরসুলার দাদীর বাবা এমন এক লাভজনক অংশীদারি ব্যবসা গড়ে তোলে যে কয়েক বছরের মধ্যেই তাদের ভাগ্য ফেরে।
    কয়েক শতাব্দী পর সেই আদিবাসীর নাতির নাতি বিয়ে করে স্প্যানিশ নাতনীর নাতনিকে। এর ফলে, প্রতিবার যখন স্বামীর পাগলামী উরসুলাকে ক্ষিপ্ত করত তখন সে তিনশ বছরের ঘটনাচক্রের উপর ঝাপিয়ে পরতো, শাপান্ত করত ফ্রান্সিস ড্রেকের রিওআচা আক্রমণের সময়টিকে। এটা ছিল শুধুমাত্রই মনের ভার লাঘবের একটা উপায়, কারণ আসল কথা হচ্ছে ওরা ছিল আমৃত্যু ভালবাসার চেয়েও শক্ত, অভিন্ন এক বিবেকদংশনে বাধা। ওরা ছিল জ্ঞাতি ভাই বোন। ওদের পূর্বপুরুষদের শ্রম আর প্রথা দিয়ে একসঙ্গে বেড়ে ওঠা প্রাচীন লোকালয়কে প্রদেশের সবচেয়ে ভালো গ্রামগুলোর একটিতে পরিণত করেছিলো। যদিও যখন ওরা এই পৃথিবীতে আসে তখন থেকেই ওদের বিয়ে ছিল পূর্ব-নির্ধারিত। কিন্তু যখন ওরা পরস্পর বিয়ের ইচ্ছে প্রকাশ করে তখন ওদের নিজেদের আত্মীয়রাই তাতে বাধা দেয়। ওদের ভয় ছিল যে দুই বংশের এই স্বাস্থ্যবান জুটি বংশ পরস্পরায় নিজেদের মধ্যে উপর্যুপরি সংকরের ফলে ইগুয়ানার ন্যায় সন্তান জন্ম দিয়ে লজ্জা পেতে পারে। এরকম একটা ভয়ংকর উদাহরণ আগে থেকেই ছিল। উরসুলার এক খালার বিয়ে হয়েছিল হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়ার এক চাচার সঙ্গে, জন্ম দিয়েছিল এমন এক ছেলের যে সারা জীবন ফুলানো ও ঢিলে প্যান্ট পরত আর মারা গিয়েছিল বিয়াল্লিশ বছর বয়সে রক্তপাত হয়ে চিরকুমার অবস্থায়। কারন জন্ম নিয়েছিল আর বেড়ে উঠেছিল কোমলস্থির এক কুন্ডলীপাকানো লেজ নিয়ে যার ডগায় ছিল বুরুষসদৃশ একগোছা চুল। শুকরের এক লেজ যা কিনা কখনোই কোন মেয়েকে দেখতে দেয়নি। আর এই লেজের জন্য নিজের জীবন দিতে হয়েছে কারণ যখন এক কসাই বন্ধু অনুগ্রহ করে হাড় কাটার কুঠোর দিয়ে কেটে দিয়েছিল সেটি। লঘুমনস্ক উনিশ বছরের হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া এই সমস্যার সমাধান করে দিলো একটি মাত্র বাক্যে “শুয়োরের ছানা হলেও কিছু আসে যায় না, যদি নাকি শুধু কথা বলতে পারে।” এভাবেই বিয়ে করল তিন দিনব্যাপী গানবাজনা আর আতশবাজীপূর্ণ উৎসবের মধ্য দিয়ে । উরসুলার মা যদি সবসময় ওদের অনাগত সন্তানের ব্যাপারে অশুভ ভবিষ্যৎবানী না করতো, এমনকি ওদের সহবাস না করার উপদেশ দেয়ার মত চরম পর্যায়ে না যেত তাহলে ওরা সুখেই থাকত। শক্ত সামর্থ, স্বেচ্ছাচারী স্বামী ঘুমের মাঝে ধর্ষণ করতে পারে–এই ভয়ে উরসুলা শোবার সময় ওর মার হাতে তৈরি প্রাচীনকালের প্যান্ট পড়তো যেটাকে মজবুত করা