1. Hi Guest
    Pls Attention! Kazirhut Accepts Only Benglali (বাংলা) & English Language On this board. If u write something with other language, you will be direct banned!

    আপনার জন্য kazirhut.com এর বিশেষ উপহার :

    যেকোন সফটওয়্যারের ফুল ভার্সনের জন্য Software Request Center এ রিকোয়েস্ট করুন।

    Discover Your Ebook From Our Online Library E-Books | বাংলা ইবুক (Bengali Ebook)

Islamic আলেমগণের মধ্যে মতভেদের কারণ

Discussion in 'Role Of Islam' started by arn43, Sep 17, 2017. Replies: 13 | Views: 348

  1. arn43
    Online

    arn43 Kazirhut Elite Member Staff Member Moderator

    Joined:
    Aug 18, 2013
    Messages:
    25,844
    Likes Received:
    3,977
    Gender:
    Male
    Reputation:
    951
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ২. হাদীছ থেকে :
    রাসূল (ছাঃ) যখন আহ্‌যাবের যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে যুদ্ধাস্ত্র খুলে রাখলেন, তখন জিবরীল (আঃ) এসে তাঁকে বললেন, আমরা অস্ত্র ছাড়িনি। সুতরাং আপনি বনী ক্বোরায়যার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ুন। ফলে রাসূল (ছাঃ) তাঁর ছাহাবীগণকে বেরিয়ে পড়ার আদেশ দিলেন এবং বললেন, لاَ يُصَلِّيْنَّ أَحَدٌ العَصْرَ إِلاَّ فِيْ بَنِيْ قُرَيْظَةَ، ‘তোমাদের কেউ যেন বনী ক্বোরায়যার নিকট পৌঁছা ছাড়া আছরের ছালাত না পড়ে’। দেখা গেল, ছাহাবীগণ এই হাদীছটি বুঝার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করলেন। তাঁদের কেউ কেউ বুঝলেন, রাসূল (ছাঃ)-এর উদ্দেশ্য হ’ল, বনী ক্বোরায়যার উদ্দেশ্যে দ্রুত রওয়ানা করা, যাতে আছরের সময় হওয়ার আগেই তাঁরা বনী ক্বোরায়যাতে পৌঁছে যান। সেজন্য তাঁরা রাস্তায় থাকা অবস্থায় যখন আছরের ছালাতের সময় হ’ল, তখন ছালাত আদায় করে নিলেন এবং ছালাতের শেষ ওয়াক্ত পর্যন্ত ছালাতকে বিলম্বিত করলেন না। আবার তাঁদের অনেকেই বুঝলেন, রাসূল (ছাঃ)-এর উদ্দেশ্য হল, তাঁরা যেন বনী ক্বোরায়যায় পৌঁছার পূর্বে ছালাত আদায় না করে। সেজন্য তাঁরা ছালাতকে বনী ক্বোরায়যাতে পৌঁছার সময় পর্যন্ত বিলম্বিত করলেন; এমনকি ছালাতের ওয়াক্তও শেষ হয়ে গেল।
    (বুখারী হা/৯৪৬ ‘ভয়-ভীতি’ অধ্যায়; মুসলিম হা/১৭৭০।)

    নিঃসন্দেহে যাঁরা সঠিক সময়ে ছালাত আদায় করেছেন, তাঁদের বুঝই ছিল সঠিক। কেননা সময়মত ছালাত ওয়াজিব হওয়ার উদ্ধৃতিগুলি ‘মুহকাম’ (محكمة)বা ‘সুস্পষ্ট’। পক্ষান্তরে এই উদ্ধৃতিটি হচ্ছে ‘মুতাশাবিহ’ (مةشابهة) বা ‘অস্পষ্ট’।আর নিয়ম হচ্ছে, মুহকাম মুতাশাবিহ-এর উপর প্রাধান্য পাবে। অতএব বুঝা গেল, কোন দলীলকে আল্লাহ ও তদীয় রাসূল (ছাঃ)-এর উদ্দেশ্যের উল্টা বুঝা মতানৈক্যের অন্যতম একটি কারণ।
     
  2. arn43
    Online

    arn43 Kazirhut Elite Member Staff Member Moderator

    Joined:
    Aug 18, 2013
    Messages:
    25,844
    Likes Received:
    3,977
    Gender:
    Male
    Reputation:
    951
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    কারণ ৫ : ভিন্নমত পোষণকারীর নিকটে হাদীছ পৌঁছেছে। কিন্তু হাদীছটি রহিত এবং সে রহিতকরণ সম্পর্কে জানে না :

    হাদীছটি ছহীহ এবং তার অর্থ ও তাৎপর্যও বোধগম্য। কিন্তু তা রহিত। আর উক্ত আলেম যেহেতু হাদীছটি রহিত হওয়ার বিষয়ে জানেন না, সেহেতু সেটি তার জন্য ওযর হিসাবে গণ্য হবে। কেননা [শারঈ বিধানের ক্ষেত্রে] আসল হ’ল, রহিত হওয়ার ইলম না থাকলে, রহিত না হওয়া।

