1. Hi Guest
    Pls Attention! Kazirhut Accepts Only Bengali (বাংলা) & English Language On this board. If u write something with other language, you will be direct banned!

    আপনার জন্য kazirhut.com এর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার :

    যে কোন সফটওয়্যারের ফুল ভার্সন প্রয়োজন হলে Software Request Center এ রিকোয়েস্ট করুন।

    Discover Your Ebook From Our Online Library E-Books | বাংলা ইবুক (Bengali Ebook)

Collected গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস: নিঃসঙ্গতার একশ বছর (উপন্যাস)

Discussion in 'Collected' started by abdullah, Sep 18, 2016. Replies: 53 | Views: 3134

  1. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    5,970
    Likes Received:
    1,580
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ধারাবাহিক উপন্যাস । কিস্তি ৯

    যখন হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া বুঝতে পারে যে প্লেগটা সারাগ্রাম দখল করে নিয়েছে। তখন পরিবারের সব প্রধানকে ডেকে অনিদ্রা রোগ সম্মন্ধে তার যা জানা ছিল তা জানায়। আর জলাভূমির অন্যান্য জনবসতিকে এই রোগের রোষানল থেকে রক্ষার জন্য সকলে মিলে কার্যক্রম ঠিক করে। এভাবেই কাকাতুয়ার সঙ্গে বদল করা ঘণ্টিগুলো ছাগলের গলা থেকে খুলে গ্রামের প্রবেশপথে ঝুলিয়ে দেয় তাদের উদ্দেশ্যে, যারা উপদেশ গ্রাহ্য না করে বা পাহারাদারদের অনুরোধ রক্ষা না করে গ্রাম ভ্রমণের জেদ করে। তখনকার সমস্ত আগুন্তুকদের, যারা মাকন্দোর পথ অতিক্রম করত, তাদের অবস্থানের সময় খাবার বা পান করা নিষিদ্ধ ছিল। কারণ, এ ব্যাপারে কারও সন্দেহ ছিল না যে রোগটা ছড়ায় মুখ দিয়ে, আর সমস্ত খাবার এবং পানীয় কলুষিত ছিল অনিদ্রা দিয়ে। এভাবেই প্লেগটা ছিল গ্রামের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ। কোয়ারানটিনটা এতই ফলপ্রসূ হয় যে এমন একদিন আসে যখন জরুরি সময়টাই স্বাভাবিক বলে গণ্য হয় আর জীবন ও কাজের ছন্দ এমনভাবে সুসংবদ্ধ হয়ে আসে যে কেউই আর নিদ্রা নামের অপ্রয়োজনীয় অভ্যাসটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করে না।

    আউরেলিয়ানো ছিল সেই ব্যক্তি, যে কয়েক মাসের মধ্যেই স্মৃতিবিলোপ প্রতিরোধের সূত্র আবিষ্কার করে। ঘটনাবশত ব্যাপারটা আবিষ্কার করে সে। আক্রান্ত হওয়া প্রথম কয়েকজনের একজন হওয়ায় অনিদ্রায় অভিজ্ঞ আউরেলিয়ানো শিখে ফেলে রৌপ্যকর্ম নিখুঁতভাবে। একদিন ধাতু পিটিয়ে পাতে পরিণত করার জন্য ব্যবহৃত ছোট্ট নেহাই খুঁজছিল সে। আর তার নাম মনে করতে পারছিল না। ওর বাবা বলে নেহাই। আউরেলিয়ানো এক টুকরো কাগজে নামটা লিখে নেহাইর হাতলে আঠা দিয়ে লাগিয়ে দেয়। এভাবেই সে ভবিষ্যতে নামটা ভুলে না যাবার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়। জিনিসটার নামটা কঠিন বিধায় ওর তখনও মনে হয়নি যে, সেটা হচ্ছে স্মৃতিবিলোপের প্রথম ঘটনা।
    কিন্তু অল্পকয়েকদিনের মধ্যেই বুঝতে পারে যে পরীক্ষাগারের প্রায় প্রতিটি জিনিসেরই নাম মনে রাখা কঠিন হয়ে পরেছে। সুতরাং যথাযথভাবে নামাঙ্কিত করে প্রতিটি জিনিসকে, যাতে করে শুধুমাত্র বর্ণনা পড়ার ফলেই জিনিসটাকে সনাক্ত করতে পারে। যখন তার কাছে ওর বাবা ছোটবেলায় সবচেয়ে হৃদয়গ্রাহী ঘটনাগুলোও ভুলে যাওয়ার উদ্বেগ প্রকাশ করে তখন আউরেলিয়ানো তার পদ্ধতি বর্ণনা করে, আর হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া ওটাকে বাস্তবে কাজে লাগায় সারাবাড়ি আর পরে আরোপ করে গ্রামে। কালিমাখানো এক বুরুষ দিয়ে প্রতিটি জিনিসকে নামাঙ্কিত করে: টেবিল, চেয়ার, ঘড়ি, দরজা, দেয়াল, বিছানা, কড়াই। খোয়াড়ে গিয়ে একইভাবে নামাঙ্কিত করে জীবজন্তুর আর গাছপালার: গরু, ছাগল, শুকর, মুরগি, ইউকা (মিষ্টিআলু জাতীয় এক ধরনের গাছের শেকড়, যা খাদ্যে হিসেবে ব্যবহৃত), মালাংগা (গাছের শিকড়, যা দিয়ে ময়দাজাতীয় খাদ্য বানানো হয়), কলা। আস্তে আস্তে ভুলে যাবার অনন্ত সম্ভাবনার কথা বিশ্লেষণ করে ওরা বুঝতে পারে যে, একদিন এমন হবে যে, পরে জিনিসগুলোকে চিনতে পারবে।
    কিন্তু মনে থাকবে না তাদের ব্যবহার। সুতরাং বর্ণনা লিখে আরও বিশদভাবে। স্মৃতিবিলুপ্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত মাকন্দোবাসী গরুর গলায় যে লেখাটা ঝুলিয়েছিল, সেটা ছিল এক আদর্শ নমুনা: ‘এটা হচ্ছে গরু, প্রতি সকালে এটাকে দোয়াতে হয় যাতে করে দুধের উৎপাদন হয়, আর দুধকে ফোটাতে হয় কফিতে মিশিয়ে, দুধসহ কফি বানানোর জন্য।’
    আর এভাবেই ওরা বাস করতে লাগল পালিয়ে-যেতে-থাকা এক বাস্তবতায়, কিছুক্ষণের জন্য শব্দের দ্বারা বন্দি হয়ে। কিন্তু লেখা শব্দগুলোর মূল্য বিস্মৃত হলে সেই বাস্তবতা হারিয়ে ফেলার আর কোনো বিকল্প ছিল না।
    জলাশয়ে যাওয়ার রাস্তায় ঢোকার মুখে টাঙানো ছিল এক ঘোষণা, যেটাতে লেখা ছিল মাকন্দো, আর প্রধান রাস্তায় আরেকটি ছিল আরও বড় করে লেখা: ‘ঈশ্বরের অস্তিত্ব আছে।’
    সবগুলো বাড়িতেই লেখা ছিল জিনিসপত্রের আর অনুভূতি মনে রাখার সংকেত। কিন্তু প্রক্রিয়াটায় এত বেশি সতর্কতা আর নৈতিক দায়িত্বের প্রয়োজন ছিল যে অনেকেই এক কাল্পনিক বাস্তবের জাদুর দ্বারা বশীভূত হয়ে পড়ে, যা ছিল তাদের নিজেদের দ্বারাই উদ্ভাবিত; তা যতটা না বাস্তবানুগ তারচেয়ে বরঞ্চ আরামপ্রদ। এই রহস্যময়তাকে আরও জনপ্রিয় করে তোলার ব্যাপারে বেশী অবদান রাখে পিলার তেরনেরা, তাস দেখে অতীত বানী করে যেমনটা আগে করত ভবিষ্যৎ বাণী। এভাবেই অনিদ্রা রোগীরা বাস করতে শুরু করে তাস দিয়ে গড়া এক অনিশ্চয়তার বিকল্প জগতে, যেখানে আবছাভাবে বাপকে মনে রাখা হয় এপ্রিলের শুরুতে আসা এক গাঢ় রংয়ের পুরুষ হিসেবে। আর মাকে অষ্পষ্টভাবে মনে রাখা হয় এক বাদামি রংয়ের মহিলা হিসেবে, যে বাম হাতের আঙুলে সোনার আংটি পরত। যেখানে জন্মদিন হত সেদিন তেজপাতা গাছে গান গেয়েছিল আলন্দ্রা পাখি। ঐ সমস্ত স্বান্তনাময় চর্চার কাছে হার মেনে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া সিদ্ধান্ত নেয় স্মৃতি-উদ্ধার যন্ত্রটা তৈরী করার, যেটাকে একবার বানাতে চেয়েছিল জিপসীদের সব আশ্চর্যজনক আবিস্কার গুলোকে মনে রাখবার জন্য। যন্ত্রটার ভিত্তি ছিল প্রতিদিন সকালে মানুষের জীবনে যত অভিজ্ঞতা আছে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ঝালিয়ে নেওয়ার উপর, সেটাকে কল্পনা করে একটা ঘুরন্ত অভিধান হিসেবে যেটা এক অক্ষের উপর বসানো এবং যে কেউ ওটাকে হাতলের মাধ্যমে চালিয়ে অল্প কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় ব্যাপারগুলোকে ঝালিয়ে নেবে। যখন জলাশয়ের রাস্তা ধরে ঘুমের মানুষদের করুন ঘন্টা বাজিয়ে, দড়ি দিয়ে বাঁধা পেটমোটা বাক্স আর কালো কাপড় দিয়ে ঢাকা গাড়ি নিয়ে উদয় হয় এক অদ্ভুতদর্শন বৃদ্ধ ততক্ষণে প্রায় চৌদ্দ হাজার তালিকা লিপিবদ্ধ হয় গেছে। সে সোজা এসে ঢোকে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়ার বাড়ি।
     