হয়েছিলো এক ধরনের ফিতে আড়াআড়ি তার সঙ্গে জুড়ে দিয়ে যেটা বন্ধ করা যেত সামনের দিক থেকে খুব মোটা লোহার বক্লেস দিয়ে। এভাবেই কাটালো কয়েক মাস। দিনের বেলাটা কাটতো লড়াইয়ের মোরগগুলো দেখাশুনা করে আর মায়ের সঙ্গে ফ্রেমে এমব্রয়েডারি করে। আর রাতের বেলা কাটাত ঘন্টা কয়েক ব্যগ্র, তীব্র উত্তেজনাময় জোরাজুরি করে যেন সেটা ছিল যৌনমিলনের বিকল্প। এই অবস্থা চলতে থাকে যতক্ষন না জনপ্রিয় স্বজ্ঞা গন্ধ পেয়ে যায় যে অস্বাভাবিক কিছু একটা ঘটছে আর গুজব ছড়িয়ে পরে যে বিয়ের এক বছর পরও উরসুলা হচ্ছে কুমারী, কারণ তার স্বামী একটা নপুংসক। গুজবটা সর্বশেষ যে ব্যক্তির কানে গিয়ে পৌঁছোয় সে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া।
     
  6. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    5,970
    Likes Received:
    1,580
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    –দেখছিস উরসুলা, লোকজন কী বলছে,–স্ত্রীকে বলল খুব শান্তভাবে।
    –ওদের বলতে দাও– উত্তর দিল–আমরা জানি ওটা সত্য নয়।–
    অবস্থাটা এরকম থাকলো আরও ছয় মাস, অবশেষে এক করুণ রোববারে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া জেতে এক মোরগ লড়াই প্রুদেন্সিও আগিলারের সঙ্গে। ক্রোধনোমত্ত, পাশবিক উত্তেজনায় হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়ার কাছ থেকে খানিকটা দূরে সরিয়ে নিলো নিজেকে যাতে সমস্ত গ্যালারি শুনতে পায় যা সে বলতে চায়।
    –তোকে অভিনন্দন-চিৎকার করল,– দেখা যাক শেষ পর্যন্ত এই মোরগ তোর বউয়ের কাজে লাগে কিনা। শান্ত হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া নিজের মোরগটা তুলে নিল। “এখনই ফিরে আসছি” সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললো। পরে প্রুদেন্সিও আগিলারকে লক্ষ করে বলে: “আর তুই বাড়ি যা, অস্ত্র নিয়ে তৈরি হ, কারণ তোকে মেরে ফেলবো।” মিনিট দশেক পর দাদার ধারালো বল্লম নিয়ে সে ফিরে আসে। মোরগ লড়াইয়ের যে-জায়গাটায় গ্রামের অর্ধেক লোক জড়ো হয়েছিলো, প্রুদেনসিও আগিলার সেখানেই অপেক্ষা করছিল। আত্মক্ষার সময়ও পেল না, প্রথম আ্রউলিয়ানো বুয়েন্দিয়া যে-নিশানা দিয়ে এলাকার বাঘগুলিকে শেষ করেছিলো ঠিক সেই রকম নিশানা আর ষাড়ের মত শক্তি দিয়ে বল্লমটাকে সে এমনভাবে ছুঁড়ে মারলো যে তা গলা ভেদ করে বেড়িয়ে গেল। সেই রাতে যখন মোরগ লড়াইয়ের জায়গায় লাশটার অন্তেষ্টিক্রিয়া হচ্ছে, হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া ঢুকল শোবার ঘরে, ওর বউ তখন শাস্তির প্যান্টটি পরছে । “ওটা খোলা”, আদেশ করল। উরসুলা স্বামীর সিদ্ধান্তে কোন সন্দেহ প্রকাশ করল না।-যা ঘটবে তার জন্য তুমি দায়ী থাকবে। ফিসফিস করলো। হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া বল্লমটা মাটিতে পুতলো।