    এ কারণে মুছল্লী রুকূতে গিয়ে কিভাবে তার হস্তদ্বয় রাখবে, সে বিষয়ে ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) ভিন্নমত পোষণ করেছেন। ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুছল্লীর জন্য বৈধ ছিল (রুকূতে) দুই হাত একত্রে করে দুই হাঁটুর মাঝখানে রাখা। কিন্তু পরবর্তীতে তা রহিত হয়ে যায় এবং দুই হাত দুই হাঁটুর উপরে রাখার বিধান চালু হয়। ছহীহ বুখারীসহ অন্যান্য হাদীছ গ্রন্থে রহিত হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।
    (বুখারী হা/৭৯০, ‘আযান’ অধ্যায়।) কিন্তু ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) রহিত হওয়ার বিষয়টি জানতেন না। ফলে তিনি দুই হাত একত্র করে দুই হাঁটুর মাঝখানেই রাখতেন। [একদিন] তাঁর পাশে আলক্বামা ও আল-আসওয়াদ (রাঃ) ছালাত পড়লে এবং তাঁরা তাঁদের দুই হাত দুই হাঁটুর উপর রাখলেন। কিন্তু ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) তাঁদেরকে অনুরূপ করতে নিষেধ করলেন এবং দুই হাতকে একত্রিত করে দুই হাঁটুর মাঝখানে রাখার আদেশ করলেন। (মুসলিম হা/৫৩৪ ‘মসজিদ সমূহ’ অধ্যায়।) কারণ তিনি রহিত হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেননি। আর মানুষের উপর তার সাধ্যের বাইরে কোন কিছু চাপানো হয়নি। মহান আল্লাহ বলেন, لاَ يُكَلِّفُ اللهُ نَفْساً إِلاَّ وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ-‘আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না। সে তাই পায়, যা সে উপার্জন করে। আর তাই তার উপর বর্তায়, যা সে করে’ (বাক্বারাহ ২৮৬)।
     
  3. arn43
    Online

    arn43 Kazirhut Elite Member Staff Member Moderator

    Joined:
    Aug 18, 2013
    Messages:
    25,844
    Likes Received:
    3,977
    Gender:
    Male
    Reputation:
    951
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    কারণ ৬ : ভিন্নমত পোষণকারীর নিকট দলীল পৌঁছলেও তাকে তার চেয়ে শক্তিশালী দলীল বা ‘ইজমা’-এর বিরোধী মনে করা :

    দলীল পেশকারীর কাছে দলীল পৌঁছেছে; কিন্তু তাঁর মতে, উক্ত দলীল তার চেয়ে শক্তিশালী দলীল বা ‘ইজমা’-এর বিরোধী। আর আলেমগণের মতানৈক্যের ক্ষেত্রে এই কারণটিই অনেক বেশী। সেজন্য আমরা কোন কোন আলেমকে ইজমার উদ্ধৃতি অধিক দিতে শুনি। কিন্তু প্রকৃত প্রস্তাবে তা ইজমা নয়।
    ইজমার উদ্ধৃতি পেশের ক্ষেত্রে একটি অদ্ভূত উদাহরণ হচ্ছে- কেউ কেউ বলেন, ‘দাসের সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরাম একমত হয়েছেন। আবার কেউ কেউ বলেন, ‘দাসের সাক্ষ্য গ্রহণীয় নয় মর্মে তারা একমত হয়েছেন’। এটি অদ্ভূত একটি বর্ণনা! কেননা কেউ কেউ যখন তাঁর আশেপাশের সবাইকে কোন বিষয়ে একমত হ’তে দেখেন, তখন সেই বিষয়টি উদ্ধৃতি সমূহের [কুরআন-হাদীছের উদ্ধৃতি] অনুকূলে ভাবেন এবং মনে করেন, তাঁদের বিরোধী কোন দলীল নেই। সেজন্য তাঁর ব্রেইনে দুই ধরনের দলীলের সমাবেশ ঘটে- উদ্ধৃতি ও ইজমা। কখনও তিনি মনে করেন, ঐ বিষয়টি সঠিক কিবয়াস এবং দৃষ্টিভঙ্গিরও অনুকূলে। ফলে তিনি ঐ বিষয়ে মতানৈক্য না থাকার পক্ষে মত প্রকাশ করেন এবং সঠিক ক্বিয়াসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কুরআন ও ছহীহ হাদীছের উদ্ধৃতির বিরোধী কোন দলীল আছে বলে তিনি মনে করেন না। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি ছিল উল্টা।
    আমরা ‘রিবাল ফায্ল’ (رِبَا الْفَضْلِ) -এর ক্ষেত্রে ইবনু আববাস (রাঃ)-এর অভিমতটিকে উদাহরণ হিসাবে পেশ করতে পারি -

