1. Self-Written সেকশনে শুধু মাত্র স্বরচিত গল্প, উপন্যাস, কবিতা, ছড়া, রম্য রচনা প্রকাশ করা যাবে। সংগৃহীত কোন আরটিক্যাল এই সেকশনে পোস্ট করা হলে, বিনা নোটিশে তা ডাস্টবিনে ফেলা হবে।
  2. Hi Guest
    Pls Attention! Kazirhut Accepts Only Benglali (বাংলা) & English Language On this board. If u write something with other language, you will be direct banned!

    আপনার জন্য kazirhut.com এর বিশেষ উপহার :

    যেকোন সফটওয়্যারের ফুল ভার্সনের জন্য Software Request Center এ রিকোয়েস্ট করুন।

    Discover Your Ebook From Our Online Library E-Books | বাংলা ইবুক (Bengali Ebook)

SelfWritten ইক্ষুমিয়া ও ট্রাফিক জ্যাম

Discussion in 'Self-Written' started by Proloy Hasan, Oct 11, 2017. Replies: 5 | Views: 242

  1. Proloy Hasan
    Offline

    Proloy Hasan Newbie Member

    Joined:
    Jul 14, 2017
    Messages:
    35
    Likes Received:
    40
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka`
    Reputation:
    55
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    [​IMG]


    ইক্ষু মিয়া নতুন বাজার হইতে একটি ডিম পাড়া মুরগী কিনিয়া বিআরটিসির সরকারী বাসে চড়িয়া বসিল। তখন শরতের দুপুরের কড়া রোদ মাথার উপর। বাসে ওঠামাত্রই কি কারনে জানি ইক্ষু মিয়ার মুরগীটি হঠাৎ করিয়া নিদারুন অস্থির হইয়া উঠিলো। ইক্ষু মিয়া ভাবিলেন, গরমে তো মানুষই অস্থির হইয়া আছে, মুরগী তো কোন ছাড়। তো বাস ছাড়িল আাধঘন্টা পর। এর পর সেই বাস মিনিট দশেক গড়াগড়ি দিয়া রাস্তার উপর চলিয়া মধ্য বাড্ডার মধ্য রাস্তায় আসিয়া থামিলো। থামিলো মানে জ্যামে আটকাইলো। পরবর্তী আরো আধঘন্টা নট নড়ন চড়ন। ইক্ষু মিয়া ইতিমধেই রীতিমতো ঘর্মাক্ত হইয়া পড়িয়াছেন। খোদার অশেষ ফজলে আধঘন্টা পর বাস 'নড়িলো' এবং লিংক রোডে আসিয়া আরো আধঘন্টা বসিয়া থাকিলো। ইক্ষু মিয়া হাই তুলিয়া ঘুমাইবার চেষ্টা করিলো।

    বাস এইবার গুলশান ১ নং আসিয়া আবার থামিয়া গেলো। এইবার ড্রাইভার মহাশয় বিরক্ত হইয়া বাসের ইঞ্জিনই বন্ধ করিয়া দিলেন। ইক্ষু মিয়া ঘাবড়াইয়া গেলেন। না জানি এইবার কতক্ষন বসিয়া থাকিতে হয়। মুরগীটি এখন শান্ত হইয়া বাসের মেঝেতে বসিয়া রহিয়াছে। প্রায় পয়ঁতাল্লিশ মিনিট পর অতিকায় বাসটির ইঞ্জিন চালু হইলো। তারও মিনিট পনেরো পর তাহা চলিতে আরম্ভ করিলো। যাত্রীরা সবাই হাফ ছাড়িয়া বাচিলো। কিন্তু সেই "হাফ" বেশীক্ষন স্থায়ী হইলো না। তারহীন ফটকে [ওয়্যারলেস গেইট] আসিয়া তাহাদের বাহনটি আবার থামিয়া গেলো । তবে আশার কথা, এইবার মিনিট কুড়ির ভিতরই ছাড়িয়া গেলো।

    মিনিট কয়েক চলিবার পর মহাখালী মোড়ে উড়াল সড়কের নীচে আসিয়া যথারীতি আবার থামিয়া বসিয়া রহিলো। ইক্ষু মিয়া একটা যান্ত্রিক ঝাকুঁনি খাইয়া ঘুম হইতে ওঠিয়া কি মনে করিয়া তার পাশের যাত্রীর দিকে চাহিয়া চমকাইয়া উঠিলেন। এই যাত্রীটি যখন বাসে ওঠিয়াছিলেন, তখন তিনি ক্লীন সেভড ছিলেন। মুখমন্ডল হইতে ভুর ভুর করিয়া আফটার সেভ লোশনের রাসায়নিক সুঘ্রান ভাসিয়া আসিতেছিলো। কিন্তু এখন ইক্ষু মিয়া দেখিলেন যে বেচারের কপোলে [গালে] ইতিমধ্যেই খোচাঁ খোচাঁ দাড়ি উঠিতে শুরু করিয়াছে। ইক্ষু মিয়া একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলিয়া রাস্তার দিকে চাহিলেন। সেইখানে গাড়ি আর রিকশার সমুদ্র। সব ছবির মতো থামিয়া আছে।