    যদি উগুয়ানারই জন্ম দা্ও, ইগুয়ানাই লালন করব- বলল -কিন্তু তোমার দোষে এই গ্রামে আর কেউ মারা যাবে না।
    এটা ছিল জুনের এক সুন্দর চাঁদে ভরা ঠান্ডা রাত, জেগেছিল সকাল হওয়া পর্যন্ত বিছানায় লুটোপুটি করে আর অন্যদিকে যে বাতাস বয়ে যাচ্ছিল শোবার ঘরের ভিতর দিয়ে তা ছিল প্রুদেন্সিও আগিলারের আত্মীয়দের কান্নায় ভারী।

    ঘটনাটা বিবেচিত হয়েছিল সম্মান রক্ষার দ্বন্দযুদ্ধ হিসেবে, কিন্তু ওদের বিবেকের মধ্যে একটা অস্বস্তি থেকেই যায়। এক রাতে ঘুমুতে না পেরে, উরসুলা উঠোনে পানি পান করতে যায় আর দেখতে পায় প্রুদেন্সিও আগিলারকে কলশির পাশে। ওকে পান্ডুর দেখাচ্ছিলো, অভিব্যক্তি ছিল খুবই করুণ, গলার গর্তটাকে খড় দিয়ে বন্ধ করার চেষ্টা করছে। ওকে দেখে উরসুলার মনে ভয়ের বদলে করুণারই সৃষ্টি হলো। ঘরে ঢুকে স্বামীকে বলল যা দেখেছে, কিন্তু সে পাত্তা দিল না। “মৃতেরা বেরিয়ে আসে না” বলল, “ঘটনা হলো আমরা বিবেকের দংশন সহ্য করতে পারছি না।” দু’রাত পর, উরসুলা আবার দেখতে পেল প্রুদেন্সিও আগিলারকে গোসলখানায়; গলায় জমাট বাঁধা রক্ত পরিস্কার করছে খড় দিয়ে। আরেক রাতে দেখল বৃষ্টির মধ্যে সে হেঁটে বেড়াচ্ছে। হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া বৌয়ের অলীকদর্শনে উত্যক্ত হয়ে বল্লম নিয়ে উঠোনে বের হলো। ওখানেই ছিল প্রুদেন্সিও আগিলার তার করুণ অভিব্যক্তি নিয়ে।
    – জাহান্নামে যা – চিৎকার করল হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া, –যতবার ফিরে আসবি ততবারই তোকে মেরে ফেলব।
     
  7. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    5,970
    Likes Received:
    1,580
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ধারাবাহিক উপন্যাস । কিস্তি ৬

    প্রুদেন্সিও আগিলারও চলে গেল না, হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়াও বল্লম ছোড়ার দুঃসাহস করলো না। সেই সময় থেকে সে ভালমত ঘুমাতে পারত না।