    রাসূল (ছাঃ) বলেন, إِنَّمَا الرِّبَا فِيْ النَّسِيَّةِ ‘সূদ শুধুমাত্র ‘রিবান-নাসিইয়াহ’-এর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ’। (বুখারী হা/২১৭৮-৭৯,‘ব্যবসা-বাণিজ্য’ অধ্যায়; মুসলিম হা/১৫৯৬; ইবনু মাজাহ হা/১৫৮৭ ‘ব্যবসা-বাণিজ্য’ অধ্যায়।) উবাদাহ ইবনু ছামেত (রাঃ) সহ অন্যান্য ছাহাবী থেকে বর্ণিত হাদীছে প্রমাণিত হয়েছে,أَنَّ الرِّبَا يَكُوْنُ فِيْ النَّسِيَّةِ وَفِي الزِّيَادَةِ، ‘রিবান-নাসিইয়াহ’ এবং ‘রিবাল ফায্ল’ উভয় ক্ষেত্রেই সূদ হবে’। (মুসলিম হা/১৫৮৭।)
     
  4. arn43
    Online

    arn43 Kazirhut Elite Member Staff Member Moderator

    Joined:
    Aug 18, 2013
    Messages:
    25,844
    Likes Received:
    3,977
    Gender:
    Male
    Reputation:
    951
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ইবনু আববাস (রাঃ)-এর পরে সকল আলেম একমত হয়েছেন যে, সূদ দুই প্রকার- (১) ‘রিবাল ফায্ল’ (ربا الفضل) ও (২) ‘রিবান নাসিইয়াহ’ (ربا النسيئة) । কিন্তু ইবনু আববাস (রাঃ) নাসিইয়াহ ব্যতীত অন্য কিছুতে সূদ হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। যেমন যদি আপনি হাতে হাতে এক ছা‘ গম দুই ছা‘ গমের বিনিময়ে বিক্রয় করেন, তাহ’লে ইবনু আববাস (রাঃ)-এর নিকটে কোন সমস্যাই নেই। কেননা তাঁর মতে, সূদ কেবলমাত্র নাসিইয়াহ-এর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ।
    অনুরূপভাবে যদি তুমি দুই ‘মিছক্বাল’ [সোনার ওযন বিশেষ] সোনার বিনিময়ে এক ‘মিছক্বাল’ সোনা হাতে হাতে বিক্রয় কর, তাহ’লে তাঁর নিকটে সূদ হবে না। তবে যদি গ্রহণ করতে দেরী কর অর্থাৎ তুমি আমাকে যদি এক ‘মিছক্বাল’ সোনা দাও কিন্তু আমি তার মূল্য যদি তোমাকে এখন না দিয়ে উভয়ে বেচাকেনার বৈঠক থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার পরে দেই, তাহ’লে সেটি সূদ হবে। কেননা ইবনু আববাস (রাঃ)-এর মতে, হাদীছে উল্লেখিত এই সীমাবদ্ধতা নাসীয়াহ ছাড়া অন্য কিছুতে সূদ হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক। আর আসলেই(إنما) শব্দটি সীমাবদ্ধতা অর্থে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং তা [নাসিইয়াহ] ছাড়া অন্য কিছুতে সূদ হবে না। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে উবাদাহ (রাঃ)-এর হাদীছ প্রমাণ করে যে, ‘রিবাল ফাযল’ও সূদের অন্তর্ভুক্ত। কেননা রাসূল (ছাঃ) বলেন, مَنْ زَادَ أَوْ اسْتَزَادَ فَقَدْ أَرْبَى، ‘যে ব্যক্তি বেশী দিল বা নিল, সে সূদী কারবার করল’।
    (মুসলিম হা/১৫৮৮।)
    এক্ষণে ইবনু আববাস (রাঃ) কর্তৃক দলীল হিসাবে পেশকৃত হাদীছের ক্ষেত্রে আমাদের ভূমিকা কি হবে?
    আমাদের ভূমিকা হবে, হাদীছটিকে আমরা এমন অর্থে গ্রহণ করব, যাতে ‘রিবাল ফায্ল’-কে সূদ গণ্যকারী হাদীছের সাথে এই হাদীছও মিলে যায়। সেজন্য আমরা বলব, মারাত্মক সূদ হচ্ছে, ‘রিবান নাসিইয়াহ’, যার কারবার জাহেলী যুগের লোকেরা করত এবং যে সম্পর্কে কুরআনে এরশাদ হচ্ছে, يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا لاَ تَأْكُلُوْا الرِّبَا أَضْعَافًا مُّضَاعَفَةً ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সূদ খেও না’
    (আলে ইমরান ১৩০)। এটা হ’ল রিবান-নাসিইয়াহ। তবে ‘রিবাল ফাযল’ তদ্রূপ মারাত্মক নয়। সেকারণে ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ) তাঁর জগদ্বিখ্যাত ‘ই‘লামুল মুওয়াক্কেঈন’ গ্রন্থে বলেন, মূল সূদের অন্যতম মাধ্যম হওয়ার কারণে ‘রিবাল ফায্ল’-কে হারাম করা হয়েছে। সেটিই যে মূল সূদ, সে হিসাবে নয়।
     

Pls Share This Page:

Users Viewing Thread (Users: 0, Guests: 0)