    ইক্ষু মিয়াদের বাসখানি যখন মহাখালি রেল গেইট পার হইলো, তখন বিকেল হইয়া গিয়াছে। চারিদিকে সূর্যের আর আগের সেই প্রখরতা নাই। বাসখানি তাহার কাউন্টারে থামিয়া টিকিটসহিত যাত্রীদিগকে উঠাইতে লাগিলো। আর আমাদিগের ইক্ষু মিয়া আরেকটা হাই তুলিয়া আবার ঘুমাইবার প্রস্তুতি নিলেন। ভাবিলেন, এইবার আর গন্ত্যবে না পৌছাঁইয়া ঘুম হইতে জাগিবেন না।

    মহাখালি ছাড়িয়া তাহাদের বাসখানা যখন শ্যামলী শিশুমেলার সামনে আসিয়া থামিলো, তখন প্রায় সন্ধ্যা হইয়া গিয়াছে। সূর্য ডুবিতে বসিয়াছে। পাখিরা স্ব স্ব নীড়ে ফিরিতে আরম্ভ করিয়াছে। আরো ঘন্টা আধেক পর যখন বাস আউগাইয়া গিয়া প্রাক্তন হলের সামনে থামিলো, তখন পুরোপুরি সন্ধ্যা নামিয়া গিয়াছে। জ্যাম ছাড়িয়া যখন বাসখানা কল্যানপুর আসিলো তখন ঘড়িতে ৭ টা বাজে। তার মানে ইক্ষু মিয়া বাসে উঠিয়াছে ৭ ঘন্টা হইলো। মাত্র সাত ঘন্টায় সে অর্ধেক পথ চলিয়া আসিয়াছে ভাবিয়া ইক্ষু মিয়া রীতিমতো পুলক অনুভব করিলো। খুশীতে গদগদ হইয়া গেলো। কারন ইহা আদতে ৮ হইতে ১০ ঘন্টার পথ ছিলো। কপাল খারাপ থাকিলে ১২ ঘন্টাও লাগিয়া যাইতে পারিতো।

    হঠাৎ পিছনের সিটের এক যাত্রীর হই চইয়ে তাহার পুলক বাধাগ্রস্ত হইলো। তিনি সবকিছু শুনিয়া যাহা বুঝিলেন, যাত্রীটি কেজিখানেক আঙ্গুর প্যাকেটে লইয়া বাসে উঠিয়াছিলেন। তাহা নাকি এখন শুকাইয়া কিসমিসে রূপান্তরিত হইবার পথে।

    ইক্ষু মিয়া দুঃখভারাক্রান্ত মনে ভাবিলেন, কি যমানা আসিলো যে মাত্র কয়েকঘন্টার ভেতরই তাজা আঙ্গুর খটখটে কিসমিসে পরিনত হয়। এইসব ফরমালিকের কারনে হয় কিনা কে বলিতে পারিবে?

    যাহাই হউক, কথা আর বাড়াইবো না। ইক্ষু মিয়া যখন তাহার গন্তব্য সাভার বাসস্ট্যান্ডে আসিয়া পৌছাঁইলেন, তখন মাঝ রাত। চারিদিতে ঝিঁ ঝিঁ পোকা ডাকিতেছে। লোকজন বাস হইতে হাই তুলিতে তুলিতে নামিতেছে। মুরগীটি এইখানে আসিয়া আরো অস্থির হইয়া উঠিলো। ইক্ষু মিয়া ভাবিলেন, ডিম পাড়া মুরগীর পক্ষে অল্পতেই অস্থির হইয়া ওঠা স্বাভাবিক।

    ইক্ষু মিয়া পাশে তাকাইয়া দেখিলেন তাহার পাশের যাত্রীটির মুখে মাওলানাদের মতো লম্বা দাড়ি গজাইয়া গিয়াছে। পিছনের সিটের যাত্রীটির ক্রয় করা এক কেজি আঙ্গুর ততক্ষনে এক পোয়া কিসমিসে রূপান্তরিত হইয়া গিয়াছে। আর গুলশান হইতে যে স্ত্রী লোকটি তাহার এক শিশুসন্তান নিয়া বাসে উঠিয়াছিলেন, তাহার সন্তানটিকে এখন কেমন জানি বড় হইয়া গিয়াছে মনে হইতেছে তথাপি তাহার মাতার বয়েস কোনরূপ বাড়ে নাই বরং মাতাকে আগের চাইতে যুবতী মনে হইতেছে। প্রকৃতির কি লীলা, ভাবিয়া ইক্ষু মিয়া চমকপ্রদ হইলো।