    বৃষ্টির ভিতর প্রচন্ড বিষাদগ্রস্থ দৃষ্টিতে মৃত লোকটার তাকানো, জীবিত মানুষদের জন্য তার গভীর স্মৃতিকাতরতা, আর পাশাপাশি এসপারতো ঘাসের ছিপি ভেজানোর জন্য পানির খোঁজে উদ্বেগ নিয়ে সারা বাড়ি ঘুড়ে বেড়াতে দেখে ও বিচলিত হয়ে পড়লো। ওর “খুব কষ্ট পাচ্ছে মনে হয়” উরসুলা বলল ওকে, “দেখে মনে হয় ও খুবই একা”। উরসুলা এতই উত্তেজিত হয়ে পরে যে যখন মৃত ব্যক্তিটিকে পরেরবার চুলার মুখ খুলতে দেখে তখন সে বুঝে যায় লোকটি কী খুঁজছিলো। আর তখন থেকেই সারা বাড়িতে পানিভর্তী গামলা বসিয়ে রাখে।, এক রাতে যখন ওকে নিজের ঘড়ে ক্ষত পরিস্কার করতে দেখলো, হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া আর সহ্য করতে পারল না।

    “ঠিক আছে প্রুদেন্সিও” – ওকে বলল – “আমরা এই গ্রাম থেকে চলে যাব, যতদূর পারি, আর কখনই ফিরে আসব না। এবার শান্তিতে ফিরে যা।”
    এভাবেই পাহাড় পারি দিলো ওরা, হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়ার কিছু বন্ধু–ওর মতই যুবক–বিপদসংকুল অভিযানে উত্তেজিত নিজেদের ঘড়গুলো খুলে ফেলে বৌ আর ছেলেমেয়েদের নিয়ে রওয়ানা হলো এমন এক জায়গার দিকে যার প্রতিশ্রুতি কেউ তাদেরকে দেয়নি। যাত্রার আগে, হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া বল্লমটাকে উঠোনে পুতলো, আর লড়াইয়ের অসামান্য মোরগগুলোর গলা একে একে কেটে ফেললো এই বিশ্বাসে যে এতে করে প্রুদেন্সিও আগিলার একটু হোলেও শান্তি পাবে। উরসুলা শুধুমাত্র নিল ওর সদ্য বিয়ের সময়কার কাপড়ে ভর্তি এক স্যুটকেস, কিছু ব্যবহার্য থালা বাসন আর বাপের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সোনার টুকরো ভরা একটি ছোট্ট সিন্ধুক। ওরা নির্দিষ্ট কোন ভ্রমনপথ বেছে নেয়নি। শুধু মাত্র চেষ্টা করছিল রিওআচার উল্টোদিক ধরে এগিয়ে যেতে যাতে করে কোন পদচিন্থ না থাকে বা কোন পরিচিত লোকের সঙ্গে দেখা না হয়। ওটা ছিল এক অর্থহীন অভিযাত্রা। চৌদ্দ মাসের মাথায়, বানরের মাংস আর সাপের স্যুপে খারাপ হয়ে যাওয়া পেট নিয়ে উরসুলা জন্ম দিল মানুষের সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গসহ এক ছেলের। দুজন লোক এক লম্বা লাঠিতে দোলখাটিয়ায় ঝুলিয়ে অর্ধেক রাস্তা ওকে বহন করেছে, কারণ তার পা ফুলে বিকৃত হয়ে গিয়েছিল আর পায়ের শিরাগুলো ফেনার মত ফেটে পরতো। যদিও বাচ্চাদের শুকিয়ে যাওয়া পেট আর দুর্বল চোখ দেখে করুণা হতো, কিন্তু বাচ্চারাই এই সফরটাকে সহ্য করেছিল বড়দের চেয়ে বেশী, বেশীর ভাগ সময়ই এটা ছিল ওদের কাছে আনন্দময়। এক সকালে, প্রায় দুবছর পর, ওরাই ছিল প্রথম মানুষ যারা দেখতে পায় পাহাড়ের পশ্চিম ঢালু। মেঘাচ্ছন্ন চুঁড়া থেকে অনুমান করা যাচ্ছিল বিশাল সমতল জলপ্লাবিত এলাকা যা পৃথিবীর অপর