  2. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    5,970
    Likes Received:
    1,580
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    দরজা খোলার সময় ভিসিতাসিয়ন চিনতে পারে না, আর অনিরাময়যোগ্য বিস্তৃতির চোরাবালিতে ডুবে যাওয়া এই গ্রামে যে কিছু বিক্রি হয় না, তা অবজ্ঞা করে ভাবে, হয়ত সে কিছু বিক্রি করতে এসেছে। লোকটা ছিল ভগ্নদশাগ্রস্ত। যদিও তার গলার স্বর অনিশ্চয়তার ফলে ভাঙা ছিল; আর হাত জিনিসপত্রের অস্তিত্বে ছিল সন্দিহান, তবুও নিশ্চিত যে, সে এসেছে সেই পৃথিবী থেকে, যেখানে মানুষ এখন ঘুমাতে পারে আর মনে রাখতে পারে।

    হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া ওকে পেল বৈঠক ঘরে বসা অবস্থায়, তালি দেওয়া এক কালো টুপি দিয়ে বাতাস নিচ্ছে আর মনোযোগ সহকারে অনুকম্পার দৃষ্টি দিয়ে দেয়ালে লাগানো লেখাগুলো পড়ছে। লোকটাকে পরম আন্তরিকতার সঙ্গে সম্ভাষণ জানায় এই ভয়ে যে, হয়ত অন্যসময়ে তাকে চিনত আর এখন তা মনে পড়ছে না। কিন্তু অতিথি তার এই মিথ্যা অভিনয় বুঝতে পারে। বিস্মৃতিতে হারিয়ে যাওয়া মানুষ হিসেবে নিজেকে মনে হয় তার। নিরাময়যোগ্য হৃদয় থেকে বিস্মৃতি নয়; বরঞ্চ তার থেকেও নিষ্ঠুর, অনিবার্য বিস্মৃতি, যাকে সে ভালো করেই চেনে। কারণ, সেটা হচ্ছে মরণের বিস্মৃতি। সুতরাং তা সে মেনে নিল। অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব নয় এমন জিনিসে ভরা বাক্সটা খুলে তা থেকে অনেকগুলো বোতল ভরা ছোট্ট একটা বাক্স বের করে সে। হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়াকে পান করতে দেয় এক পান্ডুর কয়ের পদার্থ আর আলোক রশ্মি ফুটে উঠেতার স্মৃতিতে। নামাঙ্কিত জিনিসপত্রে ভরা উদ্ভট বসার ঘরে নিজেকে দেখতে পাওয়ার আগে এবং দেয়ালে লেখা অর্থহীন শব্দগুলোর জন্য লজ্জা পাওয়ার আগেই, সর্বোপরি হতবুদ্ধিকর আনন্দের উজ্জ্বলতায় পাওয়া এই সদ্য আগত লোকটাকে চিনে ওঠার আগেই তার চোখ জলে ভিজে উঠে। সদ্যাগত লোকটা ছিল মেলকিয়াদেস।
     