    ইক্ষু মিয়ার মেজাজ ফুরফুরে, কারন একটা উপাদেয় ঘুম হইয়াছে। রাতে তো ঘুমাইবার সময় পান না, তাই বাসের ভিতরকার ঘুমই ভরসা। রাতে কেন ঘুমাইবার সময় পান না তাহা খানিক পরে বলিতেছি।

    তো ইক্ষু মিয়া এইবার নামিবার আয়োজন করিলেন। কিন্তু সিট হইতে উঠিয়া তাহার মুরগীকে উঠাইয়া তাজ্জব হইয়া গেলেন। মুরগীর নীচে একটি ফুটফুটে মুরগী ছানা শুইয়া আছে। ডিম পাড়া মুরগী, কখন যে ডিম পাড়িয়া উহাতে তা দিয়া বাচ্চা ফুটাইয়া ফেলিয়াছে, ইক্ষু মিয়া টেরই পান নাই। যানজট, বাসের ইঞ্জিনের গরম আর দুপুরের গরম ডিমে তা দিয়া বাচ্চা ফুটাইবার জন্য বিশেষ উপকারী বলিয়া মনে হইলো ইক্ষু মিয়ার কাছে।

    এ নিয়া আর সময় ক্ষেপন করিলেন না তিনি। তড়িঘড়ি নামিলেন। সকালে আবার অফিস আছে। গভীর রাতে ভাত খাইয়া বিছানায় কিছুক্ষন গড়াগড়ি দিয়া ভোর রাতেই আবার তাহাকে অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হইবে।

    (প্রথম প্রকাশঃ ১০ ই অক্টেবার, ২০১১ ইং।)
     
    • Like Like x 3
  2. mukul
    Offline

    mukul Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Aug 5, 2012
    Messages:
    11,640
    Likes Received:
    3,489
    Gender:
    Male
    Location:
    বন পাথারে
    Reputation:
    1,414
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ঢাকা শহুরে জীবনে এমন ইক্ষু মিয়া হাজার হাজার নয় লক্ষ লক্ষ পাওয়া যাইবে। কেউ কেউ হয়ত পরিমান বাড়াইয়া কোটিতে ছুইতে চাহিবেন।
    কিন্তুক এমন ডিমপাড়া মুরগির সাক্ষাৎ কেহ পাইয়াছেন কিনা সন্দেহের উর্ধে রহিল।

    লিখাটি পড়িয়া যারপর নাই কৌতুক অনুভব করিলাম। বিশেষ ধন্যবাদ জানাইয়া খাটো করিবার বিশেষ কোন উদ্দেশ্য নাই তবে এতোটুকু বলিব লেখক মহোদয়ের রসবোধের তারিফ না করিলে নিজেই খাটো হইয়া থাকিব।
     
    • Like Like x 2
  3. abdullah noman
    Offline

    abdullah noman Senior Member Member

    Joined:
    Sep 15, 2013
    Messages:
    1,391
    Likes Received:
    369
    Gender:
    Male
    Location:
    চট্টগ্রাম
    Reputation:
    401
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে। ক্রিটিকধর্মী লিখা পড়তে ভালই লাগে। ধন্যবাদ মামা।
     
    • Like Like x 1
  4. Proloy Hasan
    Offline

    Proloy Hasan Newbie Member

    Joined:
    Jul 14, 2017
    Messages:
    35
    Likes Received:
    40
    Gender:
    Male
    Location:
    Dhaka`
    Reputation:
    55
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    সবাইকে ধন্যবাদ।
     
    • Like Like x 1
  5. mukul
    Offline

    mukul Kazirhut Lover Member

    Joined:
    Aug 5, 2012
    Messages:
    11,640
    Likes Received:
    3,489
    Gender:
    Male
    Location:
    বন পাথারে
    Reputation:
    1,414
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    আপনাকে শত ধন্যবাদ।

    আমাদের সাথে দৈনিক হাজিরা ও আড্ডাখানায় পেলে মনটা ফুরফুরা লাগত।
     
  6. kazi mainu
    Offline

    kazi mainu Senior Member Member

    Joined:
    Nov 10, 2014
    Messages:
    1,347
    Likes Received:
    246
    Gender:
    Male
    Location:
    dhaka,Bangladesh.
    Reputation:
    374
    Country:
    Bangladesh Bangladesh
    ট্রাফিক জ্যামে বইসা আপনার লেখাটা পড়ছিলাম। সময়টা ভালই গেল।
     

Pls Share This Page:

Users Viewing Thread (Users: 0, Guests: 0)