প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত। কিন্তু কখনই ওরা সমুদ্র খুঁজে পেল না। এক রাতে, জলভূমিতে অনেক মাস হারিয়ে যাবার পর, সর্বশেষ দেখা আদিবাসী থেকে অনেক দূরে ছাউনি ফেলে এক পাথুরে নদীর পাড়ে যার পানি ছিল ঠান্ডা কাঁচের মত। অনেক বছর পর, দ্বিতীয় গৃহযুদ্ধের সময় কর্ণেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়া এই একই রাস্তা ব্যবহার করতে চেষ্টা করেছিল রিওআচাকে চমকে দিয়ে দখলের জন্য আর ছয় দিন ভ্রমণের পর বুঝতে পারল যে সেটা ছিল একটা পাগলামী। আর অন্যদিকে যে রাতে ওর বাবা নদী তিরে ছাউনি ফেলেছিল, তার পদাতিক বাহিনীর অবস্থা ছিল পালানোর সুযোগবিহীন জাহাজডুরীর মত, কিন্তু যাত্রাপথে তাদের সংখ্যা বাড়তে থাতে আর সবাই প্রস্তুত ছিল (এবং সফলও হয়) বৃদ্ধাবস্থায় মরার জন্য। হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া ঐ রাতে স্বপ্ন দেখে যে ঐ জায়গায় তৈরি হচ্ছে এক কোলাহলমুখর শহর যার বাড়িগুলো তৈরি কাচের দেয়াল দিয়ে। জিজ্ঞেস করল কোন শহর ওটা আর উত্তর এল এমন একটা নামের যা কখনই সে শোনেনি, যার কোন অর্থও ছিল না, কিন্তু স্বপ্নে পেল এক অতিপ্রাকৃত প্রতিধ্বনি ‘মাকন্দ’। পরের দিন সে ওর লোকদের বিশ্বাস করাতে পারল যে সাগর কখনওই খুঁজে পাওয়া যাবে না। ওদের নির্দেশ দিল গাছ সরিয়ে নদীর পার্শ্বে এক ফাঁকা জায়গা তৈরি করতে, নদীর কিনারের সবচেয়ে ঠান্ডা জায়গায়, আর সেখানে পত্তন করল গ্রামের।
     
  8. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    5,970
    Likes Received:
    1,580
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া স্বপ্নের ঘরের কাঁচের দেয়ালগুলোর রহস্য উন্মোচন করতে সমর্থ হলো যেদিন সে বরফের সঙ্গে পরিচিত হোল। সুতরাং বিশ্বাস করল যে সে বুঝতে পেরেছে ওর গভীর অর্থ। ভাবল খুব নিকট ভবিষ্যতেই বিরাট অংকের বরফের ব্লক বানাতে পারবে যা তৈরি হয় পানির মত এক দৈনন্দিন উপাদান দিয়ে, আর তা দিয়ে তৈরী হবে গ্রামের নতুন বাড়িগুলো। মাকন্দ আর গা-পোড়ানো এক গ্রাম থাকবে না যেখানে কলকব্জা আর কড়া নাড়ার লোহাগুলো গরমে বেঁকে যায়, বরং পরিণত হবে এক শীতকালীন শহরে। সে যদি তখন একটা বরফের কারখানা বানানোর জন্য গোঁ ধরে না থাকে, তার কারণ হচ্ছে তখন ও সত্যিকার অর্থেই উৎসাহী হয়ে পরেছিল ছেলেদের শিক্ষা দেয়ায়, বিশেষ করে আউরেলিয়ানোর ব্যাপারে যার নাকি প্রথম থেকেই আলকেমির প্রতি এক স্বজ্ঞাবোধ রয়েছে। ধুলো ঝেড়ে পরীক্ষাগারটা পরিস্কার করা হলো। মেলকিয়াদেসের