  3. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    5,970
    Likes Received:
    1,580
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    মাকন্দো যখন পুনরায় স্মৃতিজয়ের উৎসব যাপন করছে তখন হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া আর মেলকিয়াদেস পুরনো বন্ধুত্ব পুনরুজ্জীবিত করে নেয়। জিপসি লোকটা গ্রামেই থেকে যাবার জন্য প্রস্তুত ছিল। সত্যিই মৃত অবস্থায় ছিল সে কিন্তু একাকিত্ব সহ্য না করতে পেরে ফিরে এসেছে। নিজের লোকদের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়ে জীবনের প্রতি বিশ্বস্ততার শাস্তি হিসেবে অপ্রাকৃতিক সমস্ত ক্ষমতা বর্জিত মেলকিয়াদেস স্থির করে পৃথিবীর এমন এক কোনায় আশ্রয় নিতে এখনও মৃত্যু যার সন্ধান পায়নি; আর নিজেকে উৎসর্গ করে এক দাগেরোটাইপ পরীক্ষাগারে। হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া কখনও এই আবিষ্কারের কথা শোনেনি। কিন্তু যখন সে তাকে আর তার সমস্ত পরিবারকে এক উজ্জ্বল ধাতবপাতের মধ্যে বন্দি হয়ে থাকতে দেখে তখন সে বিস্ময়ে নির্বাক, নিশ্চল হয়ে পড়ে। তখনকার দিনে মরচে-পরা ধাতবপাতে যে দাগেরোটাইপ চিত্র ধারণ করা হত। তাতে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়ার চুলগুলো ছিল ছাইরংয়ের এবং খাড়া খাড়া। শক্ত কাগজের কলারের শার্টটা আটকানো ছিল এক তামার বোতাম দিয়ে। আর মুখের ভাবে প্রকাশ পাচ্ছিল এক বিশাল গাম্ভীর্য যাকে উরসুলা– ‘এক ভীত সেনাপতি’ বলে ব্যাঙ্গ করে হাসতে হাসতে মরে।

    সেই স্বচ্ছ পরিস্কার ডিসেম্বরের সকালে যখন দাগেরোটাইপটি ধারন করা হয়েছিল তখন সত্যি ভয় পেয়েছিল হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া কারন সে ভেবেছিল তারা প্রতিবারই একটু একটু করে ক্ষয় হয় ধাতব পাতে গিয়ে ঠাঁই নিয়ে। আশ্চর্যজনকভাবে উরসুলা তার চরিত্রের সম্পূর্ণ উল্টোটা করে এ ক্ষেত্রে। হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়ার মাথা থেকে বের করে দেয় ছবি সমন্ধে তার ভুল ধারণাকে, আর একইভাবে অতীতের তিক্ততা ভুলে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেয় যে, মেলকিয়াদেস বাড়িতেই থেকে যাবে। যদিও কখনও আর দাগেরোটাইপ করতে দেয়নি। কারণ (তার নিজের ভাষায়) সে কখনও নাতিনাতনিদের হাসির পাত্র হয়ে থাকতে চায় না ছবিতে। সেই সকালে বাচ্চাদের পরাল সবচেয়ে ভালো জামাকাপড়, মুখে দিল পাউডার, খাইয়ে দিল এক চামচ মজার সিরাপ– যাতে করে প্রায় দুই মিনিট মেলকিয়াদেসের ক্যামেরার সামনে সম্পূর্ণ অনড় হয়ে থাকতে পারে। আউরেলিয়ানোকে কালো মখমলের পোশাকপরা অবস্থায় দেখা যায় শুধুমাত্র পারিবারিক দাগেরোটাইপেই; আর সেখানে সে দাঁড়িয়ে ছিল আমারান্তা আর রেবেকার মাঝখানে। ছিল সেই একই উদ্যমহীনতা, একই ভবিষ্যৎদ্রষ্টার দৃষ্টি, যেমনটি হবে অনেক বছর পর ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে।
     
  4. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    5,970
    Likes Received:
    1,580
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    কিন্তু তখনও সে তার ভাগ্যলিপি সমন্ধে কোনো পূর্বাভাস পায়নি। ওর কাজের সূক্ষ্মতার দরুণ সমস্ত জলাভূমির চারপাশে সে পরিগণিত হত এক দক্ষ রৌপ্যকার হিসেবে। মেলকিয়াদেসের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া উন্মত্ত পরীক্ষাগারে সে এতই নিমগ্ন থাকত যে তার নিঃশ্বাসেরও শব্দ পাওয়া যেত। যখন ওর বাবা আর জিপসির মধ্যে নস্ত্রাদামুসের ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে উচ্চস্বরে তর্ক চলে, চলছে ফ্লাস্ক আর বালতির কর্কশ আওয়াজ হয়, কনুইয়ের ধাক্কায় পড়ে যাওয়া সিলভার ব্রোমাইড আর এসিডের মধ্যে পিছলে পড়ে গিয়ে সৃষ্টি হয় চরম বিশৃঙ্খলার, তখন সে যেন আশ্রয় নিয়েছে এক অন্য জগতে। কাজের প্রতি এই আত্মনিয়োগ আর যে সুনিপুনভাবে নিজের স্বার্থকে সে পরিচালনা করত, তাতে অল্পসময়ের মধ্যেই বানিয়ে ফেলে উরসুলার মজাদার মিশ্রির জীবজন্তু বিক্রির ব্যবসার চাইতেও বেশি টাকা। তার মত একজন সৎ এবং দস্তুরমত পুরুষের যে কোন মেয়ের সঙ্গে ভাব হবে না তা ছিল এক রকম অসম্ভব। সত্যিই তার কারও সঙ্গে ভাব ছিল না।

    কয়েকমাস পর ফিরে আসে বিশ্বভ্রমণকারী ব্যক্তি হুয়ান ফ্রান্সিস্কো। ফ্রান্সিস্কো এল অমব্রে, যার বয়স ছিল প্রায় ২০০ বছর; আর সে নিজের রচিত গান পরিবেশন করে যেত প্রায়ই মাকন্দোতে এসে। গানগুলোতে ফ্রানসিস্কো এল অমব্রে মানাউর থেকে জলাভূমি পর্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা করত ঘটে যাওয়া সমস্ত গ্রামের ঘটনাবলি। আর কেউ যদি কাউকে কোনো বার্তা পাঠাতে চাইত অথবা কোনো ঘোষণা করার ইচ্ছে থাকত, তাহলে তাকে দুই পয়সা দিত, যাতে সে ঘটনাবলিকে তার খবরের সঙ্গে সংযুক্ত করে নেয়। এভাবেই ঘটনাচক্রে, হোসে আর্কাদিও সমন্ধে কিছু জানা যায় কি না, এই আশায় যখন উরসুলা গান শুনছিল– জানতে পারে তার মায়ের মৃত্যুসংবাদ। ওর নাম ছিল ফ্রান্সিসকো এল অমব্রে। কারণ সে তাৎক্ষনিকভাবে রচিত সংগীতের এক দ্বৈরথে শয়তানকে হারিয়ে দেয়; আর ওর সত্যিকারের নাম কেউ কখনও জানেনি। অনিদ্রা রোগের প্লেগের সময় সে গ্রাম থেকে উধাও হয়ে যায় আর কোনো আগাম সংবাদ না দিয়ে হঠাৎ করেই আবার একরাতে হাজির হয় কাতারিনোর দোকানে। কী ঘটছে পৃথিবীতে জানার জন্য গ্রামশুদ্ধ সবাই হাজির হয় সেখানে। এইবার ওর সঙ্গে আসে এক মোটা মহিলা। এতই মোটা যে চারজন আদিবাসীর দরকার হত ওকে দোলচেয়ারে বসিয়ে বহন করতে। আর এক অবহেলিত মুলাতো(সাদা ও কালোর বর্ণ শংকর) কিশোরী, যে ওকে রৌদ্র থেকে রক্ষা করত একটা ছাতা ধরে। ঐ রাতে আউনেলিয়ানো যায় কাতারিনোর দোকানে।
     