টিকাগুলো পর্যালোচনা করা হলো, এবার ঠান্ডা মাথায়, নতুনের উত্তেজনা নিয়ে নয়, দীর্ঘ সময় আর ধৈর্য নিয়ে ধাপে ধাপে চেষ্টা করল পাত্রের তলা থেকে উরসুলার স্বর্ণ টুকরোগুলোকে আলাদা করার। ছোট্ট হোসে আর্কাদিও প্রক্রিয়াটায় সবেমাত্র অংশগ্রহণ করছে। ইতিমধ্যে ওর বাবার দেহ আর মন ছিল শুধু মাত্র পরীক্ষাগারের পানির নলে নিমগ্ন। সাহায্যে আগ্রহী প্রথম সন্তান বেড়ে উঠছিল বয়সের তুলনায় অনেক বেশি, পরিবর্তিত হয়েছিল এক প্রমাণাকৃতির দশাসই কিশোরে। তার গলার স্বর গিয়েছিল বদলে। বয়সন্ধিতে লোম গজানোর জায়গাগুলো ভরে উঠেছিল কোমল সদ্য গজানো পশমে। এক রাতে উরসুলা প্রবেশ করল ওর ঘরে যখন সে ঘুমানোর কাপড় খুলছে, অনুভব করল লজ্জা আর দয়ার মাঝে এক বিভ্রান্তিরকর মনোভাবের। স্বামীর পর ওটাই ছিল তার প্রথম নগ্ন পুরুষ দেখা, জীবন যাপনের জন্য ওকে এতটাই পরিপূর্ণ দেখাচ্ছিলো যে উরসুলার কাছে তা অস্বাভাবিক মনে হলো। তৃতীয় বারের মতো উরসুলা পোয়াতি হলে সদ্য বিবাহের ভয়গুলো তার মধ্যে নতুন করে জেগে উঠলো।
     
  9. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    5,970
    Likes Received:
    1,580
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ঐ সময় ওদের বাড়িতে যেত আনন্দোচ্ছল, ঠোঁটকাটা স্বভাবের আর উদ্দীপক ধরণের এক মেয়ে যে গৃহস্থালী কাজে সাহায্য করতো আর তাস দেখে বলতে পারতো ভবিষ্যৎবাণী। উরসুলা ছেলের কথা জানায় ওকে, সে ভেবেছিল এই অপ্রাকৃতিক অসামঞ্জস্য জ্ঞাতি ভাইর শুকরের লেজের মতই একটা ব্যাপার। শুনে উচ্চকন্ঠে মেয়েটা এমন হাসি হাসে যার প্রতিধ্বনি বাজে সারা ঘরময়, যেন কাচগুলো ভেঙ্গে চুড়ে পড়বে। “ঠিক এর উল্টো” বলল। “ও খুব সুখী হবে।” ওর কথার সত্যতা প্রমাণের জন্য দিনকয়েকের মধ্যেই ওদের বাাড়িতে নিয়ে গেল তাস, আর পাকঘরের পাশে শষ্যের গুদাম ঘড়ে হোসে আর্কাদিওকে নিয়ে ঢুকে ঘর বন্ধ করল। সুতোরদের বেঞ্চের উপর তাসগুলো মেলে ধরলো শান্তভাবে। মেয়ে যখন যাচ্ছেতাই বলে যাচ্ছিল তখন ওর কাছে বসে থাকা কিশোরটি যতটা না আচ্ছন্ন তার চেয়ে বেশি বিরক্ত।
    হঠাৎ করেই হাত বাড়িয়ে স্পর্শ করল। “ওরে বাপ” সত্যিকার অর্থেই মেয়েটি চমকে উঠে বলল আর ওটুকুই ছিল তার বলা সবকিছু। হোসে আর্কাদিও অনুভব করল সমস্ত হাড়গুলা ফেনায় ভরে উঠছে। অবশ করা এক ভয় আর প্রচন্ড কেঁদে ফেলার ইচ্ছা পেয়ে বসলো তাকে। মেয়েটি কোন রকমের ইঙ্গিতই করে নি। কিন্তু হোসে আর্কাদিও সারারাত খুঁজে বেড়ালো রন্ধ্রে রন্ধ্রে সেঁটে থাকা ওর বগলতলার ধোয়াটে গন্ধ। ওর সঙ্গে থাকতে চাচ্ছিল সর্বক্ষণ। মনে হচ্ছিল মেয়েটা যদি ওর মা হোত, বা কখনই গুদাম ঘড় ছেড়ে না যেত আর আবার স্পর্শ করে বলত ওরে বাপ। একদিন আর সহ্য করতে না পেরে ওকে খুঁজতে গেল ওর বাড়ি। এই দেখা করাটা ছিল সাদামাটা কিন্তু অবোধ্য , আর বসার ঘরে বসেছিল একটি কথাও না বলে। এই সময় ওকে সে কামনা করেনি। ওকে পেল সে অন্যরকম, যে গন্ধ তার মধ্যে এই মেয়েটার ব্যাপারে একটা ছবির জন্ম দিয়েছে তা থেকে অনেক দূরের মনে হলো তার। যেন সে অন্য এক মেয়ে। কফি খেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো বিষন্নমনে। সেই রাতে নির্ঘুম ভয়ংকর মূহুর্তগুলোয় ওকে আবার কামনা করে প্রচন্ড উৎকন্ঠা নিয়ে, কিন্তু তখন ওকে চাচ্ছিল যেমনটি দেখেছিল বিকেলে, গুদাম ঘরে দেখা অবস্থায় নয়।

    কয়েকদিন পর হঠাৎ করেই মেয়েটা ওকে ডেকে নিয়ে গেল ওদের বাড়িতে। যেখানে শুধু মাত্র ছিল মেয়েটার মা আর তাসের একটা হাতসাফাই শেখানোর উছিলায় নিয়ে গেল ওকে শোবার ঘড়ে। সুতরাং বাধামুক্ত হয়ে এমনভাবে ওকে স্পর্শ করল যে প্রাথমিক শিহরণ কেটে যাওয়ার পর সে হয়ে পরলো হতাশাচ্ছান্ন আর আনন্দের চেয়ে ভয়ই পেল বেশি। মেয়েটা ওকে বললো সেই রাতে ওর কাছে যেতে। ও রাজী হলো শুধুমাত্র ওখান থেকে বেরুবার জন্য, কারণ জানত যাওয়ার সাধ্য তার ছিল না। কিন্তু সেই রাতে, জ্বলন্ত বিছানায় বুঝতে পারল যে তার যেতেই হবে যদিও তার যাবার সাধ্য নেই। অন্ধকারে ভাইয়ের শান্ত শ্বাস প্রশ্বাস, পাশের ঘরে পিতার শুকনো কাশী, উঠোনের মুরগীগুলির হাসফাস, মশার গুনগুনানী, নিজের বুকের ধরপরানী এর আগে কখনই শোনেনি। পৃথিবীর এমন নানান রকমের শব্দের মাঝে হাতরিয়ে পোশাক পড়ে বের হলো ঘুমন্ত রাস্তায়।
     
  10. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    5,970
    Likes Received:
    1,580
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ধারাবাহিক উপন্যাস । কিস্তি ৭

    সমস্ত সত্তা দিয়ে সে চাচ্ছিল, যেন শুধুমাত্র ভেজানো নয়, দরজাটা ভালভাবে হুড়কো লাগানো থাকে যেমনটি সে কথা দিয়েছিল। কিন্তু ওটা ছিল খোলা। ওগুলোকে ধাক্কা দিল আঙ্গুলের ডগা দিয়ে আর কড়াগুলো বিশ্রীভাবে ক্যাৎরিয়ে উঠল আর তার প্রতিধ্বনি ওর অন্ত্রের মধ্যে এক হিমশীতল অনুভুতিতে ভরে দিল। আধাআধিভাবে কোন রকম শব্দ না করে যেই মুহূর্তে ঢুকল তখন থেকেই পেল সে গন্ধটা। তখনও সে ছিল সেই বসার ঘরে যেখানে মেয়েটার তিন ভাই হ্যামক ঝোলাতো যার অবস্থান আর দিক ছিল তার কাছে অজানা। অন্ধকারের মাঝে তা বোঝা ছিল