  5. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    5,970
    Likes Received:
    1,580
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ধারাবাহিক উপন্যাস । কিস্তি ১০

    সে ফ্রান্সিসকো এল অমব্রেকে পেল গোল হয়ে থাকা একদল উৎসুক শ্রোতাদের মাঝখানে কামালেওনের (এক জাতীয় গিরগিটি) মত বসা অবস্থায়, পুরোনো বেসুরো গলায় খবর গেয়ে যাচ্ছিল গায়ানার স্যার ওয়াল্টার রালে-র কাছ থেকে পাওয়া সেই একই অ্যাকোর্ডিয়ান বাজিয়ে। হাঁটতে পটু সোরার (saltpeter) কারনে ফেটে যাওয়া বড় বড় পা দিয়ে তাল রেখে যাচ্ছিল। পিছনের দিকে একটা দরজা দিয়ে কিছু লোক ঢুকছিল আর বেরিয়ে যাচ্ছিল, আর তার সামনে নীরবে দোলচেয়ারে হাওয়া খাচ্ছিল সেই সম্ভ্রান্ত চেহারার মহিলা, কানে ফেল্টের (কাপড়) তৈরি একটা গোলাপ গুঁজে কাতারিনা দর্শকদের কাছে বিক্রি করছিল গাজানো আখের রসে ভর্তি কাপ আর এই সুযোগে লোকদের কাছে গিয়ে হাত দিচ্ছিল এমন সব জায়গায় যেখানে হাত দেয়া উচিৎ নয়। মধ্যরাতের দিকে গরম ছিল অসহ্য। আউরেলিয়ানো খবরের শেষ পর্যন্ত শুনেও ওর পরিবারের জন্য আগ্রহজনক কিছুই পেল না। যখন সে বাড়ি ফিরে যাবার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল তখন মহিলা তাকে হাত দিয়ে ইশারা করে। -“তুইও ঢুকে যা” বলল “দাম হচ্ছে কেবল মাত্র কুড়ি সেন্ট”।
    আউরেলিয়ানো কিছুই না বুঝে ওর কোলের উপর রাখা টাকার বাক্সে একটি মুদ্রা ফেলে ঢুকে গেল। কুকুরীর মত ছোট ছোট স্তন নিয়ে মুলাতো (সাদা আর কালোর বর্ণ সঙ্কর)কিশোরী নগ্ন অবস্থায় শোওয়া ছিল বিছানায়। আউরোলিয়ানোর আগেই তেষট্টি জন পুরুষের আগমন ঘটেছিল সেই ঘরে। এতবার ব্যবহারের ফলে কাঁদা হয়ে যেতে আরম্ভ করেছিল ঘাম আর দীর্ঘশ্বাসে মাখামাখি ঘড়ের বাতাস। কিশোরী মেয়েটা ভেজা চাদরটা সরিয়ে নিয়ে এক কোনা ধরতে বলে আউরেলিয়ানোকে। ওটা ছিল ক্যানভাসের মত ভারী। দুই পাশ ধরে নিংড়িয়ে চলল দুজনে যতক্ষণ পর্যন্ত না ওটা ফিরে পায় তার স্বাভাবিক ওজন। মাদুরটাকে উল্টে দেয় ওরা আর এতে করে ঘাম ঝড়ছিল মাদুরের অপর পাশ থেকে। আউরোলিয়ানো উদগ্র মনে চাচ্ছিল যে এই কাজটা যেন কখনই শেষ না হয়। প্রণয়ের তাত্ত্বিক প্রক্রিয়াগুলো তার জানা ছিল, কিন্তু হাটু দুটোর সাহসহীনতার কারণে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিল না সে। যদিও কামনায় তার চামড়া জ্বলছিল আর লোমগুলো খাড়া হয়ে গিয়েছিল, তবুও পেটের ভার মুক্ত করার আশু প্রয়োজনীয়তাটা কিছুতেই রোধ করতে পারছিল না। যখন মেয়েটা বিছানা পাতা শেষ করে, ওকে আদেশ দেয় নগ্ন হতে আর সে চিন্তাভাবনা ছাড়াই একটা ব্যখ্যা দেয়। “আমাকে জোড় করে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। আমাকে বলল বিশ সেন্ট টাকার বাক্সে ফেলতে আর বলল দেরী না করতে”। মেয়েটা তার অজ্ঞতার কথা বুঝতে পারে। “যদি বেরুনোর সময় আরও বিশ সেন্ট ফেলে দিস তবে আরও কিছুক্ষণ দেরী করতে পারিস” নরম স্বরে বলে। ওর নগ্নতা ওর ভাইয়ের নগ্নতার কাছে টিকবে না–এই ধারণার লজ্জায় পীড়িত আউরোলিয়ানো নগ্ন হয়। মেয়েটার উপুর্যুপরি চেষ্টা সত্ত্বেও ও বোধ করে প্রতিবারই অনাসক্তি, প্রতিক্ষণই বোধ করে ভয়ংকর একাকীত্ব। “আরও বিশ সেন্ট রাখব,” বলে হিমশীতল স্বরে। মেয়েটা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নিরবতার সাথে। পিঠের মাংশ বেরিয়ে গিয়েছিল ওর। বুকের হাড়ের সঙ্গে চামড়া ছিল এক হয়ে আর ভীষণ ক্লান্তির ফলে শ্বাসপ্রশ্বাস ছিল অনিয়মিত আর গভীর। এখান থেকে অনেক দূরে, দু‘বছর আগে মোমবাতি না নিবিয়ে ঘুমিয়ে পরে ও। আর জেগে ওঠে চারিদিকে জ্বলন্ত আগুন নিয়ে। ছাইভষ্মে পরিণত হয় দাদীর বাড়িটা যেখানে ওর দাদী ওকে লালন করেছিল। সেই সময় থেকেই ওর দাদী বিশ সেন্টের বিনিময়ে মেয়েটিকে পুরুষদের সঙ্গে শোয়ানোর জন্য নিয়ে যেত এক গ্রাম থেকে আর এক গ্রামে, যাতে করে পুড়ে যাওয়া বাড়িটার দাম শোধ করতে পারে মেয়েটা। মেয়েটার হিসেব অনুযায়ী তখনও বাকি আছে প্রতি রাতে সত্তর জন পুরুষ ধরে হিসাব করে আরও দশ বছর। কারণ শুধুমাত্র বাড়ির টাকাই নয়, তাকে বহন করতে হতো দুজনের যাতায়াত ভাড়া, খাবার দাবার, আর যে আদিবাসীরা দোলচেয়ার বহন করত তাদের বেতন। যখন মহিলা দ্বিতীয়বারের জন্য দরজায় টোকা দেয় তখন আউরেলিয়ানো কান্নার ঘোড় নিয়ে বের হয়ে যায় কিছুই না করে। ঐ রাতে কামনা আর করুণার মিশ্র অনুভূতি নিয়ে আউরেলিয়ানো ঘুমাতে পারে না। অনুভব করে ওকে রক্ষার আর ভালবাসার এক অদম্য আকাঙ্ক্ষা। ভোরে অনিদ্রার প্রচন্ড অবসাদ আর জ্বর নিয়ে স্থির সিদ্ধান্ত নেয় বিয়ে করে মেয়েটাকে অত্যাচারী দাদীর হাত থেকে মুক্ত করার আর প্রতি রাতে সত্তর জন লোককে যে তৃপ্তি মেয়েটা দিত তা একা একা উপভোগ করার। কিন্তু সকাল দশটার সময় যখন সে কাতারিনার দোকানে উপস্থিত হয়েছে ততক্ষণে মেয়েটা গ্রাম থেকে চলে গিয়েছে।
     
  6. aarif
    Offline

    aarif Senior Member Member

    Joined:
    Aug 29, 2012
    Messages:
    1,696
    Likes Received:
    205
    Gender:
    Male
    Reputation:
    420
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    বিশ্ববিখ্যাত উপন্যাসটি ফোরামে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
     
  7. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    5,970
    Likes Received:
    1,580
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    সময়ই তার এই অপরিণামদর্শী ইচ্ছেটাকে প্রশমিত করে কিন্তু বেড়ে যায় তার হতাশা। এতে করে সে আশ্রয় নেয় কাজের মধ্যে। নিজের অনুপযোগিতার লজ্জা লুকাতে সিদ্ধান্ত নেয় সাড়া জীবন মেয়েদের সংস্পর্শহীন পুরুষ হয়ে থাকার। অন্যদিকে, মেলকিয়াদেস মাকন্দোর ধারনযোগ্য সব চিএই তার দাগেরোটিপোতে ধারন করার কাজ শেষে দাগেরটিপোর পরীক্ষাগার পরিত্যাগ করে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়ার উন্মতত্ততার কাছে, যে নাকি ঈশ্বরের অস্তিত্বের বৈজ্ঞানিক প্রমাণে ওটাকে কাজে লাগাতে চায়। সে নিশ্চিত হয় যে ঈশ্বরের অস্তিত্ব যদি থাকেই তবে সুপারইম্পোজড্ এক্সপোজারের এক জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাড়ির নানান জায়গায় তোলা দাগেরটিপোতে ঈশ্বর ফুটে উঠবেন নতুবা চিরদিনের জন্য ঈশ্বরের অস্তিত্বের ধারণাকে সে ক্ষান্ত দেবে। নস্ত্রাদামুসের ভবিষ্যদ্বাণীগুলো আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে মেলকিয়াদেস। রংচটা মখমলের জামার শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় চড়ুই পাখির পায়ের মত সরু হাত দিয়ে হিবিজিবি এঁকে চলে কাগজের উপর অনেক রাত পর্যন্ত, যে হাতের আংটিগুলো হারিয়ে ফেলেছে আগেকার সেই উজ্জলতা। এক রাতে তার মনে এই বিশ্বাস জেগে ওঠে যে সে জেনে ফেলেছে মাকন্দোর ভবিষ্যৎ। মাকন্দো হবে কাঁচের বাড়িঘরওয়ালা এক ঝলমলে শহর যেখানে বুয়েন্দিয়া বংশের কোন চিহ্নই থাকবে না। “এটা একটা ভূল ধারণা” গর্জন করে উঠে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া, “বাড়িগুলো কাঁচের হবে না, হবে বরফের, আমি যেমনটি স্বপ্নে দেখেছি; আর সবসময়ই বুয়েন্দিয়ারা থাকবে, শতাব্দীর পর শতাব্দী”। ঐ উদ্ভট বাড়িতে সাধারণ মানুষের বুদ্ধিতে যা আসে তা দিয়ে উরসুলা প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে চলে মিসরীর জীবজন্তুর ব্যবসাটাকে প্রসারিত করতে । একটি চুল্লীতে সারারাত ধরে ঝুড়ির পর ঝুড়ি পাউরুটি, বিভিন্ন ধরনের পুডিং, মেরেংগে (এক ধরনের পিঠা) বিসকোচুয়েলস (স্পঞ্জ কেক) তৈরী হত আর সেগুলো উধাও হয়ে যেত জলাভুমির বন্ধুর রাস্তা ধরে। এমন বয়সে সে পৌঁছেছে যে তার অধিকার ছিল অবসর নেবার কিন্তু প্রতিদিনই সে আরও বেশী কাজ করত । সে এতই ব্যাস্ত ছিল তার সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যাবসা নিয়ে যে যখন এক আদিবাসী মেয়ে তাকে ময়দার তালে মিষ্টি মেশাতে সাহায্য করছে তখন, গোধুলির আলোয় সে অন্যমনস্কতার সাথে দেখে অপরিচিত দুই সুন্দরী মেয়ে উঠানে এমব্রয়াডারি করছে। ওরা ছিল রেবেকা আর আমারান্তা, যারা তিন বছরব্যাপী অনমনীয় দৃঢ়তায় ধরে রাখা নানীর মৃত্যুতে শোকের পোশাক কেবলমাত্র ত্যাগ করছে। আর রঙিন পোশাক যেন এই পৃথিবীতে ওদেরকে তৈরি করে দিয়েছে এক নতুন জায়গা। রেবেকা সম্মন্ধে যা ভাবা হচ্ছিল তা উল্টে দিয়ে সে ছিল অপেক্ষাকৃত সুন্দরী। ওর গায়ের রং ছিল স্বচ্ছ, চোখগুলো ছিল শান্ত আর বড় বড়। অদৃশ্য সুতো দিয়ে যাদুকরী হাতগুলো যেন বুনে চলেছে ফ্রেমের উপর এমব্রয়েডারী কাজ। বয়সে ছোট আমারান্তা ছিল সামান্য মাধুর্যহীন কিন্তু সে ছিল স্বভাবসুলভভাবে স্বতন্ত্র আর মনটা ছিল মৃত নানীর মত বিশাল। ওদের সঙ্গে আর্কাদিওর মধ্যে যদিও বাপের শারীরিক গঠন প্রকাশ পাচ্ছে তবুও তখনও তাকে দেখে মনে হত শিশু। আর্কাদিও নিজেকে নিবেদন করেছিল আউরেলিয়ানোর কাছে রৌপ্য কর্ম শেখায়। এছাড়াও আউরেলিয়ানো তাকে শেখায় লিখতে আর পড়তে। হঠাৎ করেই উরসুলা খেয়াল করে তাদের বাড়ি লোকজনে ভরে গিয়েছে, ছেলেমেয়েরা কিছুদিনের মধ্যেই বিয়ে করবে, তাদের বাচ্চা হবে আর জায়গার অভাবে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পরতে বাধ্য হবে। সুতরাং বের করে আনে অনেকদিনের কষ্টার্জিত জমানো টাকা, ক্রেতাদের সঙ্গে ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয় আর আরম্ভ করে বাড়ি বাড়ানোর কাজ। স্থির করে তৈরি করার: অতিথিদের জন্য একটা আনুষ্ঠানিক বসার ঘড়, প্রতিনিয়ত ব্যবহারের জন্য আর একটা বসার ঘড় যেটা আরও বেশী শীতল ও আরামপ্রদ, বাড়ির সকলে এবং অতিথিসহ একসঙ্গে বারোজন লোকের বসার ব্যবস্থা থাকা খাবার টেবিল সমেত খাবার ঘড়, উঠানের দিকে জানালা সমেত নয়টা শোবার ঘড়ের মধ্যদিনের রৌদ্রের তীক্ষ্ণতা থেকে আড়াল করতে গোলাপের বাগান দিয়ে ঘেড়া টানা বারান্দা আর ফার্ন ও বেগনিয়ার টব রাখার জন্য চওড়া রেলিংয়ের। স্থির করে রান্না ঘড়টাকে আরও বড় করার যাতে করে দুটো চুল্লী এটে যায় ভিতরে; যে খামারে পিলার তেরনেরা হোসে আর্কাদিওর হাত দেখেছিল সেটাকে ধ্বংস করে দ্বিগুণ বড় করতে যাতে করে কখনই বাড়ির খাবারের কোন অভাব হবে না। উঠানে চেশনাট গাছের তলায় বানানো আরম্ভ হলো একটা মেয়েদের গোসলখানা, অপরটি পুরুষদের; একেবারে পিছনদিকে সুপরিসর আস্তাবল, তার দিয়ে ঘেরা মুরগীর খোয়ার; দুধ দোয়ানোর গোয়াল আর চতুর্দিকে খোলা পাখির আবাসস্থল যাতে করে নির্দিষ্ট জায়গায় সবসময় না থেকে নিজেদের খুশিমত যেখানে সেখানে থাকতে পারে পাখিগুলো। সে ডজনখানেক রাজমিস্ত্রি আর কাঠমিস্ত্রিদের আলো আর উত্তাপের অবস্থান নির্দিষ্ট করে দিয়ে সব কিছুর জায়গা ভাগ করে দেয় সীমাহীনভাবে, যেন স্বামীর চিত্তবিভ্রম তার উপর ভর করেছে। পত্তনকারীদের প্রকৌশলের প্রাথমিক পর্যায়ে নির্মিত ভবনটা ভরে ওঠে যন্ত্রপাতি আর মালপত্রে, ঘেমে নেয়েওঠা আর মানুষের হাড়ের নিঃশব্দ ঝংকারে সবজায়গায় ধাবিত হওয়া মজুরে, যারা নিজেরাই সকলকে বিরক্ত করছে সেটা চিন্তা না করে সবাইকে বলছে তাদের বিরক্ত না করতে। সেই অস্বস্তিকর অবস্থায়, কেউ ভাল করে বুঝতে পারে না কিভাবে চুন আর আলকাতরা নিঃশ্বাস নিতে নিতে মাটি থেকে আশ্চর্যজনকভাবে গড়ে উঠেছে শুধুমাত্র গ্রামের সবচেয়ে বড় বাড়িই নয় বরঞ্চ সমস্ত জলাভূমির মধ্যে সবচেয়ে বড়, অতিথিপরায়ণ আর ঠান্ডা বাড়ি যেরকমটি আর কখনই বানানো হবে না। হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া বুঝতে পারে সবচেয়ে কম, কারন সে তখন বিশাল ওলট পালটের মাধ্যমে স্বর্গীয় দূরদর্শিতাকে চমকে দিতে ব্যস্ত। বাড়িটা যখন প্রায় শেষের দিকে তখন উরসুলা একদিন হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়াকে তার অবাস্তব পৃথিবী থেকে বের করে এনে জানাল যে ওরা বাড়িটার সামনেটা সাদা রং করতে স্থির করেছিল, কিন্তু সেটা না করে নীল রং করার আদেশ এসেছে। ওকে দেখায় সরকারী এক কাগজে লেখা আদেশনামাটা। বউ কি বলছে না বুঝতে পেরে সাক্ষরটা পড়ে সে।
    -“কে এই লোকটা”- জিজ্ঞেস করে।
     