অসম্ভব, সুতরাং একমাত্র উপায় ছিল ঘরটা হাতরিয়ে পার হওয়া আর শোবার ঘরের দরজায় ধাক্কা দিয়ে কোন ভুল না করে সঠিক বিছানার কাছে নিজেকে নিয়ে যাওয়া। ধাক্কা খেল সে হ্যামকের দড়িগুলোর সঙ্গে, যেগুলোর অবস্থান ছিল যেমনটি সে ভেবেছিল তার থেকেও নীচে, আর নাকডাকা এক লোক সেই মুহূর্তে স্বপ্নটাকে গুলিয়ে ফেলে এক ধরনের বিভ্রমের মাঝে বলে উঠল “ওটা ছিল বুধবার”। যখন শোবার ঘরে দরজা ধাক্কা দিল তখন মেঝের ঢেউ খেলানো তলের সঙ্গে দরজার ঘষা এড়াতে পারল না। নিকষ অন্ধকারে, হঠাৎ করেই প্রতিকারহীন এক স্মৃতিকাতরতার সঙ্গে বুঝতে পরলো যে সে পুরোপুরি দিকভ্রান্ত হয়ে পরেছে। অপরিসর সেই ঘরে ঘুমুতো ওর মা, স্বামীসহ অন্য একটি মেয়ে ও তাদের দুই শিশু ছেলেকে নিয়ে, আর সেই মেয়েটি যে হয়তো অপেক্ষা করছিল না। গন্ধটা ওকে হয়তো পথ দেখিয়ে নিয়ে যেতে পারত যদি না তা সাড়া বাড়িময় ছড়িয়ে থাকত। এমন বিভ্রান্তিকর আর একই সঙ্গে এমন ধ্রুব ছিল সেই গন্ধ যে তা লেগেছিল সবসময় নিজের সত্তার সাথে। স্থির হয়ে ছিল দীর্ঘক্ষণ, আশ্চর্য হয়ে নিজেকে জিজ্ঞেস করছিল কিভাবে এসে পড়েছে সে এই বিপুল অসহয়তায়। তখনই প্রসারিত আঙুলসহ একটা হাত অন্ধকারে হাতড়ে এসে ওর মুখের সাথে ধাক্কা খেল। বিস্মিত হল না সে, কারণ তার অজান্তেই সে অপেক্ষা করছিল।

    সুতরাং আস্থা রাখল হাটার উপর আর প্রচন্ড অবসাদে ভেঙেপরা হাতটাকে নিয়ে যেতে দিল এমন জায়গায় যেখানে ওর কাপড় খুলে ঝাঁকানো হোল এপাশ ওপাশ করে, সোজাভাবে আবার উল্টো করে আলুর বস্তার মত। ব্যাপারটা ঘটল এক রহস্যময় অন্ধকারে, যে অন্ধকারে হাতের কোন অভাব ছিল না, যেখানে সে আর নারীর গন্ধ নয়, বরং অ্যামনিয়ার গন্ধ পেল, যেখানে সে চেষ্টা করছিল মনে করতে মেয়েটার মুখ, কিন্তু খুঁজে পেল শুধু উরসুলার মুখ, যেখানে বিভ্রান্ত সচেতন অবস্থায় এমন কিছু করছিল যা অনেক আগে থেকেই কামনা করছিল করতে পারার, কিন্তু কখনই কল্পনা করেনি যে বাস্তবে সে তা করতে পারবে। সে যা করছিল তা না জেনেই করছিল, কারণ জানত না কোথায় রয়েছে তার পা, মাথা অথবা কার পা বা কার মাথা। টের পাচ্ছিল আর বেশিক্ষণ সহ্য করতে পারবে না বৃক্ক আর অন্ত্রের বাতাসের হিমশীতল ফিসফিসানি আর ভয়। ইচ্ছে করছিল দিকগ্বিদিক চিন্তা না করে পালাতে আর একই সাথে সবসময়ের জন্য থেকে যেতে সেই নীরব উত্তেজনায়, সেই ভয়ংকর নিঃসঙ্গতায়।

    ওর নাম ছিল পিলার তেরনেরা, মাকন্দো পওনের সময়ে গ্রামত্যাগীদের একজন।
     

Pls Share This Page:

Users Viewing Thread (Users: 0, Guests: 0)