  8. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    5,970
    Likes Received:
    1,580
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    -“ম্যাজিষ্ট্রেট”- ক্রোধান্বিত উরসুলা জবাব দেয় “সকলে বলে যে সে হচ্ছে কর্তৃপক্ষ যাকে সরকার পাঠিয়েছে”। ম্যাজিষ্ট্রেট, দন আপলিনার মাসকতে মাকন্দোতে আসে বিশেষ কোন ঘোষণা না করে। এসে প্রথম রাত কাটায় বিভিন্ন হাবিজাবি জিনিষের বিনিময়ে ম্যাকাও পাখি নেয়া আরবদের একজনের বানানো হোটেল দে জ্যাকবে। আর পরের দিন ভাড়া নেয় বুয়েন্দিয়ার বাড়ি থেকে দুই ব্লক দূরে রাস্তার দিকে দরজাওয়ালা ছোট এক কামরা। জ্যাকব থেকে কেনা একটা টেবিল আর চেয়ার বসায় সেখানে, দেয়ালে তারকাটা গেথে লাগায় ওর সঙ্গে আনা প্রজাতন্ত্রের ফলকটা আর কালি দিয়ে দরজায় লিখে ‘ম্যজিষ্ট্রেট’। তার প্রথম আদেশ ছিল জাতীয় স্বাধীনতাবার্ষিকী উপলক্ষে সমস্ত বাড়ি নীল রং করার। আদেশনামাটা হাতে নিয়ে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া ওকে পেল তার ছোট অফিসের মধ্যে ঝুলন্ত এক হ্যামকে দিবানিদ্রায় মগ্ন অবস্থায়। “তুমি লিখেছ এটা” জিজ্ঞেস করে। অভিজ্ঞ, লাজুক কিন্তু রাগে লাল হয়ে যাওয়া চেহারার দন আপলিনার মাসকতে জবাব দেয় “হ্যাঁ”; “কোন অধিকারে?” আবার জিজ্ঞেস করে হোসে আর্কেদিও বুয়েন্দিয়া। দেরাজ থেকে একটা কাগজ খুঁজে বের করে দেখিয়ে বলে “আমাকে নিয়োগ করা হয়েছে এই গ্রামের ম্যাজিষ্ট্রেট হিসেবে”। হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া এমনকি দেখেও না কাগজটা-“এই গ্রামে আমরা কেউ কাগজ দিয়ে আদেশ দিই না”- শান্তভাবে নিয়ন্ত্রণ না হারিয়ে বলে, “প্রথম আর শেষ বারের মত বলে দিচ্ছি যে এখানে ম্যাজিষ্ট্রেটের কোন প্রয়োজন নেই। কারন এখানে শুধরাবার মত কিছু নেই”। দন অপলিনারের ভয়হীন দৃষ্টির সামনে কখনই গলা উচু না করে পুঙ্খানুপুঙ্খ রূপে বর্ণনা করে কিভাবে গ্রাম পত্তন করেছে, কিভাবে জমি বিলি করেছে, কিভাবে রাস্তা বের করেছে আর গ্রামের অন্যান্য উন্নতি করেছে সরকারকে কোন বিরক্ত না করে আর কারো দ্বারা কোন রকম ত্যাক্ত না হয়ে।

    “ আমরা এতই শান্তিপূর্ণভাবে বাস করছি যে এখন পর্যন্ত আমাদের কেউই স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেনি । বলল- “দেখেছ এখনও আমাদের কোনো কবরস্থান নেই ।“ সরকার যে তাদেরকে সাহায্য করেনি তাতে তাদের কোন কষ্টই হয়নি । বরঞ্চ আনন্দিত হয়েছে কারন তখন পর্যন্ত ওদেরকে শান্তির সাথে বেড়ে উঠতে দিয়েছে। আর আশা করছিল এভাবেই ওদেরকে বেড়ে উঠতে দেয়া হবে, কারন ওরা এমন কোনো গ্রামের পত্তন করেনি যেখানে প্রথম আগন্তুক এসেই বলে দিতে পারবে কোথায় কি করতে হবে। প্যান্টের মতই সাদা ডেনিমের কোট পরিহিত দন আপলিনার মাসকতে সবসময়ই তার অভিব্যাক্তিতে পবিত্রতা বজায় রেখে চলছিল । “সুতরাং, যদি অন্য যে কোন সাধারন নাগরিকের মত এখানে থাকতে চাও তাহলে তোমাকে স্বাগতম”- ইতি টেনে বলে হোসে আর্কেদিও বুয়েন্দিয়া- “ কিন্তু যদি লোকজনের বাড়ি নীল রঙ করতে বাধ্য করিয়ে বিশৃঙ্খলা বাধাতে চাও তাহলে তোমার তল্পিতল্পা গুঁটিয়ে যেখান থেকে এসেছ সেখানে ভাগতে পার, কারন আমার বাড়ি হবে কবুতরের মত সাদা” । পান্ডুর বর্ণ ধারন করে দন আপলিনার মাসকতে । এক পা পেছনে হেটে চোয়াল শক্ত করে কাতরতার সঙ্গে বলে- “ তোমাকে সাবধান করে দিচ্ছি যে আমার কাছে অস্ত্র আছে ।“ হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া টেরও পেলনা কখন তার হাতে যুবক বয়সের ঘোড়া বশ করার শক্তি এসে ভর করে। দন আপলিনার মাসকতের কোটের বুকের সামনের অংশটা ধরে নিজের চোখের উচ্চতায় তুলে ফেলে । “ এটাই করব” বলল, “কারন আমার বাকি সাড়া জীবন, মৃত অবস্থায় তোমাকে বহন করার চাইতে জীবিত বহন করাটাই শ্রেয় বলে মনে করি” । এভাবেই বুকের সামনেটা আকড়ে ধরে বয়ে নিয়ে গেল রাস্তার মাঝখান পর্যন্ত আর ছেড়ে দিল যাতে করে তার পা দুটো জলাভূমিতে যাওয়ার রাস্তাটা স্পর্শ করতে পারে। এক সপ্তাহ পরে খালি পা, জীর্ণ বস্ত্রের ছ জন শটগানধারী সৈন্য নিয়ে ফিরে আসে সে । সঙ্গে ছিল তার স্ত্রী আর সাত মেয়ে বহনকারী গরুর গাড়ি। মাকন্দোর পত্তনকারীরা ওদের বড় ছেলেদের সঙ্গে নিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে নিশ্চিত হয়ে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়াকে সাহায্যের ইচ্ছে জানায়। কিন্তু সে তার বিরোধিতা করে, কারন দন আপলিনার মাসকতে ফিরে এসেছে তার বউ ও মেয়েদের নিয়ে, একজন পুরুষ মানুষকে তার পরিবারের সামনে অপ্রস্তুত করা পুরুষোচিত কাজ নয়। আর এই কারনেই সিদ্ধান্ত নেয় ব্যাপারটা ভালোয় ভালোয় মিটিয়ে ফেলতে।
     
  9. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    5,970
    Likes Received:
    1,580
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    এবার আউরেলিয়ানো তার সঙ্গী হয়। তখন তার কেবলমাত্র সূচালো গোফ গজিয়েছে, গলার স্বর হয়েছে গমগমে। আর এগুলোই যুদ্ধের সময় তাকে এনে দেবে বৈশিষ্ট। গার্ডদের অগ্রাহ্য করে খালি হাতে অফিসের বারান্দায় উপস্থিত হয় ওরা। দন আপলিনার মাসকতে ধৈর্য হারায় না। ঘটনাক্রমে ওইখানে থাকা তার দুই মেয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। ষোলো বছরের আমপারো, মায়ের মতই শ্যামলা আর রেমেদিওস, বয়স কেবল মাত্র নয় হয়েছে; লিলি ফুলের মত গায়ের রঙ আর সবুজ চোখ নিয়ে খুব সুন্দরী এক কিশোরী। ওরা ছিলো আনন্দোচ্ছল আর শিক্ষিতা। যখন ঘরে ঢোকে, পরিচয় পর্বের আগেই মেয়ে দুটো চেয়ার এগিয়ে দেয় বসার জন্য কিন্তু ওরা উভয়েই দাঁড়িয়ে থাকে। “ঠিক আছে বন্ধু” বলে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া, “তুমি এখানে থাকতে পারবে কিন্তু দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা ঐ শটগানধারী দস্যুদের কারনে নয়, তোমাকে থাকতে দিচ্ছি তোমার বউ আর মেয়েদের কথা বিবেচনা করে”

    দন আপলিনার মাসকতে বিচলিত হয়ে পরে কিন্তু তাকে উত্তর দেবার সময় দেয় না হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া “শুধুমাত্র দুটো শর্ত আরোপ করছি” যোগ করে, “ প্রথমটি হচ্ছে সবাই যার যার ইচ্ছেমত নিজেদের বাড়ি রঙ করবে। দ্বিতীয়টি সৈনিকদের চলে যেতে হবে এই মুহূর্তেই। আমরা শৃঙ্খলার নিশ্চয়তা দিচ্ছি”। ম্যাজিস্ট্রেট তার ডান হাত উঁচু করে সবগুলো আঙ্গুল বিস্তৃত করে ।
    “-সম্মানের শপথ”
    “-শত্রুর শপথ” বলে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া আরও তিক্ত স্বরে যোগ করে, “ কারন একটা কথা তোমাকে বলতে চাইঃ তুমি আর আমি পরস্পরের শত্রুই থাকছি ।“

    সেই বিকেলেই বিদেয় নেয় সৈন্যরা। কয়েকদিন পরই ম্যাজিস্ট্রেটের পরিবারের জন্য একটা বাড়ি যোগাড় করে দেয় হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া। আউরোলিয়ানো ছাড়া সকলেই শান্তি পেল। ম্যাজিস্ট্রেটের ছোট মেয়ে, বয়সের তুলনায় যে নাকি আউরেলিয়ানোর মেয়ে হতে পারতো সেই রেমেদিয়সের প্রতিচ্ছবি আউরেলিয়ানোর শরীরের কোনও জায়গা ব্যাথার সৃষ্টি করতে লাগল। সেটা ছিল এক শারীরিক অনুভূতি, যেন জুতোর ভিতরে ছোট্ট এক নুড়ি পাথর।
     
  10. abdullah
    Offline

    abdullah Welknown Member Member

    Joined:
    Jul 30, 2012
    Messages:
    5,970
    Likes Received:
    1,580
    Reputation:
    967
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ধারাবাহিক উপন্যাস । কিস্তি ১১

    কবুতরের মতো সাদা বাড়িটার উদ্বোধন করা হল এক নাচের আয়োজনের মাধ্যমে। উরসুলার মনে ধারণাটা এসেছিল সেই বিকেলে যেদিন ওদের দেখেছিল বয়ঃসন্ধিতে প্রবেশ করতে, আর প্রায় বলতে গেলে বাড়িটা সে বানিয়েছিল, যাতে করে মেয়েরা সম্মানজনক একটা জায়গায় অতিথিদের আপ্যায়ন করতে পারে। উৎসবে যাতে জাকজমকের কমতি না পরে তার জন্য বাড়ি তৈরি শেষ হওয়ার আগেই সে খেটে যায় ক্রীতদাসের মতো। ফলে ফরমাশ দিয়ে দেয় ঘর সাজানোর জিনিসপত্র, বাসনকোসন আর গ্রামে আলোড়ন সৃষ্টিকারী, যৌবনের আনন্দ এবং আজব আবিষ্কারের; পিয়ানোলা (পিয়ানো আর টেপরেকর্ডারের সম্মিলিত এক যন্ত্র, আধুনিক MP3-র ১৯০০ এর সংস্করণ)। ওটাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বিভিন্ন অংশে ভাগ করে আলাদা আলাদা বাক্সে ভরে। আর ওগুলোকে নামানো হয়েছিল ভিয়েনার আসবাবপত্র, বোহেমিয়ার হাতে কাঁটাকাচের সামগ্রী, ইন্ডিজ কোম্পানির বাসনকোসন, হল্যান্ডের টেবিলক্লথ, ভালো ভালো সব ঝাড়বাতি, মোমবাতি, ফুলদানি আর ঘর সাজানোর কারুকার্যের সঙ্গে। পিয়ানোলায় বিশেষজ্ঞ পিয়েত্র ক্রেসপি নামের এক ইতালিয়কে পাঠায় অংশগুলো জোড়া দিয়ে, সুর বেঁধে, আর ছয় রোলে ছাপা আধুনিক বাজনার সঙ্গে কীভাবে নাচতে হয় তা শিখিয়ে দিতে।

    পিয়েত্র ক্রেস্পি ছিল সোনালি চুলওয়ালা মাকন্দোতে দেখা সবচেয়ে সুন্দর আর শিক্ষিত যুবক। পোশাকের ব্যাপারে সে ছিল এতই রীতি-সচেতন যে দম আটকানো গরমের মধ্যেও সে এমব্রয়ডারি করা গেঞ্জি আর গায়ে মোটা কাপড়ের কোট পরে কাজ করত। ঘামে ভিজে, বাড়ির মালিকদের সঙ্গে সম্ভ্রমপূর্ণ দূরত্ব বজায় রেখে কয়েক সপ্তাহ কাটিয়ে দেয় বৈঠকঘরের বদ্ধ অবস্থায়, যা নাকি আউরেলিয়ানোর রৌপ্য কর্মের আত্মনিয়োগের সঙ্গেই একমাত্র তুলনা করা চলে।

    এক সকালে দরজা না খুলে আশ্চর্য ব্যাপারটার সাক্ষী হতে কাউকে না ডেকেই লাগিয়ে দেয় কাগজের প্রথম রোলটাকে পিয়ানোলার সঙ্গে। আর যন্ত্রণাদায়ক হাতুড়ি ও কাঠচেড়াইয়ের নিরবচ্ছিন্ন গোলযোগ বিস্ময়করভাবে বন্ধ হয়ে যায় সুরের শৃঙ্খলা আর পবিত্রতায়। সকলেই ছুটে আসে বৈঠক ঘরে, হোসে আর্কাদিয় বুয়েন্দিয়া যেন বিদ্যুতপৃষ্ঠ হয় সুরের মাধুর্যে নয়, বরঞ্চ পিয়ানোলার রিডগুলোকে নিজে নিজেই বাজতে দেখে। সে অদৃশ্য বাদকের প্রতিচ্ছবির দাগেরটাইপ করার আশায় মেলকিয়াদেসের ক্যামেরাটিকে বসিয়ে দেয় বৈঠকখানায়। সেদিন ওদের সঙ্গে খাবার খায় ইতালীয়। রেবেকা আর আমরান্তা খাবার পরিবেশনের সময় বিস্মিত হয় স্বর্গীয় দূতের মতো মানুষটার আংটিবিহীন পান্ডুর হাতে ছুরি ও কাঁটাচামচের স্বচ্ছন্দ ব্যবহারে। বৈঠকঘর সংলগ্ন থাকার ঘরে ওদের নাচতে শেখায় পিয়েত্র ক্রেস্পি। নাচের পদক্ষেপগুলোর নির্দেশনা দিচ্ছিল ওদের স্পর্শ না করেই। এক মেট্রোনমের (Metronome- নির্দিষ্ট লয়ে সংগীতের তাল মাপার যন্ত্র) মাধ্যমে তালকে বুঝিয়ে দেয় উরসুলার স্নেহপূর্ণ পাহারার মধ্যে, যে নাকি বৈঠক ছেড়ে এক পাও নড়েনি যতক্ষণ ওরা শিখে নিচ্ছিল। এসব দিনে পিয়েত্র ক্রেস্পির পরনে থাকত আঁটসাঁটো নরম কাপড়ের এক বিশেষ ধরনের প্যান্ট আর বিশেষ ধরনের চপ্পল।
     

Pls Share This Page:

Users Viewing Thread (Users: 0, Guests: 0)